বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা মিশা সওদাগর। আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
পর্দায় মিশা সওদাগরকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই চরিত্রেই দেখা যায়। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নেতিবাচক চরিত্রেই তিনি নজর কেড়েছেন। তবে পর্দার মিশা আর বাস্তবের মিশার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সিনেপর্দায় তিনি যতটা নেতিবাচক ও হিংস্র, বাস্তবে ঠিক ততটাই ইতিবাচক ও মানবিক।
ব্যক্তিজীবনে একজন তুখোড় প্রেমিকও। ১০ বছর চুটিয়ে প্রেম করে বিয়ে করেন মিশা সওদাগর। তার স্ত্রী মিতা।
মিশা-মিতার প্রেমকাহিনি যেন চলচ্চিত্রের গল্পকেও হার মানায়। প্রেম ও বিয়ের স্মৃতিচারণ মিশা বলেন, প্রেমের যখন শুরু তখন আমি ম্যাট্রিক (এসএসসি) পরীক্ষার্থী। আর স্ত্রী মিতা পড়তেন নবম শ্রেণিতে। আমার আম্মা ও মিতার আম্মা নিকটাত্মীয়। আমাদের বাসা এবং তাদের বাসায় যাতায়াত ছিল। সেই সূত্র ধরেই প্রেম।
এই খল অভিনেতা আরও বলেন, আমরা তো ঢাকার লোক, নিজের ড্রেসআপ গেটআপের দিকে খেয়াল করতাম। পড়াশোনার দিকে অতটা খেয়াল করতাম না। কিন্তু মিতা ফাইভে বৃত্তি পাওয়া মেয়ে। তার মেধা আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। এই জায়গা থেকে আমার ফিল আরম্ভ হয়। প্রথম একটা চিঠি দিয়ে প্রেমের শুরুটা করেছিলেন মিতা। তবে দুজনের ১০ বছরের প্রেমের গল্প মোটেও সহজ ছিল না। ছিল পারিবারিক আপত্তি।
চট্টগ্রাম মেডিকেলে চান্স পেয়েছিলেন মিতা। তবে প্রেমের ঘটনায় তার আর সেখানে পড়া হয়নি।
মিশা সওদাগর এই ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, মিতা চট্টগ্রাম মেডিকেলে চান্স পেয়েছিল। আমি সেখানে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সেই খবরে ওর আব্বা ওর চট্টগ্রামে পড়া বন্ধ করে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে ভর্তি করেছিল। এ ছাড়া আরও অনেক ঝামেলা গেছে আমাদের। কিন্তু আমরা দুজন দুজনকে ছাড়িনি। একবার এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে তাকে বিদেশে পাঠাতে চেয়েছিল, তখন আমরা বিয়ে করি।
মিশা নামটি এসেছে তার স্ত্রীর কাছ থেকেই। মিতার ‘মি’ ও নিজের নামের শহীদ থেকে ‘শা’ একসঙ্গে করে এই অভিনেতার নাম হয় মিশা।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে মিশা-মিতা দম্পতি দুই পুত্রসন্তানের জনক। বড় ছেলে হাসান মোহাম্মদ ওয়ালিদ ও ছোট ছেলে ওয়াইজ করণী। তারা আমেরিকায় থাকেন। যে কারণে সুযোগ পেলেই স্ত্রী-পুত্রকে সময় দিতে সেখানে উড়াল দেন অভিনেতা।
মন্তব্য করুন








