ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

১৫ ক্রুসহ দুই তেলবাহী জাহাজ আটক করল ইরান

এশিয়া পোস্ট আন্তর্জাতিক

  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৭
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরব উপসাগরের ফার্সি দ্বীপের কাছে দুটি ‘জ্বালানি চোরাচালানকারী জাহাজ’ আটক করেছে। ট্যাংকার জাহাজ দুটিতে মোট ১০ লাখ লিটার (২ লাখ ৭০ গ্যালন) জ্বালানি পাওয়া গেছে। ১৫ জন বিদেশি ক্রু সদস্যকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

আইআরজিসি জানিয়েছে, এই জাহাজগুলো কয়েক মাস ধরে জ্বালানি পাচারের একটি নেটওয়ার্কের অংশ ছিল, কিন্তু তারা নজরে রেখেছিল। এই তথ্য প্রকাশ করেছে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) তথ্যটি জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

তবে জাহাজগুলো কোন দেশের তা জানায়নি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

তাসনিম নিউজ বলছে, ইরানি বাহিনী নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরে ট্যাংকার লক্ষ্য করে, যেগুলোকে তারা অবৈধ বাণিজ্যের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করে। এই অঞ্চল বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি এই ধরনের ঘটনার ধারাবাহিকতায় এই জব্দও একটি সর্বশেষ ঘটনা। ইরানে খুচরা জ্বালানির দাম বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম, তাই অন্য দেশে জ্বালানি চোরাচালান বিশেষভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে। সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ আটকের ঘটনা ঘটল। যদিও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন রয়েছে। ফলে তেহরানের এই পদক্ষেপ কি প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে মত বিশ্লেষকদের।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে আটকের চেষ্টা করেছিল বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা দাবি করেছিল, দুটি আইআরজিসি নৌকা ও একটি ইরানি মোহাজের ড্রোন দ্রুতগতিতে এম/ভি স্টেনা ইম্পেরেটিভ নামের জাহাজটির কাছে আসে এবং জাহাজে ওঠা ও আটক করার হুমকি দেয়।

তবে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি ছাড়া একটি জাহাজ ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। জাহাজটিকে সতর্ক করা হলে কোনো নিরাপত্তা ঘটনা ছাড়াই সেটি এলাকা ত্যাগ করে। এই ঘটনার পর সেদিন আরব সাগরে শাহেদ-১৩৯ মডেলের একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানায়, ড্রোনটি ভূপাতিত করতে ব্যবহার করা হয় এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান।

মন্তব্য করুন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা পারমাণবিক চুক্তির পথে এগোচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এখনও ফারাক আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খবর আল-জাজিরার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। এ আলোচনা এমন সময় হলো যখন সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে তীব্র দমন অভিযান চালানো হয়েছে। আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, শেষ পর্যন্ত কিছু মূল নীতিতে ব্যাপক সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছেন তারা। এগুলোর ভিত্তিতে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরি ও আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।  তিনি বলেন, ‘আগের ওমান রাউন্ডের তুলনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে এবং এখন আমাদের সামনে স্পষ্ট পথ রয়েছে।’ আরাগচি আরও জানান, উভয় পক্ষ চুক্তির খসড়া তৈরি করলে তা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করা হবে এবং পরবর্তী তৃতীয় রাউন্ডের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেডি ভ্যান্সও ডিপ্লোমেসিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বোঝাতে চেয়েছেন, তবে তিনি বলেন আলোচনার কিছু বিষয় জটিল। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালো হয়েছে; তারা পরবর্তী বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্য সম্মত হয়েছে। তবে অন্য দিকে, প্রেসিডেন্ট কিছু বিষয় নির্ধারণ করেছেন যা ইরান এখনও পুরোপুরি স্বীকার ও সমাধান করতে প্রস্তুত নয়।’ ভ্যান্স যোগ করেন, ‘আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব, তবে প্রেসিডেন্টের অধিকার রয়েছে যে তিনি কখন মনে করবেন ডিপ্লোমেসি শেষ।’ ইরান বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি চাইছে, যার মধ্যে রয়েছে তেল বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ। ইরান চায় আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং যে কোনো চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে এবং আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে ইরান শূন্য সমৃদ্ধকরণ মানতে রাজি নয় এবং তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে থাকবে। অন্যদি উপসাগরে অবস্থান ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পাঠিয়েছে। প্রথম ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন প্রায় ৭০০ কিমি দূরে অবস্থান করছে। এতে অন্তত ১২টি এফ-৩৫ ও এফ-১৮ যুদ্ধবিমান আক্রমণের জন্য প্রস্তুত। দ্বিতীয় ক্যারিয়ারও পাঠানো হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনি জানিয়েছেন, দেশটির সক্ষমতা আছে কোনো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার। ইরানীয় রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধাভ্যাস শুরু করেছে। তারা জানিয়েছেন, কোনো আক্রমণের পর প্রতিশোধ হিসেবে জলপথ বন্ধ করতে পারে, যা বিশ্বের তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সরবরাহকে প্রভাবিত করবে। গত বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় যখন ইসরায়েল হঠাৎ ইরানে হামলা চালায়, যার ফলে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা বোমা মারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হওয়া সম্ভব। তবে আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড ও ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ক আলোচনায় ইরান সম্ভবত সীমিত ছাড় দিতে পারে, বড় ধরনের সমঝোতা নয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা পারমাণবিক চুক্তির পথে এগোচ্ছে
হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফা পারমাণবিক আলোচনা শুরুর সময় ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। খবর এবিসির ইরান সরকারের দাবি, সরাসরি সামরিক মহড়া পরিচালনার কারণে নিরাপত্তা ও নৌচলাচল-সংক্রান্ত উদ্বেগের জন্য কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রণালিটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কূটনৈতিক বার্তা। যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে বিপুল সামরিক শক্তি জড়ো করছে এবং চুক্তি না হলে ইরানের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা কর্মসূচির পরিচালক সিনা আজোদি বলেন, আলোচনার দিনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কাকতালীয় নয়। তার মতে, পারস্য উপসাগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব দেখাতে ইরান এমন বার্তা দিতে চেয়েছে। আলোচনা নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য উত্তেজনার মধ্যেও দুপক্ষের কর্মকর্তারা আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ওমান মধ্যস্থতা করেছে। আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ভালো হয়েছে এবং পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। তবে তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা ঠিক করেছেন, যেগুলো ইরান এখনও পুরোপুরি মানতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, উভয়পক্ষ কিছু মূল নীতিগত বিষয়ে সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ বিন হামুদ আল বুসাঈদি বলেন, আলোচনা অভিন্ন লক্ষ্য ও কারিগরি বিষয় চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি এনেছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। উত্তেজনা কেন বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। যদিও ইরান দাবি করে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। চুক্তির বিনিময়ে ইরান চায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে দুটি বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সামরিক প্রস্তুতি সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত হতে পারে। অন্যরা বলছেন, এটি আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করার কৌশল। কূটনৈতিক চাপ না সামরিক বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার আগে বলেন, ইরান চুক্তিতে আগ্রহী বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। চুক্তি না করলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। এর জবাবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে, যেখান থেকে উঠে দাঁড়ানো কঠিন হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আগেভাগে আলোচনার ফল চাপিয়ে না দেওয়ার সতর্কবার্তাও দেন। জ্বালানি বাজারে প্রভাবের শঙ্কা হরমুজ প্রণালি অতীতে বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে তেহরান। যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য এই নৌপথ বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তবে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, প্রণালিটি কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা এমন একসময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। এটি কেবল সামরিক মহড়ার অংশ, নাকি কূটনৈতিক বার্তা, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে দুই দেশের প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাবই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, এই অঞ্চলের যে কোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা ইরানের
রমজানেও গাজায় উৎসবের বদলে টিকে থাকার লড়াই
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার পবিত্র রমজান মাসের চিত্র যুদ্ধের আগের বছরের চেনা দৃশ্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। নেই রাতভর ব্যস্ত বাজার, নেই বারান্দাজুড়ে রঙিন কাগজের ফুল বা আলোকসজ্জা। সিয়ামের মাসকে ঘিরে যে আনন্দঘন পরিবেশ থাকত, তার বদলে এখন বিরাজ করছে নীরবতা, শোক আর অনিশ্চয়তা। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর এটি গাজার প্রথম রমজান। এই দীর্ঘ সংঘাতে হাজারো প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং অবকাঠামো ভেঙে পড়ার পর মানুষ প্রশ্ন করছে— আসলেই কি কিছু বদলেছে?  গাজার এক বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজকে বলেন, নামমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকলেও গুলিবর্ষণ ও হামলা পুরোপুরি থামেনি। শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গাজায় রমজান মানেই ছিল রঙিন ফানুস, বাতি আর শিশুদের উচ্ছ্বাস। কিন্তু এবার সেই দৃশ্য নেই বলেই চলে। বাজারে যে সামান্য সাজসজ্জার জিনিস পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম অনেকের নাগালের বাইরে।  গাজার দুই সন্তানের মা ফাতমা বলেন, আগে প্রতি বছর সন্তানদের জন্য নতুন ফানুস কিনতেন। এখন একটি ছোট ফানুসের দামই ২৫ থেকে ৩০ শেকেল। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি নিয়েই সন্তুষ্ট হয়েছেন। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুরা খালি প্লাস্টিকের বোতল কেটে-ছেঁটে ফানুস বানিয়ে তাঁবুর সামনে ঝুলিয়ে দিচ্ছে। আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে তাঁবুর দেয়ালে আঁকা হয়েছে অর্ধচন্দ্র ও ‘রমজান মোবারক’— যেন বাস্তুচ্যুত জীবনের অন্ধকারে সামান্য আলো জ্বালানোর চেষ্টা। কিছু এলাকায় বাজার খোলা থাকলেও ক্রেতা কম। গাজা সিটির দোকানদার আবু আহমদ বলেন, মানুষের হাতে টাকা নেই। ফলমূলের দাম আকাশছোঁয়া, মাংস প্রায় বিলাসপণ্য। খেজুর ও জুস সীমিত আকারে মিললেও বেশির ভাগ পরিবারই ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। ফিলিস্তিনি সমাজবিজ্ঞানী মুস্তাফা ইব্রাহিম জানান, গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করছে। বেকারত্ব ৮০ শতাংশের বেশি। বাজারে কিছু পণ্য এলেও উচ্চমূল্য ও নগদ অর্থের সংকটে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তার ভাষায়, ‘এটি সমৃদ্ধির লক্ষণ নয়, এটি টিকে থাকার যুদ্ধ।’ রমজান শুধু রোজা নয়; এটি পারিবারিক মিলনমেলা, একসাথে ইফতার ও মসজিদে রাতের ইবাদতের সময়। কিন্তু বহু মসজিদ ও হাজারো বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ায় এবার নামাজ আদায় হবে তাঁবু বা অস্থায়ী কাঠামোয়। বহুতল বড় মসজিদগুলোর বেশিরভাগ এখন ধ্বংসস্তূপ। গাজায় প্রায় ১৯ লাখ মানুষের অনেকে তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বাস করছেন। কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরে ফিরলেও সেখানে নেই দরজা-জানালা, নেই বিদ্যুৎ বা পানির ব্যবস্থা। খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি এখনও প্রকট। প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। সব প্রতিকূলতার মাঝেও মানুষ চেষ্টা করছে রমজানের অনুভূতি ধরে রাখতে। কেউ তাঁবুর সামনে ছোট আকারে সাজসজ্জা করছেন, কেউ সন্তানদের জন্য একটি ফানুস কিনছেন, কেউ সামান্য খাবার জোগাড় করে ইফতার করছেন। মধ্য গাজার বাসিন্দা মুশিরা বলেন, ‘আমরা এখনও চেষ্টা করছি— শিশুদের একটু আনন্দ দিতে, কিছুক্ষণের জন্য বাস্তবতা ভুলতে।’ এই রমজান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন। টানা অনিশ্চয়তা, সীমিত ত্রাণ আর ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে এটি যেন খালি বোতলের তৈরি একটি ফানুসের ক্ষীণ আলো। গাজার শিশুদের প্রার্থনা খুবই সাধারণ— একটি রমজান যেন কাটে বোমাবর্ষণ ছাড়া। অনেকের আশা, অন্তত পরিস্থিতি যেন আর খারাপ না হয়।
রমজানেও গাজায় উৎসবের বদলে টিকে থাকার লড়াই
রমজানের আগে আল-আকসার ইমাম গ্রেপ্তার
অধিকৃত জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় মসজিদের আঙিনা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা। তবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-আকসা মসজিদ ঘিরে ইসরায়েলের কঠোর পদক্ষেপ জোরদারের প্রেক্ষাপটেই এই গ্রেপ্তার। ইমাম ও খতিবদের ওপর বিধিনিষেধ, মুসল্লিদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা এবং ইসরায়েলি পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় বসতি স্থাপনকারীদের বারবার মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ—এসবের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানায়। সংগঠনটি জানায়, শেখ আল-আব্বাসিকে মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত আদেশও দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এটি আল-আকসার বিষয়ে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং মসজিদের ইমামদের ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত। হামাস আরও অভিযোগ করে, আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা, মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া, রমজানকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ব্যাহত করা এবং বসতি স্থাপনকারীদের অভিযান জোরদার করা—এসব পদক্ষেপ দখলদার সরকারের পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ। এর মাধ্যমে মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, এর ইসলামি পরিচয় বদলে দেওয়া এবং ইবাদতের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি সংগঠনটির। সংগঠনটি জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও ১৯৪৮ সালের ভূখণ্ডে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় অবস্থান জোরদার এবং মসজিদের পরিচয় রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি আরব লীগ, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা এবং আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অধিকৃত জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও আল-আকসা মসজিদ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
রমজানের আগে আল-আকসার ইমাম গ্রেপ্তার
দুবাইয়ে রমজান উপলক্ষে সাড়ে ৫ ঘণ্টা অফিস
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই সরকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করেছে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অফিস চলবে। শুক্রবার কাজের সময় হবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। সরকারি দপ্তরগুলো চাইলে আরও সহজ কর্মঘণ্টা চালু করতে পারবে। এ ব্যবস্থায় কর্মীরা সকাল ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে যে কোনো সময় অফিস শুরু করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত মোট কর্মঘণ্টা পূরণ করতে হবে। যেসব কর্মীর দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী সম্ভব, তাদের সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই দিন অফিসের বাইরে বাসা থেকে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে তারা পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারবেন। পাশাপাশি রমজানের সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়া শিফটভিত্তিক দায়িত্বে থাকা কর্মী বা জনসেবা ও স্থাপনা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্তদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করবে। এতে সেবাদান কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় এবং মানসম্মত সেবা বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুবাই সরকারের মানবসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, কর্মীদের পারিবারিক ও সামাজিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে নমনীয় কর্মনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি, কর্মদক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইউএই সরকারও রমজান মাসে প্রায় একই ধরনের কর্মঘণ্টা ঘোষণা করেছে। ফেডারেল সংস্থাগুলো অনুমোদিত সহজ কর্মবিধি অনুসরণ করতে পারবে অথবা শুক্রবারে কর্মীদের হোম অফিসের সুযোগ দিতে পারবে। তবে এই সুবিধা প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।
দুবাইয়ে রমজান উপলক্ষে সাড়ে ৫ ঘণ্টা অফিস
সৌদি আরবে রোজা শুরু বুধবার
সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল বুধবার দেশটিতে রোজা শুরু হচ্ছে। এ খবর জানিয়েছে খালিজ টাইমস। সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। দেশটিতে চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তাই আগামীকাল বুধবার পবিত্র রমজান শুরু হবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আলেখবারিয়া জানিয়েছে, সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ১৪৪৭ হিজরির রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন। ফলে আজকে বাদ এশা তারাবিহ নামাজা আদায় করতে মুসলিম নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।  সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশেও পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে দেশটিতেও বুধবার রমজানের প্রথম দিন হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির আদালত। এদিকে গালফ নিউজ জানিয়েছে, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান বৃহস্পতিবার রমজানের প্রথম দিন ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশগুলোর আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি। এসব দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। অর্থাৎ পরের দিন থেকে প্রথম রোজা শুরু হবে। এর আগে, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনের আকাশে মঙ্গলবার রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বুধবার আকাশে চাঁদের সন্ধান চালাবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যদি চাঁদ দেখা যায় তাহলে বৃহস্পতিবার থেকে, নয়তো শুক্রবার থেকে রোজা শুরু করবে তারা।
সৌদি আরবে রোজা শুরু বুধবার
৩০ মিনিটে ট্রাম্পকে ৩ হুঁশিয়ারি খামেনির
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে দুই পক্ষই কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী’। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সাম্প্রতিক বক্তব্যে ভিন্ন সুর তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাত্র ৩০ মিনিটে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনটি পোস্ট দিয়েছেন খামেনি। পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সমালোচনা করেন এবং ইরানের আশপাশে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি সম্পর্কে হুঁশিয়ার করেন। ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন, ৪৭ বছরেও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে নির্মূল করতে পারেনি; এটা ভালো স্বীকারোক্তি। আমি বলছি, ‘ভবিষ্যতেও আপনি এই লক্ষ্য হাসিল করতে পারবেন না’।” এরপর খামেনি মার্কিন সামরিক আধিপত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী বলেই দাবি করা হয়, কিন্তু সেই শক্তিকেও এমন আঘাত করা হতে পারে যে তা আর উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হবে না।’ মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই বিপজ্জনক, তবে সেই যুদ্ধজাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠাতে সক্ষম অস্ত্র আরও বেশি বিপজ্জনক’। এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের উপস্থিতি ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ হিসেবে পরিচিত ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে এবং তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মহড়া চালিয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মহড়া ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরানও সামরিক প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই। জেনেভার এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকভ এবং জ্যারেড কুশনার। তারা এর আগে ওমানে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পরোক্ষভাবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই তিনি জেনেভায় গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে তিনি লিখেছেন, আলোচনার টেবিলে হুমকির সামনে আত্মসমর্পণের কোনো বিষয় নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছেন, কূটনৈতিকভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে তা সহজ হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বিষয়টি কঠিন হতে যাচ্ছে, যদিও অসম্ভব নয়।’ সব মিলিয়ে, সামরিক প্রস্তুতি ও কড়া বক্তব্যের মধ্যেও দুই দেশ আবার আলোচনায় ফিরেছে। এই পরোক্ষ সংলাপ পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভাঙতে পারে কি না, তা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র: এনডিটিভি।
৩০ মিনিটে ট্রাম্পকে ৩ হুঁশিয়ারি খামেনির
বলছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা / আরব বিশ্বের বেশিরভাগ জায়গায় মঙ্গলবার চাঁদ দেখা ‘অসম্ভব’
পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখার জন্য মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এদিন রমজানের চাঁদ দেখার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র বলছে, এদিন সন্ধ্যায় অধিকাংশ আরব ও ইসলামী দেশে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। খবর গালফ নিউজের। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, অনেক শহরে চাঁদ সূর্যের আগেই অস্ত যাবে। ফলে অর্ধচন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব হবে। সাধারণত সূর্যাস্তের সময় চাঁদের অবস্থান, সূর্যের সঙ্গে কৌণিক দূরত্ব ও সূর্যাস্তের পর আকাশে চাঁদ কতক্ষণ থাকে এসব বিষয়ের ওপর দৃশ্যমানতা নির্ভর করে। আবু ধাবিতে চাঁদ সূর্যাস্তের এক মিনিট আগে ও রিয়াদে চাঁদ সূর্যাস্তের ৩৭ সেকেন্ড আগেই অস্ত যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। একই অবস্থা দোহা, মানামা ও কুয়েত সিটিতেও। অন্যদিকে কায়রো, আম্মান ও বৈরুতে চাঁদ সূর্যাস্তের কয়েক মিনিট পরে অস্ত যেতে পারে। তবে তা খালি চোখে দেখার মতো পর্যাপ্ত উচ্চতায় থাকবে না। তালিকাভুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে কেবল হনলুলুতে টেলিস্কোপের মাধ্যমে সীমিতভাবে দেখার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যেসব দেশে মঙ্গলবার ২৯ শাবান, সেখানে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে। এদিকে আরব বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে মঙ্গলবার ২৯ শাবান হলেও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইরান, ভারত, মরক্কো ও মৌরিতানিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এদিন ২৮ শাবান হিসেবে গণ্য হয়। বিধায় আরব বিশ্বের একদিন পরই এসব দেশে রোজা, ঈদসহ দিন গণনা হয়ে থাকে।
আরব বিশ্বের বেশিরভাগ জায়গায় মঙ্গলবার চাঁদ দেখা ‘অসম্ভব’
সৌদির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা বুধবার 
প্রচলিত দাপ্তরিক হিজরি বর্ষপঞ্জি উম্ম আল-কুরা অনুযায়ী রমজানের প্রথম দিন নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। সে হিসেবে দেশটিতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন পড়বে। তবে জ্যোতির্বিদদের একাংশ বলছেন, সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা যাওয়ার সুযোগ নেই।  চাঁদ উঠুক আর না উঠুক সৌদি আরব তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে আসছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে কয়েক বছর ধরে।   প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, আকাশগত অবস্থান বিবেচনায় মঙ্গলবার চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এর আগে গত বছরের ২৬ মার্চ সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, গত কয়েক বছর সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখার বিষয়ে ‘মিথ্যা’ তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  রোজা শুরুর ব্যাপারে ইসলামি বিধান অনুযায়ী চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করেন মুসলিমরা। চন্দ্রবর্ষের ১২ মাসের প্রতিটি মাস ২৯ বা ৩০ দিনে হয়। রমজান ও ঈদের শুরু-শেষ নির্ভর করে নতুন চাঁদ দেখার ওপর। বিশ্বের কিছু দেশ নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো কোনো দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার অনুসরণ করে।  ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে জ্যোতির্বিদরা আপত্তি তুললেও নির্ধারিত দিনেই ঈদ ঘোষণা দেয় সৌদি। সেসময় কুয়েতের জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সুদান আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, এ দিন আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। কেউ দেখে থাকলে ছবি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। পরে অনুজ্জ্বল চাঁদের একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা ছবি প্রকাশ করে সৌদি।  এরপরের বছর ২০২৪ সালের ৬ জুনও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। জ্যোতির্বিদরা সৌদির চাঁদ দেখার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। তারপরও চাঁদ দেখার দাবি করে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছিল দেশটি। গত বছরও ঈদুল ফিতরের দিন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল সৌদি।  নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি নামের একটি ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ মিডেল ইস্ট আইকে বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদ দেখা অসম্ভব হলেও সৌদিতে চাঁদ দেখার দাবি আসার ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘোষণা প্রায়ই উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিলে যায়, যা সব সময় বাস্তব চাঁদ দেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 
সৌদির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা বুধবার