ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কুড়িগ্রামে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা গুরুতর আহত
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ
সাদা ধানের ভিড়ে কালো ধানে নতুন স্বপ্ন, রাজারহাটের কৃষক আজমলের
সাদা ধানের ভিড়ে কালো ধানে নতুন স্বপ্ন, রাজারহাটের কৃষক আজমলের
সাদা ধানের ভিড়ে এবার দেখা মিলেছে ব্যতিক্রমী কালো ধানের। কুড়িগ্রামের রাজারহাট ইউনিয়নের বোতলার পাড় গ্রামে এক বিঘা জমিতে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধানের চাষ করেছেন কৃষক আজমল কবির মনি। প্রায় দেড় মাস আগে জমিতে এ ধানের চাষ শুরু করেন তিনি। নতুন জাতের এ ধান দেখতে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়,ব্যতিক্রম কিছু করার আগ্রহ থেকেই তিনি এক বিঘা জমিতে কালো ধানের চাষ করেছেন। ধানের বীজ অনলাইনে দেখে আগ্রহ হয়েছে, পরবর্তীতে অনলাইন থেকে অর্ডার করে নিয়ে এসে জমিতে লাগিয়েছিন তিনি। কৃষক আজমল কবির মনি জানান, বাপ দাদা সারা জীবন দেশীয় বীজ দিয়ে ধান চাষ করে আসছেন।আমি ভিন্ন চিন্তা থেকে ব্লাক রাইস ধান লাগিয়েছি। এলাকার অনেকেই এ জাতীয় ধান লাগাতে নিষেধ করেছেন। তবুও তাদের কথা উপেক্ষা করে লাগিয়েছি।আশা করছি ফলন ভালো হবে।ভালো ফলন পেলে পরবর্তীতে বেশি পরিমাণে লাগানোর চিন্তা আছে।  স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া জানান, এধরনের ধান আমাদের রাজারহাটে আগে দেখা যায়নি।তবে যদি ফলন ভালো হয় এবং বাজার মূল্য ভালো পাওয়া যায় তাহলে পরের সিজনে ব্লাক রাইস ধান চাষ করবেন বলে জানান তিনি।  অপর কৃষক ফখর উদ্দিন জানান, হামরা বাবা বয়স্ক মানুষ। হামার বাপ দাদা যে বীজ দিয়া জমিত ধান চাষ করছে সেই ভাবেই চাষ করমো।   পুষ্টিবিদদের মতে ব্লাক রাইস বা কালো ধানের চাল সাধারণত কালচে বা গাঢ় বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। এর বাইরের স্তরে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এছাড়া কালো চালে খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে কালো চাল নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে কালো চালকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অন্যান্য চালের মতো এটিও পরিমাণ বুঝে খেতে হয়। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে কালো চাল গ্রহণ করা যেতে পারে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নতুন কোনো জাতের ধান চাষের ক্ষেত্রে ফলন, উৎপাদ খরচ,রোগবালাইয়ের প্রকোপ, স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা এবং বাজারদর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব দিক ইতিবাচক হলে কালো ধান কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। রাজারহাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান,ব্লাক রাইস বা কালো ধান বিঘায় ১৭-১৮ মণ হয়।ফলন কম হলেও বাজারদর প্রতি মণ আনুমানিক ১৫০০-১৬০০ টাকা হওয়ায়  কৃষক পোশাতে পারেন। এছাড়াও এটি চাষ করতে প্রচিলত চাষাবাদ ব্যবস্থাই যথেষ্ট। পুষ্টি গুণে ভরপুর হওয়ায় অনেক কৃষক এখন সৌখিনভাবে এটি চাষাবাদ করছেন।  
বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে বিএসএফের গু'লি!
কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা বিপুল ভোটে বিজয়ী!
পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিমা গড়ে লাখ টাকা আয় করছেন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বাঁধন
একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা যে সমস্ত এলাকায় নির্বাচিত হয়েছেন সেখানে সার সংকট: মীর শাহে আলম  
বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।  পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পুলিশ ও ভুক্ত‌ভোগী প‌রিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর পুরাতন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মতিবর ফকির। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তিনি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা করেন। তারা আইনি পদক্ষেপ না নিতেও পরিবারকে চাপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কিশোরীর মামা বলেন, আমরা মূল অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বা বিচারে বাধা দিতে চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এবিষয়ে, ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর সাঈদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিশোরীর মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতা‌রের চেষ্টা চলছে।

কুড়িগ্রামে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময়

কুড়িগ্রামে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইনফোর্সমেন্ট উইংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ’ প্রকল্পের আওতায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।  অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক নুর আলম, মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এর প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আহমেদ কবীর, পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগের রিসার্চ অফিসার রুনায়েত আমিন রেজা, কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মীর্জা মোঃ নাসির উদ্দীন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ আ ন ম গোলাম মোহাইমেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহঃ হুমায়ুন কবির, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক রনি, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়ক আব্দুস সালাম, নিরাপদ খাদ্য অফিসার রাকিবুল হাসান নিশাত সহ ইটভাটা, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শিল্প উদ্যোক্তা ও পরিবেশকর্মীরা।  সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ, নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিবেশবিষয়ক আইন ও বিধিবিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশের মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু আইন দিয়ে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।  সভায় পরিবেশ সংরক্ষণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও ইনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সভায় পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাতভর অপেক্ষা, সকালে শাটার ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি ডিলার পয়েন্টে ‘হট্টগোল’ করে সার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সার লুটের ঘটনা অস্বীকার করছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিলা কলেজ মোড়ের ‘মিতা হাসান ট্রেডার্স’ নামে সার গুদাম ঘরের সামনে গতকাল রবিবার মধ্যরাত থেকে সারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে কৃষকরা। আজ সকাল ৯টার দিকে ডিলারের মতিউর রহমান কৃষকদের জানান, পুলিশ এনে সার বিতরণ করা হবে। তবে প্রায় ২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কেউ না আসায় উত্তেজিত কৃষকরা গুদাম ঘরের শাটার ভেঙে প্রায় ১৫০টি সারের বস্তা নিয়ে যায়। ওই ঘটনার একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও সার ডিলার মতিউর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া জানান, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে রৌমারী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল কবির জানান, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনেক ভ্যান, রিকশা চালক ও কৃষক নয়– এমন লোকজন সার নিতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা সার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে শহীদ রাজীব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শহীদ রাজীব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রাজারহাট কামিল মাদ্রাসা মাঠে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনাল খেলাকে ঘিরে মাঠে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি ও খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শহীদ রাজীব স্মৃতি ফুটবল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আনিছুর রহমান লিটন'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) ও বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল খালেক। খেলার উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, শহীদ রাজীবের গর্বিত পিতা মোঃ রেজাউল করিম সরকার, রাজারহাট উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম। এ সময় অতিথিরা বলেন, শহীদ রাজীবের মতো বীর সন্তানদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা এবং শহীদ রাজীবের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যেই এ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। ফাইনাল খেলায় চাকিরপশার ইউনিয়ন একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করে উমর মজিদ ইউনিয়ন একাদশ। এবং খেলা শেষে বিজয়ী ও পরাজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা।

শিশু শ্রেণির স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে অভিনব চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই কুড়িগ্রামের বিভিন্ন স্থানে এনজিও সংস্থার নাম ব্যবহার করে পথশিশুদের নিয়ে অবৈধ স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং সেই স্কুলের ছবি ও কার্যক্রম দেখিয়ে সমাজের সুধীজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণির দাতাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুড়িগ্রাম জেলার বহিরাগত ব্যক্তি শুভ্র সেন শর্মা ও তাঁর ছেলে রাজ্য সেন শর্মার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের পরিচালিত এসব বাণিজ্যিক স্কুলের নাম ‘নিরন্তর ভালোবাসা’। কথিত এই স্কুলগুলো কোনো কোনো এলাকায় মাত্র তিন থেকে ছয় মাস পরিচালনার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর সমাজের বিত্তশালী ও সুধীজনদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে পরিবেশ ও পরিস্থিতি বুঝে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শুভ্র সেন শর্মা বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গা-ঢাকা দিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় কুড়িগ্রামে আসেন। পরে ব্র্যাক, ছিন্নমুকুলসহ বিভিন্ন এনজিওতে চাকরি করেন। শুভ্র সেনের নিজ জেলা জামালপুর। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে কুড়িগ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন তিনি। একসময় ছিন্নমুকুল থেকে কর্মহীন হয়ে পড়লে এনজিও সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ব্রোকারের মাধ্যমে অভিভাবকদের নানা কথা বুঝিয়ে ভাড়া জায়গায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবি তুলে দেশ-বিদেশের দাতাদের কাছে পাঠিয়ে অর্থ সংগ্রহের পর দ্রুত ওই স্থান থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শুভ্র সেনের এসব কার্যক্রমে অন্যতম সহযোগী তাঁর ছেলে রাজ্য জ্যোতি। বাবার কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে তিনি কিশোরদের নিয়ে হাজির হয়ে হুমকি-ধমকি ও মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে কথায় আছে, ‘চোরের দশ দিন, গৃহস্থের এক দিন।’ এবার সেই অবস্থায় উপনীত হয়েছেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের। শুভ্র সেন শর্মা ও তাঁর ছেলে রাজ্য সেন শর্মার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানা, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগকারী কুড়িগ্রাম পৌরসভার পাওয়ার হাউস পাড়ার প্রবীণ নাগরিক মজনুজ্জামান মজনু। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মজনুজ্জামান মজনু কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হিঙ্গণরায় ডাকবাংলো পাড়ায় অবস্থিত সিআরসি স্কুল ও মোক্তব অ্যান্ড ট্রাস্ট উন্নয়ন সমিতির সভাপতি। অভিযোগে আরও বলা হয়, শুভ্র সেন শর্মা সিআরসি সমিতির নেতৃবৃন্দের কাছে স্কুলের জন্য একটি কক্ষ ভাড়া চান। সেখানে তিনি পথকলি ট্রাস্টের শিশুদের নিয়ে স্কুল পরিচালনা এবং রাস্তাঘাট ও স্কুল সংস্কারের প্রস্তাব দেন। তাঁর উৎসাহ ও আগ্রহ দেখে সমিতির নেতৃবৃন্দ ২০২৪ সালের ৩ মার্চ মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে মাসিক ১ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষ তাঁকে দেন। এরপর সেখানে স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযোগকারীর দাবি, টানা ২৯ মাস স্কুল পরিচালনার পর রসিদের মাধ্যমে মাত্র তিন মাসের ৩ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করা হয়। বাকি ২৬ মাসের ২৬ হাজার টাকা বকেয়া রেখে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের সেখানে রেখে স্কুলের কক্ষ তালাবদ্ধ করে তাঁরা চলে যান। এরপর চলতি বছরের ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে তালাবদ্ধ ওই স্কুলকক্ষে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্কুলের একটি সিলিং ফ্যান চুরি হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগকারী মজনুজ্জামান মজনু আরও উল্লেখ করেন, চুরি হওয়া স্কুলকক্ষের উত্তর পাশে সিআরসি কার্যালয়ের একটি কক্ষে স্টিলের আলমারিতে ১০টি সেলাই মেশিন গচ্ছিত রয়েছে। এসব মেশিনও চুরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টিও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে। স্কুলকক্ষের ভাড়া ও চুরির বিষয়ে জানতে শুভ্র সেন শর্মার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন সিআরসি স্কুল ও মোক্তব অ্যান্ড ট্রাস্ট উন্নয়ন সমিতির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যরা। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ সুপার ও থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে শুভ্র সেন শর্মার সহযোগী আবু সাঈদ মোল্লার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্য সেন শর্মা ওরফে রাজ্য জ্যোতি অভিযোগকারী প্রবীণ নাগরিক মজনুজ্জামান মজনুকে সাঙ্গপাঙ্গসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন, সম্মানহানি ও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে রাজ্য সেন শর্মার বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ করেন মজনুজ্জামান মজনু। অভিযোগের বিষয়ে মজনুজ্জামান মজনু বলেন, ‘আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’ অভিযুক্ত শুভ্র সেন শর্মার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনের ০১৭২৭৩৭৪০৯৫ ও ০১৭১৮৩২৪৮৮৮ নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বেড়াজালে বন্দি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

​প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও কাঙ্ক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ভিত্তি পায়নি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। নেই স্থায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী। জোড়াতালি দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে উচ্চশিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম। প্রাতিষ্ঠানিক এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেছে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ। স্থায়ী নিয়োগ ঝুলিয়ে রেখে উপাচার্য নিজের পরিবার ও স্বজনদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে (অ্যাডহক) বসিয়েছেন নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে। ​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কৃষি ও ফিশারিজ অনুষদে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। কিন্তু কোনো স্থায়ী শিক্ষক সেখানে নেই। পুরো পাঠদানই পরিচালিত হচ্ছে চুক্তিভিত্তিক ও খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে। ইউজিসি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগের জন্য ৪০টি পদ অনুমোদন করলেও প্রশাসন গত দুই বছরে স্থায়ী কোনো নিয়োগ দেয়নি। ​উল্টো অভিযোগ উঠেছে, উপাচার্য তাঁর আপন স্বজনদের নিয়োগ দিতেই স্থায়ী প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পরিবারের অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য বিভিন্ন পদে সাময়িক নিয়োগ পেয়েছেন। ​ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপাচার্যের আপন বোনের ছেলে আতিকুর রহমানকে পিএস টু ভিসি (সেকশন অফিসার), আপন শ্যালক আব্দুল্লাহ সোহাগকে সেকশন অফিসার (সিকিউরিটি ও পরিকল্পনা), আপন বোনের মেয়ে রেজবিন আক্তারকে কম্পিউটার টাইপিস্ট এবং বোনপুত মোস্তফা সরকারকে সেকশন অফিসার (পরীক্ষা বিভাগ) পদে বসানো হয়েছে। পিএস আতিকুর রহমান ও সহকারী স্টোর কিপার পদে নিয়োগ পাওয়া রেজভীন বেগমের চাকরির বয়সসীমা আগেই পার হয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। ফিশারিজ অনুষদে মাস্টার্স সম্পন্ন হওয়ার আগেই মো. আহসানুল হক ও মরিয়ম আক্তার নামের দুজনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি ইউজিসির নীতিমালার লঙ্ঘন। ​ বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কতটা ভেঙে পড়েছে, তার প্রমাণ মেলে বিভিন্ন নথি পর্যালোচনায়। উপাচার্যের শ্যালক আব্দুল্লাহ সোহাগ এবং ভাগ্নে আতিকুর রহমানের হাতেই কার্যত পুরো প্রশাসনিক ও টেন্ডার কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ। এমনকি টেন্ডারের নথিপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মবহির্ভূতভাবে শ্যালক আব্দুল্লাহ সোহাগের সই পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভালো শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কোনো সদিচ্ছা উপাচার্যের নেই। অভিযোগ রয়েছে, স্থায়ী ও খণ্ডকালীন পদগুলোতে নিয়োগের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের লেনদেন বা ঘুষের রেটও নির্ধারিত রয়েছে। ​ আইন অনুযায়ী উপাচার্যের ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করার কথা থাকলেও অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন বলে জানা গেছে রয়েছে। ঢাকার একটি গেস্ট হাউজকে কার্যালয় বানিয়ে সেখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।  একদিকে স্থায়ী শিক্ষকের অভাব, অন্যদিকে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক স্থবিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। ​ কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার আগেও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে প্রায় ১ বছর ১১ মাস ১৫ দিন অনুমোদিত অনুপস্থিত থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পরে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না করেই তাঁর পদোন্নতি হয়। এছাড়া নিজের প্রভাব খাটিয়ে তিনি  স্ত্রী হোসনে আরা হীরাকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে অনিয়ম করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ​ এ ব্যাপারে ভাগ্নে আতিকুর রহমান স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি স্যারের কোনো আত্মীয় নই। আমার বাড়ি স্যারের বাড়ি থেকে কিছু দূরে হওয়ায় অনেকে ভুল বোঝেন। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ভিসি স্যার কাছের মানুষদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন, যা পুরোনো কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না।" ​সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, "আমার কোনো নিকটাত্মীয়কে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে যারা কাজ করছেন, তারা যোগ্যতার ভিত্তিতে সাময়িকভাবে নিয়োজিত এবং তারা শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দরভাবে চালাচ্ছেন। খুব শিগগিরই পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা হবে।" ​ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, "নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় সরকারি ও ইউজিসির বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে আমাকে ঢাকায় থাকতে হয়। তবে আমি ছুটির দিনেও ক্যাম্পাসে রাত পর্যন্ত কাজ করি।" কুড়িগ্রাম জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, ​"একটি সম্ভাবনাময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে শুরুতেই স্বজনপ্রীতি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের এমন গুরুতর অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার আলো ছড়ানোর পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি যদি অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, তবে তা কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার ওপর বড় আঘাত। স্থায়ী শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে পছন্দসই মানুষদের চুক্তিভিত্তিক বসানো এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে যোগ করেন।  তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামের উচ্চশিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবিলম্বে সরজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।  

‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন রুনা খান

"এশিয়ার নোবেল" হিসেবে পরিচিত ৬৮তম র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশের সামাজিক সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান।  সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা এবং ফিলিপাইনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় দেশটির রাজধানী ম্যানিলায় এ ঘোষণা করে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন- আরএমএএফ।  ফাউন্ডেশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এডগার ও. চুয়া এবং প্রেসিডেন্ট সুসানা বি. আফান। ২০২৬ সালের র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ফ্রেন্ডশিপ এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান জানান, “অত্যন্ত আনন্দের সাথে আমি র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করছি। এ স্বীকৃতি আমি সেইসব প্রান্তিক মানুষের পক্ষ থেকে গ্রহণ করছি, যারা আমাদেরকে তাদের পাশে দাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। আর প্রান্তিক মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাদের ভাগ্য উন্নয়নে সফলভাবে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে ফ্রেন্ডশিপ পরিবার। ফ্রেন্ডশিপের মাঠ পর্যায়ের সেই সব সহযোদ্ধাদের নিরলস চেষ্টার ফলে আজ এমন অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি গেল ২৫ বছর ধরে যারা ফ্রেন্ডশিপের পথচলায় আমাদের বিশ্বাস করেছেন এবং পাশে থেকেছেন তাদের প্রতিও আমি গভীর কৃতজ্ঞ। ফ্রেন্ডশিপের রুনা খান হচ্ছেন, বাংলাদেশ থেকে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। এর আগে বাংলাদেশ থেকে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্র্যাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ডকে এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি বহুলভাবে "এশিয়ার নোবেল" নামে পরিচিত। "Greatness of Spirit" বা মানবিক মহত্ত্ব এবং এশিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের স্বীকৃতিতে এ পুরস্কার দেয়া হয়। ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের স্মরণে ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। আগামী ১৫ নভেম্বর ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদানের কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খানের সামাজিক কাজের শুরু বাংলাদেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, বাস্তবতা ও প্রয়োজনকে অনুধাবন করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সমাধান তৈরির লক্ষ্যে ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন রুনা খান। একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা ফ্রেন্ডশিপ বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জলবায়ু কার্যক্রম, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্ব এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণে কাজ করছে। সংস্থাটি বর্তমানে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষকে সেবা দিয়ে আসছে। ফ্রেন্ডশিপের উন্নয়ন দর্শনের মূল কথা হলো—মানুষকে এমন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করা, যে ব্যবস্থা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না; বরং মানুষের বাস্তবতা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ কারণে স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষিত করা, কমিউনিটিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ত করা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা, অধিকার ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা ফ্রেন্ডশিপের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও
X