নানা কারণে মানুষ হাসে। আনন্দ, সুখ বা মজা পেলে হাসে। হেসে আনন্দ পায়। সুখ অনুভূত হয়। রাসুলুল্লাহও (সা.) হাসতেন। তিনি হাসতেন মুচকি। তবে মাঝেমধ্যে জোরে হেসেছেন। কখনো তাঁর দাঁতের মাড়ি পর্যন্ত দেখা গেছে। তবে তাঁর চিরায়িত অভ্যাস ছিল মুচকি হাসা। জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পায়ের জঙ্ঘাদ্ধয় (হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত) ছিল হালকা-পাতলা। তিনি মুচকি হাসিই দিতেন। আমি তার দিকে তাকালে মনে হতো তিনি উভয় চোখে সুরমা লাগিয়েছেন। অথচ তাঁর চোখে সুরমা লাগানো থাকত না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আনন্দিত হলে তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো ঝলমল করে উঠত। দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কৌতুক ঘটনা, আশপাশের মানুষের সরলতাপূর্ণ কথাবার্তা নবীজিকে আনন্দ দিত। তিনি হাসতেন। তিনি হাসতেন সংযম রেখে। জারির (রা.) বলেন, ‘আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি তখন থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তাঁর কাছে প্রবেশ করতে বাধা দেননি। তিনি আমার চেহারার দিকে তাকালে মুচকি হাসতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০৩৫)
আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জাজ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে অধিক মুচকি হাসতে অন্য কাউকে দেখিনি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪১)
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি নবী (সা.)-কে কখনো এত উচ্চ আওয়াজে হাসতে দেখিনি যে, তাঁর আলজিভ দেখা যায়। তিনি শুধু মুচকি হাসতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৯২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) মাঝেমধ্যে এমনভাবে হাসতেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা যেত। কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তির কথোপকথনের বর্ণনা দিতে গিয়ে নবীজি এমনভাবে হাসলেন, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ও জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী লোকটিকে আমি অবশ্যই জানি। সে হামাগুড়ি দিয়ে বা হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে। আল্লাহ তায়ালা তাকে বলবেন, যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে সেখানে আসবে। আর তার ধারণা হবে যে, তাতো পূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে কোনো জায়গা নেই, তাই সে ফিরে এসে বলবে, হে প্ৰভু, আমি তো তা পরিপূর্ণ পেয়েছি। আল্লাহ তায়ালা আবার তাকে বলবেন, যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। তিনি (সা.) বলেছেন, এ ব্যক্তি সেখানে আসলে তার ধারণা হবে যে, তাতো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্ৰভু, আমি তো তা পূর্ণ পেয়েছি। আল্লাহ তাকে আবার বলবেন, যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাকে দুনিয়ার মতো এবং তার দশগুণ দেওয়া হলো। অথবা তিনি বলেছেন, তোমাকে পৃথিবীর দশগুণ দেওয়া হলো। এরপর সে বলবে, আপনি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন? অথবা সে বলবে, এ সময় আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়েছিল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৫৭)
নবী-রাসুলরা অধিকাংশ সময় মুচকি হেসেছেন। কোরআনে সুলায়মান (আ.) ও পিঁপড়ার কথা এভাবে এসেছে, ‘সুলায়মান তার (পিঁপড়া) কথায় খুশিতে মুচকি হেসে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি যে অনুগ্রহ দান করেছ, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আমাকে শক্তি দান করো। যেন এমন সৎকাজ করতে পারি যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও। তোমার দয়ায় আমাকে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।’ (সুরা নামল, আয়াত : ১৯)
ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, নবীজি (সা.) বেশির ভাগ সময় মুচকি হাসতেন। মাঝেমধ্যে জোরে হাসতেন। অধিকাংশ সময় অট্টহাসা এবং সীমা অতিক্রম করা অপছন্দীয় কাজ। (ফাতহুল বারি, খণ্ড : ১০, পৃষ্ঠা : ৫০৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সবসময় হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। হাসিখুশি থাকতেন। হাসিও ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের খুবই জরুরি অনুষঙ্গ। তাঁর চেহারা দেখে চোখ শীতল করতেন সাহাবিরা। মেহমানরা তাঁর মুখমণ্ডল দেখে নিরাপত্তা ও স্বস্তি লাভ করতেন।
মন্তব্য করুন








