ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরব উপসাগরের ফার্সি দ্বীপের কাছে দুটি ‘জ্বালানি চোরাচালানকারী জাহাজ’ আটক করেছে। ট্যাংকার জাহাজ দুটিতে মোট ১০ লাখ লিটার (২ লাখ ৭০ গ্যালন) জ্বালানি পাওয়া গেছে। ১৫ জন বিদেশি ক্রু সদস্যকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এই জাহাজগুলো কয়েক মাস ধরে জ্বালানি পাচারের একটি নেটওয়ার্কের অংশ ছিল, কিন্তু তারা নজরে রেখেছিল। এই তথ্য প্রকাশ করেছে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) তথ্যটি জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
তবে জাহাজগুলো কোন দেশের তা জানায়নি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
তাসনিম নিউজ বলছে, ইরানি বাহিনী নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরে ট্যাংকার লক্ষ্য করে, যেগুলোকে তারা অবৈধ বাণিজ্যের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করে। এই অঞ্চল বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি এই ধরনের ঘটনার ধারাবাহিকতায় এই জব্দও একটি সর্বশেষ ঘটনা। ইরানে খুচরা জ্বালানির দাম বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম, তাই অন্য দেশে জ্বালানি চোরাচালান বিশেষভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে। সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ আটকের ঘটনা ঘটল। যদিও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন রয়েছে। ফলে তেহরানের এই পদক্ষেপ কি প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে মত বিশ্লেষকদের।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে আটকের চেষ্টা করেছিল বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা দাবি করেছিল, দুটি আইআরজিসি নৌকা ও একটি ইরানি মোহাজের ড্রোন দ্রুতগতিতে এম/ভি স্টেনা ইম্পেরেটিভ নামের জাহাজটির কাছে আসে এবং জাহাজে ওঠা ও আটক করার হুমকি দেয়।
তবে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি ছাড়া একটি জাহাজ ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। জাহাজটিকে সতর্ক করা হলে কোনো নিরাপত্তা ঘটনা ছাড়াই সেটি এলাকা ত্যাগ করে। এই ঘটনার পর সেদিন আরব সাগরে শাহেদ-১৩৯ মডেলের একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানায়, ড্রোনটি ভূপাতিত করতে ব্যবহার করা হয় এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান।
মন্তব্য করুন








