ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

বিএনপি জোটের বিজয়ী ২১২ প্রার্থীর তালিকা

এশিয়া পোস্ট নিউজ

  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে ২৯৯ আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯৭টির বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের প্রার্থীরা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

একনজরে দেখে নিন প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি ও তাদের জোট যেসব আসনে জয়লাভ করেছে—

১) মৌলভীবাজার-৪ মুজিবুর রহমান।
২) সিলেট-২ তাহসিনা রুশদীর।
৩) হবিগঞ্জ-৩ জি কে গাউছ।
৪) রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু।
৫) লালমনিরহাট-২ রোকন উদ্দীন বাবুল।
৬) যশোর-৩ বিএনপির আনিন্দ্য ইসলাম।
৭) সিলেট-৩ আব্দুল মালিক।
৮) সিলেট-৬ এমরান আহমদ।
৯) সুনামগঞ্জ-১ কামরুজ্জামান কামরুল।
১০) পিরোজপুর-৩ রুহুল আমিন।
১১) শরীয়তপুর-৩ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ।
১২) শেরপুর-২ ফাহিম চৌধুরী।
১৩) দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
১৪) সুনামগঞ্জ-৩ কয়ছর আহমেদ।
১৫) সুনামগঞ্জ-৪ নূরুল ইসলাম।
১৬) সুনামগঞ্জ-৫ কলিম উদ্দিন।
১৭) হবিগঞ্জ-৪ এস এম ফয়সাল।
১৮) নাটোর-২ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার।
১৯) চাঁদপুর-৩ শেখ ফরিদ আহম্মেদ।
২০) ঝালকাঠি-২ ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো।
২১) চাঁদপুর-২ জালাল উদ্দিন।
২২) ফেনী-১ মুন্সি রফিকুল আলম।
২৩) খুলনা-৩ রকিবুল ইসলাম বকুল।
২৪) খুলনা-৫ আলী আসগর লবি।
২৫) টাঙ্গাইল-১ ফকির মাহবুব আনাম।
২৬) টাঙ্গাইল-২ আব্দুস সালাম পিন্টু।
২৭) টাঙ্গাইল-৪ লুৎফর রহমান।
২৮) টাঙ্গাইল-৫ সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
২৯) টাঙ্গাইল-৬ রবিউল আওয়াল।
৩০) টাঙ্গাইল-৭ আবুল কালাম আজাদ।
৩১) টাঙ্গাইল-৮ আহমেদ আযম খান।
৩২) বরিশাল-১ জহির উদ্দিন স্বপন।
৩৩) বরিশাল-২ সরফুদ্দিন।
৩৪) বরিশাল-৫ মজিবুর রহমান সরওয়ার।
৩৫) সিরাজগঞ্জ-৩ আয়নুল হক।
৩৬) ঝালকাঠি-১ রফিকুল ইসলাম জামাল।
৩৭) গাজীপুর-১ মজিবুর রহমান।
৩৮) গাজীপুর-৩ রফিকুল ইসলাম।
৩৯) গাজীপুর-৫ ফজলুল হক মিলন।
৪০) মাদারীপুর-২ জাহান্দার আলী।
৪১) মাদারীপুর-৩ আনিসুর রহমান।
৪২) ভোলা-৪ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম।
৪৩) লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
৪৪) ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৪৫) ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
৪৬) কক্সবাজার-১ সালাহউদ্দিন আহমদ।
৪৭) চট্টগ্রাম-১১ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
৪৮) চট্টগ্রাম-৮ এরশাদ উল্লাহ।
৪৯) নেত্রকোণা-৪ লুৎফুজ্জামান বাবর।
৫০) ঝিনাইদহ-১ মো. আসাদুজ্জামান।
৫১) চট্টগ্রাম-৩ মোস্তফা কামাল পাশা।
৫২) চট্টগ্রাম-৫ মীর হেলাল।
৫৩) ফরিদপুর-২ শামা ওবায়েদ।
৫৪) চট্টগ্রাম-৯ আবু সুফিয়ান।
৫৫) চাঁদপুর-৫ মমিনুল হক।
৫৬) মৌলভীবাজার-৩ নাসের রহমান।
৫৭) ময়মনসিংহ-৮ লুৎফেল্লাহেল মাজেদ।
৫৮) ময়মনসিংহ-১১ ফখর উদ্দিন।
৫৯) কক্সবাজার-৩ লুৎফুর রহমান কাজল।
৬০) কক্সবাজার-৪ শাহজাহান চৌধুরী।
৬১) কিশোরগঞ্জ-৪ ফজলুর রহমান।
৬২) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এম এ হান্নান।
৬৩) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ মো. খালেদ হোসেন মাহবুব।
৬৪) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ মুশফিকুর রহমান।
৬৫) মাগুরা-১ মনোয়ার হোসেন।
৬৬) মাগুরা-২ নিতাই রায় চৌধুরী।
৬৭) ময়মনসিংহ-৭ মাহবুবুর রহমান।
৬৮) কক্সবাজার-২ আলমগীর ফরিদ।
৬৯) সুনামগঞ্জ-২ নাছির চৌধুরী।
৭০) কুমিল্লা-১ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
৭১) কুমিল্লা-২ সেলিম ভূঁইয়া।
৭২) কুমিল্লা-৩ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
৭৩) মৌলভীবাজার-১ নাছির উদ্দিন।
৭৪) হবিগঞ্জ-১ রেজা কিবরিয়া।
৭৫) হবিগঞ্জ-২ মনসুর সাখাওয়াত।
৭৬) সিলেট-৪ আরিফুল হক চৌধুরী।
৭৭) লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু।
৭৮) নওগাঁ-৪ ইকরামুল বারী টিটু।
৭৯) নওগাঁ-৬ শেখ মো. রেজাউল ইসলাম।
৮০) কুমিল্লা-৬ মনিরুল হক চৌধুরী।
৮১) কুমিল্লা-৮ জাকারিয়া তাহের।
৮২) কুমিল্লা-৯ আবুল কালাম।
৮৩) কুমিল্লা-১০ মোবাশ্বের আলম।
৮৪) জয়পুরহাট-২ আব্দুল বারী।
৮৫) ভোলা-২ হাফিজ ইব্রাহিম।
৮৬) ভোলা-৩ হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
৮৭) পটুয়াখালী-৪ মোশাররফ হোসেন।
৮৮) পটুয়াখালী-৩ : মো. নুরুল হক
৮৯) পঞ্চগড়-১ মুহাম্মদ নওশাদ জমির
৯০) পঞ্চগড়-২ ফরহাদ হোসেন আজাদ
৯১) লালমনিরহাট-১ মো. হাসান রাজীব প্রধান
৯২) ঠাকুরগাঁও-২ মো. আব্দুস সালাম
৯৩) ঠাকুরগাঁও-৩ মো. জাহিদুর রহমান
৯৪) দিনাজপুর-১ মো. মনজুরুল ইসলাম
৯৫) দিনাজপুর-২ মো. সাদিক রিয়াজ
৯৬) দিনাজপুর-৪ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া
৯৭) দিনাজপুর-৬ আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন
৯৮) গাইবান্ধা-৪ মোহাম্মদ শামীম কায়সার
৯৯) বগুড়া-১ কাজী রফিকুল ইসলাম
১০০) বগুড়া-২ মীর শাহে আলম
১০১) বগুড়া-৩ মো. আব্দুল মহিত তালুকদার
১০২) বগুড়া-৪ মো. মোশারফ হোসেন
১০৩) বগুড়া-৫ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ
১০৪) বগুড়া-৭ মোরশেদ মিলটন
১০৫) নওগাঁ-১ মো. মোস্তাফিজুর রহমান
১০৬) নওগাঁ-৩ মো. ফজলে হুদা
১০৭) নওগাঁ-৫ মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু
১০৮) রাজশাহী-৩ মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন
১০৯) রাজশাহী-৫ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
১১০) রাজশাহী-৬ মো. আবু সাইদ চাঁদ
১১১) নাটোর-১ ফারজানা শারমীন
১১২) নাটোর-৩ মো. আনোয়ারুল ইসলাম
১১৩) নাটোর-৪ মো. আব্দুল আজিজ
১১৪) সিরাজগঞ্জ-১ মো. সেলিম রেজা
১১৫) সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহ্‌মুদ
১১৬) সিরাজগঞ্জ-৩ মো. আয়নুল হক
১১৭) সিরাজগঞ্জ-৫ মো. আমিরুল ইসলাম খান
১১৮) সিরাজগঞ্জ-৬ এম. এ. মুহিত
১১৯) পাবনা-২ এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব
১২০) পাবনা-৫ মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস
১২১) কুষ্টিয়া-১ রেজা আহাম্মেদ১২২) ঝিনাইদহ-১ মো. আসাদুজ্জামান
১২৩) নড়াইল-১ বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম
১২৪) বাগেরহাট-৩ শেখ ফরিদুল ইসলাম
১২৫) খুলনা-১ আমীর এজাজ খান
১২৬) খুলনা-৪ এস কে আজিজুল বারী
১২৭) বরগুনা-২ মো. নূরুল ইসলাম।
১২৮) পটুয়াখালী-১ আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
১২৯) গাজীপুর-২ এম মঞ্জুরুল করিম রনি।
১৩০) বরিশাল-৩ জয়নুল আবেদীন।
১৩১) বরিশাল-৪ মো. রাজিব আহসান।
১৩২) বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান।
১৩৩) পিরোজপুর-২ আহম্মদ সোহেল মনজুর।
১৩৪) জামালপুর-১ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
১৩৫) জামালপুর-২ এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু।
১৩৬) জামালপুর-৩ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
১৩৭) জামালপুর-৪ মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার।
১৩৮) জামালপুর-৫ শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
১৩৯) ময়মনসিংহ-৩ এম ইকবাল হোসেইন।
১৪০) ময়মনসিংহ-৪ মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
১৪১) ময়মনসিংহ-৫ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
১৪২) ময়মনসিংহ-৯ ইয়াসের খান চৌধুরী।
১৪৩) ময়মনসিংহ-১০ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান।
১৪৪) নেত্রকোনা-১ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
১৪৫) নেত্রকোনা-২ মো. আনোয়ারুল হক।
১৪৬) নেত্রকোনা-৩ রফিকুল ইসলাম হিলালী
১৪৭) কিশোরগঞ্জ-১ মাজহারুল ইসলাম।
১৪৮) কিশোরগঞ্জ-২ এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন।
১৪৯) কিশোরগঞ্জ-৩ ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক।
১৫০) কিশোরগঞ্জ-৬ মো. শরীফুল আলম।
১৫১) মানিকগঞ্জ-১ এস এ জিন্নাহ কবীর।
১৫২) মানিকগঞ্জ-২ মঈনুল ইসলাম খান।
১৫৩) মানিকগঞ্জ-৩ আফরোজা খানম।
১৫৪) মুন্সীগঞ্জ-১ মো. আব্দুল্লাহ্।
১৫৫) মুন্সীগঞ্জ-২ আব্দুস সালাম আজাদ।
১৫৬) মুন্সীগঞ্জ-৩ মো. কামরুজ্জামান।
১৫৭) ঢাকা-১ খোন্দকার আবু আশফাক।
১৫৮) ঢাকা-২ মো. আমানউল্লাহ আমান।
১৫৯) ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
১৬০) ঢাকা-৬ ইশরাক হোসেন।
১৬১) ঢাকা-৭ হামিদুর রহমান।
১৬২) ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ।
১৬৩) ঢাকা-৯ হাবিবুর রশিদ।
১৬৪) ঢাকা ১০-শেখ রবিউল আলম।
১৬৫) ঢাকা-১৩ ববি হাজ্জাজ।
১৬৬) ঢাকা-১৮ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
১৬৭) ঢাকা-১৯ ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
১৬৮) ঢাকা-২০ মো. তমিজ উদ্দিন।
১৬৯) নরসিংদী-১ খায়রুল কবির খোকন।
১৭০) নরসিংদী-২ ড. আবদুল মঈন খান।
১৭১) নরসিংদী-৩ মনজুর এলাহী।
১৭২) নরসিংদী-৪ সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
১৭৩) নরসিংদী-৫ মো. আশরাফ উদ্দিন।
১৭৪) নারায়ণগঞ্জ-১ মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া।
১৭৫) নারায়ণগঞ্জ-২ মো. নজরুল ইসলাম আজাদ।
১৭৬) নারায়ণগঞ্জ-৩ আজহারুল ইসলাম মান্নান।
১৭৭) নারায়ণগঞ্জ-৫ আবুল কালাম।
১৭৮) রাজবাড়ী-১ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
১৭৯) রাজবাড়ী-২ মো. হারুন-অর-রশিদ।
১৮০) ফরিদপুর-৩ নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
১৮১) ফরিদপুর-৪ মো. শহিদুল ইসলাম।
১৮২) গোপালগঞ্জ-১ মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা।
১৮৩) গোপালগঞ্জ-২ কে এম বাবর।
১৮৪) গোপালগঞ্জ-৩ এস. এম. জিলানী।
১৮৫) শরীয়তপুর-১ সাঈদ আহমেদ।
১৮৬) শরীয়তপুর-২ মো. সফিকুর রহমান (কিরন)।
১৮৭) সুনামগঞ্জ-২ মো. নাছির চৌধুরী।
১৮৮) সিলেট-১ খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
১৮৯) মৌলভীবাজার-২ মো. শওকতুল ইসলাম।
১৯০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ মো. আবদুল মান্নান।
১৯১) কুমিল্লা-৫ মো. জসীম উদ্দিন।
১৯২) চাঁদপুর-১ আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
১৯৩) ফেনী-২ জয়নাল আবদিন।
১৯৪) ফেনী-৩ আবদুল আউয়াল মিন্টু।
১৯৫) নোয়াখালী-১ এ এম মাহবুব উদ্দিন।
১৯৬) নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদিন ফারুক।
১৯৭) নোয়াখালী-৩ মো. বরকত উল্লাহ বুলু।
১৯৮) নোয়াখালী-৪ মো. শাহজাহান।
১৯৯) নোয়াখালী-৫ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
২০০) লক্ষ্মীপুর-১ মো. শাহাদাত হোসেন।
২০১) লক্ষ্মীপুর-২ মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া।
২০২) লক্ষ্মীপুর-৪ এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
২০৩) চট্টগ্রাম-৬ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

মন্তব্য করুন

নতুন মন্ত্রিসভায় উপেক্ষিত অনেক ত্যাগী নেতারা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। ঘোষিত এ মন্ত্রিসভার তালিকায় দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতা স্থান না পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাবিব উন নবী খান সোহেলের। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৬১৮টি মামলা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ৬১৮টি মামলার আসামি হয়েও প্রিয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল ভাইয়ের নাম মন্ত্রিসভায় নেই। তিনি এটিকে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতিতে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা প্রকাশ পায়। গোলাম সরোয়ার সরকার নামের এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দুদু ভাইকে আর কত বঞ্চিত করা হবে—রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে, অথচ মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়নি। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২৫৪টি মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। নয়াপল্টনে এক কর্মসূচি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতি নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা দেখা গেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ থাকাকালে সংসদ ভবন এলাকায় এক আন্দোলন কর্মসূচিতে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও আলোচিত হয়। তবে সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তারও স্থান হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি। ২০২৩ সালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে দলীয় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পুলিশের হামলার শিকার হন। তবুও ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর দলীয় অভ্যন্তরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব জ্যেষ্ঠ নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় উপেক্ষিত অনেক ত্যাগী নেতারা
আমাদের উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা: জামায়াত আমির 
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং আমিও বিরোধীদলীয় প্রধান হতে পারতাম না। তাই আমাদের সবার উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার মনিপুর স্কুলের সামনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।  রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব স্তরের আবর্জনা দূর করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে মন ভালো থাকে। গতকাল আমরা দুটো শপথ নিয়েছি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার জন্যই আমাদের শপথ। জামায়াত আমির বলেন, আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের আবর্জনা দূর করতে চাই। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ব। নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার করলে দেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।  
আমাদের উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা: জামায়াত আমির 
মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগদান ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রমাণ : নাহিদ ইসলাম
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে, সেটি জাতির সামনে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে, সরকার গঠনের প্রথম দিনেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে।’ ‘‌‌এটা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই নয়, এর মধ্য দিয়ে আইনি সংকট এবং জটিলতা তৈরি করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার আদেশে সই করে গণভোটে অংশ নিলেও এখন বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানের বিএনপি সরকারে যোগদান নৈতিক নয় বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সূত্র : বিবিসি বাংলা
মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগদান ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রমাণ : নাহিদ ইসলাম
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর, উপনেতা তাহের ও চিফ হুইপ নাহিদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় উপনেতা হচ্ছেন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন গণামধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংসদীয় দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই ১১-দলীয় জোটের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হবে। এর আগে দুপুর ১২টার কিছু পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জামায়াত ও জোটের এমপিরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। দলটি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পায়। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭ আসনে বিজয়ী হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর, উপনেতা তাহের ও চিফ হুইপ নাহিদ
পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ওই কার্যালয়ে কেউ এসে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা টানিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং ঘটনাটি নিয়ে তারা আতঙ্কিত বলে জানান।
পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন
মন্ত্রিপরিষদের শপথে যাচ্ছে না এনসিপি
নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত সদস্যরা।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেয় এনসিপি। ওই পোস্টে এনসিপি উল্লেখ করে, ‘আজ বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে থাকবে না এনসিপি।’ পাশাপাশি একটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, এনসিপির নির্বাচিত ৬ সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোটসঙ্গী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এনসিপি। জামায়াত এমপিরাও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেন।  
মন্ত্রিপরিষদের শপথে যাচ্ছে না এনসিপি
জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং রাষ্ট্রকে নতুন ধারায় এগিয়ে নিতে সংসদ হবে প্রধান প্ল্যাটফর্ম। প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া এগোবে। তিনি বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যের শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নেই। এ কারণে ওই ধরনের কোনো প্রক্রিয়াও হয়নি। আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এসেছি। আগামীতেও রাষ্ট্র পরিচালনা হবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে। শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, গণভোটের রায় ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পর তৃতীয় তফশিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার বিষয়টি সংসদ নির্ধারণ করবে।   শপথের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যারা শপথ নিয়েছেন, উপস্থিত সবাই ওই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন।   শপথ গ্রহণের আগে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম থাকলেও আমরা (বিএনপি) কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। এ ছাড়া সংবিধানে এটা এখনও ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ নেবেন, সেটা বিধান করতে হবে।
জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র: সালাহউদ্দিন আহমদ
‘দুর্গ’ হারিয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
একসময়ের জাতীয় পার্টির (জাপা) অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে দলটির চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে, যেখানে লাঙলের হেভিওয়েট তিন প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় এই লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। শুধু পরাজিত হওয়াই নয়, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ তিন হেভিওয়েট প্রার্থীই তাদের জামানত খুইয়েছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘ ৪৭ বছর পর জেলার সবকটি আসনে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত এক দশকে এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। জেলার তিনটি আসনে জাপা প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ভোটের যোগফল মাত্র ৮ হাজার ১১১টি, যা দলটির অস্তিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে ১ লাখ ভোট ছিল, সেখানে এখন শূন্যের কোটা। লালমনিরহাটের নির্বাচনি ইতিহাসে জাতীয় পার্টির এমন শোচনীয় পরাজয় আগে কখনো দেখা যায়নি।  লালমনিরহাট-৩ (সদর):  এই আসনটি জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জি এম কাদের এই আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার এই আসনে জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জাহিদ হাসান লিমন লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ১৫০ ভোট। যেখানে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬২টি। একাদশ নির্বাচনের তুলনায় এই ধসকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ): এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এলাহান উদ্দিনের ফল ছিল সবচাইতে করুণ। ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৩টি প্রদত্ত ভোটের বিপরীতে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৮১০ ভোট। এক সময়কার শক্তিশালী এই ঘাটিতে জাপার এমন ভোটপ্রাপ্তি দলের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম): এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রার্থী হয়েছিলেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ ২ লাখ ৯১ হাজার ২২২টি ভোটের মধ্যে পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ১৫৮ ভোট। হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। লালমনিরহাটের তিনটি আসনে এবার ভোটার উপস্থিতি এবং সচেতনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনটি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৭টি। কিন্তু এই বিশালসংখ্যক ভোটারের মধ্যে লাঙল প্রতীক পেয়েছে মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, দলের নীতিহীন অবস্থান এবং বড় দলের লেজুড়বৃত্তি করার কারণেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাধারণ ভোটার এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পতনের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ তকমা। সাধারণ মানুষের মতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা এবং তাদের ওপর ভর করে নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়ার অপচেষ্টা ভোটাররা মেনে নেয়নি। অনেকেই মনে করছেন, জাপার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক মেরুদণ্ড না থাকায় মানুষ বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকেছে। এ ছাড়াও দলটির শীর্ষ নেতাদের হটকারী সিদ্ধান্ত এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়ন জাপাকে ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করেছে। নির্বাচনের আগে জাপা প্রার্থীরা বরাবরই এই অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের কাছে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন, মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করা এবং চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার সুযোগ পেয়েও সেসব বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো ভূমিকা না রাখায় সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে। ১৯৭৯ সালের পর লালমনিরহাটের সবকটি আসনে বিএনপির এই জয় এবং জাতীয় পার্টির এমন শোচনীয় পরাজয় এই জনপদের রাজনীতিতে নতুন এক মেরূকরণ সৃষ্টি করেছে। জাতীয় পার্টি যদি তৃণমূলের আস্থা এবং নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে এই ‘দুর্গ’ উদ্ধার করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, দল এখন হাইব্রিড নেতাদের দখলে। যারা ত্যাগী কর্মী তাদের মূল্যায়ন নেই। আগে মানুষ লাঙল বলতে পাগল ছিল, আর এখন মানুষ আমাদের হাসির পাত্র বানায়। রাজনৈতিক ভুলের কারণেই আজ এই ভরাডুবি।  একসময়ের ‘লাঙলের ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে এখন জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই বিপর্যয় কাটিয়ে দলটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে খোদ সমর্থকদের মধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এশিয়া পোস্টকে বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়ন না করা নিয়ে জাতীয় পার্টি যে নাটক করেছে, তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। তারা ক্ষমতায় থেকেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করার মতো মৌলিক দাবিগুলো পূরণ করেনি। বরং পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে তারা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে সহায়তা করেছে। লালমনিরহাটের মানুষ আর কোনো ধোঁকাবাজিতে বিশ্বাস করে না, যার প্রমাণ এই নির্বাচনের ফলাফল।
‘দুর্গ’ হারিয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। বিকেলে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নেবেন, তাদের ইতোমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।  মন্ত্রিসভায় যারা থাকছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু,  হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেড এম জাহিদ হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান,  জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফরিদ মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা স্থান পেয়েছেন এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ খৈয়াম, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)।
মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা