পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আদিয়ালা জেলে বসেই দেশি মুরগি, ফল ও উন্নত মানের খাবারসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এ বিষয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজ জানিয়েছে, আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের জমা দেওয়া তিন পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে জেলে ইমরানের বসবাসের অবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
৭৩ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। ২০২২ সালের সংসদ ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ইমরানের আইনজীবী গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টকে জানান, জেলে থাকাকালীন ইমরান তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হারিয়ে ফেলেছেন। সোমবার একটি মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, চিকিৎসার পর পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর চোখের ফোলাভাব কমে গেছে এবং তার দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদন অনুসারে, ইমরানের জেল কম্পাউন্ডে ৫৭ ফুট লম্বা ও ১৪ ফুট প্রশস্ত করিডোর রয়েছে এবং এটি ৩৫/৩৭ লনের সংলগ্ন। কম্পাউন্ডে ৩০ থেকে ৩৫ জন বন্দির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ইমরান খান লনে বসে বই এবং সংবাদপত্র পড়ে সূর্যের আলো উপভোগ করেন। ব্যায়ামের জন্য তিনি একটি সাইক্লিং মেশিন এবং অন্যান্য জিম সরঞ্জামের সুবিধা পান।
তার খাদ্যতালিকার বিবরণে বলা হয়েছে—তিনি সকালের নাশতায় খেজুর, আখরোট, মধু, কফি, দই, লস্যি, উষ্ণ দুধ, চিয়া বীজ এবং ডালিমের রস খান।
তার দুপুরের খাবারে দেশি মুরগি, ছাগলের মাংস, সালাদ, মিশ্র আচার, আলুর চিপস, ভাজা ডিম এবং বিভিন্ন ধরনের মসুর ডাল থাকে। সন্ধ্যায় তিনি বাদাম, কিশমিশ, কুঁচি করা নারকিল, দুধ, খেজুর, কলা এবং আপেল শেক আকারে খান।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইমরান সারাদিন প্রাকৃতিক আলো ও তাজা বাতাস পান এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসহ একটি নিরাপদ পরিবেশে তাকে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন








