বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের জনপ্রিয় নায়ক ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। অবশেষে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান তিনি। তার বয়স ছিল ৮২ বছর।
জাভেদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার নায়িকা স্ত্রী ডলি চৌধুরী। তিনি বলেন, সকালে নার্স এসে জানায় যে তার খারাপ লাগছে। সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে। এরপর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পরই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, এমনিতে তো তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিলো অনেক দিন ধরে। তবে তিনি মৃত্যুর আগে বাসাতেই ছিলেন।
১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক ইলিয়াস জাভেদের। এরপর প্রায় ২০০ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। নব্বই দশক পর্যন্ত তিনি সিনেমায় সুবর্ণ সময় কাটিয়েছেন।
এছাড়া তিনি ছিলেন একজন নৃত্য পরিচালকও।
তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তিতে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তিনি তার অনেক কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ইবনে মিজান নির্মাণ করছিলেন ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’। এই ছবির সেটেই প্রথম কাছাকাছি আসেন নায়ক জাভেদ এবং নায়িকা ডলি চৌধুরী। রুপালি পর্দায় তাদের রসায়ন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শকরা। সিনেমার অ্যাকশন, নাচ আর রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে একে অপরের মনে জায়গা করে নেন। সেই ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে ১৯৮৪ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর ডলি চৌধুরী অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে জাভেদের ছায়াসঙ্গী হয়ে পাশে থেকেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন অভিনেতা। এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে ছিলেন।
জাভেদ অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল, রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী, আবদুল্লাহ উল্লেখযোগ্য।
মন্তব্য করুন








