চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট প্লে-অফে রিয়াল মাদ্রিদের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বর্ণবাদ বিতর্ক ঘিরে। ম্যাচে রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে। তবে ম্যাচ শেষে বেনফিকার কোচ জোসে মরিনহো উল্টো ভিনিসিয়ুসকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার জন্য দায়ী করেছেন।
দা লুজ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। গোলের পর স্বভাবসিদ্ধ নাচের ভঙ্গিতে উদ্যাপন করতে গেলে গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর বেনফিকার আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি তার দিকে এগিয়ে এসে কিছু বলেন বলে অভিযোগ ওঠে, এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ভিনিসিয়ুস ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি ফিফার বর্ণবাদবিরোধী প্রোটোকল কার্যকর করে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করেন।
ম্যাচ শেষে মরিনহো বলেন, বেনফিকা কোনোভাবেই বর্ণবাদী ক্লাব নয় এবং এ ধরনের ঘটনা প্রায় সব স্টেডিয়ামেই ঘটে থাকে। তার দাবি, গোলের পর ভিনিসিয়ুসের আচরণই মূলত উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সে অসাধারণ একটি গোল করেছে, কিন্তু উদ্যাপনের পর পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। এই ক্লাবের ইতিহাসে ইউসেবিওর মতো কিংবদন্তি ছিলেন—বেনফিকাকে বর্ণবাদী বলা যায় না।’
তবে মরিনহোর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন রিয়াল মাদ্রিদের শিবির। রাইট-ব্যাক ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড ভিনিসিয়ুসের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি সে আগেও সামলেছে। প্রতিকূল পরিবেশেও সে খেলায় মনোযোগ ধরে রেখেছে, যা তার শক্ত মানসিকতার প্রমাণ।’ কোচ আলভারো আরবেলোয়ার ভাষ্য, ‘এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই হবে, সম্মান না থাকলে খেলাটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
বিতর্কের জেরে ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সম্ভাব্য বর্ণবাদ ইস্যুতে তদন্ত চলমান থাকায় বিষয়টি এখানেই থেমে থাকছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফুটবলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে বিতর্কই যে ম্যাচটির প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।
মন্তব্য করুন








