পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামে ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীরা ২০ আক্রমণকারীকে হত্যা করে এবং আহত হন চার কর্মী। হামলাকারীদের মধ্যে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের এই হামলায় একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ তথ্য জানিয়েছেন। আইএস তাদের বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘হঠাৎ ও সমন্বিত আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। যদিও তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
নাইজার সরকারের বরাতে রয়টার্স জানায়, হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিমানবন্দরের সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত তাদের লড়াইয়ের মুখোমুখি করে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর চারজন সৈন্য আহত হয়েছে, বিমানবন্দরের কিছু সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় এবং একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিমানবন্দরের এয়ার বেস ১০১ নামে একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় ২০ জন হামলাকারী নিহত হয় এবং ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। হামলার সময় বেসামরিক অংশে আগুনে গোলাবারুদ, উড়োজাহাজসহ অন্যান্য বস্তু ক্ষতিগ্রস্তের কথা বলে বলা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস জানিয়েছে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানবন্দরটি শুধু বেসামরিক ট্রাফিকের কেন্দ্র নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক স্ট্র্যাটেজির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের কারণে এটি জিহাদি সংগঠনগুলোর লক্ষ্যবস্তুর অন্যতম।
এই হামলা নাইজারের সাম্প্রতিক মাসের সহিংসতা ও জিহাদি কার্যক্রমের ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে অস্থিতিশীলতার মধ্যে জিহাদি সংগঠন যেমন আইএস ও আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। ২০২৫ সালে টিলাবেরি অঞ্চলে তাদের হামলায় ১২০-এরও বেশি লোক নিহত হয় এবং সেখানে একজন আমেরিকান পাইলটও অপহরণ করা হয়েছিল।
আফ্রিকা নিউজ বলছে, নাইজার সরকারকে সামরিক ক্ষমতায় নিয়ে আসা জুন্টা নেতা আবদুরাহমানে তিয়ানি এই হামলার আগে বিরোধী পক্ষ এবং বিদেশি শক্তি‑সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিলেন। যদিও কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনই আগে পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি, এই হামলা ইঙ্গিত দেয় যে আইএস‑জাতীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিমানবন্দরের কাছে রাতভর গুলিও ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ভোরের দিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সাধারণ কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। বাসিন্দাদের কথায়, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বিমানবন্দরসহ আশপাশে মহড়া প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন






