প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারে উদ্দেশ্যই ছিল মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা। সে উদ্দেশ্য হাসিল হলেও রীতিমতো বিপদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আবার হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। জানিয়েছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে ‘অযাচিত’ আমলাতন্ত্রও চায় না অ্যামাজন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে অ্যামাজন। গত বছরের অক্টোবর থেকে এ সংখ্যা দাঁড়াল মোট প্রায় ৩০ হাজারে। বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানটির ১৫ লাখ ৮০ হাজার কর্মী রয়েছে, সে তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ। এআই আধিপত্য এই বৃহৎ কর্মসংকোচনের কারণ বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
যদিও প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আরও গতি ফেরাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে আমলাতন্ত্র কমানোও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
অ্যামাজনের পিপল এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গ্যালেটি কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, এটি কঠিন খবর। তাই কী ঘটছে এবং কেন ঘটছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আজ যে পদসংকোচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা অ্যামাজনের বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ১৬ হাজার পদকে প্রভাবিত করবে। যারা ভুক্তভোগী হচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
এই ঘোষণার ফলে গত চার মাসে মোট প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করল অ্যামাজন। তবে এর মধ্যে কতজন যুক্তরাজ্যের কর্মী রয়েছেন, সে বিষয়ে কোম্পানিটি নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।
গ্যালেটি বলেন, ‘অক্টোবরে যেমনটি জানিয়েছিলাম, আমরা ব্যবস্থাপনার স্তর কমানো, দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতন্ত্র দূর করার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছি। কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, কয়েক মাস পরপর বড় ধরনের ছাঁটাই ঘোষণা করা হবে, এটা কি তারই ধারাবাহিকতা? তাদের জন্য উত্তর হলো না।’
অ্যামাজন সূত্রে জানা গেছে, ছাঁটাইয়ের বড় অংশটি আমেরিকা মহাদেশে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তারা অ্যামাজনের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন খাতে নতুন পদের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও এই খাতে বিনিয়োগ জোরদারে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিশেষ করে ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে অ্যামাজন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও অনেক মানবিক কাজ ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, এমনকি করপোরেট পর্যায়েও।
মন্তব্য করুন








