ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
গলাচিপায় পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের মতবিনিময়
গলাচিপায় সমুদ্রগামী জেলেদের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ
গলাচিপায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত  
গলাচিপায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত  
পটুয়াখালীর গলাচিপায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে ফিরে আসে। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. গোলাম মোস্তফা, সদস্যসচিব আলতাফ হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইখতিয়ার কবির, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান ও সাবেক সদস্যসচিব মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় উপজেলা গলাচিপা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও অতিবৃষ্টিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা, প্রস্তুতি ও স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বলেন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা যথাসময়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। গলাচিপার মতো উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।  
মহালয়ার সুরে মুখর গলাচিপা, মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
গলাচিপার মাটিভাংগা-বদনাতলী সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন
গলাচিপায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত
গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি দোকান পুড়ে ছাই
গলাচিপায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা সম্প্রসারিত নতুন ভবনের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক। সভায় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আলতাফ হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. আকরামুজ্জামান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঞ্জু মোল্লা, পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মো. মহিমুল্লাহ এনিম, বিএনপি নেতা মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. ছোবাহান মিয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা উদ্যোক্তারা। বক্তারা বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল করতে সরকার বিভিন্নভাবে ঋণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে। তরুণদের এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে মৎস্য চাষ, গবাদিপশু পালন ও কৃষি উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোগী হতে হবে। তারা আরও বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন সমৃদ্ধ করতে তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করতে তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গলাচিপায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত

দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর গলাচিপায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও সমাজের অন্যান্য মানুষের সঙ্গে প্রবীণদের সুন্দর ও সম্মানজনক জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক। তিনি প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। প্রবীণরা সমাজ ও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে তাদের অভিজ্ঞতা ও জীবনজ্ঞানকে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, জীবনের দীর্ঘ সময় পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রাখা প্রবীণদের জীবনের শেষ পর্যায়টি যেন নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রবীণদের একাকিত্ব দূর করা, পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। বক্তারা আরও বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক ও সামাজিক বিভিন্ন ধরনের চাহিদা তৈরি হয়। তাই প্রবীণদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পাশাপাশি তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রবীণদের জন্য একটি মানবিক ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা গেলে তারা জীবনের এই পর্যায়েও আত্মমর্যাদা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. সাইফুল ইসলাম সাইউম। এতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজনে: উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, গলাচিপা, পটুয়াখালী। আয়োজক: সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।  

গলাচিপা সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান

পটুয়াখালীর গলাচিপা সরকারি কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও খাতা-কলম দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। গলাচিপা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রোকনুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আ. ওহাব মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক মো. দুলাল ঢালী। অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রুকাইয়া হুদা, আল-আমিন ও মো. মিয়াদ সিকদার। এ ছাড়া বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কলেজের শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক ও অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নাসরিন জাহান এবং প্রভাষক ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. হাসান আলী।

গলাচিপায় ১৩৫ লিটার চোলাই মদ ও গাঁজাসহ পিতা-পুত্র আটক

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩৫ লিটার চোলাই মদ ও ১০ গ্রাম গাঁজাসহ পিতা-পুত্রকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলের দিকে উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের গ্রামর্দন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গলাচিপা থানার উপপরিদর্শক মো. আ. হাকিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ জানায়, অভিযানে একই গ্রামের মো. আল আমিন মীরের বসতঘরসংলগ্ন পুকুরের দক্ষিণ পাশ থেকে ১৩৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর ছেলে মো. রাব্বি মীরের কাছ থেকে ১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটক পিতা-পুত্র দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল সংগ্রহ করে চোলাই মদ তৈরি করে খুচরা ও পাইকারি বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে আসছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক), ২৪(গ) ও ৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর- ৬০। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আটক পিতা-পুত্র দুজনই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গলাচিপায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সোমবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তঅ ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা, পৌর বিএনপির আহবায়ক মো. রফিকুল ইসলাম খান, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এমপির প্রতিনিধি আবু নাঈম, জেলা যুবঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি মো. মহিবুল্লাহ এনিম প্রমুখ।  পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সভা অনুষ্ঠিত হয়।  এসময় সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মৎস্যজীবী, বরফ কলের মালিকগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

গলাচিপায় মহিষ চুরির ঘটনায় সাংবাদিকসহ ৫ জন আটক

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় চুরির ৫টি মহিষ নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকসহ জড়িত একটি চোর চক্রকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।  রবিবার (২৭ সেপ্টম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচাটায় উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ঝাটিবুনিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে রাতে সাড়ে নয়টায় গলাচিপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাহমুদুর এবং গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খায়রুল ইসলাম সাগর। তারা দু’জনই নিজেদের সাংবাদিক বলে পরিচিত।  অপর তিন জন হলেন একই এলাকার মোঃ শাহজাদা শিকদার,শাহীন সিকদার ও জাকির। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায় ঘটনার দিন বিকেলে শাহীন,জাকির, মোঃ শাহজাদা শিকদার ও সাইফুল ইসলাম অজ্ঞাত স্থান থেকে চুরি করে আনা ৫টি মহিষ কলাগাছিয়ার ঝাটিবুনিয়া বাজারের সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।  বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের সন্দেহজনক মনে হলে তাঁরা তাদের পথরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে দুইজন সাংবাদিক পরিচেয়ে বলেন মহিষ নিয়ে কোন সমস্যা নেই এবং মহিষগুলো ছেড়ে দিতে উৎসুক জনতা চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু মহিষের মালিকানা সংক্রান্ত কোন সঠিক তথ্য উপস্থাপন বা দেখাতে না পারায় স্থানীয় জনতা নিকটস্থ কলাগাছিয়া পুলিশ ফাড়িতে অবহিত করেন। পরে রাত সাড়ে নয়টায় গলাচিপা থানা পুলিশের একটি দল ঝাটিবুনিয়া বাজারে পৌছে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ৫টি মহিষ বর্তমানে স্থানীয় চৌকিদার মিন্টু মিয়ার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং সাংবাদিক পরিচয়ের দুই বক্তির মটরসাইকেল জব্দ করে কলাগাছিয়া পুলেশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আবু তালেব নামের এক সাংবাদিক ও অপর এক অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ক্যান্সারে পুরুষাঙ্গ কর্তন, বাঁচতে চান মাহেব

​একটি মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম কতটা হৃদয় বিদারক ও অবর্ণনীয় হতে পারে, তার এক করুণ উদাহরণ পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার অসহায় মাহেব চৌকিদার (৫৫). মরণব্যাধি স্কিন ক্যান্সারে জীবন যখন নিভে যাওয়ার উপক্রম, তখন প্রাণ বাঁচানোর শেষ অবলম্বন হিসেবে গত ২৭ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে তার শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘পুরুষাঙ্গ’। মারাত্মক অঙ্গহানি, তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা আর চরম আর্থিক শূন্যতায় আজ এই মানুষটির আকুল চাপা কান্না বাতাসকে ভারী করে তুলছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব এই রিকশাচালকের একটাই আর্তনাদ—"আমি বাঁচতে চাই, আমায় একটু সাহায্য করুন।" ​বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মৃত কালাই চৌকিদারের ছেলে মো. মাহেব চৌকিদারের জীবনের গল্পটি শুরু থেকেই চরম দুঃখ-কষ্টে ভরা। খুব ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে যান তিনি। শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ-উচ্ছ্বাস বা শিক্ষার আলো পাওয়ার আগেই বেঁচে থাকার রূঢ় বাস্তবতায় বড় ভাইয়ের হাত ধরে চলে আসেন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌর শহরে।  অবুঝ বয়সেই পেটের দায়ে তাকে নামতে হয় কঠোর দৈহিক পরিশ্রমে। কখনো খাবারের হোটেলে থালা-বাসন ধোয়া, আবার কখনো প্রখর রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রিকশা ও ভ্যানের প্যাডেল ঘুরিয়ে কোনোমতে অন্নসংস্থান করতে হয়েছে তাকে। ​অভাবের সাথে যুদ্ধ করেই কেটে যায় জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময়। আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিন চরখালী গ্রামের মৃত রশিদ সিকদারের একমাত্র মেয়ে রাশিদা বেগমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাহেব চৌকিদার এবং শ্বশুরবাড়ির গ্রামেই বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তাদের ঘরে জন্ম নেয় চার কন্যা ও এক পুত্র সন্তান। দিনমজুরের কাজ করে এবং অটোরিকশা চালিয়ে রক্তপানি করা উপার্জনে তিনি তিনটি মেয়ে ও একমাত্র ছেলেকে কষ্টসৃষ্টে বিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। তার ছোট মেয়েটি বর্তমানে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশোনা করছে। টানাটানির সংসার হলেও মাহেব চৌকিদারের স্বপ্ন ছিল ছোট মেয়েটিকে পড়াশোনা করিয়ে সুশিক্ষিত করা। ​কিন্তু তাদের এই অতি সাধারন ও হাসিখুশি সংসারটিতে হঠাৎ নেমে আসে অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার। ২০২৪ সালে হঠাৎ মাহেব চৌকিদারের পুরুষাঙ্গে একটি সামান্য ঘা দেখা দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় সেটিকে সাধারণ চর্মরোগ মনে করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা শুরু করলেও দিন দিন তা জটিল হতে থাকে। ভালো হওয়ার আশায় পটুয়াখালী ও বরিশাল সদরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডাক্তারের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন তিনি। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় কোনো সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, বরং দিন দিন জমানো সঞ্চয় শেষ হয়ে নিঃস্ব হতে থাকেন তিনি। পরবর্তীতে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, তিনি মরণব্যাধি ‘স্কিন ক্যান্সার’-এ আক্রান্ত। ​এই দুঃসংবাদ জানার পর পরিবারটির ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মরণব্যাধির হাত থেকে রোগীকে বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে একপর্যায়ে মাহেব চৌকিদার তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশা এবং গরু, ছাগল বিক্রি করে দেন। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধারদেনা করে পুরো পরিবারটি দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু ক্যান্সারের ভয়াবহতা তাতেও কমেনি। অসহ্য যন্ত্রণায় দিনরাত ছটফট করা মাহেব চৌকিদারকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা জানান, তার পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ কেটে ফেলা ছাড়া জীবন রক্ষার আর কোনো উপায় নেই।  অবশেষে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে দেওয়া হয়। একজন পূর্ণাঙ্গ পুরুষের জন্য এই শারীরিক ক্ষত ও মানসিকভাবে নিজেকে মেনে নেওয়ার যন্ত্রণার গভীরতা কতটা কঠিন, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। ​অঙ্গ হারিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও তার জীবনসংগ্রাম কিন্তু শেষ হয়নি। ক্যান্সার রোগটি পুরোপুরি নির্মূল করতে বর্তমানে প্রয়োজন ব্যয়বহুল কেমোথেরাপিসহ নিয়মিত নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। কিন্তু বর্তমানে এই চিকিৎসা চালানো তো দূরের কথা, ঘরে দুবেলা খাবার জোটানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি আজ শারীরিক যন্ত্রণা আর চরম দারিদ্র্যে বিছানায় শয্যাশায়ী।  একদিকে নিজের চিকিৎসার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ঘরে চরম অভাব ও অর্থাভাবে ছোট মেয়েটির পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ​অশ্রুসিক্ত চোখে, যন্ত্রণায় কাতর মাহেব চৌকিদার আকুল কণ্ঠে বলেন, "দেহের অঙ্গ হারিয়েছি, সংসারের সহায়-সম্পদ, শেষ সম্বল গরু, ছাগল  এবং অটোরিকশাটা পর্যন্ত বেঁচে চিকিৎসায় শেষ করেছি। এখন আর লড়াই করার মতো এক ফোঁটা শক্তি বা সামর্থ্য আমার নেই। আমি তিলে তিলে মরতে চাই না, আমি আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই। আমার অবুঝ ছোট মেয়েটার মুখের দিকে চেয়ে সমাজের দয়ালু মানুষগুলো কি আমাকে একটু সাহায্য করবেন না?" ​আজ একজন অসহায়, সহায়-সম্বলহীন মানুষ জীবনের শেষ সীমান্তে দাঁড়িয়ে সমাজের মানবিক বিবেকের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন। সমাজের বিত্তবান, সমাজসেবী, মানবিক হৃদয়বান ব্যক্তি এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মাহেব চৌকিদারের পরিবারের পক্ষ থেকে জোর আকুল আবেদন—আপনারা যে যার সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। সকলের সামান্য সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তাই পারে একটি নিঃস্ব পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মাহেব চৌকিদারকে বেঁচে থাকার নতুন আলো দেখাতে। ​যোগাযোগের উপায়: মো. মাহেব চৌকিদার  ব্যক্তিগত নম্বর- 01339-941375

আরও
X