ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ডিআর কঙ্গোতে খনি ধসে নিহত দুই শতাধিক

এপি নিউজ

  ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রুবায়া কোলটান খনি। ছবি : সংগৃহীত

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোতে (ডিআরসি) রুবায়া কোলটান খনিতে ধসের ঘটনায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। খনিটি যে প্রদেশে অবস্থিত, সেই প্রদেশের বিদ্রোহী-নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

উত্তর কিভু প্রদেশের রাজধানী গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খনিটিতে বুধবার ধস নামে। রয়টার্স জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মুইসা বলেন, ‘এই ভূমিধসে ২০০ জনের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে খনি শ্রমিক, শিশু ও বাজারে কাজ করা নারীরাও রয়েছেন। কিছু মানুষ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন, তবে তারা গুরুতর আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মুইসা বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম চলছে। মাটি খুব নরম ও দুর্বল। ভুক্তভোগীরা যখন গর্তের ভেতরে ছিলেন, তখনই মাটি ধসে পড়ে।

এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিযুক্ত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্তোঁ বাহাতি মুসাঙ্গা শুক্রবার এএফপিকে জানান, কিছু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে নিহত ও আহতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি। যদিও প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

প্রাদেশিক গভর্নরের এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি পরিচয় গোপন রাখতে চান।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বাধীন সূত্র থেকে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি বলে জানিয়েছে এএফপি।

রুবায়ায় এএফপির সঙ্গে কথা বলা খনি শ্রমিক ফ্রাঙ্ক বোলিঙ্গো বলেন, এখনো অনেকে খনির ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৃষ্টি হয়েছিল, এরপর ভূমিধস হয়। এতে মানুষ ভেসে যায়। অনেকে মাটির নিচে চাপা পড়েছেন, আবার কেউ এখনো খনির সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা আছেন।

রুবায়া বিশ্বের মোট কোলটান উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করে। কোলটান প্রক্রিয়াজাত করে ট্যান্টালাম তৈরি করা হয়। এটি তাপসহনশীল একটি ধাতু, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান যন্ত্রাংশ ও গ্যাস টারবাইন তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এই খনিতে স্থানীয় মানুষ দৈনিক কয়েক ডলারের বিনিময়ে হাতে খুঁড়ে কাজ করেন। ২০২৪ সাল থেকে খনিটি রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর আগে খনিটির দখল ডিআরসি সরকার ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিকবার বদল হয়েছে।

ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এম২৩ বিদ্রোহীদের ঘোষিত লক্ষ্য হলো রাজধানী কিনশাসায় অবস্থিত ডিআরসি সরকারকে উৎখাত করা। গত বছর দ্রুত সামরিক অভিযানে তারা দেশের পূর্বাঞ্চলের আরও খনিজসমৃদ্ধ এলাকা দখলে নেয়।

জাতিসংঘ এম২৩ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, রুয়ান্ডার সমর্থনে চলা বিদ্রোহে অর্থ জোগাতে তারা রুবায়ার সম্পদ লুট করছে। তবে কিগালি সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ডিআরসি খনিজসম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ দৈনিক ২ দশমিক ১৫ ডলারেরও কম আয়ে জীবনযাপন করেন।

মন্তব্য করুন

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ৩২ 
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীদের গুলিতে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরা এ সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলে করে আসা বন্দুকধারীরা উত্তর নাইজেরিয়ার তিনটি গ্রামে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩২ জনকে হত্যা করেছে এবং আরও বেশ কয়েকজনকে অপহরণ করেছে। নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকায় শনিবার এ ঘটনা ঘটে। তবে রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন একটি গ্রামে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ডাকাতরা টুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে আক্রমণ করেছে। এ সময় ছয়জন নিহত হন এবং কিছু বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আক্রমণকারীরা কনকোসো গ্রামে চলে গেছে, তবে অন্যান্য গ্রামে আক্রমণের বিবরণ এখনও স্পষ্ট নয়। কনকোসো গ্রামের বাসিন্দা জেরেমিয়া টিমোথি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ⁠তার গ্রামে আক্রমণ শুরু হয়েছিল ভোরে। বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হামলা শুরু হয়। এ সময় ২৬ জন নিহত হন এবং পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এপি পিসায় একটি হামলার খবরও জানিয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ৩২ 
সুদানের মসজিদে ড্রোন হামলা, তিন শিশু নিহত
সুদানের মধ্যাঞ্চলে একটি মসজিদে ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত এবং আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন। দেশটির ডাক্তারদের একটি সংস্থা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরা এ সংবাদ প্রকাশ করে। ‘দ্যা সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ জানিয়েছে, বুধবার ভোরে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এই হামলা চালায়। আরএসএফ তিন বছর ধরে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত। বর্তমানে তারা দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর কর্দোফান রাজ্যের শেখ আহমেদ আল-বাদাভি মসজিদে শিশুরা কোরআন অধ্যয়ন করছিল। তখন ওই ভবনে ড্রোন হামলা করা হয়। এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কোনো ধর্মের উপাসনালয়ে সামরিক হামলা গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়।  সুদানের চিকিৎসকরা বলেন, মসজিদের ভেতরে শিশুদের ওপর হামলা চালানো একটি গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। আরএসএফ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বারবার এ ধরনের হামলা করে যাচ্ছে। দ্যা সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, আরএসএফ-এর আগে খার্তুমের একটি গির্জা এবং এল-ফাশারের আরেকটি মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সামরিক হামলা করেছে। ধর্ম ও পবিত্র স্থানের প্রতি তারা কোনো শ্রদ্ধা পোষণ করে না। এ কারণে আরএসএফ বারবার এ ধরনের হামলা করে যাচ্ছে।
সুদানের মসজিদে ড্রোন হামলা, তিন শিশু নিহত
রানওয়ে থেকে ছিটকে সৈকতে পড়ল বিমান, সব যাত্রী অক্ষত
সোমালিয়ার প্রধান বিমানবন্দরে ৫৫ যাত্রী বহনকারী একটি বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই কারিগরি সমস্যার কারণে জরুরি অবতরণ করে। এ সময় বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করে কাছাকাছি সমুদ্রসৈকতের পানিতে পড়ে যায়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এপি। স্টারস্কাই এয়ারলাইন্সের সিইও আহমেদ নূর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মোগাদিশুর আদেন আব্দুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় বিমানের কেউ আহত হননি। স্টারস্কাই এভিয়েশন ফ্লাইটে থাকা ৫০ যাত্রী এবং পাঁচজন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করে বিমানবন্দরের কাছে ভারত মহাসাগরের তীরে অবতরণ করেছে। এ ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়নি। সোমালিয়ার পরিবহনমন্ত্রী মোহাম্মদ ফারাহ নূহ বলেছেন, উদ্ধারকারী দল বিমানের সব যাত্রীর খোঁজ পেয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে যাত্রীবাহী বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হবে। সোমালিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক আহমেদ মোয়ালিম জানান, উড্ডয়নের প্রায় ১৫ মিনিট পরেই সমস্যা দেখা দিলে বিমানটি উত্তরাঞ্চলীয় শহর গালকাসিওর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। জরুরি অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে থেকে সরে গিয়ে উপকূলে এসে পড়ে।
রানওয়ে থেকে ছিটকে সৈকতে পড়ল বিমান, সব যাত্রী অক্ষত
লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের নৌকাডুবি, নিখোঁজ ৫৩
লিবিয়ার উপকূলে একটি রাবারের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দুই শিশুসহ ৫৩ জন অবৈধ অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) লিবিয়ার জুওয়ারা শহরের উত্তরে ৫৫ জন অভিবাসী বহনকারী নৌকাটি উল্টে যায়। লিবিয়ান কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের সময় মাত্র দুই নাইজেরিয়ান নারীকে উদ্ধার করা হয়। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জাতিসংঘের এ মুখপাত্র জানান, একজন বেঁচে যাওয়া নারী ফিরে আসার পর জানিয়েছেন ওই নৌকাডুবির ঘটনায় তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। অন্যজন বলছেন যে, তিনি এই নৌকাডুবিতে তার দুই শিশুকে হারিয়েছেন। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বিবরণ অনুসারে, আফ্রিকান অভিবাসী এবং শরণার্থীদের বহনকারী নৌকাটি গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে লিবিয়ার আল-জাওইয়া থেকে ছেড়ে যায় এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আইওএম-এর তথ্য অনুসারে, শুধু জানুয়ারি মাসেই মধ্য-ভূমধ্যসাগরে একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ৩৭৫ অভিবাসীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের শত শত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। আইওএম-এর নিখোঁজ অভিবাসী প্রকল্প অনুসারে, ২০২৫ সালে মধ্য-ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। এদিকে সর্বশেষ এ ঘটনার ফলে চলতি বছর এ পথে মৃত বা নিখোঁজ অভিবাসীর সংখ্যা কমপক্ষে ৪৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের নৌকাডুবি, নিখোঁজ ৫৩
গাদ্দাফির ছেলে সাইফ গুলিতে নিহত
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে (৫৩) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে তাকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত এক দশক ধরে তিনি এ শহরেই অবস্থান করছিলেন। এদিন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র তার আইনজীবী খালেদ আল-জায়েদি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আল-জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা বলেন, সাইফ গাদ্দাফিকে ধারণা করা হচ্ছে খুন করা হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেনি রয়টার্স। এমনকি লিবিয়ার সরকারও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় সাইফের কখনও কোনো সরকারি পদ ছিল না। তবে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাকে তার বাবার পরে দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে ধরা হতো। ২০১১ সালে লিবিয়ার বিরোধী বাহিনীর হাতে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হলে তার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। একই বছরে বিরোধীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করার পর দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সাইফকে জিনতানে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সাধারণ ক্ষমার আওতায় ২০১৭ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও সুবক্তা হিসেবে সাইফ গাদ্দাফি তার বাবার স্বৈরশাসনের সামনে নিজেকে একজন আধুনিক ও প্রগতিশীল ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ২০০০ সালের শুরুর দিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স (এলএসই) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা।
গাদ্দাফির ছেলে সাইফ গুলিতে নিহত
নাইজারের বিমানবন্দরে আইএসের ভয়াবহ হামলা, নিহত ২০
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামে ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীরা ২০ আক্রমণকারীকে হত্যা করে এবং আহত হন চার কর্মী। হামলাকারীদের মধ্যে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের এই হামলায় একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ তথ্য জানিয়েছেন। আইএস তাদের বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘হঠাৎ ও সমন্বিত আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। যদিও তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। নাইজার সরকারের বরাতে রয়টার্স জানায়, হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিমানবন্দরের সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত তাদের লড়াইয়ের মুখোমুখি করে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর চারজন সৈন্য আহত হয়েছে, বিমানবন্দরের কিছু সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় এবং একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিমানবন্দরের এয়ার বেস ১০১ নামে একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় ২০ জন হামলাকারী নিহত হয় এবং ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। হামলার সময় বেসামরিক অংশে আগুনে গোলাবারুদ, উড়োজাহাজসহ অন্যান্য বস্তু ক্ষতিগ্রস্তের কথা বলে বলা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস জানিয়েছে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানবন্দরটি শুধু বেসামরিক ট্রাফিকের কেন্দ্র নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক স্ট্র্যাটেজির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের কারণে এটি জিহাদি সংগঠনগুলোর লক্ষ্যবস্তুর অন্যতম। এই হামলা নাইজারের সাম্প্রতিক মাসের সহিংসতা ও জিহাদি কার্যক্রমের ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে অস্থিতিশীলতার মধ্যে জিহাদি সংগঠন যেমন আইএস ও আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। ২০২৫ সালে টিলাবেরি অঞ্চলে তাদের হামলায় ১২০-এরও বেশি লোক নিহত হয় এবং সেখানে একজন আমেরিকান পাইলটও অপহরণ করা হয়েছিল। আফ্রিকা নিউজ বলছে, নাইজার সরকারকে সামরিক ক্ষমতায় নিয়ে আসা জুন্টা নেতা আবদুরাহমানে তিয়ানি এই হামলার আগে বিরোধী পক্ষ এবং বিদেশি শক্তি‑সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিলেন। যদিও কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনই আগে পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি, এই হামলা ইঙ্গিত দেয় যে আইএস‑জাতীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিমানবন্দরের কাছে রাতভর গুলিও ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ভোরের দিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সাধারণ কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। বাসিন্দাদের কথায়, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বিমানবন্দরসহ আশপাশে মহড়া প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নাইজারের বিমানবন্দরে আইএসের ভয়াবহ হামলা, নিহত ২০
স্কুলে যাওয়ার পথে ১৩ শিক্ষার্থী নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকার গাউতেং প্রদেশে স্কুল মিনিবাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে  কমপক্ষে ১৩ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে জোহাসেবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলেই ১১ শিক্ষার্থী মারা যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুই শিশু মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউরোনিউজ জানায়, শিক্ষার্থীবাহী মিনিবাসটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সকাল প্রায় ৭টার দিকে বিভিন্ন প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাউতেং জরুরি পরিসেবা জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত পাঁচজনকে সেবোকেং হাসপাতালে এবং আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোপানং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মিনিবাসটির চালকও আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং ট্রাকচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি বলেন, নিহতদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে জাতীয় ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এক বিবৃতিতে রামাফোসা বলেন, ‘আমাদের শিশুরাই জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার নিয়ম মেনে চলা এবং শিক্ষার্থী পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহনের মান নিশ্চিত করা জরুরি।’ এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার মৌলিক শিক্ষামন্ত্রী সিভিওয়ে গোয়ারুবে বলেন, স্কুল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক দুর্ঘটনাই চালকের অবহেলার কারণে ঘটে। তিনি শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনগুলোর রাস্তার উপযোগিতা নিশ্চিত করতে পরিবহন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।
স্কুলে যাওয়ার পথে ১৩ শিক্ষার্থী নিহত