জেরুজালেমের বিভিন্ন চার্চের প্যাট্রিয়ার্ক ও প্রধানরা এক যৌথ বিবৃতিতে ‘খ্রিষ্টান জায়নবাদ’কে একটি ‘ক্ষতিকর মতাদর্শ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই মতাদর্শ পবিত্র ভূমিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং স্থানীয় খ্রিষ্টানদের স্বার্থ উপেক্ষা করে বাইরের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, বিবৃতিতে খ্রিষ্টান নেতাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অঞ্চলটির ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করছে। তারা নানা বিভ্রান্তিকর ধারণা ছড়াচ্ছে ও চার্চগুলোর কাজে হস্তক্ষেপ করছে।
চার্চ নেতারা অভিযোগ করেন, নিজেদের ‘খ্রিষ্টান সমর্থক’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও তারা এমন একটি রাজনৈতিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে, যেখানে বিশ্বাসী সবার ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি পবিত্র ভূমির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক চার্চগুলোর যাজকদের মিশনকে দুর্বল করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এদের কাজের পেছনে ইসরায়েলসহ বিভিন্ন স্থানের কিছু রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন রয়েছে। তারা এমন একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে চায়, যা এই পবিত্র ভূমি ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে খ্রিষ্টানদের উপস্থিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
জেরুজালেমের চার্চগুলোর প্যাট্রিয়ার্ক ও প্রধানদের যৌথ স্বাক্ষরে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে ইসরায়েলপন্থি ইভানজেলিক্যাল গোষ্ঠীর সমালোচনা করা হয়েছে। যারা গত এক দশক ধরে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে চার্চ বিষয়ক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, পবিত্র ভূমিতে বসবাসরত খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উপর আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব শুধুমাত্র জেরুজালেমের চার্চগুলোর প্যাট্রিয়ার্ক ও চার্চ প্রধানদেরই রয়েছে। এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ধর্মতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক মতবাদ প্রচার করা সত্ত্বেও খ্রিষ্টান জায়নবাদী ব্যক্তিত্বদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও স্বাগত জানানো হচ্ছে।
চার্চ নেতাদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি ঐতিহাসিক চার্চগুলোর কাজে হস্তক্ষেপের শামিল এবং শতাব্দীপ্রাচীন স্থানীয় চার্চকে অস্বীকার করার মতো বিষয়।
খ্রিষ্টান জায়নবাদ মূলত যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক ইভানজেলিক্যাল আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব, যা ফিলিস্তিনে ইহুদিদের প্রত্যাবর্তনকে বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে যুক্ত করে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্ত রাজনৈতিক সমর্থনকে বৈধতা দেয়।
ফিলিস্তিনি ধর্মতাত্ত্বিক ও চার্চ নেতারা দীর্ঘদিন ধরে একে ‘ধর্মতাত্ত্বিক উপনিবেশবাদ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এটি খ্রিষ্টধর্মকে বিকৃত করে, ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের উপেক্ষা করে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নৈতিক ভিত্তি জোগায়।
বিবৃতিতে জেরুজালেমের চার্চ নেতারা পবিত্র খ্রিষ্টান স্থাপনাগুলোর ওপর তাদের আধ্যাত্মিক দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা সেই ভূমি, যেখানে আমাদের প্রভু জীবন যাপন করেছেন, শিক্ষা দিয়েছেন, যন্ত্রণা ভোগ করেছেন এবং পুনরুত্থিত হয়েছেন।’
এটি জেরুজালেমের খ্রিষ্টান নেতাদের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি সতর্কবার্তা, যেখানে তারা বাইরের শক্তি দ্বারা খ্রিষ্টধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রবণতার বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন








