রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ইবাদতের মাস। এই সময় রোজা রাখা, নামাজ, দান ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানসিক শান্তি পাওয়াই মূল লক্ষ্য। তবে রোজার পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা ও সংসারের দায়িত্বও চলতেই থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে ক্লান্তি আসে, কাজের গতি কমে যায়। তাই রমজান মাসে সুস্থ ও সক্রিয় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রমজানে সুস্থ থাকার মানে এই নয় যে, কঠোর ব্যায়াম করতে হবে বা নিজেকে অতিরিক্ত চাপ দিতে হবে। বরং খাবার, বিশ্রাম ও হালকা শরীরচর্চার মধ্যে ভারসাম্য রাখলেই শরীর ভালো থাকে এবং ইবাদতেও মনোযোগ বাড়ে। সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই রমজান মাসটি স্বাচ্ছন্দ্যে কাটানো সম্ভব। প্রু বিএসএন
রমজানে শরীরের শক্তি কিছুটা কমে যায়। তাই এই সময় ভারী বা নতুন ব্যায়াম শুরু না করাই ভালো।
- শুরুর কয়েক দিন হালকা ব্যায়াম করুন, যাতে শরীর রোজার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
- যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা আগের রুটিন একটু কমিয়ে চালিয়ে যেতে পারেন।
- যারা ব্যায়ামে অভ্যস্ত নন, তারা হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং দিয়ে শুরু করতে পারেন।
- পেশি ঠিক রাখতে স্কোয়াট, লাঞ্জ, পুশ আপ বা হালকা ওজনের ব্যায়াম উপকারী।
- দ্রুত হাঁটা বা হালকা কার্ডিও ব্যায়ামও ভালো বিকল্প।
- প্রতিদিন না করে এক দিন পরপর ব্যায়াম করলেও শরীর উপকার পায়।
রমজানে ব্যায়ামের সময় ঠিক করা খুব জরুরি।
- দিনের বেলায় খুব হালকা ব্যায়াম করুন।
- যারা ভোরে উঠতে পারেন, তারা সাহরির আগে ব্যায়াম করতে পারেন। এরপর খাবার ও পানি পাওয়া যায় বলে শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়।
- ইফতারের পর হালকা খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ পর ব্যায়াম করা যায়।
- যারা খালি পেটে ব্যায়ামে অভ্যস্ত, তারা ইফতারের ঠিক আগেও হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।
- তারাবির পর ব্যায়াম করা সম্ভব, তবে ঘুমের সময় যেন কমে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
রমজানে সবার শরীর এক রকম প্রতিক্রিয়া দেখায় না। তাই,
- অতিরিক্ত দুর্বল বা ক্লান্ত লাগলে ব্যায়াম বন্ধ রাখুন।
- ব্যায়ামের মাঝে প্রয়োজনে বিশ্রাম নিন।
- নিয়মিত ব্যায়াম না করা ব্যক্তিদের জন্য রমজান নতুন করে কঠিন ব্যায়াম শুরু করার উপযুক্ত সময় নয়।
- পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখতে খুব জরুরি।
রমজানে সুস্থ থাকার জন্য সঠিক খাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- কখনোই সাহরি বাদ দেবেন না।
- সাহরি ও ইফতারে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার খান।
- ধীরে হজম হয় এমন খাবার যেমন পূর্ণ শস্য, ডাল, ডিম ও প্রোটিন দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়।
- ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন, তবে অল্প অল্প করে।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।
রমজান মাসে সুস্থ ও সক্রিয় থাকা কঠিন নয়। হালকা ব্যায়াম, সঠিক সময় বেছে নেওয়া, নিজের শরীরের অবস্থা বোঝা এবং পরিমিত খাবার গ্রহণ করলেই ভালো থাকা সম্ভব। এতে শরীর যেমন ভালো থাকে, তেমনি ইবাদতেও মনোযোগ বাড়ে। একটু সচেতন হলেই রমজান মাসটি আরও শান্তিপূর্ণ ও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন








