ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

কলম্বিয়ায় গেরিলা গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ২৭

এপি আন্তর্জাতিক

  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪১
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যাঞ্চলীয় জঙ্গল এলাকার নিয়ন্ত্রণ ঘিরে সংঘর্ষে জড়িয়েছে কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর (ফার্ক) দুই পক্ষ। এতে গোষ্ঠীটির একটি বামপন্থি গেরিলা সংগঠনের অন্তত ২৭ সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সামরিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষটি ঘটেছে রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে গুয়াভিয়ার বিভাগের এল রেটোর্নো পৌরসভার একটি গ্রামীণ এলাকায়। অঞ্চলটি কোকেন উৎপাদন ও মাদক পাচারের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংঘর্ষে জড়িত গোষ্ঠীগুলো কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী (ফার্ক) থেকে বিচ্ছিন্ন দুটি অংশ। একটির নেতৃত্বে রয়েছেন নেস্টর গ্রেগোরিও ভেরা, যিনি ‘ইভান মর্ডিস্কো’ নামে পরিচিত। অপর গোষ্ঠীর নেতা আলেকজান্ডার দিয়াজ মেন্ডোজা, যার যুদ্ধনাম ‘ক্যালারকা কর্ডোবা’।

সামরিক সূত্র জানায়, উভয় পক্ষই আগে তথাকথিত ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে তারা আলাদা হয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই সামরিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত সবাই ভেরার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সদস্য। দিয়াজের গোষ্ঠীর একজন নেতা রয়টার্সকে সংঘর্ষের ঘটনা ও ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে দিয়াজের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় রয়েছে। বিপরীতে, সরকার দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি স্থগিত করার পর ভেরার গোষ্ঠী পুনরায় সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে। উভয় গোষ্ঠীই ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। চুক্তিটির আওতায় প্রায় ১৩ হাজার ফার্ক সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করে সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা কলম্বিয়ার সশস্ত্র সংঘাত মূলত মাদক পাচার ও অবৈধ খনির অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও লাখ লাখ মানুষ। প্রেসিডেন্ট পেট্রোর শান্তি উদ্যোগ বর্তমানে নানা জটিলতায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

মন্তব্য করুন

মাদুরোকেই ‘বৈধ নেতা’ বললেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী কর্তৃক অপহরণের শিকার নিকোলাস মাদুরোকে ‘বৈধ নেতা’ বলে স্বীকার করেছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। বৃহস্পতিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সি এ সংবাদ প্রকাশ করেছে। ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, তিনি দেশ পরিচালনা করছেন, যদিও দাবি করা হচ্ছে যে কারাকাসের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি এনবিসি নিউজকে জানান, আমি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছি, যেমনটা সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে অনেক কাজ করতে হচ্ছে আমাকে। প্রতিদিন আমি ও আমার কর্মকর্তারা খুবই কঠোর পরিশ্রম করছি। তিনি আরও বলেন, মাদুরো এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি আপনাদের বলবো তিনি এ দেশের প্রেসিডেন্ট। ডেলসির মতে, মাদুরো ও তার স্ত্রী নির্দোষ। জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এরপর তাকে একটি ফেডারেল কারাগারে রাখে।  ওই সময় ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য পদক্ষেপ নেন।  এদিকে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বুধবার কারাকাসে পৌঁছেছেন। তিনি দেশটির তেল শিল্পের মূল্যায়ন করতে এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে এ বৈদেশিক সফরে যান। যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার দেশটির অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত এবং বিশ্ব বাজারে তেলের মজুত পুনঃসংহত করতে চায়।
মাদুরোকেই ‘বৈধ নেতা’ বললেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও চীন-উরুগুয়ের সম্পর্কে অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছেন উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্ডু ওরসি। লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব বিস্তারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিলেও চীন ও উরুগুয়ে তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেইজিংয়ে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্ডু ওরসি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান দুই দেশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য নিয়ে এক ডজন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইয়ামান্ডু ওরসি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদার এবং দেশের উন্নয়নের জন্য উরুগুয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এদিকে চীন জানিয়েছে, শি জিনপিং উরুগুয়ের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ‘বহুমেরু বিশ্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন’ প্রচারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ‘সাধারণ উন্নয়নের’ জন্য একসঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তারা তাদের ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও গভীর করবে। ব্যবসায়ী নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ ১৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে গত রোববার থেকে সাত দিনের চীন সফর শুরু করেন উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ওরসি। সফরের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এরপর তিনি দেশটির সাংহাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। গত জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে। তার সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। তিনি মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরোধী হওয়ায় ট্রাম্প তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ইয়ামান্ডু ওরসি বলেছিলেন, উরুগুয়ে এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ঘটনার পর লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের আরেক দেশের নেতা ইয়ামান্ডু ওরসিই প্রথম চীন সফর করেন। এ কারণে পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে তার এই সফরের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। তাই চীনের সঙ্গে ওরসির এমন সম্পর্ক ট্রাম্পকে উত্তেজিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র : আল-জাজিরা
ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও চীন-উরুগুয়ের সম্পর্কে অগ্রগতি
‘বিশেষ সুবিধা’ পেতে ৪৬ কারারক্ষীকে জিম্মি করল বন্দিরা
মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালার তিনটি কারাগারে দাঙ্গার সময় বন্দিরা কমপক্ষে ৪৬ কর্মীকে জিম্মি করেছে। কারাগারগুলো পুনরুদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশেষ সুযোগ-সুবিধার দাবিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে গ্যাং সদস্যরা এই সহিংসতা শুরু করে। রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় এদিন বিকেল পর্যন্ত জিম্মিদের মধ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গুয়াতেমালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ভিলেদা। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জিম্মিদের বেশিরভাগই কারারক্ষী। তবে তাদের মধ্যে একজন মনোবিজ্ঞানীও রয়েছেন। ভিলেদা জানান, তিনটি কারাগারে একযোগে দাঙ্গা ছড়ানো হয়। তার অভিযোগ, কুখ্যাত ব্যারিও ১৮ গ্যাং এই সহিংসতার নেপথ্যে রয়েছে। গ্যাংটির এক শীর্ষ নেতা  অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ চিকিৎসার দাবিতে অন্য কারাগারে স্থানান্তর চাওয়ায় পরিস্থিতি বিস্ফোরণ ঘটায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্যাং নেতাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্তের ‘সরাসরি প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেই এই দাঙ্গা শুরু হয়। ভিলেদা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো চুক্তি করব না। এই ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। সহিংসতা বন্ধের বিনিময়ে তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গুয়াতেমালার দক্ষিণাঞ্চলের এসকুইন্টলা প্রদেশে অবস্থিত রেনোভাসিওন ১ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারের চারপাশে পুলিশ ও সেনারা নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে রেখেছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য বাইরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। টহল টাওয়ার থেকে কারাগারের ভেতরে বন্দিদের ওপর থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। কেউ কেউ জাম্পস্যুট পরলেও অধিকাংশ বন্দি ট্যাঙ্ক টপ ও শর্টস পরে ছিলেন। পোশাকের টুকরো দিয়ে তৈরি মুখোশে তাদের মুখ ঢাকা ছিল। কাঁটাতারের আড়াল থেকে মুখোশধারী এক বন্দি দাবি করেন, কারাগারের ভেতরে তারা নিরাপদ নন এবং দ্রুত স্থানান্তর চান। কারা কর্তৃপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে এই বন্দি বলেন, ‘ওরা নিজেরাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তাহলে আমাদের নিরাপত্তা দেবে কীভাবে?’ গুয়াতেমালায় অতীতেও কারারক্ষীদের জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। তবে কর্মকর্তাদের মতে, এসকুইন্টলার এই দাঙ্গায় জিম্মির সংখ্যা আগের যে কোনো ঘটনার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। গ্যাং প্রভাবের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটির সরকার কারাগারের নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে, বন্দিরা কঠোর এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট বার্নার্ডো আরেভালো কয়েক দিনের মধ্যে ২০ গ্যাং সদস্য পালিয়ে যাওয়ার পর তিন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কারাগার ব্যবস্থা ও বাইরের অপরাধের মধ্যে যোগসূত্র ছিন্ন করতে হবে। এজন্যই কারাগার ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের এসব প্রচেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
‘বিশেষ সুবিধা’ পেতে ৪৬ কারারক্ষীকে জিম্মি করল বন্দিরা
আরও পড়ুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরণে নিহতদের পরিচয় জানাল পুলিশ
শরণখোলায় সমঝোতা বৈঠকে সংঘর্ষ, আহত ১০
ফরিদপুরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ঢাকায় দুই বাসের চাপায় নিহত ১