ফিলিস্তিনের স্বাধীন ভূখণ্ড গাজায় টানা দুই বছরে দখলদার ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞে প্রায় ৩০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর নিহত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) শ্রদ্ধা জানিয়েছেন গাজাবাসী। গত বছর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ১০২ দিনে কমপক্ষে এক হাজার ৩০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক প্রতিবেদনে আল-জাজিরা জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় প্রায় ৩০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। অধিকৃত এই অঞ্চল গণমাধ্যমকর্মীদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সর্বশেষ সাংবাদিক হত্যার ঘটনাটি বৃহস্পতিবার। মধ্য গাজায় দখলদার বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হন তিনজন আলোকচিত্রী। তারা হলেন- আনাস গুনাইম, আব্দুল রউফ শাথ ও মোহাম্মদ কেশতা।
সহকর্মী ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গাজা উপত্যকায় গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরুর পর নিয়মিত আক্রমণ চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৩০০ বার গাজায় আর্টিলারি হামলা ও সরাসরি গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এদিকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার নিহত সাংবাদিকদের জানাজায় অংশ নিতে খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের মাঠে সমবেত হন শত শত গাজাবাসী। তাদের মধ্যে অনেক সাংবাদিকও ছিলেন। এ সময় গত দুই বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ফিলিস্তিনিরা। এদিন তথাকথিত ‘সন্দেহভাজন’ অভিযোগে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত হন ওই তিন সাংবাদিক।
হাসপাতালের বাইরে খোলা জায়গায় এই তিন সাংবাদিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একটি স্ট্রেচারে এএফপির কন্ট্রিবিউটর আব্দুল রউফ শাথের ‘প্রেস’ লেখা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট রাখা ছিল। ভেস্টের উপরে দুটি ড্যান্ডেলিয়নস ফুল ও কিছু পাপড়ি রেখেছিলেন জানাজায় একত্রিত হওয়া গাজাবাসী। এর আগে দেওয়া বক্তব্যে প্রবীণ সাংবাদিক ইব্রাহিম কান্নান বলেন, ‘আজ আমাদের সহকর্মীদের ওপর ইসরায়েলের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছি।’
নিহত ছেলেন ডাকনাম ব্যবহার করে সামির শাথ এএফপিকে বলেন, ‘আবেদ সাংবাদিকতাকে ভালোবাসতো এবং সম্মান করতো। কারণ সাংবাদিকতা মানুষের সমানে চাপা পড়া সত্যকে তুলে ধরে, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। আমার ছেলেই প্রথম সাংবাদিক নন, যাকে তারা (ইসরায়েলি বাহিনী) লক্ষ্যবস্তু করেছে।’ তবে ছেলে শাথের মরদেহ বহন করতে পারছিলেন না এই বৃদ্ধ বাবা।
মন্তব্য করুন








