বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের জনপ্রিয় নায়ক ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। অবশেষে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান তিনি। তার বয়স ছিল ৮২ বছর।
মৃত্যুর পর অভিনেতা জাভেদের মরদেহ শেষবারের মতো তার প্রিয় কর্মক্ষেত্র এফডিসিতে নিয়ে যাওয়া হয় বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে। তাকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে এফডিসিতে গিয়েছিলেন মিশা সওদাগর, ওমর সানী থেকে শুরু করে আরও অনেক শিল্পী।
মরদেহবাহী গাড়ি পৌঁছানোর আগেই সেখানে পৌঁছে যান নায়ক ওমর সানী। এ সময় স্মৃতিচারণ করে এই নায়ক বলেন, তিনি আমার একটি সিনেমায় কোরিওগ্রাফি করে দিয়েছিলেন। তাকে একদিন ‘ভাই’ সম্বোধন করলে আমাকে বললেন- ‘না, তোমাকে আমি রিকোয়েস্ট করব, তুমি আমাকে বাবা বলবা।’ এরপর থেকে তার সঙ্গে দেখা হলে বাবা সম্বোধন করতাম।
শেষদিকে এই বাবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখা হয়নি বলে আক্ষেপ করে ওমর বলেন, গত ৫-৬ বছর খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। তবে খোঁজ-খবর নিতাম।
এ সময় আক্ষেপ করে এই নায়ক বলেন, জাভেদ সাহেব আমাদের আইকন ছিলেন। আমার মনে হয়, জীবদ্দশায় তাকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট দেওয়া উচিত ছিল। এজন্য আমার আক্ষেপ হয়।
ওমর সানী আরও বলেন, ডলি আন্টি জৌলুস নিয়ে চলচ্চিত্রে এসেছিলেন। জাভেদ সাহেবকে বিয়ে করে ৪২ বছর ধরে সংসার করছেন। এর মধ্যে শেষ ১৮ বছর জাভেদ সাহেব অসুস্থ। এই সময়টা আন্টি একটা শিশুর মতো করে জাভেদ সাহেবের সেবা করেছেন। আন্টি বলছিলেন, আমার যেন কষ্ট না হয়, এজন্য জাভেদ সাহেব সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতেন, যেন দ্রুত তাকে নিয়ে যায়।
১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক ইলিয়াস জাভেদের। এরপর প্রায় ২০০ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। নব্বই দশক পর্যন্ত তিনি সিনেমায় সুবর্ণ সময় কাটিয়েছেন।
এছাড়া তিনি ছিলেন একজন নৃত্য পরিচালকও ছিলেন।
জাভেদের আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তিতে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তিনি তার অনেক কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ইবনে মিজান নির্মাণ করছিলেন ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’। এই ছবির সেটেই প্রথম কাছাকাছি আসেন নায়ক জাভেদ এবং নায়িকা ডলি চৌধুরী। রুপালি পর্দায় তাদের রসায়ন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শকরা। সিনেমার অ্যাকশন, নাচ আর রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে একে অপরের মনে জায়গা করে নেন। সেই ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে ১৯৮৪ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
জাভেদ অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল, রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী, আবদুল্লাহ উল্লেখযোগ্য।
মন্তব্য করুন








