মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালার তিনটি কারাগারে দাঙ্গার সময় বন্দিরা কমপক্ষে ৪৬ কর্মীকে জিম্মি করেছে। কারাগারগুলো পুনরুদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশেষ সুযোগ-সুবিধার দাবিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে গ্যাং সদস্যরা এই সহিংসতা শুরু করে।
রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় এদিন বিকেল পর্যন্ত জিম্মিদের মধ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গুয়াতেমালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ভিলেদা। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জিম্মিদের বেশিরভাগই কারারক্ষী। তবে তাদের মধ্যে একজন মনোবিজ্ঞানীও রয়েছেন।
ভিলেদা জানান, তিনটি কারাগারে একযোগে দাঙ্গা ছড়ানো হয়। তার অভিযোগ, কুখ্যাত ব্যারিও ১৮ গ্যাং এই সহিংসতার নেপথ্যে রয়েছে। গ্যাংটির এক শীর্ষ নেতা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ চিকিৎসার দাবিতে অন্য কারাগারে স্থানান্তর চাওয়ায় পরিস্থিতি বিস্ফোরণ ঘটায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্যাং নেতাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্তের ‘সরাসরি প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেই এই দাঙ্গা শুরু হয়। ভিলেদা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো চুক্তি করব না। এই ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। সহিংসতা বন্ধের বিনিময়ে তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গুয়াতেমালার দক্ষিণাঞ্চলের এসকুইন্টলা প্রদেশে অবস্থিত রেনোভাসিওন ১ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারের চারপাশে পুলিশ ও সেনারা নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে রেখেছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য বাইরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। টহল টাওয়ার থেকে কারাগারের ভেতরে বন্দিদের ওপর থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। কেউ কেউ জাম্পস্যুট পরলেও অধিকাংশ বন্দি ট্যাঙ্ক টপ ও শর্টস পরে ছিলেন। পোশাকের টুকরো দিয়ে তৈরি মুখোশে তাদের মুখ ঢাকা ছিল।
কাঁটাতারের আড়াল থেকে মুখোশধারী এক বন্দি দাবি করেন, কারাগারের ভেতরে তারা নিরাপদ নন এবং দ্রুত স্থানান্তর চান। কারা কর্তৃপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে এই বন্দি বলেন, ‘ওরা নিজেরাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তাহলে আমাদের নিরাপত্তা দেবে কীভাবে?’
গুয়াতেমালায় অতীতেও কারারক্ষীদের জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। তবে কর্মকর্তাদের মতে, এসকুইন্টলার এই দাঙ্গায় জিম্মির সংখ্যা আগের যে কোনো ঘটনার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
গ্যাং প্রভাবের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটির সরকার কারাগারের নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে, বন্দিরা কঠোর এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট বার্নার্ডো আরেভালো কয়েক দিনের মধ্যে ২০ গ্যাং সদস্য পালিয়ে যাওয়ার পর তিন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কারাগার ব্যবস্থা ও বাইরের অপরাধের মধ্যে যোগসূত্র ছিন্ন করতে হবে। এজন্যই কারাগার ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের এসব প্রচেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
মন্তব্য করুন


