ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ভারতে দাঙ্গায় পড়ে জীবন বাঁচাতে ঢাকায় এসে দেশসেরা নায়করাজ রাজ্জাক

বিনোদন ডেস্ক

  ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩১
নায়ক রাজ রাজ্জাক

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক নায়করাজ রাজ্জাক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক। কালজয়ী এই অভিনেতার জন্মদিন শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি)।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

নায়করাজ রাজ্জাকের জন্ম ১৯৪২ সালে কলকাতায়। কিশোর বয়সে কলকাতার মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে দাঙ্গার উত্তাল সময়ে নতুন জীবন গড়তে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে রাজ্জাক পরিবারসহ ঢাকায় চলে আসেন প্রায় অসহায় অবস্থায়। কঠোর পরিশ্রম আর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে সংগ্রাম করে হয়েছেন আজকের নায়করাজ রাজ্জাক। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে টেলিভিলশনে ঘরোয়া নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে ছিলেন রাজ্জাক। জীবনে নানা সংগ্রামের পথ অতিক্রম করেন তিনি।

বেহুলা চলচ্চিত্রে সুচন্দার বিপরীতে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে প্রথম উপস্থিত হন এবং সবার মন জয় করে নেন। দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি নায়করাজ হিসেবে পরিচিতি পান। ‘কি যে করি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি আজীবন সম্মাননা অর্জন করেছেন। এই প্রর্যন্ত তিনি চার বার জাতীয় সম্মাননা লাভ করেন। চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি হয়েছেন, এটা যে কারও কাছেই গল্প বলে মনে হতে পারে। মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। রাজ্জাক অসীম মনোবল, পরিশ্রম আর মমতার মাধ্যমে ঠিকই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। রাজ্জাকের জন্ম কলকাতার সিনেমাপাড়া টালিগঞ্জে।

অর্থাৎ জন্মের পর থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে তার সখ্যতা। মঞ্চের সঙ্গে জড়িত থাকলেও স্বপ্ন ছিল সিনেমাকে ঘিরে। টালিগঞ্জের সিনেমা শিল্পে তখন ছবি বিশ্বাস, উত্তম কুমার, সৌমিত্র, বিশ্বজিৎদের যুগ। সেখানে হালকা-পাতলা সাধারণ রাজুর অভিনয় সুযোগ পাবার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। এরমধ্যে শুরু হলো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। একসময় কলকাতায় থাকাটাই মুশকিল হয়ে পড়ে। তখন এক সুহৃদ রাজ্জাককে পরামর্শ দিলেন ঢাকায় চলে আসতে। বললেন, ঢাকার চলচ্চিত্র নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। সেখানে গেলে হয়তো কিছু একটা হবে। ভদ্রলোক ঢাকার প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা আবদুল জব্বার খানের পরিচিত। তিনি রাজ্জাককে পাঠালেন তার কাছে একটা চিঠি দিয়ে। তিনি রাজ্জাক কে বলে দিলেন ঢাকার কমলাপুরে থকেন আবদুল জব্বার খান।

তখন রাজ্জাক প্রথম এসে কমলাপুরে বাসা নেন। এরপর চিঠি নিয়ে জব্বার খানের কাছে যান তিনি রাজ্জাককে একবাল ফিল্ম লিমিটেড এর কাজ করার সুযোগ করে দেন। উজালা ছবির মধ্যদিয়ে রাজ্জাকের শুরু হলো ঢাকার চলচ্চিত্র জীবন। পরিচালকের পাশাপাশি বেশ কিছু ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। এসব ছবির মধ্যে ডাক বাবু, ১৩নং ফেকু ওস্তাগার লেন, আখেরী স্টেশন উল্লেখযোগ্য। পর্যায়ক্রমে তিনি জহির রায়হানের সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দান করেন। আর তখন থেকেই তার ভাগ্য খুলে যায়। সহকারী হিসাবে কয়েকটি ছবি পরিচালনা করার পর হঠাৎ এক দিন তিনি নায়ক হওয়ার সুযোগ পান। লোক কাহিনি নিয়ে জহির রায়হান তখন বেহুলা ছবির নির্মাণকাজ করেছেন। জহির রায়হান তাকে বললেন, আপনিই আমার ছবির নায়ক। ওই সময় রাজ্জাকের চেহারার মধ্যে কলকাতার বিশ্বজিতের ছায়া খুঁজে পাওয়া যেত। জহির রায়হানের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় অসাধারণ লক্ষ্মীন্দর হয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হলেন রাজ্জাক। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন অপূর্ব সুন্দরী বেহুলারূপী সুচন্দা। বেহুলা ছবিটি ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায়।

দর্শকের কাছে ছবিটি সুপারহিট হয়। এই ছবির মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পায় আরেকজন নায়ক যিনি চলচ্চিত্র শিল্পের অপরিহার্য নায়ক। ঢাকার সিনাম হলগুলোতে তখন পাক-ভারতীয় ছবির দাপট। পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী, জেবা, সুধির, শামীম আরা, ওয়াহিদ মুরাদ এবং কলকাতার ছবি বিশ্বাস, উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, বিশ্বজিৎ, সৌমিত্র এবং ভরতের রাজ কাপুর, নার্গিম, দিলীপ কুমার এদের ছবির সঙ্গে পালা দিয়ে চলতে শুরু করল ঢাকার নির্মাতাদের নির্মিত ছবি। আব্দুল জব্বার খান, রহমান, শবনম, খলিল, ফতেহ লোহানী, খান আতা, সুমিতা দেবী, আনোয়ার হোসেন, সুচন্দা তাদের সঙ্গে আরও একটি নাম যোগ হলো, রাজ্জাক। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এখানে নির্মিত বেশির ভাগ ছবির নায়ক রাজ্জাক। দুই ভাই, আবির্ভাব, বাঁশরী, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নীচে, যে আগুনে পুড়ি, পায়েল, দর্পচূর্ণ, যোগ বিয়োগ, ছদ্মবেশী, জীবন থেকে নেওয়া, মধুর মিলন ইত্যাদি ছবির সাফল্যে রাজ্জাক হয়ে ওঠেন চলচ্চিত্রের অপরিহার্য নায়ক।

দেশ যখন পাকিস্তান থেকে ভাগ হয়ে যায়, তখন বাংলাদেশে পাক ভারতীয় ছবির প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যাদের ওপর দয়িত্ব পরে রাজ্জাক তাদের মধ্যে একজন। এরপর সড়ক দুর্ঘটনায় রহমান পা হারালে চলচ্চিত্রে রোমান্টিক নায়কের শূন্যতা দেখা দেয়। তখন রাজ্জাক একাই তা সামাল দেন। খুব দক্ষতা এবং নৈপুন্যতার সাথে রাজ্জাক একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম মুক্তি পায় রাজ্জাক অভিনীত মানুষের মন ছবি। ছবিটি ব্যবসা সফল হওয়ার কারণে নতুনভাবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র জেগে ওঠে। ছবিটি পরিচালনা করেন মোস্তফা মাহমুদ। এই ছবির মধ্য দিয়ে শুরু হলো চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ্জাকের যুগ। তারপর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম ছবি চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ওরা ১১ জন, এস এম শফির ছন্দ হারিয়ে গেল, বাবুল চৌধুরীর প্রতিশোধ এবং কাজী জহিরের ‘অবুঝ মন’ ছবিতে অভিনয় করে রাজ্জাক হয়ে যান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আইকন।

১৯৭৩ সালে জহিরুল হকের রংবাজ ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করে রাজ্জাক বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন ধারা প্রবর্তন করেন। তিনি সূচনা করেন চলচ্চিত্রের আধুনিক অ্যাকশন যুগেরও। রংবাজ দিয়েই রাজ্জাক তার অভিনয় জীবনে বৈচিত্র নিয়ে আসেন। রংবাজ ছবির সাফল্যের পর দর্শকদের একঘেয়েমি থেকে মুক্ত রাখতে সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন তিনি।

শুধু অ্যাকশান, রোমান্টিক নয়, ত্রিরত্নের মতো কমেডি ছবিতেও অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। আজিজুর রহমানের অতিথি ছবিতে সেক্রিফাইসিং চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৪ সালে নতুন পরিচালক মাসুদ পারভেজ পরিচালিত সিনেমাতে অতিথি শিল্পী হিসেবে একটি গানের দৃশ্যে অভিনয় করেন। এতে নায়ক হিসাবে অভিনয় করেন সোহেল রানা, তার জীবনেও এটি প্রথম ছবি।

অভিনেতা হিসেবে নিজেকে অন্য সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্জাককে তেমন কোনো কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়নি। রাজ্জাক বরাবরই মানুষকে যথাযোগ্য সম্মান আর ভালোবাসা দিয়েছেন। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নামীদামি প্রযোজক-পরিচালকদের সম্মানে পার্টির আয়োজন করেছেন বছরের পর বছর। রাজ্জাকের স্ত্রী লক্ষ্মী রাত জেগে স্বামীর বন্ধুদের পছন্দ মতো রান্নাবান্না করে খাইয়েছেন। নির্মাতারাই তাকে নিয়েছে-বাদি থেকে বেগম, সমাধি, কি যে করি, সেতু, আগুন-এর মতো জনপ্রিয় ছবির সেরা চরিত্রে। একসময় পরিচালকরা মনে করতেন, পর্দায় নায়ক মারা গেলে ছবি চলবে না। ঠিক এমন সময়ই বেঈমান, সমাধি আর সেতু ছবির শেষ দৃশ্যে রাজ্জাক মারা যান, এতে দর্শকদের খুব কষ্ট দিয়েছেন ঠিকই তবে ছবির সাফল্যও আদায় করে নিয়েছেন।

১৯৭৭ সালে রাজ্জাক যখন পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, তখন তিনি বেছে নেন প্রেমের গল্পকে। ছবি করেন অনন্ত প্রেম, এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন ববিতা। গল্প, গান, চিত্রায়ন, অভিনয় সবকিছু মিলিয়ে ছবিতে তারা দর্শকদের যা উপহার দিয়েছে দর্শক কি তা কখনো ভূলতে পারবেন? প্রেমের ছবির মূলমন্ত্র হচ্ছে মান অভিমান, প্রেম ভালোবাসা এবং সর্বশেষে মিলন। এসব ছবি দেখে দর্শক হাসতে হাসতে বাড়ি ফেরেন।

অভিনেতা রাজ্জাকের বৈচিত্রময় সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের কথা স্মরণীয় হয়ে আছে। ১৯৭৮ সালে রাজ্জাক যখন খুবই জনপ্রিয় এক অভিনেতা তখনও তিনি আজিজুর রহমানের অশিক্ষিত ছবিতে গ্রামের পাহারাদার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, লুঙ্গি আর শার্ট পরে, যা আজো ভুলবার নয়। ছবিটির শেষ প্রর্যায়ে মাস্টার সুমনের মৃত্যু পর পুলিশের খাতায় রাজ্জাকের স্বাক্ষর করার দৃশ্য আজো মনে পরলে চোখে পানি এসে যায়। এর দুই বছর পর একই পরিচালক আজিজুর রহমানের ছুটির ঘণ্টা ছবিতে স্কুলের দপ্তরির চরিত্রে রাজ্জাকের অসাধারণ অভিনয় কি মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব? বড় কথা ওই সময় যে অবস্থানে থেকে রাজ্জাক পাহারাদার কিংবা স্কুলের দপ্তরির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সেটা আজকের কোনো জনপ্রিয় নায়কের কাছ থেকে আশা করা যায় ?

রাজ্জাক তার দুই পুত্র বাপ্পারাজ এবং সম্রাটকে নিয়ে এক সঙ্গে অভিনয় করেছেন কোটি টাকার ফকির ছবিতে। দুই ছেলেকে নিয়ে অভিনয় করাটাকেই রাজ্জাক তার জীবনের সেরা প্রাপ্তি হিসেবে মনে করেন।

তিনি বলেছিলেন, আমার কোনো অপ্রাপ্তি নেই। সবকিছুই আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। তবে একটা কষ্ট আছে, সেটা হলো আমার বড়মেয়ে শম্পার অকাল মৃত্যু। ও বেঁচে থাকলে আমরা সম্পূর্ণ এবং পরিপূর্ণ পরিবার নিয়ে গর্ববোধ করতে পারতাম।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে রাজ্জাক অনেকদিন ছিলেন এক নম্বর হিরো। তিন শ’ সিনেমা তিনি করেছেন। প্রযোজনা করেছেন কিছু ব্যবসা সফল সিনেমা।

রাজ্জাক সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাবানার বিপরীতে। ১৯৭০ সালে ‘মধুমিলন’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় জুটি বাঁধেন তারা। তারপর ‘অবুঝ মন’, ‘সাধু শয়তান’, ‘মাটির ঘর’, ‘দুই পয়সার আলতা’সহ অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তারা।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন রাজ্জাক। এরমধ্যে আছে স্বাধীনতা পদক (২০১৫), পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা অভিনেতা)।

২০১৭ সালের ২১ অগাস্ট নায়করাজ চলে যান না ফেরার দেশে। বনানী করস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

মন্তব্য করুন

বাবা হারালেন নায়িকা মৌমিতা
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকা মৌমিতা মৌর বাবা মো. মোশাররফ হোসেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নিজ বাসায় তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌমিতা মৌ এশিয়া পোস্টকে বলেন, তার বাবা ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে তিনি কিছুদিন ধরে অভিনয়ের কাজ থেকেও বিরতি নিয়েছিলেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। পরিবার সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জের পারিবারিক কবরস্থানে মরহুম মো. মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন হবে।
বাবা হারালেন নায়িকা মৌমিতা
অজু নিয়ে চিন্তায় বর্ষা
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে  (১২ ফ্রেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আনন্দের সঙ্গে অনেকেই এবার ভোট দিয়েছেন। সেই কাতারে আছেন চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষাও। তবে ভোট দেওয়ার ৬ দিন হয়ে গেলেও আঙুলে থাকা অমোচনীয় কালি তাকে ফেলেছে ভিন্ন এক ভাবনায়! ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী তার অজু ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে থাকা ভোটের কালির একটি ছবি শেয়ার করেন বর্ষা। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ভোটের কালি, ভাবছি অজু হচ্ছে নাকি? আজ ৬ দিন। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ভক্ত ও অনুসারীরা মন্তব্যে নানা মতামত ও পরামর্শ দিতে শুরু করেন। কেউ তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এই কালি অজুতে বাধা সৃষ্টি করে না, আবার কেউ ধর্মীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন।  
অজু নিয়ে চিন্তায় বর্ষা
মান্নাকে নিয়ে পরীমণির আফসোস 
জগতে কিছু মানুষ থাকেন যাদের মৃত্যু হয় না। বেঁচে থাকেন তাদের কর্ম দিয়ে। চিরকাল অমর হয়েই থাকেন মানুষের মনের মণিকোঠায়। তেমনই একজন অভিনেতা ছিলেন নায়ক মান্না। তিনি ছিলেন খেটেখাওয়া মানুষের নায়ক। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কথা বলতেন সাধারণ জনগণের। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সিনেমা জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার। ক্যারিয়ারের শুরুতে একক নায়ক হওয়ার সৌভাগ্য তার হয়নি। এ জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। কাশেম মালার প্রেম সিনেমাটি হিট হওয়ার পর মান্নার জীবনের গল্প বদলে যায়। তারপর মান্না হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার যুবরাজ। বর্তমান প্রজন্মের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী গণমানুষের নায়ক মান্নার সঙ্গে কাজ করতে না পেরে বেশ আফসোস করেন। সেই  কাতারে আছেন ঢাকাই সিনেমার গ্ল্যামার গার্ল নায়িকা পরীমণি।  সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এশিয়া পোস্টকে পরীমণি বলনে, ইশ আমার খুব আফসোস হয়। ইন্ডাস্ট্রিতে আসলাম কিন্তু তার সঙ্গে কাজ করতে পারলাম না। এই আফসোস সারা জীবন থেকে যাবে।  জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মারা যান ঢালিউডের এই মহাতারকা। মান্নার পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মামলা এখনো চলমান। মান্না অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দাঙ্গা, লুটতরাজ, তেজি, আম্মাজান, আব্বাজান, বীর সৈনিক, শান্ত কেন মাস্তান, বসিরা, খলনায়ক, রংবাজ বাদশা, সুলতান, ভাইয়া, টপ সম্রাট, চাঁদাবাজ, ঢাকাইয়া মাস্তান, মাস্তানের ওপর মাস্তান, বিগবস, মান্না ভাই, টপ টেরর, জনতার বাদশা, রাজপথের রাজা, এতিম রাজা, টোকাই রংবাজ, ভিলেন, নায়ক, সন্ত্রাসী মুন্না, জুম্মান কসাই, আমি জেল থেকে বলছি, কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি। মান্না তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
মান্নাকে নিয়ে পরীমণির আফসোস 
বাংলা চলচ্চিত্রের আটটি খুঁটির মাঝে মান্না ভাই একজন: ওমর সানী 
বাংলা চলচ্চিত্রের অনবদ্য এক নাম মান্না। সালমান শাহর মৃত্যুর পর ঢাকাই সিনেমার হাল একাই ধরেছিলেন এই তারকা। সামাজিক, রোমান্টিক, অ্যাকশন—সব ঘরানার সিনেমা দিয়ে দর্শকের মন জয় করে নেওয়া প্রয়াত এ অভিনেতা এখনও ভক্তদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। এশিয়া পোস্টের পক্ষ থেকে এই নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা। এই মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সহকর্মী ওমর সানীর সঙ্গে কথা হয় এশিয়া পোস্টের। জানালেন মান্নাকে নিয়ে নানা অজানা কথা।  শুরুতেই নায়ক মান্নাকে চলচ্চিত্রের অন্যতম খুঁটি উল্লেখ করে ওমর সানী বলেন, একটি শক্ত ঘর বানাতে আটটি খুঁটি লাগে। আমার মতে বাংলা চলচ্চিত্রের আটটি খুঁটির মাঝে তিনি একজন। তিনি আপাদমস্তক একজন চলচ্চিত্রের মানুষ ছিলেন। নিজের থেকে তিনি চলচ্চিত্রকে বেশি ভালোবাসতেন। মাঝে মধ্যে তিনি অসুস্থ হলে আমি প্রায়ই ভাইকে বলতাম, চলেন ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে আসি। তখন তিনি বলতেন, আরে মিয়া দূর কিছুই হবে না, বাদ দাও। এরপরও মান্না ভাইকে একবার আমি গুলশানের একটি হাসপাতালের চেকআপের জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম।   নায়ক মান্না ভীষণভাবে পলিটিশিয়ান ছিলেন উল্লেখ করে ওমর সানী বলেন, মান্না ভাই আমার বন্ধু-বড় ভাই ছিলেন। সবসময় চলচ্চিত্রের মঙ্গলের জন্য কাজ করতেন। ভাই শতভাগ নায়কদের মতো ফিটেস্ট ছিলেন না। সে সময় আমরা তার থেকে অনেক অ্যাডভান্স ছিলাম কিন্তু তার পরও তিনি আমাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের থেকে অনেক অনেক ওপরে ছিলেন তিনি। আল্লাহ মান্না ভাইকে ভালো রাখুক।  জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ঢালিউডের এই মহাতারকা। মান্নার পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মামলা এখনও চলমান। মান্না অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দাঙ্গা, লুটতরাজ, তেজী, আম্মাজান, আব্বাজান, বীর সৈনিক, শান্ত কেনো মাস্তান, বসিরা, খল নায়ক, রংবাজ বাদশা, সুলতান, ভাইয়া, টপ সম্রাট, চাঁদাবাজ, ঢাকাইয়া মাস্তান, মাস্তানের ওপর মাস্তান, বিগবস, মান্না ভাই, টপ টেরর, জনতার বাদশা, রাজপথের রাজা, এতিম রাজা, টোকাই রংবাজ, ভিলেন, নায়ক, সন্ত্রাসী মুন্না, জুম্মান কসাই, আমি জেল থেকে বলছি, কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি। মান্না তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের আটটি খুঁটির মাঝে মান্না ভাই একজন: ওমর সানী 
চলচ্চিত্রের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে মান্না একা দাঁড়িয়ে গেছে: মিশা সওদাগর 
জগতে কিছু মানুষ থাকেন যাদের মৃত্যু হয় না। বেঁচে থাকেন তাদের কর্ম দিয়ে। চিরকাল অমর হয়েই থাকেন মানুষের মনের মণিকোঠায়। তেমনই একজন অভিনেতা ছিলেন নায়ক মান্না। তিনি ছিলেন খেটেখাওয়া মানুষের নায়ক। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কথা বলতেন সাধারণ জনগণের। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। এশিয়া পোস্টের পক্ষ থেকে এই নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা। নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সিনেমা জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার। ক্যারিয়ারের শুরুতে একক নায়ক হওয়ার সৌভাগ্য তার হয়নি। এ জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। কাশেম মালার প্রেম সিনেমাটি হিট হওয়ার পর মান্নার জীবনের গল্প বদলে যায়। তারপর মান্না হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার যুবরাজ।  এদিকে নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতার দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন খল অভিনেতা মিশা সওদাগর। নায়ক মান্নার সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন অনেক ছবিতে। এই নায়কের প্রয়াণ দিবসে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা হয় মিশা সওদাগরের।  মিশা বলেন, আমার দৃষ্টিতে মান্না মহানায়ক। আর মহানায়ক বলার কারণ এই যে আমাদের চলচ্চিত্রের অনেকের পক্ষে অনেক কিছু করাই সম্ভব হয়নি, যা মান্নার পক্ষে করা সম্ভব হয়েছে। মুখের সন্ধান থেকে মান্না আসার পর তিন দুই নাম্বার হিরো, দুই নাম্বার হিরো থেকে নিজেকে চলচ্চিত্রের অপরিহার্য নায়কে পরিণত করেছিল। ও যখন প্রথম প্রযোজনা সংস্থা থেকে ছবি নির্মাণ শুরু করেন প্রথম সিনেমাতেই পরিচালক কাজী হায়াতকে নেন। তাছাড়া একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিল সেটি হলো মৌসুমী আর শাবনূরকে কেউ এক সিনেমায় নিতে পারেনি কখনো। কিন্তু সেটিই করে দেখিয়ে ছিল নায়ক মান্না। ‘দুই বধূ এক স্বামী’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন মৌসুমী-শাবনূর।  নায়ক মান্নাকে বাংলা চলচ্চিত্রের গবেষক উল্লেখ করে এই খল অভিনেতা বলেন, মৌসুমী-শাবনূরকে এক করার ফলে দুই নায়কার দর্শকই সিনেমাটি দেখেছে। যার ফলে ছবিটি সুপার হিট হয়েছে। তাছাড়া বড় বড় নির্মাতা নিয়ে মান্না সব সময় কাজ করতেন। চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক বেশি চর্চা করতেন তিনি। চলচ্চিত্র নিয়ে মান্না যেই কথাগুলো বলতো অনেক চিন্তাভাবনা করে বলত। একটা সময় চলচ্চিত্রে পাইরেসি ও অশ্লীলতা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আর সেই সময় মান্না এককভাবে জীবন দিয়ে লড়ে গেছেন উল্লেখ করে মিশা বলেন, ছবি পাইরেসি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করেছে। কোথাও পাইরেসি হচ্ছে এমন খবর শুনে দেয়াল টপকিয়ে জীবন বাজি রেখে সেখানে গিয়ে তা প্রতিহত করেছে। পরে পাইরেসির সঙ্গে জড়িতদের ধরে এনেছে, পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছে। এ ছাড়া তিনি অশ্লীল ছবি বন্ধে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে গেছেন। বলতে গেলে এখন তার সেই যুদ্ধের ফল ভোগ করছে। এটা শতভাগ সত্য যে তিনি পাইরেসি ও অশ্লীলতা বন্ধে একেবারে শীর্ষে থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। চলচ্চিত্রের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে মান্না একা দাঁড়িয়ে গেছে।  আক্ষেপ নিয়েই এই দর্শকপ্রিয় অভিনেতা বলেন, আজ মান্না নেই, তাই ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই বলে ইন্ডাস্ট্রি কোমায় আছে, কিন্তু আমি বলব চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি একদম শেষ হয়ে গেছে। আজ মান্না থাকলে বাংলা চলচ্চিত্রের এমন হাল হতো না।  জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মারা যান ঢালিউডের এই মহাতারকা। মান্নার পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মামলা এখনও চলমান। মান্না অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দাঙ্গা, লুটতরাজ, তেজি, আম্মাজান, আব্বাজান, বীর সৈনিক, শান্ত কেন মাস্তান, বসিরা, খল নায়ক, রংবাজ বাদশা, সুলতান, ভাইয়া, টপ সম্রাট, চাঁদাবাজ, ঢাকাইয়া মাস্তান, মাস্তানের ওপর মাস্তান, বিগবস, মান্না ভাই, টপ টেরর, জনতার বাদশা, রাজপথের রাজা, এতিম রাজা, টোকাই রংবাজ, ভিলেন, নায়ক, সন্ত্রাসী মুন্না, জুম্মান কসাই, আমি জেল থেকে বলছি, কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি। মান্না তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
চলচ্চিত্রের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে মান্না একা দাঁড়িয়ে গেছে: মিশা সওদাগর 
টিউমারে আক্রান্ত নায়িকা শাহনূর
ছোট পর্দায় প্রায় সব ধরনের চরিত্রে নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকহৃদয় জয় করেন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। হঠাৎ করে তার ব্রেন টিউমারে আক্রান্তের খবরে শঙ্কার ছায়া নেমে আসে বিনোদন ভুবনে। এই দুঃসংবাদের রেশ কাটতে না এবার সামনে আসলও আরও এক খারাপ সংবাদ। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাহনূরের প্যানক্রিয়াসে টিউমার ধরা পড়েছে।  কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলেন শাহনূর। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষার পর তার প্যানক্রিয়াসে টিউমার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন।  শাহনূর জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই ম্যানহাটন হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে। চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিললেই দু-এক দিনের মধ্যে অপারেশন করা হতে পারে। বিলম্ব হলে শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন অভিনেত্রী। এদিকে অসুস্থতার খবর জানিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্টও দেন শাহনূর। সেখানে তিনি লেখেন, জীবনে যদি কখনো তার কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে যেন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৬ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। কারও প্রতি বিদ্বেষ বা হিংসা নয়, বরং সবসময় ইতিবাচক চিন্তা ও কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি নিজের বিশেষ ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রমের বাবা-মায়েদের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও জানান। নিজের জন্য বিলাসবহুল জীবন গড়ার চেয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে লেখেন তিনি। তার বিশ্বাস, মানুষের দোয়া-ই শেষ পর্যন্ত সঙ্গে থাকবে। ২০০০ সালে ‘জিদ্দি সন্তান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় শাহনূরের। এরপর অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক ও বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি।
টিউমারে আক্রান্ত নায়িকা শাহনূর
নিজেকে শাবনূর-পূর্ণিমার মতো মনে হয়: মনিরা মিঠু
ছোট ও বড় পর্দার দর্শকপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। সাবলীল অভিনয় আর সংযত উপস্থিতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের ভালোবাসা ধরে রেখেছেন এই। পর্দায় তিনি কখনও কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, কখনও মমতাময়ী নারীর অনুভব সব চরিত্রেই নিজেকে তুলে ধরেছেন বিশ্বাসযোগ্যভাবে। নাটক থেকে শুরু করে ওয়েবফিল্ম ও বড় পর্দায় সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন মনিরা মিঠু। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী বলেন মাঝে মাঝে নিজেকে শাবনূর-পূর্ণিমার মতো মনে হয়। মনিরা মিঠু বলেন, আগের থেকে এখন অনেক বেশি মানুষ বাংলা নাটক দেখে। শুধু বাংলাদেশেই নয় ওপার বাংলাতেও বেশ জনপ্রিয় আমাদের দেশের নাটক। শুটিংয়ে যখন আমরা ঢাকার বাইরে যাই তখন নিজেকে মন হয় আমি শাবনূর অথবা পূর্ণিমার মতো কেউ। সবাই এমন ভাবে ঘিরে ধরে। গ্রাম অঞ্চলেও প্রতিটি নাটকের নাম ধরে আমার চরিত্রের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করে।  দেশের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ব্যাচেলর পয়েন্ট। নাটকটিতে অনেক বেশি গালিগালাজ আছে বলে অনেকেই অভিযোগ করে আসছে। শুরু থেকেই নাটকটিতে যুক্ত আছেন মনিরা মিঠু। জনপ্রিয় এই ধারাবাহিকটিতে মাত্রাতিরিক্ত গালিগালাজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনিরা মিঠু বলেন, ব্যাচেলর পয়েন্টের নানা প্রেক্ষাপটের কারণেই সেখানে বিভিন্ন গালিগালাজ ব্যবহার করা হয়।  সাম্প্রতিক সময়ে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ও ‘সম্পর্কের গল্প’ নাটকে তার অভিনয় দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধ ও সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরাই তার কাজের মূল দর্শন। দর্শকের ভালোবাসাকেই নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন মনিরা মিঠু।   
নিজেকে শাবনূর-পূর্ণিমার মতো মনে হয়: মনিরা মিঠু
শাকিবের সঙ্গে বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে বুবলীর কড়া জবাব
সংবাদপাঠিকা থেকে চলচ্চিত্রে নাম লেখান নায়িকা শবনম বুবলী। ‘বসগিরি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় পা রেখে এখন পর্যন্ত ২১টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ফটোশুট, শোরুম উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে তার। এসবের মাঝেই ফের শাকিব খান আর বুবলীকে নিয়ে আবার নতুন গুঞ্জন চাউর হয়েছে। বুবলী নাকি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন।  এদিকে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুবলী। সেখানে সঞ্চালক তার কাছে জানতে চান, তিনি কবে আবার বিয়ে করছেন। জবাবে বুবলী বলেন, শুরুতেই বলে নিচ্ছি, আমার তো ডিভোর্স হয়নি। তাই বিয়ের প্রশ্নই ওঠে না। শাকিব খানের জন্য নতুন পাত্রী খোঁজার খবরের প্রসঙ্গ টেনে বুবলী বলেন, এটি যার যার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে নিজের বৈবাহিক অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ম্যারিটাল স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে মানুষ হয় বিবাহিত, নয়তো ডিভোর্সড, সেপারেটেড কিংবা বিধবা হয়। এখানে ‘অতীত’ বলে কোনো অপশন থাকে না। শাকিবের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এই নায়িকা জানান, তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা অভিমান হতে পারে, আবার তা ঠিকও হয়ে যায়। আমাদের কখনো ডিভোর্স হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অনেকে হয়তো দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন, তাই পরিষ্কার করলাম। এই বিশেষ পডকাস্টে বুবলী শুধু শাকিব খানের সঙ্গে তার সংসারের বর্তমান অবস্থাই নয়, নিজের প্রথম প্রেম এবং মিডিয়াপাড়ার নানা গুঞ্জন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। এরআগে, ২০২০ সালে প্রথমবার মা হন বুবলী। যদিও ছেলের জন্মের খবর প্রকাশ্যে এনেছেন প্রায় দুই বছর পরে। সেই সময়ে এ খবরে প্রায় ঝড় ওঠে।  শাকিব খানের সঙ্গে বুবলীর ‘বীর’ ছিল সবশেষ সিনেমা। ছবিটি মুক্তি পায় ২০২০ সালে। এরপর হুট করেই  আমেরিকায় চলে যান বুবলী। সে সময়ই তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন চরমে ওঠে। এমনকি ‘বীর’ ছবি চলাকালীন বেশ গোপনীতাও রক্ষা করে শুটিং করা হয়। তখন কোন গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেননি এই নায়িকা। 
শাকিবের সঙ্গে বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে বুবলীর কড়া জবাব
এখনও কাউকে সেভাবে পছন্দ হয়নি: মৌ খান 
ঢালিউডের লাস্যময়ী নায়িকা মৌ খান চলচ্চিত্রপাড়ায় বেশ জনপ্রিয় মুখ। অভিনয় নৈপুণ্য দিয়ে দর্শকের মনে অনেক আগেই জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নাটক, বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় নিয়মিত কাজ করে চলেছেন এই অভিনেত্রী। ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে অনেকেই নিজের মতো করে নানা পরিকল্পনা করছেন। সেই কাতারে আছেন নায়িকা মৌ খানও। ভালোবাসা দিবসকে নিয়ে মজার স্মৃতিচারণ করে এশিয়া পোস্টকে মৌ খান বলেন, তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই আমার। কারণ, এখনও কাউকে সেভাবে পছন্দ হয়নি। আমার এখনও মনে হয়নি তেমন কাউকে নিয়ে, যাকে নিয়ে আমি একসঙ্গে চলতে পারব। প্রথম ভালোবাসার প্রস্তাবের স্মৃতিচারণ করে এই নায়িকা বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথম প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কোনো এক ভালোবাসা দিবসে আমার বাসার বারান্দায় কেউ একজন চিঠি রেখে যায়। আমি তখন সেটা নিয়ে কান্না করতে করতে আম্মুর কাছে দিয়ে দিয়েছিলাম। কেমন জীবনসঙ্গী চান—এমন প্রশ্নের জবাবে মৌ খান বলেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে আমি খুব লয়াল একজন চাই। যার সঙ্গে সারাজীবন সুখ-দুঃখে কাটিয়ে দেব। ২০১৯ সালে ‘প্রতিশোধের আগুন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন মৌ। এরপর বেশকিছু সিনেমায় তাকে দেখা যায়। বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে মৌ অভিনীত সিনেমা ‘বাংলার হারকিউলিস’। প্রযোজনা করেছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবং পরিচালনা করেছেন মনতাজুর রহমান আকবর। এ ছাড়া নির্মাণাধীন রয়েছে জাফর আল মামুন পরিচালিত ‘চাইল্ড অব দ্য স্টেশন’ সিনেমাটি।
এখনও কাউকে সেভাবে পছন্দ হয়নি: মৌ খান 
আরও পড়ুন
স্ত্রীর কষ্ট হচ্ছে, তাই সৃষ্টিকর্তাকে বলতেন তাকে দ্রুত নিয়ে যেতে
নায়ক জাভেদের মৃত্যু নিয়ে যা জানালেন তার স্ত্রী