ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের পূজামণ্ডপে আর্থিক উপহার
টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত
টাঙ্গাইলে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের উদ্বোধন
টাঙ্গাইলে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের উদ্বোধন
দীর্ঘ পাঁচ বছর বিরতির পর আবারও টাঙ্গাইলে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের বল মাঠে গড়িয়েছে।  শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে লীগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলী ইমাম তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের সভাপতি মাহমুদুল হক সানু, লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান আইয়ুব, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য আরিফুল হক প্রিন্স। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইল একসময় ক্রীড়ানগরী হিসেবে সারা দেশে পরিচিত ছিল। জেলার অনেক ফুটবলার জাতীয় দল ও ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। ফুটবলের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সবাইকে মাঠমুখী করতে হবে। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, হকি, ভলিবল ও অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন খেলায় টাঙ্গাইলের খেলোয়াড়েরা যাতে ভালো করতে পারেন- সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুসলিম রেনেসাঁ ক্লাব ৩-০ গোলে পূর্বাচল ক্লাবকে হারিয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের শুভ সূচনা করে। এবারের লীগে টাঙ্গাইল শহরের ১০টি ক্লাব তিনটি গ্রুপে অংশ নিচ্ছে। ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে মুসলিম রেনেসাঁ ক্লাব, পূর্বাচল ক্লাব, থানাপাড়া ব্যায়ামাগার ও ভাসানী ক্লাব। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে ইয়ুথ ক্লাব, আকুর টাকুর যুব সংঘ ও সাবালিয়া জুনিয়র ফুটবল ক্লাব। ‘গ’ গ্রুপে রয়েছে উদয়ন ক্রীড়া চক্র, সাবালিয়া ক্রীড়া একাদশ ও থানাপাড়া এলিভেন বুলেটস ক্লাব।  দীর্ঘ বিরতির পর লীগ শুরু হওয়ায় জেলার ফুটবলার ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ য়োজনের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ফুটবলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
দেশে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু
সখীপুরে ১৩ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
কালিহাতীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সখীপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশে বৃদ্ধের মরদেহ, হত্যার অভিযোগ প্রথম স্ত্রীর
ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি" শ্লোগান  সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়  আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা দুর্যোগ বিষয়ক মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে সরকারি জিবিজি কলেজ মাঠে দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়াটি পরিচালনা করেন ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর রতন কুমার দেবনাথ।শেষে  ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরী তাসমিন উর্মি সভাপতিত্বে  উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে  আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান খান আজাদ।  উপজেলা বিএনপির সাবেক  সভাপতি তোফাজ্জল হক সেন্টু,পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল হক মঞ্জু,পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা,বিআরডিবি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ প্রমুখ।  

​​​​​​​টাঙ্গাইলে ১,৩৫৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

শরতের শেষ ভাগে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার ডামাডোল শুরু হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার ১৩৫৭টি মণ্ডপে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ ফুটিয়ে তুলতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা শিল্পীরা চরম ব্যস্ত সময় পার করছে। রঙ-তুলির শেষ আঁচড়ে প্রতিমার প্রাণ প্রতিষ্ঠায় মগ্ন মৃৎশিল্পীরা, তাদের যাদুকরী হাতের ছোঁয়ায় মাটির ক্যানভাসে জীবন্ত হয়ে উঠছেন দেবী দুর্গা। জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলাজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের সনাতনীদের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলায় এ বছর মোট ১৩৫৭টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭০টি মণ্ডপ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মির্জাপুর এবং সর্বনিম্ন ৩৪টি মণ্ডপ রয়েছে ভূঞাপুরে। মণ্ডপগুলো হচ্ছে- মির্জাপুর উপজেলায় ২৭০টি, টাঙ্গাইল সদরে ২৩৩টি, কালিহাতীতে ১৮২, নাগরপুরে ১৩৮, দেলদুয়ারে ১২৮, ঘাটাইলে ৯৪, বাসাইলে ৮১, মধুপুরে ৬০, গোপালপুরে ৫৭, সখীপুরে ৪৪, ধনবাড়ীতে ৩৬টি এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ৩৪টি। সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের শ্রী শ্রী কালিবাড়ি, আদালত পাড়া, থানাপাড়া, সাবালিয়া, রেজিস্ট্রিপাড়া, কলেজপাড়া ও প্যারাডাইস পাড়ায় পূজা মন্দির পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিমা তৈরির কারিগররা বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর খড় ও মাটির প্রলেপ দিয়ে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন। মণ্ডপগুলোতে এখন চলছে রঙ-তুলির শেষ আঁচড়। শিল্পীরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেবীর চোখ, মুখমণ্ডল, পোশাক ও বিভিন্ন অলংকারের নকশা ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত অবিরাম শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সনাতন ধর্মমতে, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর ঘট স্থাপনের মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এর আগে ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী এবং ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজা, ১৭-১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী অনুষ্ঠিত হবে। ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দুর্গাদেবী ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন। প্রতিমা তৈরির কারিগর নিশি কান্ত পাল জানান, প্রতিবছরই এ সময়টাতে তারা অধীর আগ্রহে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। এরমধ্যেই দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন রঙের শেষ আঁচড় দেওয়া হচ্ছে।  তিনি জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন প্রতিমা তৈরিতে লাভ অনেকটা কমে গেছে।  এ বছর তিনি পাঁচটি প্রতিমার কাজ করছেন। টাঙ্গাইল শহরের বড় কালীবাড়ি ও রেজিস্ট্রি পাড়া, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী ও ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। ছোট-বড় প্রতিমা তৈরিতে কাজ ভেদে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নেন তিনি। এদিকে, জেলার মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা এশিয়াখ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজা মণ্ডপটি উপজেলার সর্ববৃহৎ মণ্ডপ। এ মণ্ডপে দেশ-বিদেশের ভিআইপিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে। এ মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নৌহাটা গ্রামের চন্দ্র পালের ছেলে অচিন্ত পাল। মৃৎশিল্পী অচিন্ত পাল জানান, তিনি মির্জাপুর সাহাপাড়া ও মধ্যপাড়া সার্বজনীন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। এতে তিনি এক লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেবেন। এছাড়া তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলের লোকনাথ মন্দির, ঝিনাইদহ শহরে ৩টি, মাগুরা ও ফরিদপুর শহরে ২টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করেছেন। দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে। পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে নিয়োজিত থাকবে পূজা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও বড় মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে এবার একটি উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অমল ব্যানার্জি জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের সব প্রস্তুতি শেষের দিকে। আসন্ন দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশের সাথে পূজা উদযাপন কমিটির একাধিক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশ প্রশাসন, আনসার সদস্যের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা মণ্ডপে তাদের সেচ্ছাসেবক কর্মীরাও দায়িত্ব পালন করবে। প্রতি বছরের মতো এবারও সকলের অংশগ্রহণে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সনাতনীদের নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে জেলায় গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।  

ঘাটাইলে সাংবাদিকদের নিয়ে ইউএনও-এর মতবিনিময় সভা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিকস প্রিন্ট মিডিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে সুন্দর ঘাটাইল নজটমুক্ত, জলাবদ্ধতা নিরসনে করনীয়, মাদক,লালমাটি, কাটা বন্ধ,করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। রবিবার (১১অক্টোবর) এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।  উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে, মতবিনিময় সভার বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  নৃরী তাসমিন উর্মি।  এ সময়  সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সায়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ, খান ফজলুর রহমান, আনোয়ার হোসেন বকুল, উত্তম কুমার আর্য্য, রবিউল আলম বাদল, সারোয়ার জাহান কলি, আবু মোঃ শোয়েব ডন, মীর আলেয়া, ইমরান হোসেন, মোঃ ফারুক হোসেন, নাজমুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, আবু রায়হান, আব্দুল লতিফ, নজরুল ইসলাম চাঁন, কবি সালাম চাঁন তরফদার, অন্যান্য ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।  এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার বক্তব্যে পর্যায় ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

ধনবাড়ীতে কৃষকের কলার কাঁদি কাটলো দুর্বৃত্তরা, ক্ষয়ক্ষতি দুই লক্ষাধিক টাকা

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর বীরতারায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের ১ বিঘা জমির কলার কাঁদি কেটে নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দুই লক্ষাধিক বলে দাবী কলা চাষীর। ঘটনাটি ঘটেছ বৃহস্পতিবার(৮ অক্টোবর)রাতে ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বীরতারা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বিপ্লবের কলা বাগানে। সরেজমিনে, বীরতারা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বিপ্লবের কলা বাগানের কলার কাঁদি কেটে ফেলে রেখেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন পরিদর্শন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কলা বাগান । কৃষক বিপ্লব জানান, অনেক টাকা খরচ করে এক বিঘা জমিতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে কলা বাগান করেছিলাম। কলার ভালো ফলনও হয়েছে হঠাৎ করেই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানের প্রায় ২ শতাধিক কলার কাদি কেটে ফেলে দিয়েছে। আমি একেবারে পথে বসে গেছি। কলা গুলো প্রায়ই বাজার জাতের উপযোগী হয়েছিলো। এর মধ্যেই শত্রæুতা বশত কে বা কাহারা রাতের অন্ধকারে এমন কান্ড ঘটিয়েছে। আমি এই ঘটনায় অপরাধীকে দ্রæত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি। সেই সাথে আমি কৃষি অফিস ও সরকারের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি যাতে পরবর্তীতে আবারো কলা চাষ করতে পারি ও পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পরি। তা না হলে কোন উপায় থাকবে না। আমি এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্থানীয় আবুল কালাম, হাবেল উদ্দিন, নাহিদ আলম শামীম, আলমগীর হোসেন সহ এলাকাবাসীর দ্রæত অপরাধীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির কামনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কে সরকারী সহায়তা দেওয়ার  দাবী করেন। ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই পরিদর্শনের জন্য বীরতারা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম কে পাঠানো হয়েছিলো।  

ধনবাড়ীতে নিত্যপণ্যের বাজার চিত্রের লিফলেট বিতরণ করলো বিএনপি

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নিত্যপন্যের বাজার পরিস্থিতি ও সরকারের সফলতা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেছে ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপি সহ সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার(৮অক্টোবর) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় থেকে এই লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ধনবাড়ী বিএনপি’র কার্যালয় থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল- জয়দেবপুর-জামালপুর মহাসড়কের পাশের সকল দোকানী ও পথচারীদের মধ্যে বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন এবং দেশের বর্তমান খাদ্য মজুদ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। এসময় ধনবাড়ী পৌর বিএনপি’র সভাপতি এস এম এ ছোবহান, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ভিপি,  সিনিয়র সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান বিএসসি, বীরতারা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আমির হোসেন তারা মিলিটারী, যদুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল আজিজ, ধনবাড়ী পৌর জাসাসের আহবায়ক প্রভাষক ওসমান গণি দুলাল, উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি সাজ্জাদ খান সুজন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজীব, ও যুবদল, মহিলা দল সহ বিএনপি’র সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বউ বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যায়, দ্বিতীয় বিয়ের বাসরঘরে বরের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিয়ের রাতে বাসরঘরে অসুস্থ হয়ে আয়নাল হক (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া আয়নাল হক ওই গ্রামের মৃত দানেশ আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম। নববধূকে ঘরে তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আয়নাল হকের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আয়নাল হক জেলা শহরে ভাড়া বাসায় থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাও করতেন। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার ছিল। তবে গত জুলাই মাসে তার প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানকে রেখে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আয়নাল হকের এক বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর দুই সন্তানকে লালন-পালন নিয়ে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের চাপ ও প্রতিবেশীদের অনুরোধে বুধবার রাতে পাশের খামারপাড়া গ্রামের আ. বারীর মেয়ে রুবিনা খাতুনকে (২০) দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন আয়নাল হক। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে নববধূকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন তিনি। পরে গভীর রাতে বাসরঘরে থাকা অবস্থায় আয়নাল হক হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর নববধূকে বাড়িতে নিয়ে এসে বাসরঘরেই এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, তিনি একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি সত্য। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি বা লিখিতভাবে কিছু জানাননি। যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন।

টাঙ্গাইলে দুর্গোৎসবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মতবিনিময় সভা 

টাঙ্গাইলে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে পুলিশ লাইনস মাল্টিপারপাস শেডে জেলা পুলিশ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। এ সময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজুয়ান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিব সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং পূজা চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।  সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।  উল্লেখ্য, জেলায় এবার ১৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আরও
X