নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণ অভিযোগের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি। পরে রাজু চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে তারা ‘বিচার বিচার বিচার চাই, ধর্ষকদের বিচার চাই; জাস্টিস জাস্টিস, ইউ ওয়ান্ট জাস্টিস; আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’-সহ নানা স্লোগান দেয়।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার সভাপতি ও ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহা. মহিউদ্দীন খান বলেন, আজ আমরা একটি হৃদয় বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমার জানতে পেরেছি শুধু বিরোধী মতের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য এক মাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি শুধু বিরোধী মতের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় পোলিং এজেন্ট থেকে শুরু করে ভোটারদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি বিভিন্ন স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্নভাবে হামলা করা হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের ওপর হামলা করা হয়েছে শুধু যে দলটি সরকার গঠন করেছে তাদের মতের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, আমরা শুধু একক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে উপস্থিত হইনি। আমাদের কাছে এত এত অভিযোগ এসেছে যার জন্য মিছিল করতে হলে চব্বিশ ঘণ্টা আমাদের রাজুতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আমরা ক্যাম্পাসে সহনশীলতার পরিচয় দিতে চাই, দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে চাই।
ডাকসু এজিএস বলেন, কথা বলার অধিকার আর গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়িত হবে এ স্বপ্ন নিয়ে গত ষোলো বছর পর এ দেশের মানুষ যখন ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছে, ঠিক ভোট দেওয়ার পরপরই যখন মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো খর্ব করা হয়, তখনই মানুষ বুঝতে পেরেছে, এ দেশে গণতন্ত্রের যে উত্তরণ হয়েছে, বিএনপি গণতন্ত্রের এ উত্তরণ চায় না। যদি চাইতো তাহলে নির্বাচনের পরপরই কোনোভাবে খুন, ধর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটতো না।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কেন্দ্রীয়ভাবে আপনারা বক্তব্য দিচ্ছেন— আপনারা গণতান্ত্রিক উত্তরণ চান, আপনারা সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চান, আপনারা মানুষের কল্যাণ করতে চান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সত্য হলো— আপনাদের তৃণমূল নেতাকর্মীরা তা চায় না। আমরা বলতে চাই, এভাবে কুসুম কুসুম কথা বলে এ দেশের মানুষকে আপনারা বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। আপনারা যদি আপনাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের থামাতে না পারেন, তাহলে এ দেশের মানুষ আবার আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
মহিউদ্দীন আরও বলেন, আপনারা সঠিক পথে আসুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। দেশ গঠনের জন্য, এ ক্যাম্পাসকে পুনর্গঠন করার জন্য আমার সামগ্রিকভাবে আপনাদের সহায়তা করতে চাই। কিন্তু আপনারা যদি আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত তুলতে চান, আপনারা যদি আমাদের ভাইদের আঘাত করে তাদের কণ্ঠ রোধ করতে চান, তাহলে আমরা অবশ্যই আপনাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবো। আমার প্রমাণ করবো জুলাইয়ের স্প্রিট হারিয়ে যায়নি। জুলাই কোনো নির্দিষ্ট কোনো শক্তির বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়নি। জুলাই সংগঠিত হয়েছিল— ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদি শক্তির বিরুদ্ধে। সেই শাসন ব্যবস্থা যদি আবারও কেউ ফিরিয়ে আনতে চায়, আমরা এখান থেকে আবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। আমরা হারিয়ে যাইনি, আমরা ক্লান্ত হইনি।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন— ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার সেক্রেটারি আশিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসাইন খান ও ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন।
মন্তব্য করুন








