ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ঐতিহাসিক সোনামসজিদে অসংখ্য ফাটল, কমছে আয়ু

এপি নিউজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩২
মহাসড়কের পাশে কম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত সোনামসজিদের দেয়াল। ছবি: এপি

ঐতিহাসিক সোনামসজিদের পাশ দিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক। প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক চলে মসজিদটি ঘেঁষে। ৮ টনের অধিক মাল নিয়ে যখন ট্রাকগুলো চলে তখন মনে হয় মসজিদে ভূমিকম্প হচ্ছে। ওজন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেই। এতে করে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। ঐতিহাসিক মসজিদটি রক্ষায় বাইপাস সড়ক নির্মাণও ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে আছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সোনামসজিদটি প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় নগরীর উপকণ্ঠে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সুলতানি আমলের স্থাপত্য সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর মৌজার এ ছোট সোনামসজিদ। যা শিল্প ভাস্কর্যের অন্যতম নিদর্শন। মসজিদটিতে রয়েছে মোট ১৫টি গম্বুজ। যা সোনা মসজিদের অপরূপ শোভা ধারণ করেছে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৮২ ও প্রস্থ ৫২ ফুট, উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। মসজিদে ঢোকার জন্য সামনের দেওয়ালে সমমাপের পাঁচটি দরজা রয়েছে। মসজিদটি মূলত ইটের ইমারত হলেও দেওয়ালের বাইরের অংশ পাথর দিয়ে আবৃত। পাথরের উপর খোদায় করা লতাপাতা, গোলাপ ফুল, ঝুলন্ত শিকল, ঘণ্টার কারুকার্য রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, কিছু সংখ্যক স্বর্ণ-শিল্পী এই মসজিদের সাজ-সজ্জার পরিকল্পনা বা নকশা প্রস্তুত করেছিলেন। পরে এ গম্বুজগুলো সোনালী রঙে গিল্ট (সোনায় বাঁধানো) করা হলে এটি সোনামসজিদ নামে পরিচিতি পায়। বঙ্গের গৌরবময় রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আলা-উদ-দীন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ, আরবি সাল- ৮৯৯-৯২৫ হিজরি) ওয়ালী মুহম্মদ আলী এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

এই মসজিদের প্রাচীর সীমানার মধ্যে সমাহিত রয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। এছাড়াও অর্ধ-কিলোমিটার পাশে রয়েছে হজরত শাহনেয়ামতুল্লাহ (র.) এর মাজার, তোহাখানা, দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা। সোনামসজিদসহ এসব স্থাপনা দেখতে প্রতিদিন ৮ শতাধিক পর্যটক আসেন এবং স্থাপনাগুলো দেখে মুগ্ধ হন। কিন্তু পর্যটকরা স্থাপনাটি দেখে মুগ্ধ হলেও বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ফাটল দেখে মর্মাহত। দেশীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, কুয়েত, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা প্রতিদিন এটি দেখার জন্য আসেন।

পাবনা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক আরিফুল ইসলাম জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশে কেন উল্টো চিত্র। ১০ মিনিট সোনামসজিদ চত্বরে থাকা অবস্থায় অন্তত ৫ বার কম্পনের অনুভূতি পেলাম। এ অবস্থা চলতে থাকলে তো একসময় প্রাচীন এ স্থাপনা টি ধ্বংস হয়ে যাবে।

পটুয়াখালীর আহসানুল কবির রিপন জানান, গৌড়ের সবগুলো স্থাপনায় বেশ সুন্দর। সব স্থাপনায় রক্ষণাবেক্ষণ জরুরী। তবে সোনামসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণে একদমই উদাসীন মনে হচ্ছে। কারণ এর দেয়ালে অসংখ্য ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মসজিদ সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গির কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, অপরিকল্পিতভাবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংস্কার কাজ করছে। কম্পনে পাথরগুলো আলগা হলে সিমেন্ট বালু দিয়ে মেরামত করা ছাড়া কোন কাজ করেনা। মসজিদের ভেতরও কোন মেরামত করা হয় না। আর যে কারণে ফাটল দেখা দিচ্ছে সে কারণ অর্থাৎ ভারী যানের কারণে অনুভূত কম্পন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, মসজিদের পাশেই মহাসড়কে উল্টো স্পিড ব্রেকার দিয়েছে। এতে করে ভারী যান যখন জোরে চলে তখন স্পিড ব্রেকারের কারণে আরও জোরে কম্পন অনুভূত হয়। তাই এটা কোন সমাধান হতে পারে না। আর সড়কে অতিরিক্ত পণ্য মাপার যন্ত্র কোটি কোটি টাকা খরচ করে বসানো হলেও একদিনের জন্যও পণ্যবাহী ট্রাক মাপা সম্ভব হয়নি। এতে করে মহাসড়কের স্থায়িত্ব যেমন কমছে, তেমনি মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গির সেতু ও ঐতিহাসিক সোনামসজিদেরও স্থায়িত্ব কমছে।

স্থানীয় অধিবাসী শাহবাজপুর গ্রামের মজিবুর রহমান জানান, এ মসজিদটি রক্ষায় স্থানীয় রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে। মসজিদ ঘেঁষে যে সড়ক রয়েছে এটি দ্রুত সরাতে হবে। সেই সঙ্গে এ সড়ক দিয়ে সকল পণ্যবাহী ট্রাক সহ ভারী যানবাহন চলাচল দ্রুত বন্ধ করলেই স্থাপনাটি রক্ষা করা সম্ভব।

ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ জানান, মসজিদে নামাজ পড়ার সময় ভারী যান চলাচল করলে মনে হয় ভূকম্পন হচ্ছে। তাই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানিয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ছোট সোনামসজিদ ধসে পড়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সোনামসজিদ গৌড় গ্রুপ অফ মনুমেন্টস বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক শাহীনুজ্জামান খান বলেন, মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যের ছোট সোনামসজিদ। আমরা দফায় দফায় বিকল্প সড়ক বা বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য যোগাযোগ করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি ধসে যাবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিনুর রহমান বলেন, আপাতত বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। তবে ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিবেচনায় রেখে মসজিদের সামনে কম্পন নিরোধক স্থাপন এবং ঢালাই সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই এই কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পণ্যবাহী ট্রাকের কম্পনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে ছোট সোনামসজিদ রক্ষা পাবে।


মন্তব্য করুন

সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
ময়মনসিংহের ফুলপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস শেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। বালিয়া মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সেনাবাহিনীর একটি বড় গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর গাড়ির চালক ও বাসের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত আটজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, নিহত সেনাসদস্য সার্জেন্ট পদমর্যাদার ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পর কার্যালয়ের সামনে টাঙানো ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের দিন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয়। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের সামনে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্যোগেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভোরে কিছু লোক সেখানে ব্যানার টাঙায়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। কিছুক্ষণ পর ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ব্যানারটি কারা সরিয়েছে, তা জানা যায়নি।
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
সিলেটের হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১০-১২ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। পরদিন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন কোনো দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ সময় সরকারও কার্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জেলা কার্যালয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় এক বক্তা বলেন, শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহিরের নির্দেশে আজ আমরা কার্যালয় খুলেছি। এর মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হলো। হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ-সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে পাঁচজন জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে নাইক্ষ্যংদিয়া নামক নাফ নদী থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সত্যতা নিশ্চিত করে শাহপরীর দ্বীপ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, জালিয়াপাড়া এলাকার মাহামুদুল্লাহর নৌকাটি মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে আরাকান আর্মি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপহৃত জেলেরা হলেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ, শাহ আলম, আমীর আব্বাস, আবুল হোসন। এর মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তারা স্থানীয় মাহামুদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন নৌকায় মাছ শিকার করছিল। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আতাউর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি নৌকা একসঙ্গে মাছ শিকার শেষে ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যায়। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এসে একটি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যায়। অন্য নৌকাগুলো দ্রুত সরে এসে নিরাপদে ফিরে আসি। তিনি আরও বলেন, মাছ শিকার শেষে ফেরার সময় মিয়ানমারের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে আসতে হয়। এ কারণে প্রায়ই জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময় নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে জিন্মি ছিল। এদের মধ্যে গত সোমবার ৭৩ জনকে ফেরত আনে বিজিবি। এ ঘটনার দুই দিনের মাথায় নাফ নদীতে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটল।
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন লম্বরী ও মিঠাপানির ছড়া নৌঘাট এলাকা থেকে ভেসে আসা তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী সৈকত এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে দুটি মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয় জেলেরা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ওসি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া তরুণীর শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। অপরদিকে তরুণের পরনে লম্বা প্যান্ট ও জ্যাকেট ছিল। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ দুটির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকেও জামিন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন। বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির জানান, আদালত বুধবার এই তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বরিশালের অন্তত ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পর্শে হয়ে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার দক্ষিণ নলুয়া গ্রামের খান বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন মৃত শাহাদাত খানের স্ত্রী আমেনা বেগম রিনা (৬৫) এবং তার ছেলে এনামুল হক রাসেল খান (৩৫)। স্বজনরা জানান, বাড়ির প্রায় ৫০০ গজ উত্তরে তারা নতুন ভিটাবাড়িতে সেচের জন্য শ্যালো মেশিনে পানি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ জন্য রাস্তার পাশে স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন এনামুল হক রাসেল।  এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুতায়িত হন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমেনা বেগম রিনাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বাধ্য। কাগজে-কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে কোনো ভৌত অবকাঠামো নেই এসবের। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাজারো মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। তবে এগুলোর কোনো অবকাঠামো নেই। ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রে কোনো জনবল নেই। কসবা ইউনিয়ন কেন্দ্রের দুজন জনবল থাকলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর নাচোলকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ৪টি ইউনিয়ন গঠিত হয়- নাচোল, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর। সাধারণত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকা উচিত, যেখানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন স্যাকমো কর্মরত থাকেন। কিন্তু বাস্তবে এখানে কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয়রা উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া ও ওষুধের খরচ বাড়ছে। দীর্ঘদিন কেন্দ্র না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কসবা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। ভাড়া ও ওষুধপত্রের খরচ বাড়ছে। দ্রুত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক।’ নাচোল উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, তবে অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। নেজামপুর ও ফতেপুর কেন্দ্রে জনবল নেই। কসবা কেন্দ্রে একজন স্যাকমো পদে কর্মরত আছেন, তবে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। তবে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে জনবল শূন্য। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ওইসব জায়গায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগামীতে ওইসব ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে।  এটা অবশ্যই স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবি। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে বেশ উৎপর। আশা করছি, এসব সংকট নিরসন হবে।
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের এ কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন তারা। নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করতেই দীর্ঘদিন পর তারা কার্যালয়ে ফিরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কর্মী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দাবি ছিল কার্যালয়টি চালু করার। আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি।’
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
আরও পড়ুন
রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ
জামায়াতের পথসভায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গরু চোরাচালানের মূলে ৮ হোতা
মেয়ে গেল প্রেমিকের কাছে, বাবা গিয়ে ফাটালেন ককটেল