সৌদি প্রো লিগে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আল নাসরের হয়ে টানা দ্বিতীয় লিগ ম্যাচেও মাঠে নামবেন না তিনি—এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামাধ্যম ইএসপিএন। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ নীতিতে পরিবর্তনের স্পষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।
ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) আল নাসরের তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে বেশি সুবিধা দিচ্ছে—এমন অভিযোগ থেকেই মূল ক্ষোভ রোনালদোর। গত সোমবার আল রিয়াদের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচটিতেও খেলেননি তিনি। একই পথে হাঁটছেন পরবর্তী ম্যাচেও।
সূত্রগুলোর দাবি, পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন না হলে জুন মাসে ক্লাব ছাড়ার অনুরোধও জানাতে পারেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। যদিও ইতোমধ্যে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রস্তাব আছে, বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কথা ভেবে এখনই দল বদল করতে চান না তিনি। গত গ্রীষ্মেই ২০২৭ সাল পর্যন্ত আল নাসরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছিলেন রোনালদো, যেখানে প্রায় ৫ কোটি ইউরোর একটি রিলিজ ক্লজও রয়েছে।
বিতর্কের আরেকটি বড় কারণ করিম বেনজেমার আল ইত্তিহাদ ছেড়ে আল হিলালে যোগ দেওয়া। ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, এই দলবদল ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন রোনালদো নিজেই। তার বিশ্বাস, এই ট্রান্সফারের মধ্য দিয়ে শিরোপা দৌড়ে আল হিলালকে এগিয়ে দেওয়ার পথ সুগম করেছে পিআইএফ। শিরোপাহীন সময় কাটানো রোনালদোর জন্য বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে—২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এখনো বড় কোনো ট্রফি জেতা হয়নি তার।
পর্দার আড়ালের আরেকটি অসন্তোষ আল নাসরের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও। ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনহো ও সিইও হোসে সেমেদো দুজনই পর্তুগিজ। তারা সম্প্রতি দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন পিআইএফের সিদ্ধান্তে। এতে বড় মাপের খেলোয়াড় আনা কঠিন হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন রোনালদো। পাশাপাশি ক্লাবের ব্যয়ও কমানো হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
অন্যদিকে আল হিলাল পেয়েছে বাড়তি আর্থিক সহায়তা। সৌদি রাজপুত্র আলওয়ালিদ বিন তালালের অর্থায়নে জানুয়ারির দলবদলে বেনজেমাসহ একাধিক খেলোয়াড় দলে ভেড়ায় তারা। ফলে লিগের শীর্ষে থাকা আল হিলাল এখন এক পয়েন্টে এগিয়ে আল নাসরের চেয়ে—যা প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
তবে আল হিলালের সিইও এস্তেভে কালসাদা রোনালদোর ক্ষোভকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তার ভাষ্য, ‘আমরা নিজেদের কাজেই মনোযোগী। তারা (আল নাসর) খারাপ ট্রান্সফার উইন্ডো কাটায়নি—জোয়াও ফেলিক্স ও কিংসলি কোমান এসেছে। এই দেশে ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আবেগ আমি আগে কখনো দেখিনি।’
সব মিলিয়ে সৌদি প্রো লিগে শিরোপা লড়াই যত জমে উঠছে, ততই বাড়ছে মাঠের বাইরের নাটক। রোনালদো শেষ পর্যন্ত মাঠে ফিরবেন নাকি অবস্থান আরও কঠোর করবেন—এখন সেই দিকেই চোখ ফুটবল দুনিয়ার।
সূত্র : ইএসপিএন
মন্তব্য করুন








