যৌন অপরাধে অভিযুক্ত মৃত জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে চলমান কংগ্রেসীয় তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের পর তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে, হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির না হওয়ায় ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার বিষয়ে কংগ্রেসে ভোটের প্রস্তুতি চলছিল।
বিল ক্লিনটন স্বীকার করেছেন তিনি এপস্টেইনকে চেনেন। তবে এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না বলে দাবি তার। ক্লিনটনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় বিশ বছর আগে এপস্টেইনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান।
এদিকে ক্লিনটন দম্পতির কবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলে ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসীয় কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেবেন।
রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হাউস ওভারসাইট কমিটি গত মাসের শেষ দিকে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রস্তাব অনুমোদন করে। এতে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন দেন, যা তদন্তটিকে দ্বিদলীয় রূপ দেয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ক্লিনটন দম্পতি কমিটির সামনে উপস্থিত হতে রাজি হয়েছেন। তার দাবি, তারা আগেই নিজেদের জানা তথ্য জমা দিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।
ক্লিনটন দম্পতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এপস্টেইন বিষয়ে তাদের কাছে থাকা সীমিত তথ্য ইতোমধ্যে শপথনামার মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নতুন করে তলব করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এটি মূলত বিরোধীদের বিব্রত করার কৌশল।
এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার কোনো ব্যক্তি এখন পর্যন্ত বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। তবে সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০০২ ও ২০০৩ সালে বিল ক্লিনটন এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে চারবার আন্তর্জাতিক সফর করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত কিছু ছবিতে বিল ক্লিনটনকে এপস্টেইনের একটি সম্পত্তিতে দেখা যায়। এসব ছবি এমন একটি আইনের আওতায় প্রকাশ করা হয়, যার মাধ্যমে এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্ত নথি জনসম্মুখে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ছবিগুলোতে তাকে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে এবং একটি হট টাবে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে ক্লিনটনের মুখপাত্র জানান, ছবিগুলো পুরোনো এবং এপস্টেইনের অপরাধ প্রকাশের আগেই বিল ক্লিনটন তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
গত মাসে ক্লিনটন দম্পতি হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারকে চিঠি দিয়ে তদন্ত পরিচালনার সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান তদন্ত পদ্ধতি সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়ক নয় এবং এতে দলীয় রাজনীতির প্রভাব রয়েছে।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে তলব জারি করা হয়েছে দ্বিদলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ক্লিনটনের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত করে আসছিলেন।
জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় এখনো বড় ধরনের প্রভাব রেখে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্লিনটন দম্পতির কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত তদন্তে নতুন গতি আনতে পারে। একইসঙ্গে এটি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা, ক্ষমতার জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী দিনগুলোতেই স্পষ্ট হবে।
সূত্র : বিবিসি
মন্তব্য করুন








