গরমে স্বস্তি পেতে এয়ার কন্ডিশনার এখন অনেক ঘরেই অপরিহার্য। কিন্তু এসি চালালেই মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। একটু সচেতন হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।
এসি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে যেমন ঘর ঠান্ডা থাকে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচও কম হয়। এসি ব্যবহারে আরাম ও সাশ্রয় দুটোই পেতে নিচের সহজ বিষয়গুলো মেনে চলা যেতে পারে। টিসিএল
নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করুন: এসি ভালো কাজ করার পেছনে এয়ার ফিল্টারের ভূমিকা অনেক। ফিল্টার ময়লা হলে বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। এতে এসিকে বেশি সময় ও শক্তি খরচ করে ঠান্ডা করতে হয়।
প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করা ভালো। পরিষ্কার ফিল্টার এসির কার্যকারিতা বাড়ায় এবং বিদ্যুৎ খরচ ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করে। যাদের বাসায় পোষা প্রাণী আছে বা ধুলাবালির সমস্যা বেশি, তাদের আরও ঘন ঘন ফিল্টার পরীক্ষা করা দরকার।
স্মার্ট বা প্রোগ্রামেবল থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করুন: স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করলে এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী এসি চালু বা বন্ধ করা যায়।
ঘরে কেউ না থাকলে এসি নিজে থেকেই বন্ধ বা কম শক্তিতে চলে যায়। আবার ঘরে ফেরার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হতে পারে। প্রোগ্রামেবল থার্মোস্ট্যাট একটু পুরোনো হলেও ঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বেশ কার্যকর।
দরজা ও জানালা খোলা রাখবেন না: গরমের সময় অনেকেই দরজা জানালা খোলা রাখেন। এতে বাইরে থেকে গরম বাতাস ঘরে ঢুকে পড়ে এবং এসির ওপর চাপ বাড়ে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
এসি চালু থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রাখাই ভালো। প্রয়োজনে সামান্য ফাঁক রাখা যেতে পারে, তবে পুরোপুরি খোলা রাখা উচিত নয়।
তাপমাত্রা ঠিকভাবে সেট করুন: ঘরের জন্য আদর্শ এসি তাপমাত্রা প্রায় ৭৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এই তাপমাত্রা শরীরের জন্য আরামদায়ক এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও সহায়ক।
ইকো বা এনার্জি সেভার মোড ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে। রাতে বা বাইরের তাপমাত্রা কম থাকলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়িয়েও ভালো ফল পাওয়া যায়।
ঘরের আকার অনুযায়ী এসি ব্যবহার করুন: ঘরের তুলনায় বেশি ক্ষমতার এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ অকারণে বেড়ে যায়। আবার কম ক্ষমতার এসি হলে ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না।
ঘরের আয়তন বুঝে সঠিক টন বা ক্ষমতার এসি বেছে নেওয়া জরুরি। বড় বাসায় একটি বড় এসির বদলে প্রয়োজনে একাধিক ছোট এসি ব্যবহার করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
বাসায় না থাকলে এসি বন্ধ রাখুন: কেউ ঘরে না থাকলে এসি চালু রাখার দরকার নেই। অফিস বা স্কুল থেকে ফেরার সময়ের কিছু আগে এসি চালু হওয়ার মতো করে সেটিং করলে ঘরে ফিরেই ঠান্ডা পাওয়া যায়।
দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে বা ভ্রমণের সময় এসি পুরোপুরি বন্ধ রাখা সবচেয়ে ভালো। এতে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমে আসে।
রাতে স্লিপ মোড ব্যবহার করুন: ঘুমের সময় এসির স্লিপ মোড ব্যবহার করলে আরাম ও সাশ্রয় দুটোই মেলে। এই মোডে এসি ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ায় এবং ফ্যানের গতি সামঞ্জস্য করে। এতে ঘুমে ব্যাঘাত হয় না এবং বিদ্যুৎ খরচও কম হয়।
এসি ব্যবহারে সামান্য সচেতনতা থাকলেই বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল এড়ানো সম্ভব। নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার, সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ, ঘরের আকার অনুযায়ী এসি নির্বাচন এবং প্রয়োজন ছাড়া এসি চালু না রাখা- এ অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে ভালো সাশ্রয় এনে দেয়। গরমের দিনে আরাম পেতে ও খরচ কম রাখতে এখনই এসব সহজ নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে।
মন্তব্য করুন








