বাংলাদেশের বাজারে এখন তাজা স্ট্রবেরি বিক্রি শুরু হয়েছে। শীতের মৌসুমে দেশীয় খামারের স্ট্রবেরি যেমন পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি আমদানি করা ফলও অনেক সুপারশপ ও কাঁচাবাজারে দেখা যাচ্ছে।
দেখতে আকর্ষণীয় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় অনেকেই স্ট্রবেরি কিনছেন। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে - এই ফলটি কি তাদের জন্য নিরাপদ?
স্ট্রবেরি একটি পুষ্টিকর ফল। এতে কার্বোহাইড্রেট থাকলেও, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। তবে কতটা খাবেন এবং কীভাবে খাবেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা শরীর সঠিকভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই প্রেক্ষাপটে স্ট্রবেরি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এটি কম ক্যালরিযুক্ত এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।
পুষ্টিগুণ
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Food and Drug Administration)-এর তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি আকারের প্রায় ৮টি স্ট্রবেরিতে প্রায় ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেরই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যায়।
স্ট্রবেরিতে ফলেট নামের একটি বি ভিটামিনও রয়েছে। ফলেট কোষ বিভাজন, ডিএনএ তৈরি এবং শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
স্ট্রবেরিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে সুস্থ রাখতে, ক্ষত সারাতে এবং ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে।
এছাড়া এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের একটি উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রবেরি একা বা অন্য খাবারের সঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার প্রোফাইল উন্নত হতে পারে। এতে আঁশ বা ফাইবার রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়তে সাহায্য করে।
ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এছাড়া স্ট্রবেরিতে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সাধারণভাবে স্ট্রবেরি নিরাপদ। তবে যেকোনো খাবারের মতোই পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি।
যারা খাবারের সঙ্গে ইনসুলিন নেন, তাদের স্ট্রবেরিকে মোট কার্বোহাইড্রেটের অংশ হিসেবে গণনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইনসুলিনের মাত্রা সামঞ্জস্য করতে হতে পারে।
স্ট্রবেরি সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়া যায়, আবার বিভিন্ন খাবারের সঙ্গেও যোগ করা যায়। যেমন- স্মুদি, সালাদ, ওটস বা সিরিয়ালের ওপর টপিং হিসেবে বা ফলের সালাদে।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ : এক কাপ তাজা স্ট্রবেরিতে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। তাই একবারে প্রায় এক কাপের মতো খাওয়া যেতে পারে।
প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে খান : স্ট্রবেরির সঙ্গে বাদাম, দই বা সালাদে মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার প্রভাব আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
প্রসেসড রূপ এড়িয়ে চলুন : জ্যাম, সিরাপ বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো স্ট্রবেরি এড়িয়ে চলা ভালো। সম্ভব হলে তাজা বা ফ্রোজেন স্ট্রবেরি বেছে নিন।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিমিত পরিমাণে স্ট্রবেরি খেতে পারেন। এর কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স, আঁশ, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
তবে প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা আলাদা। তাই খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সূত্র : মেডিকাল নিউজ টুডে
মন্তব্য করুন








