ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জমজমাট ৪০০ বছরের ঐতিহ্যের ঢাকের হাট বাজনার তালে মুখর জনপদ
কটিয়াদীতে দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহায়তা
কটিয়াদীতে ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
কটিয়াদীতে ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৯২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৭০০ টাকাসহ  পাপিয়া আক্তার আলো (২৭) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বাহের পাথর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পাপিয়া আক্তার আলো মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বাহের পাথর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী লিটন মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কটিয়াদী  থানার পুলিশ মধ্যরাতে লিটনের  বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ঘরের আলমারি থেকে ৯২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। লিটন মিয়া ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।  কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মাদক বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৯২০ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাপিয়া আক্তার আলো নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কটিয়াদীতে বিএনপি নেতার বিধবা স্ত্রীকে জামায়াতের সেলাই মেশিন উপহার
কটিয়াদীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
কটিয়াদীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত
আখতারুজ্জামান রঞ্জনের মুক্তির দাবিতে কটিয়াদীতে জামায়াতের বিক্ষোভ
কটিয়াদীতে ৩০ বছর ধরে গাছ ছাঁটাই করে সংসার চালাচ্ছেন প্রতিবন্ধী কামাল

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর প্রতিবন্ধী কামাল হোসেন (৪২) জন্ম থেকেই দুই পা অচল। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। অন্যের ওপর নির্ভর করে জীবন কাটানোর কথা থাকলেও প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সেই হাতে তুলে নেন দা ও দড়ি। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক। এখনও মানুষের বাড়ি-বাগানে গাছ ছাঁটাই করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন । কামাল হোসেন জীবন যুদ্ধে এক অদম্য সাহসী সৈনিক । প্রতিবন্ধী কামালের হার না মানা সংগ্রামী জীবনের দৃষ্টান্ত অনেক বেকার যুবকের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে নজির স্থাপন করেছে। কামাল হোসেন উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পং মসূয়া খাঁ বাড়ির আব্দুল হেকিম খাঁর ছেলে। প্রতিবন্ধী কামাল হোসেনের জীবন যেন অসহায়ত্বের কাছে আত্মসমর্পণ না করার এক নীরব গল্প। দুই পা অচল হলেও থেমে নেই তার জীবনযুদ্ধ। তিন দশক ধরে গাছের ডালে ডালে জীবিকার সন্ধান করা এই মানুষটির এখন একটাই চাওয়া ভিক্ষা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবার নিয়ে বাঁচার মতো একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান। জানাযায়,  শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কামাল হোসেনের চলার পথকে থামাতে পারেনি। প্রতিদিন একটি দা, প্রায় ৪০ ফুট লম্বা দড়ি ও অটোরিকশা নিয়ে ছুটে চলেন মানুষের বাড়ি-বাড়ি। গাছে উঠে ডালপালা ছাঁটাই করেন। কাজ মিললে দিনে আয় হয় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিদিন কাজ থাকে না। ফলে অনিশ্চিত এই আয় দিয়েই বৃদ্ধ বাবার ওষুধ, স্ত্রী-সন্তানের খাবার, পোশাক ও পড়াশোনার খরচ চালাতে হচ্ছে তাকে। কামালের পরিবারে রয়েছে বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্য সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে হিমসিম খেতে হয় তাকে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন কামাল। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিক কোনো পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাননি তিনি। মাত্র ১২ বছর বয়সে গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু করেন। সেই থেকে টানা প্রায় ৩০ বছর ধরে একই কাজ করে আসছেন। জীবনে হার না মানা অদম্য সাহসী কামাল হোসেন বলেন, জন্ম থেকেই আমার দুই পা অচল। ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে আসছি। ১২ বছর বয়স থেকে গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ করি। মানুষের গাছ পরিষ্কার করে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাই। প্রতিদিন কাজ পাওয়া যায় না। কাজ না থাকলে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়। এখন বয়স হয়েছে। আগের মতো শরীরে শক্তি নেই। তারপরও সংসারের জন্য কাজ করতে হয়। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও বাবার ওষুধের খরচ চালাতে গিয়ে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। কামালের স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, আমার স্বামী প্রতিবন্ধী হলেও কারও কাছে হাত পাততে চান না। দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য গাছে ওঠা ও কাজ করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি আমাদের একটি মুদি দোকান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করত, তাহলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোনোভাবে সংসারটা চালাতে পারতাম। স্থানীয় সমাজসেবক মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েও কামাল কারও কাছে ভিক্ষা চান না। নিজের শ্রম দিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে সংসার চালাচ্ছেন। প্রতিদিন তাকে দা, দড়ি ও অটোরিকশা নিয়ে কাজের সন্ধানে বের হতে দেখা যায়। তাঁর মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহেল মিয়া বলেন, দীর্ঘ তিন দশক ধরে গাছ ছাঁটাই করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কামাল হোসেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার কর্মজীবনকে কঠিন করে তুললেও তিনি থেমে যাননি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই শ্রমনির্ভর কাজ তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠছে। কামালের জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান বা কোনো ব্যবসার ব্যবস্থা করা গেলে পরিবারটি উপকৃত হবে।

আখতারুজ্জামান রঞ্জনের মুক্তির দাবিতে কটিয়াদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী নবীন সদস্য ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়নের গচিহাটা বাজারে স্থানীয় জামায়াতের  নেতাকর্মীরা মুক্তির দাবীতে  বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে। বিক্ষোভ মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আবু হানিফার সভাপতিত্বে ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান শাহ্ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন গচিহাটা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিয়া উদ্দিন জীবন, ব্যবসায়ী মো. মানিক মিয়া, সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী আব্দুর রহমান আরজু, মুফতি সফিউল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেয়। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কটিয়াদীতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরই প্রতিবাদে রাতে গচিহাটা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কটিয়াদীতে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তারের জেরে বিএনপি নেতার উপর হামলা, শাস্তি দাবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর বিএনপি যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো. শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলা ও  থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী।  শুক্রবার দুপুরের কটিয়াদী পৌর বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পৌর বিএনপি যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সন্ত্রাসী হামলায় আহত মো. শাহজাহান সিরাজী বলেন,  গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে তেলিচাড়া এলাকায় কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের বাড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একটি গোপন বৈঠক চলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ভোগপাড়া এলাকার টিটু নামের এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে।  ওই ঘটনার পর আমাকে সন্দেহ করে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদল ও তার স্বজনরা হুমকি দিয়ে আসছিলেন।  এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে কটিয়াদী আসার পথে কাহেতেরটেকী এলাকায় পৌঁছালে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে তারা ভাগিনা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি এমদাদুল হক রাতুল, ভাতিজা ছাত্রলীগনেতা মো. নাছিম, হাবিবুর রহমান সন্দেশ, আল আমিন, শামীমসহ ১০-১২ জন অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নাম উল্লেখকরে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। বাদলের নাম থাকায় পুলিশ মামলা নিতে  গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন ও সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল রহমান সজল সরকার শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের কাছে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সিরাজীর মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি এসপি ও এমপি স্যার অবগত আছেন। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকেই জানতে পারেন। আরও কিছু জানার থাকলে থানায় এসে জানতে পারেন।

কারাগারে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল আমিন রুহুল সরকার (৫০) কারাবন্দী অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত খাইরুল আমিন রুহুল সরকার কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের মৃত উসমান গণির ছেলে। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী অবস্থায় হঠাৎ বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন খাইরুল আমিন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।  সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে খাইরুল আমিন রুহুল সরকারকে গ্রেপ্তার করে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। খাইরুল আমিন রুহুল সরকারের বড় ভাই ও চরঝাকালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন জানান, কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা কিশোরগঞ্জে হাসপাতালে ছুটে যাই। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হলেও প্রায় চার ঘণ্টা পর ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরও তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। কারাবন্দী অবস্থায় তিন দিন ধরে বুকে ব্যথার কথা জানালেও কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা পেলে হয়তো তার শারীরিক অবস্থা এতটা সংকটাপন্ন হতো না। কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

খেলাধুলা ভুলে স্মার্টফোনে মগ্ন প্রজন্ম, বাড়ছে গেম ও অনলাইন জুয়ার নেশা  

বিকেল হলেই একসময় সরগরম হয়ে উঠত গ্রামের মাঠ। কোথাও ফুটবলের লড়াই, কোথাও ক্রিকেট, আবার কোথাও চলত গোল্লাছুট, হাডুডু কিংবা দাঁড়িয়াবান্ধা। সন্ধ্যার আগে মাঠ ছেড়ে বাড়ি ফিরত শিশু-কিশোররা। সেই চেনা দৃশ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। মাঠের জায়গা দখল করেছে মোবাইলের ছোট পর্দা। এমনকি দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ইন্টারনেটের খোঁজে কেউ কেউ গাছের ডালে, কেউ বাঁশের মাচায় বসেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে ডুবে থাকছে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। দল বেঁধে গাছের নিচে কিংবা উঁচু কোনো স্থানে বসে মোবাইল হাতে ব্যস্ত কিশোর-তরুণরা। কারও চোখ অনলাইন গেমে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আবার কেউ জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ায়। নেটওয়ার্কের জন্য গাছে ওঠার এই দৃশ্য যেমন কৌতূহল তৈরি করছে, তেমনি শিশু-কিশোরদের মোবাইলনির্ভর হয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে অবসর সময়ের প্রধান সঙ্গী ছিল মাঠ ও খেলাধুলা। এখন সেই জায়গা নিয়েছে স্মার্টফোন। খেলার মাঠের সংকট, পড়াশোনার চাপ, নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ এবং সহজলভ্য ইন্টারনেট সব মিলিয়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে। আর ঘরবন্দি সময়ের বড় অংশ কাটছে মোবাইলের পর্দায়। উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পং মসূয়া গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী মো. মোমতাজ উদ্দিন জানান, আগে বিকেল হলেই ছেলেরা দল বেঁধে মাঠে চলে যেত। কেউ ফুটবল খেলত, কেউ ক্রিকেট, আবার কেউ গোল্লাছুট বা হাডুডু। সন্ধ্যা হলে সবাই বাড়ি ফিরত। এখন মাঠে শিশু-কিশোর কম, মোবাইল হাতে তাদের সংখ্যাই বেশি। মসূয়া গ্রামের কিশোর জিসান  বলেন, মাঝেমধ্যে ফুটবল খেলতে যাই। গোল্লাছুট ও দাঁড়িয়াবান্ধা  এসব খেলার নাম শুনেছি, কিন্তু কোনোদিন খেলিনি, দেখিওনি। অভিভাবকদের অভিযোগ, মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির কারণে সন্তানদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমছে। অনেক শিশু মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না, পড়তে বসে না। আবার কিশোরদের কেউ কেউ গেম কিংবা অনলাইন জুয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় করছে। এতে পরিবারে তৈরি হচ্ছে অশান্তি ও উদ্বেগ। জালালপুর ইউনিয়নের রহিমা খাতুন বলেন, ভাবতেই পারছি না আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কোন দিকে যাচ্ছে। সাত বছরের ছেলেকে মোবাইল না দিলে পড়তে বসে না। সাড়ে তিন বছরের মেয়েও মোবাইল ছাড়া এক লোকমা খাবার খেতে চায় না। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি দিশেহারা। কটিয়াদী সদর ভোগপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার সুফিয়া খাতুন বলেন- বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশুই জন্মের পর থেকেই মোবাইলের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। কান্না থামাতে কিংবা ব্যস্ত রাখতে মা-বাবা ছোটবেলা থেকেই তাদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছেন। এভাবেই ধীরে ধীরে মোবাইলের প্রতি তৈরি হচ্ছে আসক্তি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ আরও গভীর হয়ে শিশুর স্বাভাবিক খেলাধুলা, পড়াশোনা ও সামাজিক মেলামেশার জায়গা দখল করে নিচ্ছে মোবাইল। কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ বলেন, মোবাইলে অনলাইন গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এখনই সচেতন না হলে একটি প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ঈসা খান বলেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের দীর্ঘ সময় মোবাইলে না রেখে নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

ডেঙ্গু ও হাম সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উদ্যোগে নগরীতে লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ কামরুল হুদা, নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাসসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। তারা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বাতির কল মোড়, জজকোর্ট মোড়, টাউন হল মোড়,কাশীকিশোর জেলা পরিষদ স্টাফ কোয়ার্টারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসময় এডিস মশা নিধনে ফগার মেশিন দিয়ে ঔষধ ছিটানো হয় । এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন , বিশেষজ্ঞদের মতে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাসে দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়বে । এসময়ে এডিস প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে । তিনি বলেন, “ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। জেলা পরিষদের নিজস্ব স্থাপনাসমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নগরবাসী ও এলাকাবাসীর বাসাবাড়ি এবং জেলা পরিষদের বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প এলাকাতেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ এই বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।” তারা কাশীকিশোর জেলা পরিষদ স্টাফ কোয়ার্টারে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদারকি করেন। এ সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসায় গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক আক্রান্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও তিনি দুপুরে তারাকান্দায় জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর চলমান সংস্কার কাজ , জেলা পরিষদের মার্কেট ও হালুয়াঘাটের ধারা বাজারে জেলা পরিষদের মার্কেটের জায়গা পরিদর্শন করেন । বিকেলে তিনি হালুয়াঘাটের গাজীর ভিটা ইউনিয়নের চৌরাস্তায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন ।

কটিয়াদীতে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দিদার আকন্দ (৪৮) উপজেলার সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং পূর্ব পুরুরা গ্রামের মৃত বাহার আকন্দের ছেলে। পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়াও দিদার আকন্দ ২০২১ সনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় সতেরদ্রোন গ্রামের সুজন মিয়া নামে এক যুবক হত্যা মামলার ৩ নাম্বার আসামী।  কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও থানার সেকেন্ড অফিসার মো. শফিউল্লাহ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সোমবার রাতে দিদার আকন্দকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও
X