বিঘায় খরচ ২০ হাজার, ধান বিক্রি ১৭–১৮ হাজারে; লোকসানের শঙ্কায় রাজারহাটের কৃষক
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে কৃষকদের ব্যয় ২০ হাজার টাকা, অথচ বিঘা প্রতি ধান মিলছে ১৭ থেকে ১৮ মণ। ফলে কৃষকের মনে লোকসানের আশঙ্কা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। উৎপাদনের খরচের তুলনায় বাজার মূল্য কম থাকায় কৃষি পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকেই।
সরেজমিনে জানা যায়, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি, ধান কাটা-মাড়াই ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৮–২০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, বিঘাপ্রতি ১৭–১৮ মণ ধান উৎপাদন হলে এবং প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার টাকা ধরা হলেও কৃষকের মোট বিক্রি দাঁড়ায় মাত্র ১৭–১৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ ১৮ হাজার টাকা হলে লাভ থাকে না; বরং প্রায় ০–১ হাজার টাকা লোকসান হতে পারে। আর খরচ ২০ হাজার টাকা হলে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২–৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে কৃষকের নিজের শ্রম ও জমির মূল্য/ভাড়া হিসাব করলে প্রকৃত লোকসান আরও বাড়তে পারে।
কৃষক, আমিনুল ইসলাম বলেন , বিঘা প্রতি খরচ এভাবে করা যেতে পারে, জমি প্রস্তুত ব্যয় বাবদ ১২০০ টাকা,সেচ বাবদ ১০০ টাকা, বীজ বাবদ ৭০০ টাকা, বীজ বপণ বাবদ১৮০০ টাকা,নিড়ানি বাবদ ৭০০ টাকা,সার বাবদ,১৪০০ টাকা,কীটনাশক বাবদ ৪০০০ টাকা,ধানাকাটা বাবদ ৪৮০০ টাকা, মারাই বাবদ,৯০০,টাকা পরিবহনসহ মোট খরচ ১৯৬০০ টাকা।অথচ ধান পাই ১৮-১৯ মণ।
কৃষক,আনোয়ার হোসেন বলেন, “জমিতে ধান ফলাতে সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক—সবকিছুর খরচ আছে। ধান বিক্রি করে যদি খরচের টাকাই না ওঠে, তাহলে আমরা চাষ করে লাভবান হব কীভাবে?”
কৃষক, সেকেন্দার আলী বলেন,মুই বাপু কৃষক মানুষ। বাপ-দাদা এই কাজ করি গেইছে মুইও করছি,কিন্তুু মোর দুঃখ হইল খরচ হয় বেশি হাঁটত বেচপার গেলে ধানের দাম কম, এলা যদি আবাদ বাদ দেই তাইলে খামো কি?
ধান ব্যবসায়ী মজনু মিয়া বলেন,ধানের বাজার এখন ৯৫০-৯৬০ টাকা, কয়েকদিন আগে ছিলো ১০৫০ টাকা।ফলে আমাদের বাজারদর অনুযায়ী কৃষকের থেকে ধান কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনে লাভ করাটা অসম্ভব,আর লাভ না হলে ব্যবসা করে লাভ কি?
এবিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে এবং উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করে জমিতে লাগাতে হবে। কিভাবে খরচ কমাতে হয় সে ব্যপারে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। তিনি আরও বলেন ধানের বাজারমূল্যে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।