ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব চায়’ যুক্তরাষ্ট্র

এপি নিউজ

  ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১
ছবি: সংগৃহীত

ভোটের ইতিহাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘সবচেয়ে ভালো ফল’ করতে পারে বলে ধারণা করছেন ঢাকায় মার্কিন কূটনীতিকরা। নির্বাচন ঘিরে তাদের এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ইসলামপন্থি দলটির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে ‘বন্ধুত্বের পথে’ হাঁটতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। ঢাকার এক নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের এক বৈঠকের তথ্যে এ খবর দেয় মার্কিন এই প্রভাবশালী গণমাধ্যম। গত ১ ডিসেম্বর হওয়া গোপন সেই বৈঠকের অডিও হাতে পাওয়ার কথা লিখেছে সংবাদমাধ্যমটি।

মার্কিন কূটনীতিকদের একটি অডিও রেকর্ডের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট একসময় নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো ও সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় যেতে পারলে জামায়াত যদি বাংলাদেশে শরিয়াহভিত্তিক কিছু চাপিয়ে দেয় কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ নয়, এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দেশটি কী ব্যবস্থা নেবে, সেসবও কূটনীতিকরা ভেবে রেখেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের নয়া দিল্লির ব্যুরো প্রধান প্রানশু ভার্মার করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী বেশ কয়েকবারই নিষিদ্ধ হয়েছে। সবশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছে। প্রথাগতভাবে তারা শরিয়া আইনে দেশ পরিচালনা ও সন্তান-সংসার পরিচালনার জন্য নারীর কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার কথা বলে আসছে। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটি তাদের ভাবমূর্তি উদার করছে। দুর্নীতি নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে দলের সমর্থন জোরালো করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিস্থিতিতে মার্কিন কূটনীতিকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা ‘পুনরুত্থিত ইসলামপন্থি আন্দোলন’ বা ‘নবোদ্যমে’ ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

গত ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশি নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে ঢাকায় এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, দেশ ‘ইসলামি ধারায় ফিরেছে’। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তার নির্বাচনি ইতিহাসের সব থেকে ভালো ফল করতে পারে।

‘আমরা তাদের (জামায়াত ইসলামী) বন্ধু হিসেবে চাই’, বলেন সেই মার্কিন কূটনীতিক।

পরে তিনি বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, তারা জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের (ছাত্রশিবির) টক শো বা প্রোগ্রামে আমন্ত্রণ জানাতে ইচ্ছাপোষণ করেন কি না।

কূটনীতিক সাংবাদিকের বলেন, ‘আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন? তারা কি আপনাদের শো-তে যাবে?’

‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণে সেই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ না করার কথা লিখেছে ওয়াশিংট পোস্ট।

জামায়াতে ইসলামী শরিয়া আইনের ব্যাখ্যা ‘চাপিয়ে দিতে পারে’, এমন ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না এ কূটনীতিক। তবে তিনি বলছেন, ওয়াশিংটনের হাতে ‘প্রভাব খাটানোর মতো’ এমন কিছু আছে, যা প্রয়োজনে তারা ব্যবহারের জন্যও প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, ‘সহজ কথায়, আমি মনে করি না যে জামায়াত শরিয়া চাপিয়ে দেবে। আর যদি দলটির নেতারা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পদক্ষেপ নেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিতে পারে।’

এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া বিবৃতিতে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, ‘ডিসেম্বরে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে রুটিন বৈঠক ও অপ্রকাশযোগ্য আলোচনা হয়েছিল। তখন অনেক রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র কোনো একটি দলের পক্ষে নয়। বাংলাদেশের জনগণ যাকেই বেছে নিক, তার সঙ্গেই কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।’

এ ব্যাপারে জামায়াতের ইসলামীর মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘গোপন কূটনৈতিক বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামায়াতের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এগুলো তো একটি পত্রিকা ও তাদের একজন সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণ। দেশের পরিস্থিতি একটি প্রতিবেদনে কার্যত উঠে আসে না।’

তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন, আমাদের মাঝ থেকে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, সংস্কার হয়েছে, বিচারের কার্যক্রম চলছে, সব মিলিয়ে অনেকেই এ ধরনের প্রতিবেদন করেছে। আল জাজিরাও করেছে, তাদের প্রতিবেদনেও চোখ বুলিয়েছি। কিন্তু দিনশেষে মানুষের অবস্থানই মূল।’

মোহাম্মদ রহমান জানান, তারা ‘দুর্নীতিবিরোধী, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের প্ল্যাটফর্ম’ নিয়ে কাজ করছেন। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবটি এখনো ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’ রয়েছে। শরিয়া আইন কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

প্রতিবেদনের প্রতিবাদ বা নিন্দা জানানোর প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারা বিষয়টি পুরো দেখে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে জামায়াতে ইসলামী ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি এবং ঢাকায় ‘বেশ কয়েকটি’ বৈঠক করেছে, মোহাম্মদ রহমান দ্য পোস্টকে দেওয়া তার বিবৃতিতে বলেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, শুক্রবার দলের নেতা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ারের সাথেও ভার্চুয়ালি সাক্ষাৎ করেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওয়াশিংটনের বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠকগুলোকে ‘নিয়মিত কূটনৈতিক কাজের’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি মার্কিনদের আকৃষ্টতা ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে নতুন করে বিভেদ তৈরি করতে পারে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক সংঘাত, রাশিয়ার তেল ক্রয়, অসমাপ্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অনেক ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের কারণে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই তলানিতে পৌঁছেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির গবেষক, বাংলাদেশের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মুবাশার হাসান মনে করেন, শেখ হাসিনার আমলে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ থাকার পর জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনি প্রচারে ব্যাপক গতি পেয়েছে। তারা ‘মূলধারার রাজনীতিতে চলে এসেছে’।

মন্তব্য করুন

নতুন মন্ত্রিসভায় উপেক্ষিত অনেক ত্যাগী নেতারা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। ঘোষিত এ মন্ত্রিসভার তালিকায় দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতা স্থান না পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাবিব উন নবী খান সোহেলের। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৬১৮টি মামলা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ৬১৮টি মামলার আসামি হয়েও প্রিয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল ভাইয়ের নাম মন্ত্রিসভায় নেই। তিনি এটিকে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতিতে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা প্রকাশ পায়। গোলাম সরোয়ার সরকার নামের এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দুদু ভাইকে আর কত বঞ্চিত করা হবে—রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে, অথচ মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়নি। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২৫৪টি মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। নয়াপল্টনে এক কর্মসূচি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতি নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা দেখা গেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ থাকাকালে সংসদ ভবন এলাকায় এক আন্দোলন কর্মসূচিতে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও আলোচিত হয়। তবে সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তারও স্থান হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি। ২০২৩ সালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে দলীয় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পুলিশের হামলার শিকার হন। তবুও ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর দলীয় অভ্যন্তরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব জ্যেষ্ঠ নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় উপেক্ষিত অনেক ত্যাগী নেতারা
আমাদের উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা: জামায়াত আমির 
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং আমিও বিরোধীদলীয় প্রধান হতে পারতাম না। তাই আমাদের সবার উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার মনিপুর স্কুলের সামনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।  রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব স্তরের আবর্জনা দূর করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে মন ভালো থাকে। গতকাল আমরা দুটো শপথ নিয়েছি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার জন্যই আমাদের শপথ। জামায়াত আমির বলেন, আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের আবর্জনা দূর করতে চাই। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ব। নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার করলে দেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।  
আমাদের উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা: জামায়াত আমির 
মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগদান ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রমাণ : নাহিদ ইসলাম
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে, সেটি জাতির সামনে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে, সরকার গঠনের প্রথম দিনেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে।’ ‘‌‌এটা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই নয়, এর মধ্য দিয়ে আইনি সংকট এবং জটিলতা তৈরি করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার আদেশে সই করে গণভোটে অংশ নিলেও এখন বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানের বিএনপি সরকারে যোগদান নৈতিক নয় বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সূত্র : বিবিসি বাংলা
মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগদান ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রমাণ : নাহিদ ইসলাম
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর, উপনেতা তাহের ও চিফ হুইপ নাহিদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় উপনেতা হচ্ছেন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন গণামধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংসদীয় দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই ১১-দলীয় জোটের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হবে। এর আগে দুপুর ১২টার কিছু পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জামায়াত ও জোটের এমপিরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। দলটি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পায়। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭ আসনে বিজয়ী হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর, উপনেতা তাহের ও চিফ হুইপ নাহিদ
পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ওই কার্যালয়ে কেউ এসে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা টানিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং ঘটনাটি নিয়ে তারা আতঙ্কিত বলে জানান।
পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন
মন্ত্রিপরিষদের শপথে যাচ্ছে না এনসিপি
নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত সদস্যরা।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেয় এনসিপি। ওই পোস্টে এনসিপি উল্লেখ করে, ‘আজ বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে থাকবে না এনসিপি।’ পাশাপাশি একটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, এনসিপির নির্বাচিত ৬ সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোটসঙ্গী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এনসিপি। জামায়াত এমপিরাও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেন।  
মন্ত্রিপরিষদের শপথে যাচ্ছে না এনসিপি
জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং রাষ্ট্রকে নতুন ধারায় এগিয়ে নিতে সংসদ হবে প্রধান প্ল্যাটফর্ম। প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া এগোবে। তিনি বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যের শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নেই। এ কারণে ওই ধরনের কোনো প্রক্রিয়াও হয়নি। আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এসেছি। আগামীতেও রাষ্ট্র পরিচালনা হবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে। শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, গণভোটের রায় ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পর তৃতীয় তফশিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার বিষয়টি সংসদ নির্ধারণ করবে।   শপথের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যারা শপথ নিয়েছেন, উপস্থিত সবাই ওই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন।   শপথ গ্রহণের আগে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম থাকলেও আমরা (বিএনপি) কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। এ ছাড়া সংবিধানে এটা এখনও ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ নেবেন, সেটা বিধান করতে হবে।
জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র: সালাহউদ্দিন আহমদ
‘দুর্গ’ হারিয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
একসময়ের জাতীয় পার্টির (জাপা) অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে দলটির চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে, যেখানে লাঙলের হেভিওয়েট তিন প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় এই লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। শুধু পরাজিত হওয়াই নয়, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ তিন হেভিওয়েট প্রার্থীই তাদের জামানত খুইয়েছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘ ৪৭ বছর পর জেলার সবকটি আসনে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত এক দশকে এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। জেলার তিনটি আসনে জাপা প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ভোটের যোগফল মাত্র ৮ হাজার ১১১টি, যা দলটির অস্তিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে ১ লাখ ভোট ছিল, সেখানে এখন শূন্যের কোটা। লালমনিরহাটের নির্বাচনি ইতিহাসে জাতীয় পার্টির এমন শোচনীয় পরাজয় আগে কখনো দেখা যায়নি।  লালমনিরহাট-৩ (সদর):  এই আসনটি জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জি এম কাদের এই আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার এই আসনে জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জাহিদ হাসান লিমন লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ১৫০ ভোট। যেখানে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬২টি। একাদশ নির্বাচনের তুলনায় এই ধসকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ): এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এলাহান উদ্দিনের ফল ছিল সবচাইতে করুণ। ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৩টি প্রদত্ত ভোটের বিপরীতে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৮১০ ভোট। এক সময়কার শক্তিশালী এই ঘাটিতে জাপার এমন ভোটপ্রাপ্তি দলের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম): এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রার্থী হয়েছিলেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ ২ লাখ ৯১ হাজার ২২২টি ভোটের মধ্যে পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ১৫৮ ভোট। হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। লালমনিরহাটের তিনটি আসনে এবার ভোটার উপস্থিতি এবং সচেতনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনটি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৭টি। কিন্তু এই বিশালসংখ্যক ভোটারের মধ্যে লাঙল প্রতীক পেয়েছে মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, দলের নীতিহীন অবস্থান এবং বড় দলের লেজুড়বৃত্তি করার কারণেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাধারণ ভোটার এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পতনের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ তকমা। সাধারণ মানুষের মতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা এবং তাদের ওপর ভর করে নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়ার অপচেষ্টা ভোটাররা মেনে নেয়নি। অনেকেই মনে করছেন, জাপার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক মেরুদণ্ড না থাকায় মানুষ বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকেছে। এ ছাড়াও দলটির শীর্ষ নেতাদের হটকারী সিদ্ধান্ত এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়ন জাপাকে ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করেছে। নির্বাচনের আগে জাপা প্রার্থীরা বরাবরই এই অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের কাছে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন, মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করা এবং চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার সুযোগ পেয়েও সেসব বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো ভূমিকা না রাখায় সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে। ১৯৭৯ সালের পর লালমনিরহাটের সবকটি আসনে বিএনপির এই জয় এবং জাতীয় পার্টির এমন শোচনীয় পরাজয় এই জনপদের রাজনীতিতে নতুন এক মেরূকরণ সৃষ্টি করেছে। জাতীয় পার্টি যদি তৃণমূলের আস্থা এবং নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে এই ‘দুর্গ’ উদ্ধার করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, দল এখন হাইব্রিড নেতাদের দখলে। যারা ত্যাগী কর্মী তাদের মূল্যায়ন নেই। আগে মানুষ লাঙল বলতে পাগল ছিল, আর এখন মানুষ আমাদের হাসির পাত্র বানায়। রাজনৈতিক ভুলের কারণেই আজ এই ভরাডুবি।  একসময়ের ‘লাঙলের ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে এখন জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই বিপর্যয় কাটিয়ে দলটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে খোদ সমর্থকদের মধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এশিয়া পোস্টকে বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়ন না করা নিয়ে জাতীয় পার্টি যে নাটক করেছে, তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। তারা ক্ষমতায় থেকেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করার মতো মৌলিক দাবিগুলো পূরণ করেনি। বরং পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে তারা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে সহায়তা করেছে। লালমনিরহাটের মানুষ আর কোনো ধোঁকাবাজিতে বিশ্বাস করে না, যার প্রমাণ এই নির্বাচনের ফলাফল।
‘দুর্গ’ হারিয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। বিকেলে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নেবেন, তাদের ইতোমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।  মন্ত্রিসভায় যারা থাকছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু,  হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেড এম জাহিদ হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান,  জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফরিদ মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা স্থান পেয়েছেন এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ খৈয়াম, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)।
মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা
আরও পড়ুন
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের প্রতিবাদী নারী সমাবেশ ৩১ জানুয়ারি
আমরা নতুনভাবে পথচলা শুরু করছি : ইরান
নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করলেন তাসনিম জারা
উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট : জামায়াত আমির