মুমিন বান্দা মাত্রই আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে জীবনযাপন করেন। নিজের সবকিছু আল্লাহর প্রতি সমর্পণ করেন। আল্লাহর ইচ্ছায় নিজেকে সঁপে দেন। ভালো-মন্দ, সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা, সুখ-দুঃখ সবকিছুর মালিক আল্লাহকে মেনে নেন। বিপদ এলে সে ধৈর্য ধরে। নেয়ামত পেলে শুকরিয়া আদায় করে। মুমিন বান্দার বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাদিসে আছে, ‘ইসা (সা.)-কে আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন, তোমার পরে আমি এক উম্মত পাঠাব, কাঙ্ক্ষিত কোনো বিষয় যদি তাদের অর্জিত হয়, তাহলে তারা আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং শুকরিয়া আদায় করবে। আর যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু তাদের পেয়ে বসে, তাহলে তারা সওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৭৫৪৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেেছেন, ‘মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সব কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কেউ এ বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে না। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শুকরিয়া আদায় করে আর অসচ্ছলতা বা বিপদে পড়লে ধৈর্য ধরে, প্রত্যেকটাই তার জন্য কল্যাণকর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯৯৯)
নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা ফরজ। নেয়ামতের পূর্ণ শুকরিয়া হলো, খাঁটি প্রশংসা ও একনিষ্ঠ আনুগত্যের মাধ্যমে তা গ্রহণ করা। নেয়ামতের শুকরিয়া করলে তা বাড়ে ও স্থায়ী হয়। অকৃতজ্ঞ হলে তা শেষ হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘স্মরণ কর, তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৭)
অতএব, আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। তাহলে তিনি আমাদের স্মরণ করবেন। তার নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য তার শুকরিয়া আদায় করতে হবে, তিনি আমাদের আরও বাড়িয়ে দেবেন। আমরা এই মহান রহমতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করি, যার উপকার সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে ও যার কল্যাণ ব্যাপক হয়েছে। আমরা তাঁর কাছে তাঁর অনুগ্রহ অব্যাহত থাকার দোয়া করি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা করো, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১৮)
নেয়ামতের শুকরিয়ার একটি অংশ হলো,নেয়ামতকে আল্লাহর দান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা, তাঁর সন্তুষ্টির কাজে তা ব্যয় করা এবং এটিকে তওবা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মাধ্যম বানানো। গুনাহ ও অবাধ্যতা ছেড়ে দেওয়া, আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া ও বেশি বেশি ইস্তিগফার করা— নেয়ামত স্থায়ী থাকার, বরকত নেমে আসার ও বৃষ্টি বর্ষণের কারণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন, তিনি তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নুহ, আয়াত : ১০-১২)
মুমিনের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতায় দুনিয়ার জীবনে সমৃদ্ধি আসে। বরকত লাভ হয়। আখেরাতে পাওয়া যায় মুক্তি।
মন্তব্য করুন








