রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নতুন কাঠামোয় পরিচালনার লক্ষ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার।
আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা হয়েছে।
খসড়া পর্যায়ে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করে একটি ইন্টারডিসিপ্লিনারি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব ছিল। তবে চূড়ান্ত অধ্যাদেশে সে প্রস্তাব রাখা হয়নি। পরিবর্তে বলা হয়েছে, কলেজগুলোর নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে এবং তারা একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
এর আগে এসব কলেজ দীর্ঘদিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। পরে ২০১৭ সালে সেগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা ও নানা অভিযোগ সামনে আসে। শিক্ষার্থীদের একাংশ আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এ দাবি আরও জোরাল হয়। সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমানের একটি স্বতন্ত্র কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। পরে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করে ভর্তি কার্যক্রম আবার শুরু করা হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন কমিটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রূপরেখা তৈরি করে। খসড়া প্রস্তাবে কলেজগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠদান চালু রাখার কথাও ছিল। তবে প্রস্তাবিত স্কুলভিত্তিক কাঠামোর বিরোধিতা করেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে পদোন্নতিসহ প্রশাসনিক বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দ্রুত আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করার পক্ষে আন্দোলনে নামে। তাদের দাবি ছিল, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
অবশেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেয়। দুই সপ্তাহ পর তা গেজেট আকারে জারি হলো।
নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ফলে সাত কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। এখন নজর থাকবে, কীভাবে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
মন্তব্য করুন







