ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় আটক-১
সাংবাদিক আলিফের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন : ডেপুটি স্পিকার
দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাব মোড়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহর সঞ্চালনায় সহ-সভাপতি মো. মোহন মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক, নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কামাল হোসাইন, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি পল্লব চক্রবর্তী, সাংবাদিক ধনেশ পত্রনবীশ, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি দিলওয়ার হোসেন তালুকদার, রাজেশ গৌড় সহ অনেকেই।   প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, এখন পর্যন্ত জড়িত কেউ আটক হয়নি। আমরা সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার ও ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য নিশ্চিত করতে হবে।  নির্মলেন্দু সরকার বাবুল বলেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যা জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কামাল হোসাইন বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে ছয়টি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিক আলিফের শহীদ হতে হয় তাহলে আমরা প্রত্যেকটা সাংবাদিক শহীদ হব। তবুও আমরা সত্য প্রকাশ করে যাব। কারা চোরাচালান করে পুলিশ জানে তাই আমাদের অনুরোধ আগামী ২৪ ঘণ্টার ভিতরে জড়িতদের গ্রেফতার করা হোক।  মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা সড়কে বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।   
দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে ২৪ ঘণ্টা পর থানায় স্ত্রীর মামলা
দুর্গাপুরে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
দুর্গাপুরে বাকলজোড়া ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন
দুর্গাপুরে বাকলজোড়া ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন
দুর্গাপুরে পুলিশের অভিযানে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার ভারতীয় ফেয়ারডিল উদ্ধার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৪০ বোতল ভারতীয় তৈরি আমদানি নিষিদ্ধ ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের মেনকিফান্দা সাকিনে জনৈক ইমান আলীর বসতবাড়ির পূর্ব পাশে পুকুরপাড়ে অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা দুটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে ১৪০ বোতল ভারতীয় তৈরি আমদানি নিষিদ্ধ ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর থানার জিডি নম্বর ৬১৭, তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে রাত্রীকালীন বিশেষ অভিযান ও মাদক-চোরাচালান উদ্ধার ডিউটি চলাকালে এসব পণ্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার করা পণ্য জব্দতালিকামূলে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ অভিযানে দুর্গাপুর থানার এসআই (নিঃ) রাসুল সাঈদী আজাদের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. স্বপন মিয়া, এসআই (নিঃ) আসাদুজ্জামান, এএসআই (নিঃ) আব্দুল কাইয়ুম ফকির, কনস্টেবল মো. আলমগীর হোসেন বিপ্লব ও কনস্টেবল মো. সজীব মিয়া অংশ নেন। উদ্ধার করা পণ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা এর মালিকানা সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

দুর্গাপুরে ৫৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত থাকবে এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা সর্বদা মাঠে থেকে সহযোগিতা করবেন বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত। সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উপজেলার ৫৯টি পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজা চলাকালে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক ও প্রস্তুত থাকবে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্দেশনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে সর্বদা সক্রিয় থেকে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম আলম ভূঁইয়া, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ইমাম হাসান আবু চান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক অঞ্জন চিচাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারেজ গনি, পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের সভাপতি শুভেন্দু সরকার  পিন্টু , পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু  সরকার বাবুল  এবং দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। এ ছাড়া উপজেলার ৫৯টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদ্‌যাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়।

মহালয়া উপলক্ষে  তারুণ্যের আলোর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হলো নাটক 'মহিষাসুরমর্দিনী'

 নেত্রকোণার দুর্গাপুরে শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজার দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে শুভ মহালয়া উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোজ্জ্বল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পৌরাণিক ধর্মীয় নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তারুণ্যের আলো নাট্যগোষ্ঠী’র পরিবেশনাশ শনিবার রাতে পৌর শহরের সাধুপাড়া মিলন সংঘ মন্দির চত্বরে এই নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনন্দ-আবহ তৈরি করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও  নাটক পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শুরু হতেই মন্দির চত্বর ও এর চারপাশের এলাকা দর্শক ও ভক্তদের সমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নাটকটি উপভোগ করতে সাধুপাড়া মিলন সংঘ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সনাতন ধর্মের মূল পুরাণ ও শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠের মূলভাবের আদলে নির্মিত এই নাটকে তুলে ধরা হয় স্বর্গীয় শান্তি বিনষ্টকারী মহিষাসুরের চরম অত্যাচার, দেবগণের অসহায়ত্ব ও ব্যাকুল আকুল প্রার্থনা। পরবর্তীতে পরমেশ্বরী মহামায়া দেবী দুর্গার স্বর্গীয় আবাহন ও অলৌকিক শক্তিরূপে আবির্ভূত হওয়ার দৃশ্যসমূহ জীবন্ত হয়ে ওঠে দক্ষ অভিনয়শিল্পীদের নৈপুণ্যে। দেবী দুর্গা ও মহিষাসুরের রণক্ষেত্রের চরম দৃশ্য এবং চূড়ান্তপর্যায়ে মহিষাসুর বধের মাধ্যমে পৃথিবীতে আবার শান্তি, ন্যায় ও সত্যের পুর্নপ্রতিষ্ঠার কাহিনি নাটকটিতে অত্যন্ত আবেগঘন ও প্রাণবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে এবং অশুভ ও বিনাশকারী শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তির সূচনা হয়। এই নাটকের মূল উদ্দেশ্য হলো পৌরাণিক ইতিহাস ও সনাতন সংস্কৃতির আধ্যাত্মিক বার্তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সমাজের সকল অন্যায়-অশুভকে দূরে ঠেলে দিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

দুর্গাপুরে শারদীয়পুজা উপলক্ষে পুলিশের মতবিনিময়

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।  বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে থানা মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,  উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি জহিরুল আলম ভুইয়া। অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন উপজেলা বিএনপি‘র সহ:সভাপতি এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, পৌর বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক হারেজ গণি। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, উপজেলা পুজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক শুভেন্দু সরকার পিন্টু, সদস্য সচিব বিদুৎ সরকার, পূজা উদযাপন পরিষদের পৌর সাধারণ সম্পাদক অসিম সাহা সহ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, দুর্গাপুরে এবার মোট ৫৯টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পোশাকধারী পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দাকার শাকের আহমেদ।  এছাড়া প্রতিবছরের ন্যায় উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীগন বিভিন্ন গ্রুপ করে মন্ডপ পাহারা দিবেন মর্মে জানিয়েছেন বিএনপি‘র সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার।

দুর্গাপুরে কমিউনিটি আউটরিচ সভা

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) এর বাস্তবায়নে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর কারিগড়ি ও আর্থিক সহযোগীতায় রেইজ প্র্রকল্পের শিক্ষানবীশ ও ওস্তা নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকেলে কমরেড মনিসিংহ স্মৃতি যাদুঘর মিলনায়তনে প্রকল্পের নির্বাচিত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিক্ষার্থী ও ওস্তাদদের অংশগ্রহণে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক শামছুল আলম খান এর সভাপতিত্বে টিইএসও মোঃ জিয়াউর রহমান এর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শ ম মোস্তাফিজুর রহমান, পিকেএসএফ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী মশরুর-উল-আলম, ডিএসকের উপ প্রধান (ঋণ) সুমন কুমার হাওলাদার, প্রোগ্রাম কর্মকর্তা রাখী ম্রং, আঞ্চলিক ব্যাবস্থাপক নজরুল ইসলাম, প্রকল্প সমন্বয়কারী রুপন কুমার সরকার প্রমুখ।  সভায় বক্তারা বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় তরুণ-তরুণীরে দক্ষতা উন্নয়ন,কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া, রেইজ প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলো যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের তরুণ-তরুণীদের চাহিদাভিত্তিক কারিগড়ি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা, সম্ভাবনাময় ও উপযুক্ত শিক্ষানবীশ ও ওস্তা নির্বাচন, প্রকল্প সম্পর্কে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা।  

কিশোরীকে একা পেয়ে বৃদ্ধের ধ'র্ষণ, অতঃপর...

নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড বালিকান্দি গ্রামে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আবুল কাশেম (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির দক্ষিণ পাশে, রাতের খাবারের উচ্ছিষ্ট পানি ফেলতে গেলে কাশেম ওই কিশোরীকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর কিশোরী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে। পরদিন বিষয়টি প্রতিবেশী এক নারীর কাছে জানায় কিশোরী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ঘটনা প্রকাশ হলে মেয়েটির ভবিষ্যতে বিয়েতে সমস্যা হবে এমন কথা বলে পরিবারকে নীরব থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ কারণে ভুক্তভোগীর বাবা প্রথমদিকে থানায় অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত কাশেমের স্ত্রীও ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রয়োজনে কিশোরীকে তার স্বামীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মতো কথাও বলা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন নারীর অভিযোগ, কাশেমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্নভাবে নারীদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার বাবা ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালান এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে পরিবারটির। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগী কিশোরী তাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করে। পরে বিষয়টি দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোন সুপারিশ আমলে নেয়া হবে না।

দুর্গাপুরে পূর্বশক্রার জের, মুদি দোকান পুড়ে ছাঁই

আমি এখন পথের ফকির হয়ে গেলাম। আমার জমানো টাকা দিয়ে একটি মুদিদোকান করেছিলাম। এই দোকানের আয় দিয়েই আমার সংসার চলতো। এক রাতেই আমার সকল স্বপ্ন মাটি হয়ে গেলো। কেঁদে কেঁদে এ কথা গুলো বলছিলেন দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ধানীপাড়া গ্রামের মুদিদোকানী মো. আজিজুল হক (৩৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত আব্দুল বাতেনের ছেলে। শনিবার (০৩ অক্টোবর) সন্ধায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এবং সাংবাদিকদের কাছে আজিজুল হক বলেন, আমার এক ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার ছিলো আমার। কিন্ত শুক্রবার গভীর রাতে দোকানে আগুন লেগে আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব। এলাকাবাসীর সহায়তায় থানায় ডায়েরী করেছি। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ধানীপাড়া এলাকার ব্রীজ সংলগ্ন অজয় চন্দ্র সাহার একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে গত দেড় বছর যাবৎ মোদিদোকান করে যাচ্ছে আজিজুল হক। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় প্রতিদিন রাতেই ওই দোকানে রাতে থাকতেন তিনি। অসুস্থতার কারনে ওইদিন দোকানে থাকতে পারেননি তিনি। ঘটনার দিন (শুক্রবার) গভীর রাত অনুমান ১টার দিকে কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পূর্বশক্রার জের ধরে ওই মুদিদোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দোকানে থাকা সব মালামালই পুড়ে যায়। আশপাশের লোকজন পানি নিয়ে আগুন নেভাতে আসতে আসতেই সব পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।  এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল মন্নান বলেন, আজিজুল খুব ভালো ছেলে। তারসাথে কারো কোনপ্রকার ঝগড়া বিবাদ নাই। অল্প সময়ের মধ্যে দোকানঘর পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। দোকানে প্রায় সাড়ে তিনলক্ষ টাকার মালামাল ছিল। আজিজুলের দোকানে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগাতে পারে বলে আমরা মনে করছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।    ক্ষতিগ্রস্ত আজিজুল হক বলেন, আমার জীবনের সব জমানো টাকা দিয়ে দোকানটি সাজিয়ে ছিলাম। বড় একটি ফ্রিজ কিনেছিলাম। দোকানে কিছু নগদ টাকাও ছিলো। আমার জানামতে কারো সাথে আমার কোন বিরোধ নাই। কিন্ত মুদিদোকান দিয়ে আমি একটু ভালোভাবে চলতে পারছি, এগুলো অনেকেরই সহ্য হচ্ছিলো না। তাই আমার সাথে শত্রুতা করে আমার দোকানে আগুন লাগাতে পারে বলে ধারনা করছি। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন মুদিদোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে জরুরী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করুন।

আরও
X