ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
পাকুন্দিয়া থানার নতুন ওসি মোঃ হেলাল উদ্দিন
পাকুন্দিয়ায় অটোবাইকের চাপায় ৬ বছরের শিশু নিহত
পাকুন্দিয়ায় জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন
পাকুন্দিয়ায় জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন
আমাদের হাত, আমাদের ভবিষ্যৎ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে পাকুন্দিয়া পৌরসভার আয়োজনে এবং নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিআইপি) সহযোগিতায় এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  আলোচনা সভায় পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (ভাঃ) আব্দুল মান্নান খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবেদ হোসেন, পাকুন্দিয়া পৌরসভার সাবেক কমিশনার মস্তোফা কামাল, সাংবাদিক আবু হানিফ প্রমুখ। আলোচনা সভায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধে সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুস্থ জীবনযাপনে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পাকুন্দিয়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
পাকুন্দিয়ার সানি হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
পাকুন্দিয়ায় ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারো চালু হয়েছে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়রিয়া ওয়ার্ড
বাংলাদেশ ও ব্রিকস: অনুপস্থিতির কূটনৈতিক হিসাব

২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি শুধু একটি কূটনৈতিক অনুপস্থিতি নয়; এর ভেতরে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট কূটনৈতিক বার্তা, আবার একই সঙ্গে রয়েছে কিছু সম্ভাব্য সুযোগ হারানোর প্রশ্নও। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত—বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণও দেওয়া হয়েছিল। ভারত বলেছে, দুটি আমন্ত্রণই পৃথক ছিল। অন্যদিকে ঢাকা স্পষ্ট করেছে, ব্রিকসের আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। ফলে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নেননি এবং বাংলাদেশ থেকেও কোনো সরকারি প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি।  এই ঘটনাকে কেবল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের তাৎক্ষণিক টানাপোড়েন দিয়ে ব্যাখ্যা করলে এর বৃহত্তর কূটনৈতিক তাৎপর্য হয়তো আড়ালে থেকে যাবে।  কারণ ব্রিকস এখন আর শুধু একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক জোটের নাম নয়। সময়ের সঙ্গে এর সদস্যসংখ্যা বেড়েছে, বিস্তৃত হয়েছে এর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসর। বাণিজ্য, অর্থায়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প কাঠামো নিয়ে এর আলোচনা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের সম্মেলনেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আর্থিক সংযোগের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের জন্য তাই ব্রিকসের মতো একটি প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি হতে পারে কূটনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের একটি অতিরিক্ত দরজা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতা বহুমাত্রিক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অংশীদার। ভৌগোলিক অবস্থান, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তার কারণে ভারত বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য প্রতিবেশী। একই সঙ্গে রাশিয়া ও অন্যান্য উদীয়মান শক্তির সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক রয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম শক্তি হতে পারে কৌশলগত ভারসাম্য ও নমনীয়তা। ঢাকার সামনে কোনো একটি ভূরাজনৈতিক শিবির বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার কোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ করলেই সেটিকে সেই ফোরামের সঙ্গে রাজনৈতিক বা কৌশলগত একাত্মতা হিসেবে দেখারও কারণ নেই। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য বিনিয়োগ, বাজার, প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার স্বার্থে যত বেশি কার্যকর যোগাযোগের পথ খোলা রাখা যায়, ততই তার কূটনৈতিক পরিসর বাড়ে। তবে কৌশলগত নমনীয়তা আর কৌশলহীনতার মধ্যে পার্থক্য আছে। ঢাকার সিদ্ধান্তের পেছনে যদি এই বার্তা থাকে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরটি একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই হওয়া উচিত, তাহলে সেটি একটি সুস্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্তেরই একটি সুযোগব্যয় থাকে। একটি বহুপক্ষীয় সম্মেলন শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকের জায়গা নয়। একই টেবিলে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতি, আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরের যোগাযোগ, অনানুষ্ঠানিক আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির সুযোগ—এসবও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ অতীতেও ব্রিকসের আউটরিচ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। ২০২৩ সালে জোহানেসবার্গ এবং ২০২৪ সালে কাজানে অনুষ্ঠিত আউটরিচ আয়োজনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল; ২০২৫ সালে রিও ডি জেনেইরোর আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি।  তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয়—বাংলাদেশের ব্রিকস সম্মেলনে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল কি না। প্রশ্ন হওয়া উচিত—উপস্থিত থাকার সুযোগটি বাংলাদেশের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কীভাবে কাজে লাগানো যেত? এখানে বিমসটেকের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ার। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক এই আঞ্চলিক সংগঠন বাংলাদেশকে শুধু একটি সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং একটি আঞ্চলিক সহযোগিতার নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে। এই অবস্থান থেকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিলে বাংলাদেশ চাইলে নিজের স্বার্থের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তর সহযোগিতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন প্রশ্নও সামনে আনতে পারত। অর্থাৎ, ব্রিকসের টেবিলে বসা মানেই ব্রিকসে যোগ দেওয়া নয়। বরং কখনো কখনো একটি দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে—সে কীভাবে নিজের স্বার্থের কথা সেই টেবিলে তুলে ধরছে। অবশ্য অনুপস্থিতিও কূটনীতির একটি ভাষা। কখনো অনুপস্থিতি কোনো নীতিগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে। কখনো তা একটি সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত কাঠামো সম্পর্কে বার্তা দেয়। কিন্তু সেই অনুপস্থিতির সঙ্গে যদি বিকল্প কূটনৈতিক উদ্যোগ না থাকে, তাহলে সেটি ধীরে ধীরে একটি সুযোগ হারানোর কারণও হয়ে উঠতে পারে। এখানেই বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের কূটনীতি শুধু কতটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হলো, কতটি আমন্ত্রণ পেল বা কতটি সম্মেলনে উপস্থিত হলো—তার হিসাব দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। আসল প্রশ্ন হলো, সেই উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিকে কতটা কার্যকর জাতীয় স্বার্থে রূপান্তর করা গেল। বাংলাদেশ প্রতিটি আন্তর্জাতিক টেবিলে স্থায়ী আসন পাবে না—এটাই বাস্তবতা। কিন্তু কোন টেবিলে যাবে, কোন টেবিলে কী বলবে এবং সেখানে গিয়ে কী অর্জন করতে চায়—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। ২০২৬ সালের ব্রিকস-পর্বের শিক্ষা তাই শুধু বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নয়। বরং শিক্ষা হলো—প্রতিটি কূটনৈতিক অনুপস্থিতির একটি উদ্দেশ্য থাকা প্রয়োজন, আর প্রতিটি কূটনৈতিক উপস্থিতির প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট কৌশল। বাংলাদেশের জন্য সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে—অনুপস্থিতিকে যেন কখনো কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় পরিণত হতে না দেওয়া হয় এবং উপস্থিতিকে যেন কখনো নিছক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা না হয়। লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

জাঙ্গালিয়া ইউপি নির্বাচনে শাহিন আলম জনির মতবিনিময়

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ১নং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহিন আলম জনির উদ্যোগে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব চরকাওনা নতুন বাজার মাঠে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি মোহাম্মদ সুমন মাস্টারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহিন আলম জনি, ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বাচ্চু, ১নং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আহ্বায়ক সদস্য কামাল, ১নং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন জাসাসের সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা প্রমুখ। সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভায় শাহিন আলম জনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হয়ে জনসেবা করতে হয় এমনটি নয়, আমাকে আপনারা দিনরাত যে কোন সময় ডাক দিয়ে অতীতে পেয়েছিলেন ভবিষ্যতেও পাবেন। স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করতে চাই। নির্বাচিত হলে জনগণের পাশে থেকে এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

পাকুন্দিয়ার ইউএনওর কাঁধে চার দপ্তরের দায়িত্ব, সেবায় ধীরগতির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একজন কর্মকর্তার কাঁধে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরের দায়িত্ব থাকায় জনসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতিজনিত কারণে পাকুন্দিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান কে গত ২০  রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন এর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে পদায়নের আদেশ জারি করা হয়।  সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান গত ৩ আগষ্ট বদলি হলে থেকে ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান ইউএনও। এর আগে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়রের পদ শূন্য হওয়ায় ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন তিনি। এবং ৯টি ওয়ার্ডের কমিশনার পদ শূন্য হওয়ায় বিভিন্ন দপ্তর প্রধান নিজের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি ওয়ার্ড কমিশনার এর দায়িত্ব পালন করছেন।  পাকুন্দিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাকিবুল আলম ছোটন বলেন, আগে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মানুষ সহজেই সেবা পেতেন। যাদের কে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা নিজের অফিসের নির্ধারিত কাজ শেষ করে পৌরসভার কাজগুলো করতে হয়, অনেক সময় তারা ব্যক্তিগতভাবে অনেক কে চিনেন না এজন্যই উনাদের কাজ করতে সমস্যা হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নেই, মেয়র নেই, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেই। ফলে বিভিন্ন সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মাসুম মিয়া জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একটি কাজের জন্য অনেক সময় একাধিকবার অফিসে যেতে হচ্ছে। পাকুন্দিয়া পৌরসভায় সেবা নিতে আসা বরাটিয়ার জাকিয়া আক্তার বলেন, দুই মাস যাবৎ ঘুরতেছি একটা জন্ম নিবন্ধনের জন্য, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা মেয়র না থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই। আজও এসেছি অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য। প্রশাসক হিসেবে (ইউএনও) দায়িত্বে আছেন, কিন্তু তিনি দাপ্তরিক কাজে বাহিরে থাকায় আজও সংশোধন করা যাচ্ছে না জন্ম নিবন্ধনটি।  একাধিক জনপ্রতিনিধি বলেন, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একসঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কঠিন। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অফিসের এক কর্মচারী জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদের দায়িত্ব যুক্ত হওয়ার পর ইউএনওর কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ শেষ করার পরও তাকে ভূমি অফিসের ফাইল নিষ্পত্তি করতে হয়। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত বাসায় বসেও কাজ করতে হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, চারটি দপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইউএনওকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিভিন্ন সরকারি সভা, আইনশৃঙ্খলা সভা, উন্নয়ন সমন্বয় সভাসহ নানা প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। ফলে সব দপ্তরে সমান গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে জনসেবায়। এ বিষয়ে ইউএনও রুপম দাস বলেন, প্রতিদিন আমি আমার নিজের অফিস শেষে বাংলো অফিসে রাত ৯ টা দশটা পর্যন্ত কাজ করেছি। তারপরেও ইউএনও হিসেবে অনেক কাজ করতে গেলেও অনেক কাজ থাকে যেমন জেলা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা মিটিং বিভিন্ন সরকারি প্রোগ্রাম ভ্রাম্যমাণ আদালত সহ অনেক কাজ করতে হয়। সব মিলিয়ে এক সাথে চারটা দায়িত্ব পালন করা অনেক কঠিন। আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সেবা দেওয়া তার সর্বোচ্চটা চেষ্টা করে যাচ্ছি।   তিনি আরো বলেন, নতুন সরকারি কমিশনার (ভূমি) কবে যোগদান করে তা জানা নেই। সরকারি কমিশনার (ভূমি) থাকলে অত্যান্ত ভালো হতো। 

পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট

পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩৮টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি নানা অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। দ্রুত এসব সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রবিবার ও সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের ভিড়। বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের সামনে দীর্ঘ সারি। প্রতিদিন গড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগেও প্রতিদিন ৯০ থেকে ১২০ জন রোগী সেবা নেন। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাম চালু থাকলেও অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাচ্ছে না। অনেক ফ্যান নষ্ট। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরও চালু হয় না। এতে গরমের মধ্যে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৫৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন ডায়রিয়া ও দুজন ডেঙ্গু রোগী। ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি পরিত্যক্ত গোডাউন হিসেবে পড়ে আছে। তিনটি কেবিনের একটিও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মালামাল রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া রোগীদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই জায়গায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীদের অনেককে বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ। ২০২২ সালের ২০ জুন সিজারিয়ান কার্যক্রম চালু হয় এবং ৩০ জুলাই প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরবর্তী দুই বছরে ২৩৮টি সিজারিয়ান এবং দেড় হাজারের বেশি নরমাল ডেলিভারি হয়। তবে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জুনিয়র বিশেষজ্ঞ (গাইনি) চিকিৎসক শাহ মোহাম্মদ হাসানুর রহমান বদলি হয়ে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে যাওয়ার পর সিজারিয়ান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আঙ্গিয়াদি এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন বছর আগে তাঁর ছেলের স্ত্রী পপি আক্তারের সিজারিয়ান এই হাসপাতালেই করানো হয়েছিল। তখন সময় ও অর্থ দুটোই বেঁচেছিল। এবার আবার সন্তানসম্ভবা হলে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় সিজার করা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে জেলা সদর হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হবে, এতে বাড়তি অর্থ ও সময় ব্যয় হবে। রোগীদের অভিযোগ, মাত্র তিনটি কাউন্টারে টিকিট দেওয়া হয়, যা রোগীর চাপের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। আরও দুটি কাউন্টার চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। ২০১২ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকের পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও সংকট রয়েছে। আবাসিক চিকিৎসকেরা পালাক্রমে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রবাল সরকার বলেন, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডায়রিয়া ওয়ার্ড, কেবিনসহ অন্যান্য সমস্যার বিষয় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফ্যানগুলো ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত গাইনি চিকিৎসক হাসপাতালে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।  

মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধর, বাধা দেওয়ায় বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নিহত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই গেন্দু মিয়া (৩০) হয়েছেন।  শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেবকান্দি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত গেন্দু মিয়া ওই গ্রামের কালাচান মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন ট্রাক্টরচালক ছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশ দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গেন্দু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি মাদকের টাকার জন্য নিজের মাকেও মারধর শুরু করেন। এ সময় বড় ভাই হৃদয় মিয়া এগিয়ে এসে বাধা দিলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই হৃদয় মিয়া ছুরি দিয়ে ছোট ভাই গেন্দু মিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত গেন্দু মিয়াকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে আটক করেছে। নিহত গেন্দু মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  

সড়কজুড়ে অটোরিকশা, ফুটপাতে দোকান, দুর্ভোগ চরমে

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার বাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। পৌর সদরের পাকুন্দিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ গেটের সামনে থেকে উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতাল রোড, থানার সামনে থেকে প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল পর্যন্ত, থানার মোড় থেকে পৌরসভা ভবন, গরুর হাট ও নামা বাজার টিঅ্যান্ডটি অফিস পর্যন্ত সড়কে সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে। বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অব্যবস্থাপনা ও তদারকির ঘাটতির কারণেই এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাত ও রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকান। অন্যদিকে সড়ক দখল করে চলছে সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও চার্জার রিকশা। অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচল এবং এগুলোর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতিদিনই বাজারে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৌর বাজারে অবস্থান করে দেখা যায়, পুরো সড়ক রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঠাসা। থেমে থেমে অটোরিকশার জটলা তৈরি হচ্ছে। যাত্রী দেখলেই অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ছে। এতে মুহূর্তেই অটো ও চার্জার রিকশার দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। উপজেলা পরিষদের সামনে ও হোসেনপুর সড়কের ওপর সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সামনে সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড, সততা ফার্মেসির সামনে থেকে ইন্দিরাপাড় সড়কের ওপর অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং থানার মোড় সড়কের ওপর অটোরিকশা ও ফলপট্টি এলাকায় সড়কের ওপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে পৌরসভা ভবন পর্যন্ত পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ। অথচ অটোরিকশায় গেলে সময় লাগে প্রায় আধঘণ্টা। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সভায় পৌরসভার সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে যানজটের কারণ চিহ্নিত ও সমাধানের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অটোরিকশাচালক হানিফ মিয়া বলেন, ‘বাইপাস সড়ক হওয়ার আগে বাজারের ভেতর দিয়ে বড় গাড়িগুলো চলাচল করত। তখন অটোরিকশা ও সিএনজিগুলো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। বাইপাস চালু হওয়ার পর বড় গাড়িগুলো বাইপাস দিয়ে চলাচল করছে। ফলে ছোট গাড়িগুলো যত্রতত্র পার্কিং করে রাখে। পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এ যানজটের কারণে আমাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে।’ ভ্রাম্যমাণ দোকানে ফুটপাত দখল বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানের কারণে ফুটপাত এখন দখল হয়ে গেছে। পথচারীদের হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ পথচারীই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাতে ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী কিশোরগঞ্জ সদরের বাসিন্দা মাসুম মিয়া ফুটপাতের দোকানের কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে অসুবিধার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান নিয়ে বসি। এ দোকানের আয় দিয়েই আমার সংসার চলে।’ পাকুন্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, পৌর বাজারে কয়েক লাখ টাকা অগ্রিম এবং হাজার হাজার টাকা দোকান ভাড়া দিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। কিন্তু ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও অটোরিকশা পার্কিংয়ের কারণে বাইরে থেকে আনা পণ্যের গাড়ি নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে রাখতে পারেন না। বাজারের দোকানপাটে গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে ক্রেতারা মার্কেটের সামনের সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখেন। এতে যানজট আরও তীব্র হয়। পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘সিএনজি অটোরিকশার কোনো নির্ধারিত স্টেশন না থাকায় চালকেরা বাজারে যত্রতত্র পার্কিং করে রাখেন। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করি। তবে এগুলো বন্ধ করতে চাইলে তারা অন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। যদি তাদের জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড করে দেওয়া হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এখানে সচেতনতা তৈরি না করে শুধু আইন প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।’ পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটপাত দখলকারী হকার ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে। একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও তারা বসে পড়েন। স্ট্যান্ড না থাকায় সিএনজি ও অটোরিকশাগুলো সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। পৌরসভার পক্ষ থেকে অটোরিকশা ও সিএনজির জন্য স্ট্যান্ড তৈরির জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জায়গা পাওয়া গেলে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

আরও
X