যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছেন উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্ডু ওরসি। লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব বিস্তারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিলেও চীন ও উরুগুয়ে তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেইজিংয়ে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্ডু ওরসি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান দুই দেশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য নিয়ে এক ডজন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইয়ামান্ডু ওরসি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদার এবং দেশের উন্নয়নের জন্য উরুগুয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
এদিকে চীন জানিয়েছে, শি জিনপিং উরুগুয়ের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ‘বহুমেরু বিশ্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন’ প্রচারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ‘সাধারণ উন্নয়নের’ জন্য একসঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তারা তাদের ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও গভীর করবে।
ব্যবসায়ী নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ ১৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে গত রোববার থেকে সাত দিনের চীন সফর শুরু করেন উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ওরসি। সফরের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এরপর তিনি দেশটির সাংহাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।
গত জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে। তার সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। তিনি মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরোধী হওয়ায় ট্রাম্প তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ইয়ামান্ডু ওরসি বলেছিলেন, উরুগুয়ে এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ ঘটনার পর লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের আরেক দেশের নেতা ইয়ামান্ডু ওরসিই প্রথম চীন সফর করেন। এ কারণে পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে তার এই সফরের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে।
এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।
তাই চীনের সঙ্গে ওরসির এমন সম্পর্ক ট্রাম্পকে উত্তেজিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
মন্তব্য করুন


