ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
চিতলমারীতে অশ্বিনী সেবাশ্রমে কপিল সভাপতি সঞ্জীবন সাধারণ সম্পাদক
চিতলমারীতে ৭ বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে চিতলমারীতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে চিতলমারীতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।  আগামী (১৬অক্টোবর ) থেকে মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। সনাতন ধর্মাবলন্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে সামনে রেখে দরজায় কড়া নাড়ছে খুশির আমেজ। উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে দেখা গেছে, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা কারিগরদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। নিখুঁতভাবে দেবী প্রতিমা গড়ে তুলছেন শিল্পীরা। রাত জেগে কাজ করছেন। বেশীরভাগ মণ্ডপে প্রতিমার মাটির কাজ প্রায় শেষের পথে।  এরপর শুরু হবে রঙের প্রলেপ, প্রতিমার পোষাক পরাণো ও রূপসজ্জার কাজ। প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন এসকল প্রতিমা শিল্পীরা। কাদা-মাটি,খড় বাঁশ আর কাঠের নিপুণ ছোঁয়ায় গড়ে উঠেছে দেবী  দুর্গা ও তার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষী ও সরস্বতী আবয়ব। উপজেলার  সন্তোষপুর গ্রামের প্রতিমা শিল্পী কানাই মজুমদার ও কৃষ্ণনগর  গ্রামের সাগর বিশ্বাস জানান, তারা আলাদা ভাবে ২১ টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছেন।  এ বছর প্রতিমা তৈরির প্রয়জেনীয় উপকরণের দাম অনেক বেশী কিন্তু শিল্পীরা সে তুলনায় তাদের ন্যায্য পরিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে মুজুরি না বড়লেও তাদের কাজের উৎসাহের কোন কমতি নেই। প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের মন জয় করতে প্রতিমায় নতুনত্বের ছোঁয়া দিতে তারা সর্বচ্চ শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক শিল্পী  বংশানুক্রমে এই পেশায় যুক্ত থেকে উৎসবের রং ছড়িয়ে দিচ্ছেন মণ্ডপে মণ্ডপে।  পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের চিতলমারী উপজেলা শাখার আহবায়ক (অব:) সহকারী অধ্যাপক জহর লাল সরকার জানান, এ বছর এ উপজেলায় ১৩৭ টি শারদীয় দুর্গোপূজা ও ১০ টি বাসন্তি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। মণ্ডপ গুলিতে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। উপজেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।
চিতলমারীতে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ 
৬৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, পাঠদান ব্যাহত
অন্তিম সময়েও সংবাদপত্র বিলি করছেন শিক্ষাগুরু সোহরাব হোসেন
চিতলমারীতে শীতকালীন সবজির চারা কিনতে ভিড়
চিতলমারীতে ইকোপার্কে পরিচ্ছন্ন অভিযানে ইউএনও 

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া চিত্রানদীর পাড়ে নির্মিত ইকোপার্কটি ‘আগাছায় ঘিরে ধরেছে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সেখানে পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার এ পরিচ্ছন্ন অভিযানের নের্তৃত্ব দেন। এ  সময় অভিযানে উপজেলা এলজিডির পরিচ্ছন্ন নারী কর্মী ও  ডুমুরিয়া ও আরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কাউট শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয়। পার্কের বিভিন্ন স্থানে বেড়েওঠা আগাছা পরিস্কার করে তারা। পরিচ্ছন্ন অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সিফাত-আল-মারুফ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহম্মেদ ইকবাল, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুল ইসলাম, চিতলমারী উপজেলা সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুনা গাজী প্রমুখ।    এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার জানান, চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে নির্মিত ইকোপার্কটি আগাছায় ঘিরে ধরেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। চিতলমারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এটি পরিস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা এ কাজে অংশ নিয়েছে। একই দিনে পার্শ¦বর্তী ফকিরহাট উপজেলার ইউএনও লোকজন নিয়ে চিত্রাপাড়েরর ওপারের অংশে পরিচ্ছন্ন কাজে অংশ নেন।   

চিংড়ি ঘেরে ইঁদুর খেতে এসে বিপাকে গোখড়া

চিংড়ি ঘেরে ইঁদুর খেতে এসে ধরা পড়েছে ৬ ফুট সাইজের একটি গোখড়া। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শহীদ মিনারের সামনে সাপটিকে নিয়ে আসা হলে উৎসুক লোকজন এ সাপটি দেখতে ভিড় করেন। এটি বিষধর সাপ। এর কামড়ে বেঁচে থাকার সম্ভবনা খুবই কম বলে জানালেন অনেকে।  উপজেলার পাটরপাড়া গ্রামের হাফিজুল বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার (১৭সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে তিনি তার চিংড়ি ঘেরে যান। এ সময় তার সামনে একটি ইঁদুরকে তারা করে গোখড়া। সাপটি ইঁদুরকে ধরে ফেলে। এ সময় তার হাতে থাকা মাছ শিকারের টোঁটা দিয়ে সাপটিকে কোপ মারেন। সাপটি টোঁটাবিদ্ধ হলে তিনি চিতলমারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাছে নিয়ে আসেন। এ সময় উৎসুক লোকজনের ভিড় জমে যায় সাপটিকে এক নজর দেখার জন্য। এলাকার চিংড়ি ঘেরে এমন অসংখ্য সাপ প্রতিনিয়ত লোকজনের সামনে পড়ে বলে জানালেন অনেকে।  সাপ দেখতে আসা মিজান মুন্সি জানান, এধরণের সাপ অনেক আছে চিংড়ি ঘেরে। ঘেরের পাড়ে গেলে অনেক সাবধানে চলতে হয়। এ সাপে কামড় দিলে তার আর বাঁচার সম্ভবনা খুবই কম থাকে। আজকাল সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।  

চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে সম্ভাবনার হাতছানি, বাড়ছে গোলফলের কদর

চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে হাতছানি দিচ্ছে সম্ভবনার নানা দিক। এখানকার নদীতে খাচায় মাছ চাষ ও প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা মিনি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছ-পালা থেকে আয়ের উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে নদীর দু’পাড়ে জন্ম নেওয়া গোলগাছ বড় আয়ের উৎস হতে পারে। এখানকার গোল ফলের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে ফলটি শহরে লোকদের কাছে কদর বাড়ছে বলে জানালেন অনেকে। এছাড়া গোলগাছ থেকে রস বের করে উন্নত মানের গুড় তৈরি করা সম্ভব বলেও আশার বাণী শোনালেন অনেকে।  স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। এই নদীর দু’পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের গ্রাম জুড়ে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নিয়েছে সুন্দর বনের বিভিন্ন গাছপালা। চিত্রার দু’পাড়ে এখন যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজের হাতছানি। এখানে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, গোলপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ মাথা তুলে জানান দিচ্ছে নতুন বনের উপস্থিতি। বিশেষ করে এ বনে গোল গাছের সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে এসব গাছে ঝুলছে গোলফলের কাদি। এ ফলের কাদি থেকে রস বের করে উন্নত মানের গুড় তৈরি করা সম্ভব বলে জানালেন অনেকে। এটি স্বাস্থ্য সম্মত হওয়ায় গোলের গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক জেলার শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে গোল গাছের গুড় তৈরি করে। চিত্রাপাড়ে অসংখ্য গোলগাছ থাকায় এখানকার লোকেরা গোল ফল থেকে গুড় তৈরিসহ এ বন থেকে বাড়তি অর্থ আয় করতে পারেন এমনি জানালেন বিশেষজ্ঞরা।   স্থানীয় পরিবেশকর্মী বাবলু মণ্ডল জানান, গোলফল খেতে খুবই সুস্বাদু। তিনি মিনি সুন্দরবন এলাকা থেকে গোল ফল কিনে বাসায় নিয়ে খেয়ে দেখেছেন। এছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে গুড় তৈরিতে গোল গাছের তুলনা নাই। এছাড়া গোলপাতা দিয়ে ঘর তৈরি করলে আরামে বসবাস করা যায়। প্রাচীন কাল থেকে ঘর তৈরিতে গোলপাতা ব্যবহার হয়ে আসছে।  গোলগাছ থেকে নানাভাবে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  এ বিষয়ে বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির জানান, চিত্রা পাড়ের মিনি সুন্দরবনে সম্ভাবনাময় দিক রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের বিভিন্ন পাছ-পালা। পাশাপাশি এখানকার গোলগাছ থেকে গুড় তৈরিসহ নানাভাবে উপার্জন করা সম্ভব। এখানকার জীববৈচিত্র রক্ষা করার জন্য সকলকে সচেতন হবার আহবান জানান।     এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, গোলফল অনেকের কাছে খুবই প্রিয় খাবার। তালের আদলে এর ভেতর শাস রয়েছে এটি খেতে ভিন্নতর স্বাদ পাওয়া যায়। এছাড়া এর থেকে খাঁটি রস বের করে পরিবেশ সম্মত গুড় তৈরি করা সম্ভব। সুন্দরবন উপকূলীয় দাকোপ অঞ্চলে কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের গুড় তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও নানা পরামর্ম দেওয়া হয়েছে। এখানকার চাষিরা যদি কেউ বানিজ্যিক ভাবে গোল থেকে গুড় তৈরি করতে চান তাদের নানাভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।     

চিত্রাপাড়ে খাঁচায় মাছ চাষ করে সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন

চিত্রা পাড়ের মিনি সুন্দরবন এখন অনেকের কাছেই পরিচিত নাম। একদিকে এই নদী কৃষি কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অন্যদিকে এই নদীর দুকূলে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠেছে ম্যানগ্রোভ বন। আর এ চিত্রা নদীতে খাচায় মাচ চাষ করে সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অনেকে।  স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। ওপাড়ে ফকিরহাট উপজেলা। এখানকার অধিকাংশ কৃষি জমিতে চিংড়ি ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য অফিসের উদ্যোগে চিত্রা নদীতে খাচায় মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন অনেককে। এতে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।  ভিন্ন পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।   সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চিত্রা পাড়ের গোয়লবাড়ি গ্রামের গোপাল বিশ্বাস চিত্রা নদীতে খাচায় মাছ চাষ করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন ধরণের রঙিন মাছসহ বিদেশি জাতের তেলাপিয়া মাছ চাষ করেছেন। নদীতে ড্রামের সাথে নেট দিয়ে খাচা তৈরি করে এসব মাছের চাষ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে গোপাল বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ফকিরহাট মৎস্য অফিসের তত্বাবধায়নে তিনি চিত্রা নদীতে খাচায় মাছ চাষ করেছেন। নিয়মিত মাছের খাবার দেওয়াসহ পরিচর্যা করেন। বিশেষ করে রঙিন মাছের বেশ কদর রয়েছে। অনেকে একুরিয়ামে রাখার জন্য তার কাছ থেকে রঙিন মাছ কিনছেন। খুবই স্বল্প মূল্যে এ সকল মাছ সরবরাহ করছেন তিনি। প্রাথমিক অবস্থায় ১০টি খাচায় মাছ চাষ  করেছেন। তবে নদীতে জোয়ার-ভাটা হওয়ার কারণে পানি নষ্ট হবার কোন কারণ নেই। ঠিকমত খাবার ও পরিচর্যা করলে এর থেকে তিনি লাভের মুখ দেখতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  স্থানীয় মৎস্য চাষি নন্দ রায় জানান, গোপাল বিশ্বাস ভিন্ন পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে অনেককে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। যাদের নিজস্ব জমি নেই তারা এভাবে নদীতে খাচায় মাছ চাষ করে লাভবান হতে পারেন। এতে অনেকে বেকারত্ব ঘোঁচাতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।  এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আনসারী জানান, খাচায় মাছ চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জন্য এটি চাষ করার সুযোগ আছে। অনেক উপজেলায় মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় খাচায় মাছ চাষের প্রজেক্ট দেওয়া হচ্ছে।     

সংবাদ প্রকাশের পর অসুস্থ লেখক জুড়ান মণ্ডলের পাশে ইউএনও

চিতলমারীতে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছে লেখক জুড়ান মণ্ডল শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর জুড়ান মণ্ডলের বাড়িতে গেলেন ইউএনও খাদিজা আক্তার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা লেখক  জুড়ান মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে তার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। এ সময় তিনি তার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া তিনি জুড়ান মণ্ডলের হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. একরামুল হক মুন্সী ও এলাকার লোকজন।  উল্যেখ্য জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল গত ৬ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। স্টোক করায় শরীরের একপাশ তার অচল হয়ে গেছে। বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না তিনি। চিকিৎসা নেওয়ার মতো কোন সংগতি নেই তার। অভাবের সংসার। এক সময় পেশায় দর্জির কাজ করতেন তিনি। এতে যেটা রোজগার হত সেখান থেকে সংসার চালানোর পাশাপাশি অসাহায় গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই-খাতাসহ নানা শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন তিনি। এছাড়া তিনি নিয়মিত সমকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন। পাশাপাশি তিনি অনেক নাটক লিখেছেন। সেগুলি নিজের অর্থায়নে মঞ্চায়ন করেছেন। সমাজে আলোক বর্তিকা হয়ে কাজ করা সেই মানুষটি এখন চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় । এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার জানান, জুড়ান মণ্ডলের অসুস্থতার বিষয়টি তার জানা নেই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। জুড়ান মণ্ডলের মতো মহৎ মানুষের পাশে সকলকে দাাঁড়[ানোর আহবান জানান। পাশাপাশি সরকারি ভাবে যটতা সম্ভব সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।   

চিতলমারীতে পুলিশের অভিযানে নারীসহ ৬ আসামি আটক

বাগেরহাটের চিতলমারীতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ সাজাপ্রাপ্ত  ৬ আসামীকে আটক করেছে। আটককৃতদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।  চিতলমারী থানার ওসি (তদন্ত) মিলন কুমার ঘোষ জানান, ১২ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে পুলিশ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালা করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ মোট ৬ জনকে আটক করেছে।  আটককৃতরা হলেন, উপজেলার দড়িউমাজুড়ি গ্রামের সুরেন বাইনের স্ত্রী বাসন্তী বাইন, চৌদ্দহাজারি গ্রামের জাকির মল্লিকের স্ত্রী রূপিয়া বেগম, চরবানিয়ারী রানাপাড়ার শ্যামল মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডল ও সুরিগাতী গ্রামের দেবশাস হালদারের ছেলে দেবাশীয় হালদার, শৈলদাহ গ্রামের   বেদার শেখের ছেলে সাদ্দাম শেখ। আটককৃত আসামীদের ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ২ টার দিকে বাগেরহাট জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।  

চিতলমারীতে সংঘর্ষে নারীসহ আহত -৬

বাগেরহাটের চিতলমারীতে পৈতৃক জায়গা-জমি নিয়ে দুই  ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেন্বর) উপজেলার বড়বাড়িয়া পোদ্দারপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমির সীমানা বড়বাড়িয়া পোদ্দারপাড়া গ্রামের মৃত যতিন বিশ্বাসের ছেলে জয়দেব বিশ্বাস এবং তার ছোট ভাই ফটিক বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ করাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের ছেলেদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।  এ সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন, জয়ন্ত বিশ্বাস (৪০), প্রমান্ত বিশ্বাস (২৫), মিনুকা বিশ্বাস(৫০), ফটিক বিশ্বাস (৬০),বিপ্লব বিম্বাস (৩৫),সমির বিশ্বাস (২৩) ও অঞ্জলী বিশ্বাস(৪৫)। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ ৬জন আহত হয়। অহতদের উদ্ধার করে  স্থানীয়রা  চিতলমারী ও গোপালগঞ্জ হাসপাতলে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে চিতলমারী থানার (ওসি) মো. শহিদুর রহমান জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।  

আরও
X