দান-সদকা মহৎ গুণ। রাসুুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বেশি দানশীল। সাহাবিরাও দান করতেন উদার হাতে। সম্পদশালীর সম্পদে নির্ধারিত জাকাত ছাড়াও রয়েছে গরিবের অধিকার। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া উত্তম কাজ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, কী তারা ব্যয় করবে? বল, যা উদ্বৃত্ত। এভাবে আল্লাহ তোমাদের প্রতি আদেশসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা চিন্তা করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৯)
নিজের সমূহ সম্পদ একবারে দান-সদকা করা যাবে না। প্রয়োজনীয় সম্পদ নিজের কাছে রেখে দান করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সদকা করা উত্তম। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে, প্রথমে তাদের দেবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২৬)
দান-সদকার ফজিলত
দান-সদকা অভাব দূর করে। রিজিক বাড়িয়ে দেয়। কোরআনে আছে, ‘যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের (দানের) তুলনা সেই বীজের মতো, যার থেকে সাতটি শীষ জন্মিল, প্রত্যেক শীষে একশ করে দানা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যের অধিকারী, জ্ঞানময়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৬১)
দানে বিপদ-আপদ দূর হয়। গুনাহ মাফ হয়। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দান-সদকা গুনাহ্সমূহ বিলীন করে দেয়, যেমনভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৬১৬)
দান-সদকা আল্লাহর অসন্তুষ্টি কমায় এবং অপমানজনক মৃত্যু থেকে বাঁচায়। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দান-সদকা আল্লাহ তায়ালার অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং অপমানজনক মৃত্যু রোধ করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৬৬৪)
মন্তব্য করুন








