গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রতিদিনই লঙ্ঘন করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আনাদোলুকে জানায়, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-নাসর স্ট্রিটে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, আল-নাসর স্ট্রিট ইসরায়েলি সেনা মোতায়েনের আওতাভুক্ত এলাকার বাইরে অবস্থিত।
এর আগে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস উপকূলে ইসরায়েলি গুলিতে এক ফিলিস্তিনি জেলে আহত হন।
চিকিৎসা সূত্র জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরের আবু তাম্মাম স্কুলের আশপাশে ইসরায়েলি গুলিতে ৫৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই এলাকাও ইসরায়েলি সেনা মোতায়েনের বাইরে রয়েছে।
এ ছাড়া গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালার পূর্বাঞ্চলে এক ফিলিস্তিনি কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তারা পূর্ব রাফাহ এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ পথের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা চার ‘সশস্ত্র ব্যক্তিকে’ শনাক্ত করে। ওই ব্যক্তিরা সপ্তম ব্রিগেডের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে পাল্টা হামলায় চারজনকেই ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রাফাহ এলাকায় ‘বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তাদের দাবি, নিহতরা সবাই সুড়ঙ্গপথ দিয়ে বেরিয়ে এসেছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি চলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ হাজার ৫৫৩ জন আহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন








