ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করলেন তাসনিম জারা

এপি নিউজ

  ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৪
ডা. তাসনিম জারা। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ডা. তাসনিম জারা। ইশতেহারে তিনি নাগরিক বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-৯ এলাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে ‘ফুটবল’ প্রতীকের এই প্রার্থী বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো। ভাষারীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার লেখা কিছু বানানে সংশোধন আনা হয়েছে।

পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, ঢাকা-৯ আসন এই শহরের প্রাণ, অথচ আমাদের সঙ্গেই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। আমরা গুলশান-বনানীর সমান ট্যাক্স দিই, সমান বিল দিই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণির। ভোটের সময় নেতারা আসেন, ভোট নেন, তারপর উধাও হয়ে যান। রাষ্ট্র আমাদের কেবল রাজস্ব আদায়ের উৎস’ মনে করে। টাকা নেওয়ার সময় আছে, কিন্তু সেবা দেওয়ার সময় নেই।

আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার : ঢাকা ৯ আসনকে অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দিই, আমাদের অধিকারও সমান। আমাদের ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নেব।

গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা : বাসযোগ্য ঢাকা-৯ চাই

সমস্যা : প্রতি মাসে আমরা গ্যাসের জন্য বিল দিচ্ছি। কিন্তু চুলা জ্বালালে কী বের হয়? বাতাস। গ্যাস নেই, কিন্তু বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এটা এক ধরনের প্রতারণা। এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে বাসার পাশে ও রাস্তায় দুর্গন্ধে টেকা দায়। রাস্তাগুলো বছরের পর বছর ভাঙাচোরা বা কাজ চলমান অবস্থায় পড়ে থাকে।

সমাধান : ক) ন্যায্য বিল: সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে ‘সেবা না দিলে বিল নেই’ (No Service, No Bill) নীতির জন্য খসড়া আইন প্রস্তাব করা এবং চাপ সৃষ্টি করা। তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তারা টাকা নিতে পারবে না। গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল মওকুফ করার প্রস্তাব থাকবে এই বিলে।

খ) সিন্ডিকেট ভাঙব : পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে এই এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্যদামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করব। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে চাপ দেব।

গ) জলাবদ্ধতা নিরসন : ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্ষার আগেই খাল ও নর্দমা পরিষ্কার নিশ্চিত করতে আমি ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখব।

ঘ) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পার্ক : ঘরের সামনে বা রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমতে দেওয়া হবে না। আধুনিক বর্জ্য অপসারণ (Secondary Transfer Station) ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ও এলাকার পার্কগুলোতে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করব।

ঙ) সমন্বয় ও জবাবদিহিতা : রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা চলবে না। ওয়াসা বা সিটি করপোরেশন, যে-ই রাস্তা কাটবে, কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ থাকবে। ডেডলাইন মিস করলে ঠিকাদারকে জরিমানা গুনতে হবে।

স্বাস্থ্য : চিকিৎসায় অবহেলা আর মানব না

সমস্যা : ঢাকা-৯ এলাকায় আমরা ৭-৮ লাখ মানুষ বাস করি। অথচ আমাদের জন্য বড় হাসপাতাল মাত্র একটি, মুগদা মেডিকেল। এটা একটা নিষ্ঠুর কৌতুক। ৫০০ বেডের এই হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ডাক্তার-নার্সরা অমানবিক চাপে কাজ করছেন, আর রোগীরা সেবা না পেয়ে ধুঁকছেন। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো ডেঙ্গু। প্রতি বছর বর্ষা এলেই লোক দেখানো মশার ওষুধ ছেটানো হয়, অথচ আমাদের প্রিয়জনরা মারা যায়।

সমাধান : একজন ডাক্তারের হাতেই সমাধান হবে ঢাকা-৯ আসনের স্বাস্থ্য সমস্যা। আমি একজন ডাক্তার। আমার দেশ-বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই সমস্যা সমাধানে কাজ করব।

ক) মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করব এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনব। এটি যেন একটি আদর্শ সেবাকেন্দ্র হয়, সেই উদ্যোগ আমি নেব।

খ) কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ‘মিনি হাসপাতাল’ : পাড়ার ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়নে বিশেষ বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নেব, যাতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে ছুটতে না হয়।

গ) ডেঙ্গু টাস্কফোর্স (সারা বছর) : বৃষ্টি আসার পর ওষুধ ছিটিয়ে লাভ নেই। আমরা একটি ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠন করব যারা সারা বছর ড্রেন পরিষ্কার ও লার্ভা নিধনের কাজ করবে। ডেঙ্গু মৌসুম আসার আগেই আমরা মশা মারব।

ঘ) নারী স্বাস্থ্য : গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী-বান্ধব টয়লেট ও ব্রেস্টফিডিং নিশ্চিত করতে কাজ করব।

নিরাপত্তা : মাদক সিন্ডিকেট হটিয়ে রাস্তা হবে জনগণের

সমস্যা : আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট এখন সাধারণ মানুষের নেই, চলে গেছে মাদক সিন্ডিকেটের দখলে। সন্ধ্যার পর খিলগাঁও বা বাসাবোর অলিগলি দিয়ে মা-বোনেরা হাঁটতে ভয় পান। যে শহর নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে শহর উন্নত হতে পারে না। আমরা ট্যাক্স দিই রাস্তার বাতির জন্য, আর সেই বাতি নষ্ট থাকে যাতে অপরাধীরা অন্ধকারে রাজত্ব করতে পারে।

সমাধান: ক) ‘নিরাপদ করিডোর : স্কুল, কলেজ এবং গার্মেন্টসের রাস্তায় আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা এবং উচ্চ-ক্ষমতার ল্যাম্পপোস্ট বসাব। অন্ধকার রাস্তা মানেই অপরাধের আখড়া। আমি ঢাকা-৯ এর কোনো কোণা অন্ধকার থাকতে দেব না।

খ) মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ : মাদকাসক্তদের আমরা ঘৃণা করব না, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসা করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, তাদের আমরা এক বিন্দু ছাড় দেব না। প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা মাদক ব্যবসায়ীমুক্ত করব।

গ) নারীবান্ধব পরিবহন : বাসে নারীদের সিট পাওয়া যুদ্ধজয়ের মতো। আমি পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে বসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যাবস্থা তৈরি করব।

শিক্ষা : আমাদের সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হোক

সমস্যা : অপরিকল্পিত কারিকুলাম আর ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের ‘গিনিপিগ’ বানিয়ে ফেলেছে। তার ওপর আছে স্কুলের ‘ভর্তি বাণিজ্য’। টাকা বা সুপারিশ ছাড়া ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়া যায় না। এই দুর্নীতি আমাদের মেধাবী সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।

সমাধান : আমি বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি চাই আমার এলাকার প্রতিটি সন্তান যেন বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ পায়। তা নিশ্চিত করার জন‍্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

ক) এমপির কোনো কোটা থাকবে না : আমি কথা দিচ্ছি, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো সুপারিশ বা কোটা থাকবে না। ভর্তি বাণিজ্য আমি কঠোর হাতে দমন করব। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র যোগ্যতা।

খ) স্কুল হবে ল্যাবরেটরি : আমার বরাদ্দের টাকা দিয়ে আমি স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং কোডিং শেখানোর ব্যবস্থা করব। এতে আমাদের ছেলেমেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং বা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। প্রতিটি স্কুলে লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে যাতে আমাদের শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ যথাযথভাবে ঘটে।

গ) স্মার্ট প্রজন্ম : শুধু বইয়ের পড়া নয়, মানসিক স্বাস্থ্য, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখার ওপর জোর দেব। আমাদের তরুণরা যেন বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।

ঘ) অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম : শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সংসদে লড়ব। একই সঙ্গে, স্কুলে বুলিং বা হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করব। স্কুলগুলোতে যেন অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম তৈরি হয় এবং তা যথাযথভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করব।

অর্থনীতি ও জীবিকা : মেধা আমাদের সবার, সুযোগ কেন কেবল ধনীদের?

সমস্যা : আমাদের অনেক তরুণ-তরুণীরা বেকার। কারণ, সিস্টেম তাদের পক্ষে নেই। তাদের মেধা আছে, কিন্তু পুঁজি নেই। রাষ্ট্র কেবল বড় শিল্পপতিদের ঋণ মওকুফ করে, কিন্তু আমাদের ছোট ব্যবসায়ী বা নতুন উদ্যোক্তারা ব্যাংকের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে যায়। আমাদের মায়েরা কাজ করতে চান, কিন্তু ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় সন্তানকে ঘরে রেখে তারা কাজে যেতে পারেন না। এটা অর্থনীতির ব্যর্থতা।

সমাধান : ক) ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড : আমি এমপি হলে আমার বিশেষ বরাদ্দ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সিডিং ফান্ড বা প্রাথমিক পুঁজির ব্যবস্থা করব। জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য আমি ব্যাংকের সঙ্গে লড়াই করব।

খ) কর্মজীবী মায়েদের মুক্তি : প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি খরচে বা ভর্তুকি দিয়ে ‘কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার’ চালু করব। যাতে মায়েরা নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন।

গ) শ্রমিকের মর্যাদা : গৃহকর্মী থেকে শুরু করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, সবার জন্য ‘ন্যায্য মজুরি’ ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমি সংসদে কথা বলব। কেউ যেন তাদের দুর্বলতার সুযোগ না নিতে পারে।

ঘ) স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন মার্কেট অ্যাক্সেস নিশ্চিত করব। যেন তারা শুধু দোকানে নয়, মোবাইলেও ব্যবসা করতে পারেন। আরও বেশি কাস্টোমারকে আকৃষ্ট করতে পারেন।

এমপির জবাবদিহিতা : আমি ‘অতিথি পাখি’ নই, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে

সমস্যা : ভোটের আগে নেতারা পায়ে ধরেন, আর ভোটের পরে তাদের টিকিটিও দেখা যায় না। এমপি সাহেব থাকেন গুলশানে বা সংসদে, আর আপনারা থাকেন সমস্যায়। এমপিকে পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। এই সংস্কৃতি আর কত দিন?

সমাধান : ক) এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় : আমি নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকার প্রাণকেন্দ্রে আমার স্থায়ী অফিস চালু করব। কর্মজীবীদের সুবিধার্থে এটি সন্ধ্যায়ও খোলা থাকবে। আমি এবং আমার অফিসের স্টাফরা আপনাদের জানানো সমস্ত সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করব।

খ) ওপেন ড্যাশবোর্ড : আপনার অভিযোগ কোনো ফাইলে চাপা পড়ে থাকবে না। আমরা ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড করব, যেখানে আপনারা দেখতে পাবেন আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী।

গ) কোনো প্রটোকল নয় : আমাদের সঙ্গে কথা বলতে কোনো ‘ভাই’ বা ‘নেতা’ ধরার প্রয়োজন পড়বে না।

আমার এলাকাবাসী, আপনাদের একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। আমি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার ও দেশ গড়ার একটা সুযোগ এসেছে, তাই রাজনীতিতে এসেছি। আমার এই ইশতেহার কোনো গতানুগতিক ‘ফাঁকা বুলি’ নয়। এটি আপনাদের সঙ্গে আমার চুক্তি। আমি যা লিখেছি, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছি।

আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন, যে ডাক্তার জানে রোগ কোথায় আর ওষুধ কোনটা, যে ডাক্তার কথা রাখে, যে ডাক্তার বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। এমন একজন শিক্ষিত সন্তানকে সুযোগ দিন, যে আপনাদের মাথা নত হতে দেবে না।

ঢাকা ৯ এর ভাগ্য বদলাতে, গ্যাস-পানির অধিকার আদায় করতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে, আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট দিন।

শেষে তিনি বলেন, আপনারা আমার শক্তি হোন, আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হব। বিজয় আমাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

নতুন মন্ত্রিসভায় উপেক্ষিত অনেক ত্যাগী নেতারা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। ঘোষিত এ মন্ত্রিসভার তালিকায় দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতা স্থান না পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাবিব উন নবী খান সোহেলের। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৬১৮টি মামলা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ৬১৮টি মামলার আসামি হয়েও প্রিয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল ভাইয়ের নাম মন্ত্রিসভায় নেই। তিনি এটিকে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতিতে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা প্রকাশ পায়। গোলাম সরোয়ার সরকার নামের এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দুদু ভাইকে আর কত বঞ্চিত করা হবে—রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে, অথচ মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়নি। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২৫৪টি মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। নয়াপল্টনে এক কর্মসূচি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতি নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা দেখা গেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ থাকাকালে সংসদ ভবন এলাকায় এক আন্দোলন কর্মসূচিতে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও আলোচিত হয়। তবে সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তারও স্থান হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি। ২০২৩ সালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে দলীয় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পুলিশের হামলার শিকার হন। তবুও ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর দলীয় অভ্যন্তরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব জ্যেষ্ঠ নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় উপেক্ষিত অনেক ত্যাগী নেতারা
আমাদের উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা: জামায়াত আমির 
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং আমিও বিরোধীদলীয় প্রধান হতে পারতাম না। তাই আমাদের সবার উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার মনিপুর স্কুলের সামনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।  রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব স্তরের আবর্জনা দূর করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে মন ভালো থাকে। গতকাল আমরা দুটো শপথ নিয়েছি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার জন্যই আমাদের শপথ। জামায়াত আমির বলেন, আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের আবর্জনা দূর করতে চাই। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ব। নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার করলে দেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।  
আমাদের উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা: জামায়াত আমির 
মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগদান ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রমাণ : নাহিদ ইসলাম
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে, সেটি জাতির সামনে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে, সরকার গঠনের প্রথম দিনেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে।’ ‘‌‌এটা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই নয়, এর মধ্য দিয়ে আইনি সংকট এবং জটিলতা তৈরি করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার আদেশে সই করে গণভোটে অংশ নিলেও এখন বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানের বিএনপি সরকারে যোগদান নৈতিক নয় বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সূত্র : বিবিসি বাংলা
মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের যোগদান ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রমাণ : নাহিদ ইসলাম
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর, উপনেতা তাহের ও চিফ হুইপ নাহিদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় উপনেতা হচ্ছেন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন গণামধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংসদীয় দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই ১১-দলীয় জোটের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হবে। এর আগে দুপুর ১২টার কিছু পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জামায়াত ও জোটের এমপিরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। দলটি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পায়। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭ আসনে বিজয়ী হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর, উপনেতা তাহের ও চিফ হুইপ নাহিদ
পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ওই কার্যালয়ে কেউ এসে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা টানিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং ঘটনাটি নিয়ে তারা আতঙ্কিত বলে জানান।
পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন
মন্ত্রিপরিষদের শপথে যাচ্ছে না এনসিপি
নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত সদস্যরা।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেয় এনসিপি। ওই পোস্টে এনসিপি উল্লেখ করে, ‘আজ বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে থাকবে না এনসিপি।’ পাশাপাশি একটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, এনসিপির নির্বাচিত ৬ সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোটসঙ্গী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এনসিপি। জামায়াত এমপিরাও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেন।  
মন্ত্রিপরিষদের শপথে যাচ্ছে না এনসিপি
জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং রাষ্ট্রকে নতুন ধারায় এগিয়ে নিতে সংসদ হবে প্রধান প্ল্যাটফর্ম। প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া এগোবে। তিনি বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যের শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নেই। এ কারণে ওই ধরনের কোনো প্রক্রিয়াও হয়নি। আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এসেছি। আগামীতেও রাষ্ট্র পরিচালনা হবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে। শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, গণভোটের রায় ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পর তৃতীয় তফশিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার বিষয়টি সংসদ নির্ধারণ করবে।   শপথের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যারা শপথ নিয়েছেন, উপস্থিত সবাই ওই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন।   শপথ গ্রহণের আগে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম থাকলেও আমরা (বিএনপি) কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। এ ছাড়া সংবিধানে এটা এখনও ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ নেবেন, সেটা বিধান করতে হবে।
জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র: সালাহউদ্দিন আহমদ
‘দুর্গ’ হারিয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
একসময়ের জাতীয় পার্টির (জাপা) অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে দলটির চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে, যেখানে লাঙলের হেভিওয়েট তিন প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় এই লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। শুধু পরাজিত হওয়াই নয়, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ তিন হেভিওয়েট প্রার্থীই তাদের জামানত খুইয়েছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘ ৪৭ বছর পর জেলার সবকটি আসনে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত এক দশকে এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। জেলার তিনটি আসনে জাপা প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ভোটের যোগফল মাত্র ৮ হাজার ১১১টি, যা দলটির অস্তিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে ১ লাখ ভোট ছিল, সেখানে এখন শূন্যের কোটা। লালমনিরহাটের নির্বাচনি ইতিহাসে জাতীয় পার্টির এমন শোচনীয় পরাজয় আগে কখনো দেখা যায়নি।  লালমনিরহাট-৩ (সদর):  এই আসনটি জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জি এম কাদের এই আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার এই আসনে জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জাহিদ হাসান লিমন লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ১৫০ ভোট। যেখানে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬২টি। একাদশ নির্বাচনের তুলনায় এই ধসকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ): এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এলাহান উদ্দিনের ফল ছিল সবচাইতে করুণ। ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৩টি প্রদত্ত ভোটের বিপরীতে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৮১০ ভোট। এক সময়কার শক্তিশালী এই ঘাটিতে জাপার এমন ভোটপ্রাপ্তি দলের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম): এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রার্থী হয়েছিলেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ ২ লাখ ৯১ হাজার ২২২টি ভোটের মধ্যে পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ১৫৮ ভোট। হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। লালমনিরহাটের তিনটি আসনে এবার ভোটার উপস্থিতি এবং সচেতনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনটি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৭টি। কিন্তু এই বিশালসংখ্যক ভোটারের মধ্যে লাঙল প্রতীক পেয়েছে মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, দলের নীতিহীন অবস্থান এবং বড় দলের লেজুড়বৃত্তি করার কারণেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাধারণ ভোটার এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পতনের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ তকমা। সাধারণ মানুষের মতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা এবং তাদের ওপর ভর করে নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়ার অপচেষ্টা ভোটাররা মেনে নেয়নি। অনেকেই মনে করছেন, জাপার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক মেরুদণ্ড না থাকায় মানুষ বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকেছে। এ ছাড়াও দলটির শীর্ষ নেতাদের হটকারী সিদ্ধান্ত এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়ন জাপাকে ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করেছে। নির্বাচনের আগে জাপা প্রার্থীরা বরাবরই এই অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের কাছে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন, মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করা এবং চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার সুযোগ পেয়েও সেসব বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো ভূমিকা না রাখায় সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে। ১৯৭৯ সালের পর লালমনিরহাটের সবকটি আসনে বিএনপির এই জয় এবং জাতীয় পার্টির এমন শোচনীয় পরাজয় এই জনপদের রাজনীতিতে নতুন এক মেরূকরণ সৃষ্টি করেছে। জাতীয় পার্টি যদি তৃণমূলের আস্থা এবং নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে এই ‘দুর্গ’ উদ্ধার করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, দল এখন হাইব্রিড নেতাদের দখলে। যারা ত্যাগী কর্মী তাদের মূল্যায়ন নেই। আগে মানুষ লাঙল বলতে পাগল ছিল, আর এখন মানুষ আমাদের হাসির পাত্র বানায়। রাজনৈতিক ভুলের কারণেই আজ এই ভরাডুবি।  একসময়ের ‘লাঙলের ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে এখন জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই বিপর্যয় কাটিয়ে দলটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে খোদ সমর্থকদের মধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এশিয়া পোস্টকে বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়ন না করা নিয়ে জাতীয় পার্টি যে নাটক করেছে, তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। তারা ক্ষমতায় থেকেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করার মতো মৌলিক দাবিগুলো পূরণ করেনি। বরং পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে তারা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে সহায়তা করেছে। লালমনিরহাটের মানুষ আর কোনো ধোঁকাবাজিতে বিশ্বাস করে না, যার প্রমাণ এই নির্বাচনের ফলাফল।
‘দুর্গ’ হারিয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। বিকেলে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নেবেন, তাদের ইতোমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।  মন্ত্রিসভায় যারা থাকছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু,  হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেড এম জাহিদ হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান,  জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফরিদ মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা স্থান পেয়েছেন এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ খৈয়াম, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)।
মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা
আরও পড়ুন
আমরা নতুনভাবে পথচলা শুরু করছি : ইরান
চট্টগ্রামে তারেক রহমানের সমাবেশে ড্রোন নিষিদ্ধ
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব চায়’ যুক্তরাষ্ট্র
ধানের শীষের দুর্গে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িপাল্লা