ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সোনাহাট কলেজে ২০ টাকায় দুপুরের খাবার, উপকার পাবেন দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা
ভূরুঙ্গামারীতে মাদক ও বাল্যবিবাহ বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
ভূরুঙ্গামারীতে ইটভাটায় সার মজুত, ৪ লাখ টাকা জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে ইটভাটায় সার মজুত, ৪ লাখ টাকা জরিমানা
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি ইটভাটায় অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইটভাটা মালিককে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে এক সার ও বালাইনাশক ডিলারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামের কুড়ারপার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক। অভিযানে খোকন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও ইটভাটা মালিক শফিকুল ইসলাম খোকনের ইটভাটার দুটি কক্ষ থেকে ১৬ বস্তা ইউরিয়া ও ৭ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে তাঁকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া রফিক ট্রেডার্স নামের একটি দোকান থেকে সাড়ে ৯ বস্তা এমওপি সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও বালাইনাশক ডিলার রফিকুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ এস খোকনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও অমৃত দেব নাথ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে সংশ্লিষ্টদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধ সার মজুতদারদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভূরুঙ্গামারীতে 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান র‍্যালী ও আলোচনা সভা 
ভূরুঙ্গামারীতে এনসিপির আহ্বায়ক কিরন, সদস্য সচিব আনিস
ভূরুঙ্গামারীতে ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা
ভূরুঙ্গামারীতে সার কাণ্ডে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি, উদ্ধার ১০০ বস্তা
জিপিএ-৫ অর্জনকারীদের নিয়ে ভূরুঙ্গামারীতে সংবর্ধনা ও মোটিভেশনাল সেমিনার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১০৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি, ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনে উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা দিতে এ আয়োজন করা হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা অঙ্কুর কালচারাল সেন্টারে ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে এ সংবর্ধনা ও মোটিভেশনাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোটিভেশনাল বক্তব্য দেন ‘মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র প্রতিনিধিরা। তাঁরা সময়ের মূল্য, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ফকরুজ্জামান জেটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদুল হাসান সেলিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বুলবুল, ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটির স্বপ্নদ্রষ্টা অধ্যাপক ডা. মিফতাহুল ইসলাম মিলন, ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক, সম্মিলিত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল আক্তার এবং ভূরুঙ্গামারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদুল হাসান সেলিম বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তবে এটিই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। ভবিষ্যতে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ানুবর্তিতা ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। দেশের উন্নয়নে মেধাবী শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে ফকরুজ্জামান জেট বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াও সমাজের দায়িত্ব। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা এমন আয়োজনের জন্য ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ পাওয়া ১০৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

ভূরুঙ্গামারীতে সার কাণ্ডে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি, উদ্ধার ১০০ বস্তা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকদের নিয়ে শিলখুড়ি ইউনিয়নের এক বিসিআইসি সার ডিলারের গুদাম থেকে ১৯০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে ১০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেককে। সদস্যসচিব করা হয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বারকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাইফুর রহমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, ইতিমধ্যে ১০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। সার ডিলারকে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামীকাল সোমবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইউএনও আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, সার ডিলার, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

গোডাউন ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা!

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার না পেয়ে কৃষকরা জোট বেঁধে একটি ডিলার পয়েন্টের সারের গোডাউনের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ২০২টি বস্তা সার করে নিয়ে গেছেন। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মুকুলের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।  পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি সারের বস্তা ফেরত দিয়ে গেছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমসি করছিলেন। তার বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা সার। টাকা দিয়ে সময়মতো চাহিদা মোতাবেক সার কিনতে না পেরে কৃষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।  বিক্ষুব্ধ দুই শতাধিক কৃষক রোববার শিলখুড়ি ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য জড়ো হন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ডিলার পয়েন্ট না খুলে টালবাহানা করতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা গোডাউনের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ২০২টি বস্তার ৯ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যান। এ সময় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাকি সার রক্ষা করে।  ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ডিলার কৃষকের চাহিদা মতো সার সরবরাহ করতে গড়িমসি করছিলেন। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে ২০২ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছেন। পরে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়ে গেছেন। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের উপজেলায় আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেটি আমরা পেয়েছি এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকরা আতঙ্কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। নিয়ে যাওয়া বাকি সারের বস্তা ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। কৃষকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। আমরা কৃষকদের সচেতনতার জন্য কাজ করছি আর আশ্বস্ত করছি, সারের কোনো সংকট নেই। ধৈর্য আর সহযোগিতা কামনা করছি সবার কাছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, শিংখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু আজ বিতরণ শুরুর আগেই কিছু উশৃঙ্খল মানুষ প্যানিক ছড়িয়ে গোডাউনের দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছে। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। 

আরও
X