ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট নেশন : আইসিটি বিপ্লব পরিচালনা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৫১

ডিজিটাল প্রযুক্তি বর্তমানে অর্থনীতি, সমাজ ও সরকারকে পুনর্গঠন করছে; উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় কেস স্টাডি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট নেশন: আইসিটি বিপ্লব পরিচালনা ২০০৯ সালের ব্যাপক সংযোগের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুরু করে একটি বুদ্ধিমান, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিস্থাপক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর সাহসী ২০৪১ সালের লক্ষ্য পর্যন্ত দেশের অসাধারণ যাত্রার বর্ণনা দেয়।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গি, নীতি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎমুখী অনুমানের উপর ভিত্তি করে, From Digital Bangladesh to Smart Nation: Governing the ICT Revolution, এই বইটি অনুসন্ধান করে যে কীভাবে একটি সম্পদ-সীমাবদ্ধ উন্নয়নশীল দেশ স্ব-পুনর্উদ্ভাবনের জন্য আইসিটিকে একটি অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ যুগের অর্জনগুলো দিয়ে শুরু করে-যেমন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর বিস্ফোরক বৃদ্ধি (২০২৫ সালের মধ্যে ১৩২ মিলিয়নেরও বেশি), মোবাইল সংযোগ (১৯ কোটির কাছাকাছি) এবং ই-গভর্নমেন্ট পরিসেবা যা বাংলাদেশকে জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে ১০০তম স্থানে নিয়ে গেছে। বইটি আইসিটি বাজারের বর্তমান দৃশ্যপট (২০২৫ সালে ৮.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমান) এবং এর অর্থনৈতিক পদচিহ্ন বিশ্লেষণ করে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ, মানব পুঁজি উন্নয়ন, শাসন কাঠামো এবং একটি স্মার্ট অর্থনীতি, সরকার এবং সমাজ গঠনের জন্য খাতভিত্তিক কৌশলগুলোর গভীর বিশ্লেষণ করে। মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

•স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভের গভীর বিশ্লেষণ : স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি এবং স্মার্ট সমাজ।

•সংযোগ, এআই গ্রহণ, রপ্তানি (আইটি/আইটিইএস-এ ৫-১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রা) এবং ১০০% ডিজিটালাইজড পরিসেবার মাইলফলকসহ ২০৪১ সালের জন্য একটি পর্যায়ক্রমে কার্যকর রোডম্যাপ।

•বাস্তবসম্মত প্রশমন কৌশলসহ অবকাঠামোগত ফাঁক, দক্ষতা ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা হুমকি এবং জলবায়ু দুর্বলতার মতো ঝুঁকির স্পষ্ট পরীক্ষা।

•বাজারের বৃদ্ধি, ডিজিটাল বিভাজন এবং উদ্ভাবনের পথগুলো চিত্রিত করে পূর্বাভাস, ডেটা টেবিল এবং ভিজ্যুয়াল এইড।

নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ এবং উন্নয়ন অনুশীলনকারীদের জন্য লেখা এই বইটি কেবল বাংলাদেশ-নির্দিষ্ট বর্ণনাই নয় বরং আইসিটি বিপ্লবে নেভিগেটকারী উদীয়মান দেশগুলির জন্য সর্বজনীন পাঠ প্রদান করে। আপনি ডিজিটাল শাসন, নীতিগত AI, 4IR (চতুর্থ শিল্পবিপ্লব) গ্রহণ, অথবা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি নীতিতে আগ্রহী হোন না কেন, ডিজিটাল আকাঙ্ক্ষাকে স্থায়ী স্থাপত্যে রূপান্তরিত করার জন্য এটি একটি অপরিহার্য নির্দেশিকা।

বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ যখন জ্ঞান-চালিত অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে, তখন ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট নেশন একটি নীলনকশা এবং কর্মের আহ্বান উভয়ই হিসেবে কাজ করে। আইসিটি বিপ্লব কীভাবে পরিচালনা করে সবার জন্য সমৃদ্ধি আনলক করতে পারে তা আবিষ্কার করুন।

বইটি আমাজন মার্কেটপ্লেসে তিনটি ভার্সনে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্ডল এডিশন, পেপারব্যাক এডিশন এবং হার্ডকাভার এডিশন। বইটি পেতে এখানে ক্লিক করুন।

মন্তব্য করুন

মাদুরো অপহরণে অ্যানথ্রপিকের এআই / ক্লাউডের বিকল্প হিসেবে এক্সএআই পাবে পেন্টাগন?
‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি’ শিরোনামে একটি পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাসে খুঁজে বের করতে অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ‘ক্রাউড’ ব্যবহার করেছিল। পরে ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের কথা ভাবছে পেন্টাগন। বিকল্প হিসেবে ধনকুবের ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্সএআইর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে ‍যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত পোস্টটি শেয়ার করেছেন জিরো ডে ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র থ্রেট রিসার্চার পিটার গির্নাস। তাতে বলা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনী অ্যানথ্রপিকের এআই টুল ‘ক্লাউড’ ব্যবহার করে মাদুরোর অবস্থান শনাক্ত করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যখন অ্যানথ্রপিক জানায়, তাদের টুল কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। একইসঙ্গে তাদের ‘দায়িত্বশীল স্কেলিং নীতি’ অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ সামরিক উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও সীমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এতে আরও দাবি করা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন এখন সামরিক বাহিনীতে অ্যানথ্রপিকের ব্যবহারের পরিবর্তে ইলন মাস্কের এক্সএআইর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  দীর্ঘ নোটটিতে অভিযোগ করা হয়, নিকোলাস মাদুরোকে আটকের অভিযানে সহায়তা করেছিল ক্লাউড। এআই টুলটি লজিস্টিক প্যাটার্ন, স্যাটেলাইট চিত্র ও যোগাযোগের তথ্য এমন গতিতে বিশ্লেষণ করে, যা কোনো মানব দল একা করতে পারত না এবং এর ফলেই মাদুরোকে শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা সম্ভব হয়েছে। দাবি করা হয়, এটি ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ এই কোম্পানি’র সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) লিখেছেন। যদিও এতে কোনো নাম উল্লেখ নেই। বর্ণনা অনুযায়ী অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় নির্মাতা ক্লাউটের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের ‘রেসপন্সিবল স্কেলিং পলিসি’তে রাষ্ট্রপ্রধানদের ধরতে সহায়তার মতো ব্যবহারের কথা উল্লেখ নেই। এই নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে। অ্যানথ্রপিকের গবেষণা শুধু ক্লাউড নয়, আরও কয়েকটি বড় এআই মডেলে ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভেনেজুয়েলায় সফল অভিযান পেন্টাগন সন্তুষ্ট হলেও, অ্যানথ্রপিক প্রশ্ন তোলার পর তারা ‘বিকল্প সরবরাহকারী’ খুঁজতে শুরু করেছে। পেন্টাগন এখন ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্সএআইর সঙ্গে আলোচনা করছে। নোটের শেষাংশে তীব্র ব্যঙ্গ করে বলা হয়, ‘এদিকে পেন্টাগন ইলন মাস্কের সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। পরের বার যে এআই ব্যবহার হবে, তাতে কোনো রেলিং নেই, কোনো সুরক্ষা স্তর নেই, দীর্ঘ নীতিমালা নেই… বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ এআই কোম্পানি হয়তো শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে কম নিরাপদই করে তুলেছে।’ পেন্টাগন কি অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে? একজন মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে তাদের এআই মডেল ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা বজায় রাখার ব্যাপারে জোর দেওয়ায় পেন্টাগন এখন অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বিবেচনা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন চায় যুদ্ধক্ষেত্রের অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ ‘সব আইনসম্মত উদ্দেশ্যে’ এআই টুল ব্যবহার করতে। এ লক্ষ্যে চারটি বড় এআই ল্যাবের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছে, যার একটি অ্যানথ্রপিক। তবে কোম্পানিটি এই শর্তে পুরোপুরি সম্মত হয়নি। অ্যানথ্রপিকের অবস্থান হলো মার্কিন নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারি এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রগুলো তাদের প্রযুক্তির সীমার বাইরে থাকা উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এ আলোচনাকে ‘অকার্যকর’ বলে মনে করছেন। গত গ্রীষ্মে অ্যানথ্রপিক পেন্টাগনের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করে। তাদের এআই টুল ক্লাউড-ই ছিল প্রথম মডেল, যা পেন্টাগন তাদের শ্রেণিবদ্ধ নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছিল।ভেঞ্চারস, এমজিএক্স এবং আইকনিকের যৌথ নেতৃত্বে ছিল, একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এই অর্থ গবেষণা, পণ্য উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়ন করা হবে। সূত্র: এনডিটিভি
ক্লাউডের বিকল্প হিসেবে এক্সএআই পাবে পেন্টাগন?
ভোটের ফল জানুন মোবাইলে 
জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের ফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে।  এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভোটাররা রিয়েল টাইমে ফলাফল দেখতে পারবেন এবং নির্বাচনি তথ্য সহজে জানতে পারবেন। জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জানতে পারবেন- ১. অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে উভয়েই পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের পর ফোনে ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে। ২. অ্যাকাউন্ট বা লগইন প্রক্রিয়া সাধারণত ভোটের ফলাফল দেখার জন্য লগইন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য বা ইভিএম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে অ্যাপটি আপনাকে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে লগইন করতে বলবে। লগইন করলে ভোটের নথি, ভোটার স্ট্যাটাস এবং নির্বাচনি কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে। ৩. ভোটের ফলাফল দেখার ধাপ ক। নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্বাচন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে ‘ইলেকশন রেজাল্টস’ বা ‘ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনটি থাকবে। এখানে নির্বাচনের ধরন নির্বাচন করতে হবে (জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা, বা ইউনিয়ন নির্বাচন)। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে। খ। কেস্টিং এবং ফলাফল: নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের লাইভ আপডেট দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড হবে। ভোটের ভোটার সংখ্যা, প্রার্থী বা দল অনুযায়ী ভাগফল এবং ভোটের শতাংশ দেখা যাবে। গ। গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা: অ্যাপটি ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে দেখায়, যাতে কোনো প্রার্থী বা দলের অবস্থান সহজে বোঝা যায়। লাইভ আপডেটের ফলে ভোটের ধাপে ধাপে অগ্রগতি দেখা যাবে। 
ভোটের ফল জানুন মোবাইলে 
কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য ‘মানুষ’ খুঁজছে এআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের অধীনে এখন থেকে কর্মী হিসেবে কাজ করবে মানুষ। এমনই এক নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে হাজির হয়েছে ‘রেন্ট আ হিউম্যান’। প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম মূলত ফ্রিল্যান্সভিত্তিক শ্রমবাজার নিয়ে হলেও এখানে কর্মীর ‘বস’ কোনো মানুষ নয়, বরং রোবট বা এআই এজেন্ট। যেসব কাজ এআই শারীরিকভাবে করতে পারে না, যেমন পার্সেল সংগ্রহ বা কাউকে উপহার পৌঁছে দেওয়া— সেসব কাজের জন্য এআই এজেন্টরা প্ল্যাটফর্মে টাস্ক পোস্ট করবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা এসব কাজ করে পারিশ্রমিক হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাবেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের ‘এআইয়ের জন্য মিটস্পেস লেয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রেন্ট আ হিউম্যান ডট এআই নামক সাইটটি প্রযুক্তি বিশ্বে ভূতুড়ে ও নেতিবাচক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট গিজমোডো জানায়, প্ল্যাটফর্মটির দাবি অনুযায়ী, তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে এরই মধ্যে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। তবে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিবন্ধিতদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই অর্থ পরিশোধের জন্য তাদের ক্রিপ্টো ওয়ালেট যুক্ত করেছেন। রেন্ট আ হিউম্যানের প্রতিষ্ঠাতা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আলেকজান্ডার লিটেপলো বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে এআই এজেন্টরা বাস্তব জগতের কায়িক শ্রমের জন্য মানুষ খুঁজে নেওয়া, বুকিং দেওয়া এবং পারিশ্রমিক পরিশোধ এসব কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারবে। গত সপ্তাহে প্লাটফর্মটি চালুর সময় লিটেপলো দাবি করেছিলেন, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে একজন অনলিফ্যানস মডেল এবং একজন এআই স্টার্টআপের প্রধান নির্বাহী (সিইও) রয়েছেন। তবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটি কেবল একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ, নাকি এর পেছনে বড় কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ব্যবস্থায় শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অর্থ লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের জায়গা রয়ে গেছে। প্রচলিত শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে এআই দ্বারা পরিচালিত এমন শ্রমবাজার শেষ পর্যন্ত কর্মীদের কতটা নিরাপত্তা দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য ‘মানুষ’ খুঁজছে এআই
এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে চীন
প্রতি মাসে কোটি কোটি মানুষ পিন্টারেস্টে ঢুকে নতুন ফ্যাশন, ঘর সাজানোর জিনিস বা ক্রিয়েটিভ আইডিয়া খুঁজে নেন। একটি পেজ বিশেষভাবে মজার- ‘সবচেয়ে অদ্ভুত জিনিস’ বা the most ridiculous things। এখানে আপনি দেখতে পাবেন ক্রোকসকে ফুলদানের মতো ব্যবহার করা, চিজবার্গারের মতো আইশ্যাডো, সবজির জিঞ্জারব্রেড হাউস- সবই হাস্যকর এবং অদ্ভুত আইডিয়া। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারী হয়তো জানে না, এই প্রযুক্তি সবসময় আমেরিকান তৈরি নয়। পিন্টারেস্ট এখন চীনা এআই মডেল ব্যবহার করে তাদের রিকমেন্ডেশন সিস্টেমকে আরও উন্নত করার পরীক্ষা করছে। পিন্টারেস্টের প্রধান বিল রেডি বলেছেন, আমরা পিন্টারেস্টকে একটি এআই-চালিত শপিং অ্যাসিস্ট্যান্টে পরিণত করেছি। অবশ্য, তারা চাইলে যে কোনো আমেরিকান এআই ল্যাব ব্যবহার করতে পারত। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চীনের ডিপসিক R-1 মডেল চালুর পর থেকে চীনা এআই প্রযুক্তি পিন্টারেস্টে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানা যায় বিবিসির এক প্রতিবেদনে। রেডি এটিকে ‘ডিপসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, চীনা মডেলটি ওপেন সোর্স করার কারণে অন্যান্য ওপেন সোর্স মডেল তৈরির ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে আলিবাবার কুইন এবং মুনশটের কিমি। TikTok-এর মালিক বাইটড্যান্সও অনুরূপ প্রযুক্তিতে কাজ করছে। পিন্টারেস্টের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ম্যাট মাদ্রিগাল বলেন, এই মডেলগুলোর সুবিধা হলো কোম্পানি নিজস্বভাবে ডাউনলোড এবং কাস্টমাইজ করতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ আমেরিকান মডেল যেমন ওপেনএআইর চ্যাটজিপিটি, তা সাধারণভাবে ব্যবহার করা যায় না। তিনি আরও বলেছেন, তাদের নিজের ট্রেনিং মডেলগুলো মূল মডেলের তুলনায় ৩০% বেশি নির্ভুল এবং অনেক কম খরচে চালানো যায়। কখনো কখনো এটি আমেরিকান মডেলের চেয়ে ৯০% কম খরচে সম্ভব। চীনা মডেল : দ্রুত এবং সস্তা পিন্টারেস্ট একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয় যা চীনা এআই ব্যবহার করছে। Fortune 500 কোম্পানিগুলোও এই মডেল ব্যবহার করছে। Airbnb-এর প্রধান ব্রায়ান চেস্কি বলেছিলেন, তাদের এআই কাস্টমার সার্ভিসে আলিবাবার কুইন ব্যবহার করা হয়। তিনি তিনটি কারণ দিয়েছেন- দ্রুত, ভালো এবং সস্তা। হাগিং ফেসের মতো প্ল্যাটফর্মে যে মডেলগুলো সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয়, সেগুলোর অনেকটাই চীনা ল্যাবের তৈরি। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ কুইন মডেল মেটার লামারকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল হিসেবে উঠে এসেছে। মেটা ২০২৩ সালে তাদের ওপেন সোর্স লামা মডেল চালু করেছিল। কিন্তু চীনা মডেলগুলো মুক্ত, দ্রুত এবং সহজে কাস্টমাইজযোগ্য হওয়ায় ডেভেলপাররা এগুলোকে বেশি পছন্দ করছে। Airbnb তাদের এআই মডেলগুলো নিজস্ব সার্ভারে নিরাপদে ব্যবহার করে, কোনো ডেটা মডেল ডেভেলপারদের সঙ্গে শেয়ার করা হয় না। চীনা এআইয়ের সাফল্য   কিন্তু বর্তমানে ধারণা বদলেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট বলছে, চীনা মডেলগুলো ‘ধারণায় এগিয়ে গেছে বা সমান হয়েছে’ এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেশি। যুক্তরাজ্যের সাবেক ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ বলেছেন, আমেরিকান কোম্পানিগুলো খুব বেশি ফোকাস করছে এমন এআইতে যা একদিন মানব বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেই সময় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ওপেন সোর্সে কাজ করছে, যা প্রযুক্তি ব্যবহারকে আরও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করছে। চীনা সরকারও এ ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করছে। অন্যদিকে, আমেরিকান কোম্পানি যেমন ওপেনএআই, মূলত লাভ বাড়ানোর চিন্তায় নিজেদের প্রাইভেট মডেলে বেশি বিনিয়োগ করছে। চীনা এআই মডেলগুলো এখন দ্রুত, সস্তা এবং কাস্টমাইজযোগ্য হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়, বরং এআই ব্যবহারকে আরও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা- খরচ কম, সুবিধা বেশি এবং ওপেন সোর্স মডেল ব্যবহার করে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। এভাবে চীনা এআই শুধু প্রতিযোগিতায় এগোয়নি, বরং নতুন ধরনের উদ্ভাবন এবং প্রবৃদ্ধির পথও তৈরি করছে।
এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে চীন
স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার : কিছু সাধারণ ভুল জানুন
আজকের সময়ে স্মার্ট ডিভাইস আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, স্মার্ট ওয়াচ - এগুলো আমাদের কাজ সহজ করে, যোগাযোগকে দ্রুত করে এবং বিনোদন দেয়।  কিন্তু আমরা প্রায়ই এগুলো ব্যবহার করার সময় কিছু সাধারণ ভুল করি। এই ভুলগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য, সময় ব্যবস্থার জন্য এবং নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বেশি সময় ফোন বা স্ক্রিনের সামনে থাকা : অনেকেই মনে করেন ফোন বা ট্যাবলেট হাতে থাকলে সময় ভালো কাটে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া চেক করা, ভিডিও দেখা বা গেম খেলার কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকার ফলে চোখের ক্লান্তি, মাথা ব্যথা এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছোট ছোট বিরতি না নেওয়া মানে চোখ এবং মস্তিষ্কের জন্য বিরাট চাপ। চার্জার ও ব্যাটারি ব্যবহারে অবহেলা : অনেকেই সস্তা বা অপ্রামাণিক চার্জার ব্যবহার করে। আবার ফোন চার্জিংয়ে রেখে ঘুমিয়ে যায়। এর ফলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়। কিছু ক্ষেত্রে ফোনের ক্ষতি পর্যন্ত হতে পারে। তাই সব সময় অফিসিয়াল চার্জার ব্যবহার করা এবং রাতভর চার্জিং এড়িয়ে চলা ভালো। নিরাপত্তা বিষয়ক অবহেলা : অনেক সময় আমরা সহজ পাসওয়ার্ড বা পিন ব্যবহার করি। কেউ কেউ পাবলিক ওয়াই-ফাইতে সংযোগ করতে ভয় পায় না। এই ধরনের অবহেলা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শক্ত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, দুই ধাপের ভেরিফিকেশন চালু রাখা এবং অজানা ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। ডিভাইসের যত্ন না নেওয়া : অনেক সময় ফোন বা ল্যাপটপ রুক্ষভাবে ব্যবহার করা হয়। স্ক্রিন খোলা, ডিভাইস ফেলে দেওয়া, বা কভার ছাড়া ব্যবহার করা ডিভাইসকে দ্রুত নষ্ট করে। স্ক্রিন প্রোটেক্টর এবং কভার ব্যবহার করলে ডিভাইস দীর্ঘস্থায়ী হয়। নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি। সফটওয়্যার আপডেট এড়িয়ে চলা : অনেকেই আপডেট ইনস্টল করতে চান না। কিন্তু সফটওয়্যার আপডেট নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন আপডেট ভাইরাস, হ্যাকার বা বাগ থেকে রক্ষা করে। তাই সময়মতো সব ডিভাইস আপডেট করা উচিত। চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ : ডিভাইস দীর্ঘ সময় চোখের কাছে রাখা, অন্ধকারে ব্যবহার করা বা ছোট ফন্টে লেখা পড়া চোখের জন্য খারাপ। এটি চোখের ক্লান্তি, ধোঁয়া দেখা এবং মাথা ব্যথার কারণ হয়। প্রতি ২০-৩০ মিনিট পর পর চোখকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত। ব্যক্তিগত সময় না রাখা : স্মার্ট ডিভাইস আমাদের কাজে সহায়ক হলেও, অনেক সময় আমরা ব্যক্তিগত জীবনেও অতিরিক্ত ফোনে সময় দেই। পরিবার, বন্ধু বা নিজের জন্য সময় কমে যায়। সময়মতো ফোন রাখা এবং ডিভাইস ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। স্মার্ট ডিভাইস আমাদের জীবনকে সহজ ও মজাদার করে তোলে। তবে সঠিক ব্যবহার না করলে সমস্যা বাড়ে। তাই ছোট ছোট অভ্যাস বদলাতে হবে।  চোখের যত্ন নেওয়া, সময়মতো বিরতি দেওয়া, নিরাপত্তা মানা এবং ডিভাইসের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে আমরা স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করেও সুস্থ, নিরাপদ এবং সময়োপযোগী থাকতে পারি।
স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার : কিছু সাধারণ ভুল জানুন
বিচারের মুখোমুখি মেটা, টিকটক, ইউটিউব
চলতি সপ্তাহে মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা মেটা, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক ও ইউটিউব। অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মগুলো তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট বাড়িয়ে তুলছে। শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ে বিতর্ক যখন তীব্র হচ্ছে, তখন এই মামলায় নতুন করে সামাজিক মাধ্যমগুলোর দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ক্যালিফোর্নিয়া সুপিরিয়র কোর্টে কেজিএম নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ছোট বয়স থেকেই এসব অ্যাপের আকর্ষণকারী ডিজাইনের কারণে তিনি আসক্ত হয়ে পড়েন। তার অভিযোগ, এসব প্ল্যাটফর্ম তার হতাশা ও আত্মহত্যার চিন্তাকে উসকে দিয়েছে। এ জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা উচিত। বাদীপক্ষ বলছে, শিশুদের মধ্যে ‘সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি’ নিয়ে যে কয়েকটি আলোচিত মামলা চলতি বছর শুনানিতে যাওয়ার কথা রয়েছে, তার মধ্যে এটিই প্রথম। আইনজীবী ম্যাথিউ বার্গম্যান বলেন, এই মামলায় প্রথমবার প্রযুক্তি জায়ান্টদের আদালতে তাদের পণ্যের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় যে ধরনের তদন্ত হয়, তার চেয়েও কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখে পড়বে তারা। বিচারকার্যে বিচারকরা দেখবেন যে, কোম্পানিগুলো কি মানসিক ক্ষতি করতে পারে এমন পণ্য সরবরাহে গাঁ ঢিলেমি করেছে, এবং এসব অ্যাপ কেজিএমের হতাশার প্রধান কারণ কিনা। একই সঙ্গে অন্যান্য কারণ, যেমন অ্যাপে দেখা কনটেন্ট বা তার অফলাইন জীবনের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।   এই মামলাকে বিশেষজ্ঞরা ‘পরীক্ষামূলক মামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের আইনজীবী ক্লে ক্যালভার্ট বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সত্যিই ক্ষতি করেছে কিনা এই তত্ত্ব আদালতে কতটা টিকে থাকে, সেটাই দেখা হবে। মেটার আইনজীবীরা বলছেন, তাদের প্ল্যাটফর্ম কেজিএমের মানসিক সমস্যার কারণ নয়, তারা এটাই আদালতে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন। স্ন্যাপের সিইও ইভান স্পিগেলের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও, কোম্পানিটি ২০ জানুয়ারি কেজিএমের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও সমঝোতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইউটিউব জানিয়েছে, তারা যুক্তি দেবে যে তাদের প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যম থেকে মৌলিকভাবে আলাদা, তাই আদালতে তাদের এক কাতারে ফেলা উচিত নয়। মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি টিকটক। এদিকে মামলার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রযুক্তি কোম্পানি জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম কিশোরদের জন্য নিরাপদ এবং অভিভাবকদের জন্য নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন টুল চালু করেছে। এসব ফিচার প্রচারে তারা মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। মেটা ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে অভিভাবকদের জন্য অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা স্পনসর করছে। ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘স্ক্রিন স্মার্ট’ কর্মশালা আয়োজন করে, যেখানে ন্যাশনাল পিটিএ এবং মেটার নিরাপত্তা প্রধান উপস্থিত ছিলেন। টিকটকও ‘ক্রিয়েট উইথ কাইন্ডনেস’ নামে কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে অভিভাবকদের জন্য টিউটোরিয়াল দেওয়া হয়। এমনকি রাতে স্ক্রিন টাইম সীমিত করার ফিচারও শেখানো হয়। ইউটিউবের মূল কোম্পানি গুগল গার্ল স্কাউটসের সঙ্গে কাজ করছে, যেখানে মেয়েরা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, ডিজিটাল গোপনীয়তা ও অনলাইনে সদাচরণ বিষয়ে শিক্ষা পেলে বিশেষ প্যাচ অর্জন করতে পারে। এই কোম্পানিগুলো উচ্চ-প্রোফাইল আইনজীবীও নিয়োগ করেছে, যারা আগে ওপিওয়েড ও ভিডিও গেম আসক্তি সংক্রান্ত বড় মামলায় কর্পোরেট পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। মাদার্স অ্যাগেইনস্ট মিডিয়া অ্যাডিকশনের প্রতিষ্ঠাতা জুলি স্কেলফো বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নানা ধরনের প্রভাব খাটাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে যাদের উপর অভিভাবকদের আস্থা রাখা উচিত।
বিচারের মুখোমুখি মেটা, টিকটক, ইউটিউব
ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ বাড়াতে নতুন ফিচার নিয়ে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ
ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আসছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। সে ধারাবাহিকতায় এবার নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে। নতুন ফিচার ফেসবুকের মতোই কভার ফটো দেওয়ার মতো অপশন নিয়ে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তার প্রোফাইল আরও সুন্দরভাবে সাজাতে পারবেন। এতে প্রোফাইলে তার ব্যক্তিত্ব আরও ভালোভাবে প্রকাশ পাবে। অনেকেই মনে করেন, প্রোফাইল ছবির পাশাপাশি কভার ফটো থাকলে অ্যাকাউন্টের ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ অনেকটা বেড়ে যায়। এর আগে শুধু হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস অ্যাকাউন্টেই কাভার ফটোর এই ফিচার সীমাবদ্ধ ছিল। জানা গেছে, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড দুই প্ল্যাটফর্মেই এই ফিচার আনার বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। যদিও আপাতত পুরো বিষয়টি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাসেও বড় আরেকটি পরিবর্তন আসতে চলেছে। জানা গেছে,  স্টেটাসে ব্যবহৃত ছবিকে আরও আকর্ষণীয় ও সৃজনশীল করে তুলতেই এআই ফিচার চালু করা হচ্ছে। এজন্য ব্যবহারকারীরা নতুন একাধিক টুল দেখতে পাবেন যার সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যেই ছবি এডিট করে স্টেটাসে পোস্ট করা যাবে। নতুন এই আপডেটের মাধ্যমে এআই এডিটিং টুলস ব্যবহার করে সহজেই ছবিকে আরও চমকপ্রদ করা যাবে। শুধু ছবি এডিটিং নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে আরও কিছু চমকপ্রদ ফিচারও। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ বাড়াতে নতুন ফিচার নিয়ে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির শিল্পকর্মেই লুকিয়ে থাকতে পারে জিনগত সূত্র
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ছিল অসাধারণ প্রতিভা। তিনি একসঙ্গে শিল্পী, আবিষ্কারক ও অ্যানাটমি বিশেষজ্ঞ ছিলেন। রেনেসাঁ যুগের এই মানুষটির চিন্তাভাবনা ও কাজ আজও মানুষকে বিস্মিত করে। বিজ্ঞানীরা এখন চেষ্টা করছেন তার প্রতিভার পেছনে থাকা জিনগত রহস্য খুঁজে বের করতে। তবে সমস্যা হলো, তার মৃত্যুর ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পরে ডিএনএ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিওনার্দো ১৫১৯ সালে মারা যান। তার কোনো সন্তান ছিল না। ফ্রান্সের অ্যাম্বোইজ শহরের সেন্ট ফ্লোরেন্টিন চ্যাপেলে তার কবর ছিল, যা ফরাসি বিপ্লবের সময় ধ্বংস হয়ে যায়। কিছু হাড় উদ্ধার করে আবার কবর দেওয়া হয়েছিল বলে শোনা যায়, কিন্তু সেগুলো সত্যিই তার কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে বিজ্ঞানীরা সরাসরি তার দেহাবশেষ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করতে পারেননি। তাই তারা ভিন্ন একটি পথ বেছে নিয়েছেন। শিল্পকর্ম থেকে ডিএনএ সংগ্রহের চেষ্টা লিওনার্দো দা ভিঞ্চি প্রজেক্টে যুক্ত বিজ্ঞানীরা তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনিস থেকে ডিএনএ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। লিওনার্দো জীবনে অনেক ছবি, আঁকিবুঁকি ও চিঠি লিখে গেছেন। তিনি যেসব জিনিস স্পর্শ করেছিলেন, সেগুলোর মধ্যে আজও তার জিনগত উপাদানের সামান্য অংশ থেকে যেতে পারে। গবেষকরা তার এক আত্মীয়ের লেখা চিঠি এবং একটি আঁকা ছবি পরীক্ষা করেন, যার নাম ‘হোলি চাইল্ড’। কেউ কেউ মনে করেন ছবিটি লিওনার্দোর আঁকা, আবার অনেক বিশেষজ্ঞ তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। এই চিঠি ও ছবিতে বিজ্ঞানীরা ব্যাকটেরিয়া, গাছ, প্রাণী ও ছত্রাকের ডিএনএ খুঁজে পান। পাশাপাশি একটি পুরুষের ওয়াই ক্রোমোজোমের মিল থাকা অংশও পাওয়া যায়। এই গবেষণার ফলাফল জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়, যদিও এটি এখনও চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হয়নি। গবেষকদের ধারণা ও লক্ষ্য গবেষকরা দাবি করেননি যে এই ডিএনএ নিশ্চিতভাবে লিওনার্দোর। তবে তারা মনে করেন, এই পদ্ধতিটি ভবিষ্যতে আরও শিল্পকর্ম বিশ্লেষণের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। যদি একই ধরনের ওয়াই ক্রোমোজোম বারবার বিভিন্ন বস্তুতে পাওয়া যায়, তাহলে লিওনার্দোর জিনগত কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, লিওনার্দোর দৃষ্টিশক্তি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ছিল। তার শিল্পকর্মে সূক্ষ্ম বিবরণ ও নিখুঁত পর্যবেক্ষণ এই ধারণাকে শক্তিশালী করে। গবেষকরা জানতে চান, এই অসাধারণ ক্ষমতার পেছনে কোনো জিনগত সুবিধা ছিল কি না। প্রাচীন ডিএনএ সংগ্রহের পদ্ধতি শিল্পকর্ম থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা খুবই সংবেদনশীল কাজ। তাই গবেষকরা প্রথমে এমন পদ্ধতি খুঁজেছেন, যাতে ক্ষতি না করে ডিএনএ সংগ্রহ করা যায়। নানা পরীক্ষা শেষে তারা শুকনো তুলা দিয়ে আলতো করে মুছে ডিএনএ সংগ্রহের পদ্ধতিকে সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন। ‘হোলি চাইল্ড’ ছবিটি থেকে পাওয়া ডিএনএ গত ৫০০ বছরে ছবিটি কোথায় তৈরি ও সংরক্ষিত হয়েছে, সে সম্পর্কেও ধারণা দেয়। এতে এমন গাছ ও প্রাণীর চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ইতালির সঙ্গে মিলে যায়। এমনকি বন্য শূকরের ডিএনএও পাওয়া গেছে, যা তখনকার সময়ে তুলি তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। ওয়াই ক্রোমোজোমের সূত্র ওয়াই ক্রোমোজোম শুধু পুরুষদের মধ্যে থাকে এবং এটি পিতৃসূত্রে বংশ পরিচয় জানায়। গবেষণায় দেখা যায়, একটি চিঠি ও ছবিতে পাওয়া ওয়াই ক্রোমোজোম একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো একটি নির্দিষ্ট হ্যাপলোগ্রুপের অন্তর্ভুক্ত, যার নাম ই১বি১। এই হ্যাপলোগ্রুপ আজকের টাসকানি অঞ্চলের কিছু পুরুষের মধ্যে দেখা যায়। লিওনার্দো এই অঞ্চলেই জন্মেছিলেন ও কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে যদি তার বাবার জীবিত বংশধরদের মধ্যেও একই হ্যাপলোগ্রুপ পাওয়া যায়, তাহলে এই ধারণা আরও শক্ত হবে। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এটি শুধু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। আরও তথ্য সংগ্রহ না করা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। ভিন্নমত ও সীমাবদ্ধতা শিল্প ইতিহাসবিদরা মনে করেন, যেসব বস্তু পরীক্ষা করা হয়েছে সেগুলো লিওনার্দোর ডিএনএ খোঁজার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে ‘হোলি চাইল্ড’ ছবিটি নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। তাদের মতে, লিওনার্দোর বাবার লেখা কোনো নথি হলে তা বেশি কার্যকর হতে পারত। তবুও অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, এই গবেষণার পদ্ধতি ভবিষ্যতে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে। যদি কখনো লিওনার্দোর দেহাবশেষ সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়, তাহলে শিল্পকর্ম থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গবেষকরা ফ্রান্সে সংরক্ষিত লিওনার্দোর নোটবুক ও কম পরিচিত আঁকাগুলো পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি তার বাবার বংশধরদের কাছ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব তথ্য একত্রে মিলিয়ে দেখাই তাদের লক্ষ্য। গবেষকদের আশা, একদিন সব সূত্র মিলিয়ে তারা লিওনার্দোর জিনগত পরিচয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন। তবে শিল্পকর্মের সংরক্ষণ নিয়ে কঠোর নিয়ম থাকায় কাজটি সহজ নয়। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির প্রতিভার রহস্য আজও মানুষের কৌতূহলের বিষয়। তার শিল্পকর্ম থেকে ডিএনএ খোঁজার এই প্রচেষ্টা হয়তো এখনো নিশ্চিত উত্তর দেয়নি, তবে এটি একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞান, শিল্প ও ইতিহাস একসঙ্গে কাজ করলে ভবিষ্যতে হয়তো আমরা এই মহান মানুষের জিনগত রহস্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব। এই অনুসন্ধানই প্রমাণ করে, প্রশ্ন আর কৌতূহলই জ্ঞানের আসল চালিকাশক্তি। সূত্র : সিএনএন
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির শিল্পকর্মেই লুকিয়ে থাকতে পারে জিনগত সূত্র