আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভাত, মাছ বা সবজি থাকলেও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার অনেকেই ভুলে যান বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন না। আসলে প্রোবায়োটিক হলো এমন খাবার, যা আমাদের অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে বৃদ্ধি করে এবং হজম ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
এ ব্যাপারে ওয়ারীতে অবস্থিত ড্রিম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং সাভারে অবস্থিত হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের নিউট্রিশনিস্ট ইসরাত জাহান প্রিয়ানা কিছু তথ্য ও পরামর্শ দিয়েছেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক টক দইয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা। তার আগে প্রথমেই জেনে নিন প্রোবায়োটিক নিয়ে।
প্রোবায়োটিক হলো জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়াসমৃদ্ধ খাবার। এগুলো অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে কমিয়ে দেয় এবং ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায়।
- টক দই
- ফার্মেন্টেড শাকসবজি
- যে কোনো গাঁজানো খাবার
টক দই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজে যুক্ত করা যায় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারে সাহায্য করে।
- হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে: আইবিএস, গ্যাস্ট্রিক, বদহজম বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের সমস্যা কমায়।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা: খাদ্যরুচি বাড়ায়, অতিরিক্ত খাবারের লোভ কমায়।
- হৃদরোগ ঝুঁকি কমায় এবং ভিটামিন শোষণ বাড়ায়।
- হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য: ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ।
- ত্বক ভালো রাখে এবং দেহের প্রদাহ কমায়।
- ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়ক।
বর্তমানে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল বা স্যাচেট আকারেও পাওয়া যাচ্ছে। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে এগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে।
প্রিবায়োটিক হলো এমন খাদ্য উপাদান, যা সরাসরি হজম হয় না কিন্তু প্রোবায়োটিকের জন্য খাবারের মতো কাজ করে। এগুলো অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- পেঁয়াজ, রসুন
- সয়াবিন, ওটস
- আঁশযুক্ত খাবার, গোটা শস্য
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ১-২ কাপ টক দই রাখলে অন্ত্র সুস্থ থাকে এবং হজম ঠিক থাকে। তবে বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে, টক দই খাওয়ার আগে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন








