ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবসের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সাবেক স্পিকার আব্দুল মালেক উকিলের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
নোয়খালীতে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় সভা
নোয়খালীতে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় সভা
নোয়খালীতে জেলা পর্যায়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা জোনের  প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির। সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভার শুরুতে  নোয়াখালী জেলার সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার  চিত্র ও জাতীয় রুফটপ সোলার সিস্টেম বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করেন নোয়াখালী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হাবিবুল বাহার। এ সময় তিনি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সৌর বিদ্যুতের পরিমান বৃদ্ধি এবং গ্রাহক পর্যায়ে নেট মিটারিং সোলার সিস্টেম স্থাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সৌরশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রাহক পর্যায়ে সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে চাপ কমানো সম্ভব। এ সময় তিনি নোয়াখালী জেলায় সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে সোলার স্থাপনে সরকারের জাতীয় রুফটপ সোলার কৌশলপত্র বাস্তবায়নে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ কবির তার বক্তব্যে সরকারি-বেসামরিক প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সোলার প্যানেল স্থাপনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক  প্রকিউরমেন্ট ও কারিগরি কাজে যেকোন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়ার সহকারী সচিব মো: হোসেন পাটোয়ারী তার বক্তব্যে স্থাপনার মালিক, সার্ভিস প্রোভাইডার ও ইউটিলিটি কিভাবে সমন্বয় করে কাজ করবে সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা সহ  CAPEX, OPEX মডেলের ভিন্ন সুবিধা তুলে ধরেন। বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সচিব তানিয়া বিনতে তাবিব তার বক্তব্যে জীবাস্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো এবং কার্বন নিসরন কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় সোলার সিস্টেমের ভূমিকা তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সোলার সিস্টেম তথা নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। মতবিনিময় সভায়র জেলা পর্যায়ের সকারি দপ্তরের প্রধানগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীগণ এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সহ ভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নোয়খালীতে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালীতে পল্লী উদ্যোক্তা নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
নোয়াখালীতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী নারীদের মানববন্ধন 
নোয়াখালীতে গ্রাম আদালত বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালীতে গ্রাম আদালত বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

নোয়াখালীতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকারের বিভাগের  উপ পরিচালক ডা. মো: শেখ ছাদেকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, এই প্রোগ্রামটিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সম্পৃক্ত করতে পারলে গ্রাম আদালতের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানা যেতো। আমাদের প্রতি মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে অপেন হাউজ মিটিং, বিট পুলিশং মিটিং ও কমিউনিটি পুলিশিং মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্রাম আদালত সম্পর্কে আলোচনা করা যাবে। জেলা সমাজসেবার উপপরিচালক বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গ্রাম আদালতের সাইনবোর্ড দেখে তার কাছে ভালো লেগেছে। দরিদ্র মানুষ বিচার পাওযার জন্য উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এতে দরিদ্র মানুষ আরো দরিদ্র হয়। মানুষ গ্রাম আদালত সম্পর্কে জানেনা বিধায় উচ্চ আদালতে যায়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ আরো সক্রিয় হলে দরিদ্র মানুষ আরো উপকৃত হবে। জেলা তথ্য কর্মকর্তা বলেন, গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ হলো এজলাস। এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা দরকার। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সচেতন করতে না পারলে গ্রাম আদালত সক্রিয় হবেনা। ডিডিএলজির দফ্তর থেকে তাদের জবাব দিহিতার আওতায় আনতে হবে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক বলেন, জুমার খুতবায় গ্রাম আদালতের প্রচারণার জন্য পূর্বে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। ইসলামি ফাউন্ডেশনের আওতায় নোয়াখালীতে যতগুলো মসজিদ আছে আমরা সেগুলোতে গ্রাম আদালত সম্পর্কে আলোচনা করে যাচ্ছি। জেলা প্রশাসনের চাহিদামতো আগামীতেও তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে গ্রাম আদালতের প্রচারনা অব্যাহত রাখবে। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, গ্রাম আদালত গ্রামের মানুষের বিচারিক সেবা মিটিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। জেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের মাধ্যমে গ্রাম আদালত বিষয়ে প্রচারনা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে গ্রাম আদালতের কর্মকর্তাগণকে আমন্ত্রণ জানাবে। গ্রাম আদালতের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী মামুন বলেন, আজকের সভার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তর এবং বেসরকারি সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে গ্রাম আদালতকে সম্পৃক্ত করা। যাতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে গ্রামীণ পর্যায়ের মানুষ গ্রাম আদালত সেবা সম্পর্কে জানে। এ সময় তিনি প্রজেক্টরের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের চিত্র তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ডা. মো: শেখ ছাদেক সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রচার প্রচারনার কাজকে বেগবান করতে হলে আপনাদের কাজের বাহিরে গিয়েও গ্রাম আদালত বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। চেয়ারম্যানদের ইতিবাচক মাইন্ডসেট থাকলে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া খুব সহজ হবে।

নোয়াখালীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক আটক

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরানকে (৪৫) আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আটক মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।  ​পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা তাকে বকাঝকা করেন। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে শিশুটি জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন এমরান গত ৫-৬ মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছেন। ​বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক মোবারক হোসেনকে আটক করে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং রাত সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ​সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ওই শিক্ষক নিজের বাসায় ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেঙ্গুতে ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মনিরুল ইসলাম বকুলের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি মনিরুল ইসলাম বকুল মারা গেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে সাইয়্যেদুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মনিরুল ইসলাম বকুল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরে তাঁর লিভারে সংক্রমণ দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে আইসিইউতে তাঁকে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ছাত্রজীবনে মনিরুল ইসলাম বকুল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় তিনি একটি মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তিনি পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের ছেলে সাইয়্যেদুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় বাবার প্রথম জানাজা রাজধানীর কাকরাইলে হয়। তারপর বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এদিকে, তার মৃত্যুতে নোয়াখালীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার জানান, মনিরুল ইসলাম বকুল ছিলেন একজন সৎ, আদর্শবান ও নিবেদিতপ্রাণ ইসলামী আন্দোলনের কর্মী। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দ্বীনের খেদমত, সমাজসেবা ও মানুষ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

নোয়াখালীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

নোয়াখালীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৪৮ তম উপলক্ষে কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় নোয়াখালী কেন্দ্রিয় শহিদ মিনার ও জুলাই স্মৃতি স্তম্ভের পাশে পৌরপার্কে গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান  ও নোয়াখালী -৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শাহজাহান।  এ সময় জেলা বিএনপির আহবায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব মো হারুনুর রশিদ আজাদ, সদস্য আবু নাছের, সহিদুল ইসলাম কিরন, রবিউল হাসান পলাশ, জেলা স্বেচছাসেবক দলের সভাপতি ছাবের আহম্মদ, সাবেক সভাপতি শাহ জাফর উল্লাহ রাসেল, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব জিএস হারুন, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসিম উদ্দিনসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মো.শাহজাহান বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলার লক্ষ্যে দেশে ৫ বছরের ২৫ কোটি গাছের চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে আজকে আমরা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এখানে বৃক্ষরোপণ করছি। পাশাপাশি প্রত্যেকটা ইউনিয়নে আমাদের নেতাকর্মীরা গাছের চারা রোপণ করছেন। আমরা আশা করছি ২৫  কোটি নয়, এর চেয়ে আরো অনেক বেশি গাছ আমরা রোপণ করতে পারবো। এর মধ্য দিয়ে আমরা শহীদ জিয়ার স্বপ্ন সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবো।’ এ সময় নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও  জেলা বিএনপির সদস্য সচিবমোঃ হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, “আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারকে রহমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আগামী ৫ বছরে ইনশাল্লাহ আমরা  বাংলাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ  রোপণ করবো। শুধু সরকারিভাবে নয়, রাজনৈতিকভাবে এবং সামাজিকভাবে প্রতিটি মানুষ যেন বাড়িতে বাড়িতে বৃক্ষরোপ করে আমরা সেলক্ষ্যে কাজ করছি।

নোয়াখালীতে দুই মানবিক চিকিৎসকের মৃত্যুতে ড্যাবের শোকসভা

নোয়াখালীতে জেলার দুই স্বনামধন্য চিকিৎসক মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী লিটন ও মো. মুজিবুল হকের মৃত্যুতে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে ম্যাটস্ হলরুমে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাব নোয়াখালী জেলা শাখা এ শোকসভা আয়োজন করে। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন  ড্যাব নোয়াখালীর সভাপতি ও নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাইফুল ইসলাম। ড্যাব নোয়াখালীর সাধারণ সম্পাদক ডা. মনোয়ার হোসেন তালুকদারের সঞ্চালনায় শোকসভায় এ দুই চিকিৎসকের  স্মৃতিচারণ করেন ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সহ-সভাপতি ডা. মো. শফিউল্লাহ ঝিন্টু, নোয়াখালী ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. মো. শহিদুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ ডা. মাসুম আক্তার, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলম আজাদ, অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, ভিপি পলাশ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ডাক্তার মোহাম্মদ সানাউল্লাহ মিয়া। বক্তাগণ ডা. মোহাম্মদ নুরুল আলম লিটন ও ডা. মো: মজিবুল হকের কর্মময় জীবনের নানাদিক তুলে ধরে বলেন, এ দুই মানবিক চিকিৎসকের মৃত্যুতে নোয়াখালীর চিকিৎসা অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ সময় তাদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে নবীন চিকিৎসকদের মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার আহ্বান জানান বক্তাগণ। পরে এ দুই চিকিৎসকের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করা হয়।

প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে ওমরাহ প্যাকেজ উপহার দিলেন শিক্ষার্থীরা

নোয়াখালী সরকারি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বিদায়ী বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোজাম্মেলুল হককে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে পবিত্র ওমরাহ পালনের প্যাকেজ উপহার দিয়েছেন তাঁর সাবেক শিক্ষার্থীরা।   রোববার (২৩ আগস্ট) স্থানীয় একটি মিলনায়তনে অধ্যাপক মোজাম্মেলুল হকের অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের (তৃতীয় ব্যাচ) সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে সম্মান ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এই বিশেষ উপহার দেন। শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসা ও সম্মাননায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অধ্যাপক মোজাম্মেলুল হক। প্রিয় শিক্ষকের প্রতি সাবেক শিক্ষার্থীদের এই শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম সানা উল্লাহ। জানা গেছে, দীর্ঘদিন নোয়াখালী সরকারি কলেজে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকতা ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক মোজাম্মেলুল হক। দীর্ঘ এই কর্মজীবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে বিভিন্ন উপহার তুলে দেন। এরই অংশ হিসেবে ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষের (তৃতীয় ব্যাচ) সাবেক শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক মোজাম্মেলুল হকের জন্য পবিত্র ওমরাহ পালনের একটি প্যাকেজ উপহার দেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক মোজাম্মেলুল হকের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবদান স্মরণ করেন এবং তার অবসরজীবন সুস্থতা, শান্তি ও কল্যাণে কাটুক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এখনকার তরুণরা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা, তারা আমাদের সাহস দিবে: আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার

বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী তাসলিমা আখ্তার বলেছেন, এখনকার তরুণরা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে; তারা আমাদেরকে সাহস দিবে। তিনি রবিবার নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধানায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের নিশ্চয়ই সার্টিফিকেটের দরকার আছে, শিক্ষায় ভালোর ফলাফল করা দরকার আছে। ভালো ফলাফল যদি করতে না পারি, আমি অন্যকে উৎসাহিত করতে পারবো না। আমরা চাই এই স্কুল এন্ড কলেজে এমনভাবে শিক্ষাটা হোক যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা এই স্কুলের জন্য শুধু না, বাংলাদেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারে। শিক্ষাটা যেন মুখস্ত বিদ্যার শিক্ষা না হয়, শিক্ষাটা যাতে সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা, প্রশ্ন করার সাহস যাদের থাকবে সেরকম শিক্ষা যাতে হয়।” তাসলিমা আখ্তার বলেন, “অনেককে আমরা দেখি যে, মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করছে, পিএসডি ডিগ্রি অর্জন করছে, কিন্তু সমাজে যে সুযোগ্য নাগরিক হওয়ার জন্য তার অনেক কিছু করার আছে সেই জায়গাটাই পৌঁছানোর মতো অবস্থা নাই।” তিনি আরো বলেন, আমরা গত ১৫ বছরে যে একটা ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্যে ছিলাম সেখানে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ছিল। বর্তমানে যে গণতান্ত্রিক সরকার, নির্বাচিত সরকার এসছে গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে এবং হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে একটা নতুন বাংলাদেশ, নতুন আকাঙ্খা আমাদের তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি সারা বাংলাদেশের স্কুল কলেজগুলো যাতে দলীয়করণের বাইরে গিয়ে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হয় এবং সেই প্রতিষ্ঠানে যাতে সবাই সমান অংশগ্রহণ করতে পারে, সমান সুযোগ সুবিধা অর্জন করতে পারে সেটাই আমরা বর্তমান সরকারের কাছে দাবি করি। আমরা আশা করি এই সরকার আমাদের বিভিন্ন স্কুল-কলেজগুলোতে  যেখানে যে অবকাঠামোগত দূর্বলতা রয়েছে সেগুলো সমাধানের জন্য এগিয়ে আসবে। অশ্বদিয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অভিভাবক সদস্য মো: সাজ্জাদ হোসেন রিয়েল। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অশ্বদিয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক মতিলাল ভৌমিক, মৃধারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরন্ময় ভৌমিক এবং মানদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক।

আরও
X