ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গরু চোরাচালানের মূলে ৮ হোতা

এপি নিউজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৮
জহুরপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বাতাসমোড়-মণ্ডলপাড়ায় নদী পথে ভারত থেকে নৌকায় আনা হচ্ছে গরু। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু চোরাচালান কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে শত শত গরু-মহিষ। বিজিবির অভিযানে মাঝেমধ্যে কিছু চালান ধরা পড়লেও বিশাল একটি অংশ জনচক্ষুর অন্তরালে দেশের বিভিন্ন হাটে পৌঁছে যাচ্ছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এই সীমান্ত এলাকাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন। এই ব্যাটালিয়নের জহুরপুর সীমান্ত এলাকাসহ অন্তত ৩৭ কিলোমিটারজুড়ে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। এসব অরক্ষিত এলাকা ও নদীপথকে পুঁজি করে দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে চোরাচালান সিন্ডিকেট।

খামারিরা জানান, ভারত থেকে এভাবে অবৈধ পথে গবাদিপশু আসায় দেশের প্রাণিসম্পদ খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দেশীয় খামারিরা দীর্ঘ প্রচেষ্টায় পশুপালনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও চোরাচালানের সস্তা গরুর কারণে তারা বাজারে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অনেক খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। এর বাইরেও সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে মারাত্মক সব সংক্রামক ব্যাধি। কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা না থাকায় এসব চোরাচালানের গরুর মাধ্যমে দেশীয় গবাদিপশুর মধ্যে খুরা রোগসহ লাম্পি স্কিন ডিজিজের মতো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার খামারি রহমত আলী বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে ধার-দেনা করে গরু লালনপালন করি। আশা থাকে গরু বিক্রি করে দুই পয়সা লাভ করব। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে যখন ইন্ডিয়ান গরু ঢোকে, তখন বাজারে গরুর দাম একদম কমে যায়।

আরেক খামারি মতিউর রহমান বলেন, এভাবে ভারতীয় গরু আসতে থাকলে ছোট খামারিদের পথে বসতে হবে। এ ছাড়া অন্যদেশ থেকে আসা গরুর অসুখ-বিসুখ থাকলে আমাদের গরুর জন্য বড় বিপদ।

বিজিবির অভিযানের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের শুরু থেকে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৩ বিজিবি বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মোট ৭৯টি গরু ও ২৫টি মহিষ জব্দ করেছে। এরমধ্যে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি জহুরপুর সীমান্তে ৬টি মহিষ জব্দের মধ্য দিয়ে বছর শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে ২০ ফেব্রুয়ারি ১০টি মহিষ, ১০ এপ্রিল ১০টি গরু এবং ৪ অক্টোবর পদ্মা নদী থেকে ৭টি মহিষ আটক করা হয়। এ ছাড়াও বছরের শেষ দিকে মাসুদপুর ও হাকিমপুর সীমান্তে অভিযানে ৪ জন বাংলাদেশি ও ২ জন ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। চলতি বছরের ১৯ দিনের মধ্যে বিজিবি আরও ৩৩টি গরু উদ্ধার করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জহুরপুর সীমান্ত এলাকায় এ অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রণের নেপথ্যে কাজ করছে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। জহুরপুর বিওপি এলাকার সাদেক, আবু, ইকবাল ও মামুন এবং জহুরপুরটেক সীমান্তের ডলার, মুকুল, কুতুবুল ও তৌহিদ এই সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে, চোরাচালানের মূলে থাকা এই ৮ হোতা বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করার নামে গরুপ্রতি ১৫-২০ হাজার টাকা উঠাচ্ছে। চোরাচালানে যুক্ত থাকার বিষয়ে কয়েকজনের স্বীকারোক্তিও পেয়েছে এপি নিউজ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চোরাকারবারি জানান, তারা মূলত গভীর রাত বা ভোরের ঘন কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে গরু পাচার করে। নদীপথে অনেক সময় কলাগাছের ভেলা তৈরি করে গরু পারাপার করা হয়। ভারত থেকে গরু আনার পর সেগুলো সরাসরি হাটে না নিয়ে প্রথমে সীমান্ত-সংলগ্ন আম বাগান বা ফসলি জমিতে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর সিন্ডিকেটের নিয়োগ করা লাইনম্যানদের সংকেত অনুযায়ী রাতের অন্ধকারে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাচার করা এই গরুগুলোর একটি বড় অংশ জেলার স্থানীয় পশুর হাটগুলোতেই কৌশলে দেশি গরু হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে রক্ষা করতে এই চিহ্নিত সিন্ডিকেট সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে, দেশীয় পশু সম্পদ ভয়াবহ হুমকির মধ্যে পড়বে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে চোরাচালান দমনে বিজিবি সবসময় সজাগ রয়েছে। গত ১ মাস ধরে জহোরপুর সীমান্ত এলাকায় লোকবল বাড়িয়ে শীতের রাতে কুয়াশায় নাইট ভিশন, গগলস ব্যবহারের মাধ্যমে টহল জোরদার করা হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে গত এক বছরে আমরা বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু ও মাদকসহ বেশ কয়েকজন চোরাকারবারিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এরপরেও নদীপথ ও দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় প্রতিকূল পরিবেশের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা চোরাচালান করে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন

সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
ময়মনসিংহের ফুলপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস শেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। বালিয়া মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সেনাবাহিনীর একটি বড় গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর গাড়ির চালক ও বাসের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত আটজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, নিহত সেনাসদস্য সার্জেন্ট পদমর্যাদার ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পর কার্যালয়ের সামনে টাঙানো ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের দিন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয়। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের সামনে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্যোগেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভোরে কিছু লোক সেখানে ব্যানার টাঙায়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। কিছুক্ষণ পর ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ব্যানারটি কারা সরিয়েছে, তা জানা যায়নি।
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
সিলেটের হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১০-১২ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। পরদিন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন কোনো দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ সময় সরকারও কার্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জেলা কার্যালয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় এক বক্তা বলেন, শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহিরের নির্দেশে আজ আমরা কার্যালয় খুলেছি। এর মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হলো। হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ-সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে পাঁচজন জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে নাইক্ষ্যংদিয়া নামক নাফ নদী থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সত্যতা নিশ্চিত করে শাহপরীর দ্বীপ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, জালিয়াপাড়া এলাকার মাহামুদুল্লাহর নৌকাটি মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে আরাকান আর্মি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপহৃত জেলেরা হলেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ, শাহ আলম, আমীর আব্বাস, আবুল হোসন। এর মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তারা স্থানীয় মাহামুদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন নৌকায় মাছ শিকার করছিল। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আতাউর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি নৌকা একসঙ্গে মাছ শিকার শেষে ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যায়। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এসে একটি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যায়। অন্য নৌকাগুলো দ্রুত সরে এসে নিরাপদে ফিরে আসি। তিনি আরও বলেন, মাছ শিকার শেষে ফেরার সময় মিয়ানমারের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে আসতে হয়। এ কারণে প্রায়ই জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময় নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে জিন্মি ছিল। এদের মধ্যে গত সোমবার ৭৩ জনকে ফেরত আনে বিজিবি। এ ঘটনার দুই দিনের মাথায় নাফ নদীতে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটল।
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন লম্বরী ও মিঠাপানির ছড়া নৌঘাট এলাকা থেকে ভেসে আসা তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী সৈকত এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে দুটি মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয় জেলেরা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ওসি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া তরুণীর শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। অপরদিকে তরুণের পরনে লম্বা প্যান্ট ও জ্যাকেট ছিল। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ দুটির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকেও জামিন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন। বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির জানান, আদালত বুধবার এই তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বরিশালের অন্তত ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পর্শে হয়ে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার দক্ষিণ নলুয়া গ্রামের খান বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন মৃত শাহাদাত খানের স্ত্রী আমেনা বেগম রিনা (৬৫) এবং তার ছেলে এনামুল হক রাসেল খান (৩৫)। স্বজনরা জানান, বাড়ির প্রায় ৫০০ গজ উত্তরে তারা নতুন ভিটাবাড়িতে সেচের জন্য শ্যালো মেশিনে পানি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ জন্য রাস্তার পাশে স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন এনামুল হক রাসেল।  এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুতায়িত হন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমেনা বেগম রিনাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বাধ্য। কাগজে-কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে কোনো ভৌত অবকাঠামো নেই এসবের। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাজারো মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। তবে এগুলোর কোনো অবকাঠামো নেই। ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রে কোনো জনবল নেই। কসবা ইউনিয়ন কেন্দ্রের দুজন জনবল থাকলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর নাচোলকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ৪টি ইউনিয়ন গঠিত হয়- নাচোল, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর। সাধারণত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকা উচিত, যেখানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন স্যাকমো কর্মরত থাকেন। কিন্তু বাস্তবে এখানে কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয়রা উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া ও ওষুধের খরচ বাড়ছে। দীর্ঘদিন কেন্দ্র না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কসবা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। ভাড়া ও ওষুধপত্রের খরচ বাড়ছে। দ্রুত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক।’ নাচোল উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, তবে অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। নেজামপুর ও ফতেপুর কেন্দ্রে জনবল নেই। কসবা কেন্দ্রে একজন স্যাকমো পদে কর্মরত আছেন, তবে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। তবে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে জনবল শূন্য। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ওইসব জায়গায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগামীতে ওইসব ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে।  এটা অবশ্যই স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবি। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে বেশ উৎপর। আশা করছি, এসব সংকট নিরসন হবে।
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের এ কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন তারা। নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করতেই দীর্ঘদিন পর তারা কার্যালয়ে ফিরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কর্মী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দাবি ছিল কার্যালয়টি চালু করার। আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি।’
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
আরও পড়ুন
রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ
জামায়াতের পথসভায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
মেয়ে গেল প্রেমিকের কাছে, বাবা গিয়ে ফাটালেন ককটেল
ধানের শীষের দুর্গে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িপাল্লা