প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা সফর করার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক অভিযান চালিয়ে সস্ত্রীক দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার এক মাসেরও বেশি সময় পর তার এই সফরের পরিকল্পনার খবর সামনে এলো। খবর আল-জাজিরার।
দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ আছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় ট্রাম্প এই তথ্য জানান। সেখানে তিনি গত মাসের শুরুতে সস্ত্রীক মাদুরোকে অপহরণে জড়িত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলা সফরে যাচ্ছি’। তবে সফরের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন। পরিকল্পিত এই সফরের বিষয়ে খুব কম তথ্যই দিয়েছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিল ক্লিনটনের পর এই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে (২০১৭-২১) ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ভেনেজুয়েলা সফর করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পরিবর্তে দায়িত্বে থাকা ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্প রদ্রিগেজের প্রশংসা করে বলেন, তারা ভালো কাজ করছেন, তেল উৎপাদন বাড়ছে এবং অর্থ আসছে।
রদ্রিগেজের সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু ছাড় দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিউবায় তেল পাঠানো বন্ধ করা, রাষ্ট্রীয় তেল শিল্প বিদেশি কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করা এবং শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া। ভেনেজুয়েলার সংসদে রাজনৈতিক বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার একটি বিল নিয়ে আলোচনা হলেও তা এখনো পাস হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে শেভরন, বিপি, এনি, শেল এবং রেপসোলের মতো কোম্পানিগুলো সেখানে তেল ও গ্যাস কার্যক্রম বাড়াতে পারবে। এ ছাড়া বিদেশি কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ চুক্তিও করতে পারবে, তবে রাশিয়া, ইরান ও চীনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই অনুমতি প্রযোজ্য নয়।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ চান। জ্বালানি সচিব রাইট জানান, মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকে তেল বিক্রি ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং কয়েক মাসের মধ্যে তা ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই আয়ের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।
তবে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাবকে ভেনেজুয়েলার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছেন। এ ছাড়া একটি সামরিক অভিযানের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হতে পারে।
মন্তব্য করুন








