ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ৩টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও বিভিন্ন দলের মোট ১৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার ৩টি আসনে বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবকটি আসনেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের। এবারের নির্বাচনে এ জেলায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনি লড়াই জমে উঠতে পারে।
যদিও বিএনপি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান থাকায় এই জেলায় বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দল ভোটের মাঠে হালে পানি পাবে না। তবে, উল্টো বক্তব্য জামায়াত সংশ্লিষ্টদের। জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতিবাচক নানা অবস্থানের কারণে জামায়াত নির্বাচনের মাঠে বাড়তি সুবিধা পাবে।
এদিকে, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিললেও বিভিন্ন আসনে ভোটে লড়ছেন জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এ জেলায় এনসিপির কোনো প্রার্থী নেই।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে এবার বড় ভূমিকা রাখতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার। নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার বাইরে ভোটের সময় পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথাও বলছেন অনেকে।
চব্বিশের গণআন্দোলনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটাররা অন্য দলগুলোর জন্য এবার বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, তরুণ ভোটাররা, বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভোট দেবেন, তারাও জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব ভোটারদের যারা বেশি টানতে পারবেন, তারাই সফল হবেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রমতে, এবার যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা (ধানের শীষ), জামায়াত প্রার্থী ড. কেরামত আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম (ছড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম (হাতপাখা) ও ইসলামী ফ্রন্টের নবাব শামসুল হোদা (মোমবাতি)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট-গোমস্তাপুর-নাচোল) আসনে বিএনপির আমিনুল ইসলাম (ধানের শীষ), জামায়াতের ড. মিজানুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাদেকুল ইসলাম (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম (লাঙ্গল) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম খলিল (হাতপাখা)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদ (ধানের শীষ), জামায়াতের নূরুল ইসলাম বুলবুল (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ফজলুর ইসলাম খাঁন (তারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম (ট্রাক)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা এশিয়া পোস্টকে বলেন, দলে আমার বিরোধিতা থাকলেও কেউ মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেননি। শেষ পর্যন্ত সবাই ধানের শীষের হয়েই কাজ করবেন। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শক্তিশালী। আমিও রাত-দিন গণসংযোগ করছি।
অন্যদিকে, জামায়াত এ আসনে রাজশাহী মহানগর শাখার আমির ড. কেরামত আলীকে প্রার্থী করেছে। ২০০৯ সাল থেকে টানা দুবার তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, এখানে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। মানুষ নতুন কিছু চায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির আমিনুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, জয়লাভে কোনো বাধা দেখি না। দলে যারা বিরোধিতা করছিলেন, বেশির ভাগই লাইনে এসেছেন। এখন সব দিক দিয়েই পরিস্থিতি ভালো।
অন্যদিকে, জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির ড. মিজানুর রহমানকে এখানে প্রার্থী করেছে দলটি। এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া মিজানুর এশিয়া পোস্টকে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ তৈরি করতে ভোটাররা জামায়াতের প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার পক্ষে জনসমর্থন বরাবরই ভালো ছিল। এখনো আছে। জামায়াতের লোকজন নানাভাবে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন। ধর্মকে ব্যবহার করছেন। সাধারণ মানুষ রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ভালোভাবে নেবেন না। এ আসনে বারবার সেটা প্রমাণিত হয়েছে।
অন্যদিকে, এখানে জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। নুরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের ওই নির্বাচনকে নির্বাচন বলা যায় না। এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
মন্তব্য করুন








