যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী মুখ রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন মারা গেছেন। তিনি প্রায় অর্ধশত বছর ধরে এই আন্দোলন করে আসছিলেন। ১৯৮৮ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পরিবার সূত্রে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। তবে কি কারণে তিনি মারা গেছেন, তা জানানো হয়নি।
এক বিবৃতিতে তার পরিবার জানায়, রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন শুধু পরিবারের জন্যই নন, বরং বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত ও কণ্ঠহীন মানুষের জন্য একজন ‘সেবক’ ছিলেন। ন্যায়বিচার, সাম্য ও ভালোবাসার প্রতি তার অটল বিশ্বাস লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। এই মহান মানুষটি আমাদের ছেড়ে পরলোক গমন করেছেন। যদিও এতে মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
জানা গেছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রোগ্রেসিভ সুপারান্যুক্লিয়ার প্যালসি (পিএসপি) রোগে ভুগছিলেন। শুরুতে তার পার্কিনসন রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণেও তিনি দুবার হাসপাতালে ভর্তি হন।
১৯৬০-এর দশক থেকে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ও ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতে সক্রিয় জ্যাকসন একসময় মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০২০ সালে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে একজন পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থী হিসেবে তাকে সন্দেহ, নিন্দা ও ভয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি অনেকেই বিশ্বাস করতেন না যে, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন।
বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে যখন বারাক ওবামা ইতিহাস গড়েন। তখন অনেকে বলেন, তিনি কাচের ছাদ ভেঙে দেন, কিন্তু সেই ছাদে প্রথম ফাটল ধরিয়েছিলেন জেসি জ্যাকসন। ওবামার প্রায় দুই দশক আগেই জ্যাকসন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন জিততে পারেননি।
দুজনের রাজনৈতিক যাত্রা ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠে। জ্যাকসন ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উত্তাপ থেকে উঠে আসা এক বাগ্মী নেতা, যার রাজনীতি গভীরভাবে প্রতিবাদ ও আন্দোলননির্ভর। অন্যদিকে, ওবামা ছিলেন নাগরিক অধিকার-পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি; তিনি তুলনামূলকভাবে শীতল ও কৌশলী পন্থা অবলম্বন করে ব্যবস্থার ভেতরে থেকেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন, সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে।
জ্যাকসন প্রকাশ্যে কখনও বিরক্তির কথা অস্বীকার করলেও, ২০০৮ সালের নির্বাচনি প্রচারের সময় একটি গরম মাইকে ওবামা সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করার কারণে তাকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। তিনি এক পর্যায়ে অভিযোগও করেছিলেন যে, ওবামা কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের সঙ্গে কঠোর ভাষায় কথা বলছেন। তবু ইতিহাসে দুজনই মার্কিন রাজনীতিতে কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বের পথ প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও পরস্পর-সম্পর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হন।
মন্তব্য করুন








