নামাজের ১৩টি ফরজ আছে। নামাজের বাইরে সাতটি ফরজ ও নামাজের ভেতরে ছয়টি ফরজ। সেজদা নামাজের ভেতরের ফরজ। নামাজের প্রত্যেক রাকাতে দুটি করে সেজদা দিতে হয়। সেজদার রয়েছে বহু ফজিলত। এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
উবাদাহ ইবনুুস সামিত (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বান্দা আল্লাহর জন্য একটি সেজদা করে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে একটি সওয়াব দান করেন, তার একটি গুনাহ মাফ করেন এবং তার মর্যাদা এক ধাপ উন্নত করেন। অতএব তোমরা বেশি বেশি সেজদা করো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪২৪)
রবিয়া ইবনে কাবা আল-আসলামি (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে রাতে ছিলাম। আমি তাঁর অজুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিতাম। তিনি বললেন, কিছু চাও। আমি বললাম, বেহেশতে আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। তিনি বললেন, এছাড়া আরও কিছু কি চাইবে? আমি বললাম, এটাই আমার আবেদন। তিনি বললেন, তাহলে তুমি অধিক পরিমাণে সেজদা করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯৮৭)
সেজদায় যাওয়ার সময় প্রথম হাঁটু জমিনে রাখা হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে হাত, নাক ও কপাল রাখা হবে। সেজদার সময় কোনো কিছু দিয়ে কপাল আবৃত রাখা ঠিক নয়। এটি অপছন্দনীয় কাজ।
শীতকালে অনেকে আছেন কানটুপি পরেন, যা দিয়ে সাধারণত কপাল ঢেকে থাকে। এ অবস্থায় কানটুপির ওপর সেজদা করলে সেজদা আদায় হয়ে যাবে। নামাজও হবে। তবে এটা অনুত্তম। নাফে (রহ.) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) পাগড়ি কপাল থেকে না সরিয়ে তার ওপর সেজদা করা অপছন্দ করতেন। (আল-আওসাত : ৩/৩৪৩)
নামাজের আগে কানটুপি বা কপাল ঢেকে থাকা পাগড়ি, রুমাল, চাদর থাকলে খুলে নেওয়া উচিত। তবে কপাল আবৃত থাকলেও নামাজ হয়ে যাবে।
ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ায় আছে, সেজদার সময় কানটুপি দিয়ে কপাল ঢাকা থাকলেও সেজদা হয়ে যাবে। নামাজও শুদ্ধ হবে। তবে প্রয়োজন ছাড়া কপাল ঢেকে সেজদা করা উচিত নয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১০৮; আদ্দুররুল মুখতার : ১/৫০০)
নামাজে প্রয়োজন ছাড়া চেহারা ঢেকে রাখা মাকরুহ। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের মধ্যে চেহারা ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৬৪৩)
মন্তব্য করুন








