ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে কেন্দুয়ায় মানববন্ধন 
স্কুলের দপ্তরির বিরুদ্ধে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধ'র্ষণচেষ্টার অভিযোগ 
কেন্দুয়ায় বিষ পানে  নারীর মৃত্যু  মরদেহ উদ্ধার 
কেন্দুয়ায় বিষ পানে  নারীর মৃত্যু  মরদেহ উদ্ধার 
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় কীটনাশক (বিষ) পানে হামিদা আক্তার (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের উত্তর রাজনগর এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নিহত হামিদা আক্তারের স্বামী মো. কাশেম আলী (৬৫)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী হামিদার বনিবনার হচ্ছিলনা। প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতের শেষ দিকে তিনি কীটনাশক পান করেন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। আরো জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে ঢাকায় বসবাসরত মেয়ের বাসা থেকে কেন্দুয়ায় ফেরেন হামিদা আক্তার। ওই রাতেই এ ঘটনা ঘটে। তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কেন্দুয়ায় সাফিয়া খোরশেদ মডেল একাডেমির অধ্যক্ষ হলেন মোজাম্মেল হক
কেন্দুয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে  প্রস্তুতিমূলক সভা
কেন্দুয়ায় এলপিজি গ্যাসের দোকানে অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
কেন্দুয়ায় ভোটের লড়াইয়ে হাশেম-টুটুলের জয়, বিএনপিতে গণতন্ত্রের যাত্রা 
ঢাকায় উচ্চপর্যায়ে সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও সানজিদা চৌধুরী

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভা সম্পন্ন করেছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সৈয়দ মাহবুব মুর্শেদ অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর অভিযান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এমপির।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো.আব্দুল বারী এমপি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। এ ছাড়া সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুন গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ড. রফিকুল ইসলাম মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিনারা মাহরুখসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলীরাও সভায় অংশ নিয়েছেন। সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  

কেন্দুয়ায় পিআইবির উদ্যোগে সাংবাদিকদের তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নেত্রকোনার জেলার ৩টি উপজেলা কেন্দুয়া,মদন,আটপাড়া ও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৩৫ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউ এন ও)ও কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা সানজিদা চৌধুরী। কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সেকুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষক ও গাজী টিভির নির্বাহী প্রযোজক মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, পিআইবি'র প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম, পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, গীতা থেকে পাঠ করেন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা। এসময় পিআইবি'র অন্যান্য প্রশিক্ষকবৃন্দ, কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন ও নান্দাইল উপজেলায়   বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত ৩৫ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। আগামী ২ অক্টোবর প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হবে এবং প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকদের মাঝে নেত্রকোনা ৩ কেন্দুয়া /আটপাড়া নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী সনদ তুলে দিবেন বলে জানা গেছে। 

কেন্দুয়ায় জেলা পরিষদের জায়গা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ  

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরশহরের সাজিউড়া মোড়ে জেলা পরিষদের ভূমিতে সুহাল সুপার মার্কেটের দখলে (অবৈধভাবে) থাকা জায়গা চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোণা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে এ নির্দেশ দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুহাল সুপার মার্কেটের মালিক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক এক সচিব  দীর্ঘদিন যাবত সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা পরিষদের জায়গা দখল করে সুবিধা ভোগ করেছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাবেক কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদারের সহযোগিতায় দখলকৃত জায়গার পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয় । স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের ওপর, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে যদি সেই সম্পত্তি দখলে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবে-এটাই এখন তাঁদের বড় প্রশ্ন? এ সময় নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের  সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোর্শেদুুল ইসলাম, কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন ভুইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, উল্লেখিত সাবেক সচিবের আপন ছোট ভাই মো. লুৎফর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পরিষদের এই নির্দিষ্ট জমিতে তিনতলা ভবন নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। এখানে নতুন ভবন তৈরি হলে কয়েকশত ব্যবসায়ী তাদের কর্মসংস্থান খুঁজে পাবেন এবং কেন্দুয়ার সর্বসাধারণ এর সুবিধা ভোগ করবেন। ​তিনি আরও বলেন , কোনো একক ব্যক্তি সুবিধার ওপরে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। প্রশাসক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, একজন ব্যক্তির স্বার্থের জন্য আমরা বিশাল জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত রাখতে পারি না। জেলা পরিষদের জমি বেআইনিভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জায়গাটি খালি করে বুঝিয়ে দিতে হবে। এর আগে সকলের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট ভূমি মাপঝোঁক করেন সংশ্লিষ্টরা।  ​জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করে এই নতুন ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দুয়ার সর্বস্তরের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে নতুন ৪ সাধারণ সদস্য, আজীবন দাতা সদস্য হলেন এমপি হিলালী

নেত্রকোণার ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের সভায় নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীকে আজীবন দাতা সদস্য এবং চারজন সাংবাদিককে সাধারণ সদস্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২২ সালে স্থগিত করা একজন সদস্যের সদস্যপদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কার্যকরী পরিষদের সভায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় সদস্যপদসহ প্রেসক্লাবের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। নতুন সাধারণ সদস্য হিসেবে অনুমোদন পাওয়া চারজন হলেন—দৈনিক প্রলয়ের উপজেলা প্রতিনিধি মো. মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল, দৈনিক ইনকিলাবের কেন্দুয়া উপজেলা সংবাদদাতা কোহিনূর আলম, দৈনিক মানবকণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি মো. রুকন উদ্দিন এবং দৈনিক একুশে নিউজের স্টাফ প্রতিবেদক মো. মনিরুল ইসলাম আকন্দ সোহেল। এ ছাড়া দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি মো. হুমায়ুন কবিরের স্থগিত সদস্যপদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের পর সোমবার প্রথমবারের মতো নতুন করে চারজনকে সাধারণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। এর আগে ২০১৯ সালে আজীবন দাতা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালে স্থগিত করা সদস্যপদটি পুনরায় সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি সুনীল পোদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ কামাল, অর্থ সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাখাল বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক কিশোর কুমার শর্মা, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান ভূঁঞা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল, পাঠাগার সম্পাদক আব্দুল্লাহ, সম্মানিত সদস্য আশরাফ উদ্দিন ভূঁঞা, শাহজাহান মিঞা, মুজিবুর রহমান কিবরিয়াসহ অন্যান্য সদস্য ও সাংবাদিকরা। কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ সময় পর কার্যকরী পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে একজনকে আজীবন দাতা সদস্য, চারজনকে সাধারণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এবং একজনের স্থগিত সদস্যপদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জোরদার করতে সভায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন্দুয়ায় পৃথক কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জলাতঙ্ক ও নিরাপদ মাংস নিয়ে আলোচনা

নেত্রকোনা কেন্দুয়ায় পৃথক পৃথক ভাবে ৩টি কর্মসূচি পালিত হয়। ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভিসাইড প্রয়োগ, জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে করনীয় ও নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন নিশ্চিতকরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ‘মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করি, ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া মুক্ত পৌরসভা গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে মশার লার্ভিসাইড প্রয়োগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। স্প্রেয়ার মেশিনের মাধ্যমে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) নির্বাচনী এলাকার  সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী। কেন্দুয়া পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্যক্রমের আওতায় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস এবং লার্ভিসাইড প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ সময় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই হবে না,মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পৌর এলাকার যেসব স্থানে এডিস মশার প্রজননের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভিসাইড প্রয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার বিস্তার রোধে পৌরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন। একই দিন সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে করনীয় ও নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন নিশ্চিতকল্পে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ডাঃ মতিউর রহমান এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভুইয়া, সাধারন সম্পাদক মজিবুর রহমান ভুইয়া মজনু, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান সহসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণ-মাধ্যমকর্মী ও সুশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত মাংস উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কেন্দুয়ায় আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত  

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, বাল্যবিবাহ, চুরি-ছিনতাই, সড়কে যানবাহন চলাচলসহ উপজেলার সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন ভূঁঞা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. ছাদেকুর রহমান, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকুল ইসলাম খানসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, চুরি-ছিনতাই রোধ, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জনবান্ধব রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।  

কেন্দুয়ায় লোকজ সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত

‘সাহিত্য সংস্কৃতি ঐতিহ্যের সন্ধানে, আমরা মিশি প্রাণে প্রাণে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের সাপ্তাহিক আসর।কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের আয়োজনে এবারের আসরের বিষয় ছিলো ‘গ্রামীণ জীবনের সেকাল-একাল’। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কেন্দুয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কবি ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সদস্য মো. হারেছ উদ্দিন ফকির। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন , কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল এবং কবি, সাংবাদিক ও কেন্দুয়া উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নূরুল হক ভূঞা, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গীতি কবি মো. আব্দুল হাই সেলিম, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার মো. আবুল বাশার তালুকদার, উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ভূঞা হাবুল,কবি সাংবাদিক কোহিনুর আলম,ছরাকার সাংবাদিক রোকন উদ্দিন প্রমুখ৷  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, নাট্যকার, লেখক ও সাংবাদিক রাখাল বিশ্বাস। বক্তারা জানান, গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিবর্তন ও সেকাল-একাল নিয়ে আলোচনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে লোকজ সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তাঁরা আরো বলেন, গ্রামীণ জীবনের সাথে সাহিত্যের এক নিবিড় সম্পর্ক । তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সাহিত্যেও পরিবর্তন আসবে ৷ তবে এই পরিবর্তন যেনো ইতিবাচক হয়। আলোচনার ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করা হয়৷ এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় কবি, গীতিকার, শিল্পী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সাহিত্য অনুরাগী ।

আরও
X