ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সারের ডিলার না দেন, বিষের ডিলার দেন: ফেসবুকে ছাত্রদল নেতা
দুর্গাপূজার তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত রাজারহাটের কুমারপাড়া
এক বছর ধরে ‘সন্তানের’ মতো গাঁজা গাছ লালন, অতঃপর...
মশিউর অর্ণব
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বসতবাড়ির রান্নাঘরের পেছন থেকে ১৪ ফুট লম্বা জীবন্ত একটি গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আসমান (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেকুরটারী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেকুরটারী গ্রামে আসমানের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে গাঁজার গাছ চাষ করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে রাজারহাট থানা পুলিশ। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল আসমানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় রান্নাঘরের পেছন থেকে প্রায় ১৪ ফুট লম্বা তাজা গাঁজার গাছটি উদ্ধারসহ আসমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসমান স্বীকার করেছেন, তিনি প্রায় এক বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে গোপনে গাছটি লালন-পালন করে আসছিলেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৪ ফুট লম্বা একটি জীবন্ত গাঁজার গাছ উদ্ধারসহ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশি এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইউনিয়ন পরিষদের নিলামকৃত গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
অতীতের দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্র যন্ত্রের বিভিন্ন দপ্তরে মরিচিকা ধরেছে: রাজারহাটে দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনবার্সনমন্ত্রী 
রাজারহাট চরবাসীর নৌকাই একমাত্র ভরসা
হারিয়ে যেতে বসছে পুরাতন গ্রামীণ খেলা চকচ্ছাল
বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ খেলাধুলা, মোবাইলে বন্দি শিশু-কিশোরদের শৈশব

একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠে শুরু হতো শিশু-কিশোরদের ছুটাছুটি। কোথাও গোল্লাছুট কোথাও হাডুডু, কানামাছি সহ বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত সেই খেলাধুলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। মাঠের জায়গা ক্রমশ কমতে থাকায় মোবাইলে বন্দি শিশু-কিশোর। রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা,চাকিরপশার,ছিনাই সহ বিভিন্ন এলাকার প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের মাঠ, বাড়ির উঠান কিংবা ফসল কাটার পর খোলা জমিতে দল বেঁধে খেলত শিশু-কিশোররা। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বিরল। রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলার জায়গা এই মাঠটি।অথচ ভবন নির্মাণ করে খেলাধুলা বন্ধ করার পায়তারা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজারহাটে বর্তমানে ফুটবলসহ আধুনিক খেলাধুলার আয়োজনও হচ্ছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; বরং বদলে গেছে খেলার ধরন। জেলা ক্রীড়া অফিস সূত্রে জানা যায়,উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থার জন্য তিন কিস্তিতে বরাদ্দরে পরিমাণ বছরে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও মাঠ সংস্কার সহ নানাবিধ উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বোতলার পাড় গ্রামের জহুরুল ইসলাম নামের প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, শিশুদের অবসর মানেই ছিল মাঠে যাওয়া। এখন অনেক শিশুর অবসর কাটে মোবাইল ফোনে। অনলাইন গেম, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পড়াশোনার চাপ, খেলার মাঠের সংকট এবং অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। নাফাডাঙ্গা গ্রামের মজিদ মিয়া বলেন, আগে বিকেল হলেই ছেলেরা দলবেঁধে মাঠে এসে কেউ ফুটবল, কেউ,ক্রিকেট, গোল্লাছুট সহ হরেক রকমের খেলাধুলা করত।সন্ধ্যা হলেই বাড়ি ফিরে পড়াশোনায় বসত। এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়েনা। কানুরাম গ্রামের কিশোর মারুফ ইসলাম বলেন, খেলাধুলার মধ্যে মাঝে মাঝে ফুটবল খেলতে যাই, আর গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, হাডুডু এসব খেলার নাম শুনেছি তবে কোনোদিন খেলা বা দেখা হয়নি। এই বিষয়ে রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম তাসনিম এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ খেলাধুলা, মোবাইলে বন্দি শিশু-কিশোরের শৈশব 

একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠে শুরু হতো শিশু-কিশোরদের ছুটাছুটি। কোথাও গোল্লাছুট কোথাও হাডুডু, কানামাছি সহ বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত সেই খেলাধুলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। মাঠের জায়গা ক্রমশ কমতে থাকায় মোবাইলে বন্দি শিশু-কিশোর। রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা,চাকিরপশার,ছিনাই সহ বিভিন্ন এলাকার প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের মাঠ, বাড়ির উঠান কিংবা ফসল কাটার পর খোলা জমিতে দল বেঁধে খেলত শিশু-কিশোররা। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বিরল। রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলার জায়গা এই মাঠটি।অথচ ভবন নির্মাণ করে খেলাধুলা বন্ধ করার পায়তারা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজারহাটে বর্তমানে ফুটবলসহ আধুনিক খেলাধুলার আয়োজনও হচ্ছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; বরং বদলে গেছে খেলার ধরন। জেলা ক্রীড়া অফিস সূত্রে জানা যায়,উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থার জন্য তিন কিস্তিতে বরাদ্দরে পরিমাণ বছরে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও মাঠ সংস্কার সহ নানাবিধ উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বোতলার পাড় গ্রামের জহুরুল ইসলাম নামের প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, শিশুদের অবসর মানেই ছিল মাঠে যাওয়া। এখন অনেক শিশুর অবসর কাটে মোবাইল ফোনে। অনলাইন গেম, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পড়াশোনার চাপ, খেলার মাঠের সংকট এবং অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। নাফাডাঙ্গা গ্রামের মজিদ মিয়া বলেন,আগে বিকেল হলেই ছেলেরা দলবেঁধে মাঠে এসে কেউ ফুটবল, কেউ,ক্রিকেট, গোল্লাছুট সহ হরেক রকমের খেলাধুলা করত।সন্ধ্যা হলেই বাড়ি ফিরে পড়াশোনায় বসত।এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়েনা। কানুরাম গ্রামের কিশোর মারুফ ইসলাম বলেন, খেলাধুলার মধ্যে মাঝে মাঝে ফুটবল খেলতে যাই, আর গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা,হাডুডু এসব খেলার নাম শুনেছি তবে কোনোদিন খেলা বা দেখা হয়নি। এই বিষয়ে রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম তাসনিম এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

যত্রতত্র সাইপারমেথ্রিন কীটনাশকের ব্যবহারে কমছে জমির উর্বরতা

রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান, আলু, ভুট্টা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলে পোকামাকড় ও রোগ দেখা দিলেই অনেক কৃষক নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করেন।  কেউ কেউ দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় একই জমিতে একাধিক ধরনের বালাইনাশকও ব্যবহার করছেন।   এতে একদিকে বাড়ছে কৃষকের উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাটির উপকারী অণুজীব ও পোকামাকড় কমে যাওয়ায় জমির স্বাভাবিক ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় কৃষক গণী মিয়া জানান, দোকানদারের কাছে ঔষধ কিনতে গেলে তারা আমাদের যেটা ব্যবহার করতে বলে আমরা সেটাই করি।কোনটা জমির ক্ষতি আর কোনটা ক্ষতি নয় সে ব্যপারে আমাদের ধারণা নেই।  কীটনাশক বিক্রেতা হাসান মিয়া বলেন,কৃষক এসে এমন ঔষধ চান যাতে পোকার বংশ ধ্বংস হয়। কৃষকের চাহিদার বাইরে গেলে বলে ঔষধ কাজ করেনা দুই নম্বর ঔষধ। ফলে বাধ্য হয়ে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের ঔষধ দিতে হয়। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি  কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে কীটনাশক এর ব্যবহার সীমিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। এছাড়াও কৃষকদের কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।

যশোরে বিএনপি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

যশোরে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ( বিএনপি) ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি গৃহীত পাঁচ দিন ব্যাপী কর্মসূচি শুরু সকাল থেকে শুরু হয়েছে। সকালে দলীয় কার্যালয়ের জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর দলীয় নেতাকর্মীর কারবালা কবর স্থানে গিয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমেদ সিদ্দিকীসহ প্রয়াত নেতৃবৃন্দের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান খান, আব্দুস সালাম আজাদ,এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাড. হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম,জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি, সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ ইমরান প্রমুখ। দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি রের হবে।

রাজারহাটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও র্যালী বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব শাইদুল ইসলাম যুবদলের আহবায়ক আব্দুল কুদ্দুস, সদস্য সচিব নয়ন আলী, ছাত্রদলের আহবায়ক রুবেল পাটোয়ারী সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাদ্দাম, যুগ্ম আহবায়ক খালিদ হাসান খোকনসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় বক্তারা বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। আগামী দিনেও গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

বিঘায় খরচ ২০ হাজার, ধান বিক্রি ১৭–১৮ হাজারে; লোকসানের শঙ্কায় রাজারহাটের কৃষক

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে কৃষকদের ব্যয় ২০ হাজার টাকা, অথচ বিঘা প্রতি ধান মিলছে ১৭ থেকে ১৮ মণ। ফলে কৃষকের মনে লোকসানের আশঙ্কা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। উৎপাদনের খরচের তুলনায় বাজার মূল্য কম থাকায় কৃষি পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকেই। সরেজমিনে জানা যায়, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি, ধান কাটা-মাড়াই ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৮–২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বিঘাপ্রতি ১৭–১৮ মণ ধান উৎপাদন হলে এবং প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার টাকা ধরা হলেও কৃষকের মোট বিক্রি দাঁড়ায় মাত্র ১৭–১৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ ১৮ হাজার টাকা হলে লাভ থাকে না; বরং প্রায় ০–১ হাজার টাকা লোকসান হতে পারে। আর খরচ ২০ হাজার টাকা হলে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২–৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে কৃষকের নিজের শ্রম ও জমির মূল্য/ভাড়া হিসাব করলে প্রকৃত লোকসান আরও বাড়তে পারে। কৃষক, আমিনুল ইসলাম বলেন , বিঘা প্রতি খরচ এভাবে করা যেতে পারে, জমি প্রস্তুত ব্যয় বাবদ ১২০০ টাকা,সেচ বাবদ ১০০ টাকা, বীজ বাবদ ৭০০ টাকা, বীজ বপণ বাবদ১৮০০ টাকা,নিড়ানি বাবদ ৭০০ টাকা,সার বাবদ,১৪০০ টাকা,কীটনাশক বাবদ ৪০০০ টাকা,ধানাকাটা বাবদ ৪৮০০ টাকা, মারাই বাবদ,৯০০,টাকা পরিবহনসহ মোট খরচ ১৯৬০০ টাকা।অথচ ধান পাই ১৮-১৯ মণ। কৃষক,আনোয়ার হোসেন বলেন, “জমিতে ধান ফলাতে সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক—সবকিছুর খরচ আছে। ধান বিক্রি করে যদি খরচের টাকাই না ওঠে, তাহলে আমরা চাষ করে লাভবান হব কীভাবে?” কৃষক, সেকেন্দার আলী বলেন,মুই বাপু কৃষক মানুষ। বাপ-দাদা এই কাজ করি গেইছে মুইও করছি,কিন্তুু মোর দুঃখ হইল খরচ হয় বেশি হাঁটত বেচপার গেলে ধানের দাম কম, এলা যদি আবাদ বাদ দেই তাইলে খামো কি? ধান ব্যবসায়ী মজনু মিয়া বলেন,ধানের বাজার এখন ৯৫০-৯৬০ টাকা, কয়েকদিন আগে ছিলো ১০৫০ টাকা।ফলে আমাদের বাজারদর অনুযায়ী কৃষকের থেকে ধান কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনে লাভ করাটা অসম্ভব,আর লাভ না হলে ব্যবসা করে লাভ কি? এবিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে এবং উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করে জমিতে লাগাতে হবে। কিভাবে খরচ কমাতে হয় সে ব্যপারে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। তিনি আরও বলেন ধানের বাজারমূল্যে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

দেড় মণ ধানে মিলছে এক বস্তা সার: রাজারহাটে বিপাকে কৃষ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে মৌসুমে কৃষকের অন্যতম প্রধান ভরসা সার। কিন্তু সেই সারের দাম ও ধানের বাজারমূল্যের ব্যবধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। লোকাল বাজারে এক মণ ধানের দাম যেখানে প্রায় ৯৬০ টাকা, সেখানে এক বস্তা সার কিনতে কৃষককে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। সরকার কর্তৃক সারের নির্ধারিত মূল্য এরকম হলেও প্রকৃতপক্ষে হিসাব মিলাতে পারছেন না কৃষকরা। সরেজমিনে জানা যায়, মৌসুমের সারের প্রয়োজন মেটাতে কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কেবল কৃষকরা সরাসরি গিয়ে সার কিনতে পারবেন।তবে দুঃখের বিষয় হলো, কৃষকরা উচ্চমূল্যে সার মিলাতে পারলেও ধান উৎপাদনের খরচের তুলনায় বাজার মূল্য কম থাকায় হতাশাগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান চাষে সার ছাড়াও বীজ, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত, রোপণ, নিড়ানি, কাটা-মাড়াই ও পরিবহনসহ নানা খাতে অধিক ব্যয় মেটাতে হচ্ছে, সেই তুলনায় ফসলের মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, এই মৌসুমে উপজেলায় সারের বরাদ্দ রয়েছে ইউরিয়া-৬০০মেট্রিকটন, টিএসপি-৭০ মেট্রিকটন এমওপি-১৯৫মেট্রিকটন, ডিএপি-৩০৭মেট্রিকটন, মোট বরাদ্দকৃত সারের পরিমাণ ১১৭২ মেট্টিকটন। যা উপজেলার কৃষকের চাহিদা মেটাতে পারবে বলে মনা করা হচ্ছে। রাজারহাট উপজেলার বিসিআইসি ডিলার, মেসার্স সুরমা ট্রেডার্স এর ম্যানেজার সাগর কুমার জানান,আগে কৃষকরা খুচরা দোকানদারের কাছ থেকে সার কিনতো, ডিলাররা খুচরা সার দোকানদারের কাছে বিক্রি করতে পারতেন।তবে এখন সেই নীতিমালা না থাকায় কৃষকরা সরাসরি আমাদের কাছ থেকে সার কিনতে পারছেন।তবে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানান তিনি। এবিষয়ে রাজারহাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, উপজেলার মোট সারের বরাদ্দ রয়েছে ১১৭২ মেট্রিকটন যা কৃষকের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এক্ষেত্রে কৃষকরা যেনো সুষ্ঠুভাবে সরকারি মূল্যে ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করতে পারেন তার জন্য মনিটরিং করা হচ্ছে। সেই সাথে কোনো ডিলার যেনো অসৎ উপায়ে সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারেন সে ব্যপারে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

আরও
X