প্রায় সাত দশক পর ধনী বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য সীমিত পরিসরে মদ কেনার অনুমতি দিচ্ছে সৌদি আরব। এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর মুসলিম দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শিথিলতা ভবিষ্যতে পর্যটকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
দশকের পর দশক ধরে রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকা রাজধানীর অন্য অংশ থেকে আলাদা এক জগতের মতো ছিল। দূতাবাস, অভিজাত আবাসন, ছায়াঘেরা হাঁটার পথ ও ক্যাফে সংস্কৃতির জন্য পরিচিত এই এলাকায় তরুণ সৌদি এবং প্রবাসীদের আনাগোনা থাকলেও সেখানে মদ বিক্রি ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এখন সেই এলাকাতেই একটি কমপ্লেক্সের ভেতরে ছোট দোকানে নিয়ন্ত্রিতভাবে মদ বিক্রি করা হচ্ছে। আর এই সুযোগ ভোগ করছেন ধনী, অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দারা।
১৯৫২ সালে ইসলামের দুই পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনার তত্ত্বাবধায়ক সৌদি আরব মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক মহলে ভাবমূর্তি বদলাতে ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার করছে রিয়াদ। নিজেদের আরও মধ্যপন্থি ও বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরাই এসব সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সিনেমা হল চালু, বড় কনসার্টের আয়োজন, নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি এবং ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা সীমিত করার মতো পরিবর্তন এসেছে। তবে বৈধভাবে মদ বিক্রির এই নীরব উদ্যোগকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রিয়াদে প্রথম মদের দোকানটি চালু হলেও তখন কেবল অমুসলিম কূটনীতিকদের সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল। পরে ২০২৫ সালের শেষের দিকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়। এর আওতায় ধনী অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দারাও বিয়ার, ওয়াইন ও স্পিরিট কিনতে পারছেন।
এই সুবিধার যোগ্য হতে হলে প্রবাসীদের হয় প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পারমিট থাকতে হবে (খরচ বছরে প্রায় ১ লাখ সৌদি রিয়াল) অথবা মাসিক অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল আয়ের প্রমাণ দিতে হবে। এই প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগকারী, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের দেওয়া হয়।
দোকানে ঢোকার আগে ক্রেতাদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হয় এবং মোবাইল ফোন সিল করা ব্যাগে জমা রাখতে হয়। বিদেশি পর্যটকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই। দীর্ঘ লাইনে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হলেও ভেতরে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে সহজ বলে জানান ক্রেতারা।
সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা না থাকায় দোকানটির অবস্থান অনলাইন মানচিত্রেও দেখা যায় না। অনেকেই মুখে মুখেই এর খবর পেয়েছেন।
ইসলামি আইনে মদ নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে বহু বছর ধরে সৌদিতে গোপনে প্রচলিত। ব্যক্তিগত পার্টি, ধনী সৌদি পরিবারে ঘরে তৈরি বা চোরাই মদের ব্যবহার পরিচিত ঘটনা।
মন্তব্য করুন








