ভ্যালেন্টাইন দিবসে দক্ষিণী সিনেমায় ভালোবাসার সুবাতাস বইয়ে দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অর্জুন সারজা। গুণী এই অভিনেতা নিজের পরিচালনায় ‘সীতা পায়নাম’ সিনেমার মাধ্যমে নতুন রূপে হাজির হয়েছেন পর্দায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতজুড়ে মুক্তি পায় তেলেগু সিনেমা ‘সীতা পায়নাম’। তবে এটি দর্শকমহলে এখন পর্যন্ত সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই সিনেমার মধ্য দিয়ে অর্জুন সারজার কন্যা ঐশ্বরিয়া সারজা অর্জুনের অভিষেক হয়েছে। প্রথম সিনেমাতেই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন সারজা। তার সাবলীল অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শকরা। প্রকাশ রাজ, সত্যরাজ ও জয়রামের মতো শক্তিমান অভিনেতাদের উপস্থিতি ছবিটির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে।
ব্যবসায়ী রাজেন্দ্র প্রসাদের (সত্যরাজ) মেয়ে সীতা (ঐশ্বরিয়া)। খুব অল্প বয়সে মাকে হারানোর পর থেকেই বাবাই ছিল তার দুনিয়া। জীবনের সব সুখ-দুঃখের ভাগীদার বাবার সঙ্গেই তার গভীর আত্মিক বন্ধন। বিয়ে করলে বাবাকে একা রেখে চলে যেতে হবে বলে প্রতিভাবান রাঁধুনি সীতা সিদ্ধান্ত নেয় সংসার করবেন না। একদিন রান্নাবিষয়ক এক কর্মশালায় যোগ দিতে বিশাখাপত্তনম থেকে হায়দরাবাদ যাওয়ার পথে রওনা দেয় সে। পথে সীতাকে লিফট দেয় অভি (নিরঞ্জন সুধীন্দ্র)। পথে বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে বিবাদ হওয়ায় কর্মশালায় যোগ দিতে তার দেরি হয়ে যায়। আর এই বিলম্বের কারণে মারাত্মক গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যায় সীতা। সেই বিবাদে থাকা লোকজনের কারণেই তার জীবন রক্ষা পেয়েছে বুঝতে পেরে, সে অভিসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই প্রত্যাবর্তন যাত্রা ঘিরেই দেখা দেয় টুইস্ট। কী ঘটে সেখানে, আসলে কে সেই অভি এবং সীতা শেষ পর্যন্ত কেন বিয়ে করে—সব উঠে আসে গল্পের শেষ অংশে থেকে। সূত্র: সিনেমা এক্সপ্রেস
অর্জুন সারজা ‘সীতা পায়নামে’র মাধ্যমে পরিচালনায় ফিরে আসেন। এই সিনেমা দিয়েই তার মেয়ে ঐশ্বরিয়া সারজা অর্জুন ও উপেন্দ্রের ভাগনে নিরঞ্জন সুধীন্দ্রর অভিষেক হলো। অ্যাকশন-প্যাকড সিনেমার জন্য পরিচিত অর্জুন এবার একটি আবেগভরা সিনেমা মঞ্চস্থ করেছেন। তবে দর্শকের কাছে সিনেমাটির গল্প খুব বেশি আবেগ ও আকর্ষণীয় মনে হয়নি। কাহিনির ধারাবাহিতা ও সতেজতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। কিছু কিছু দৃশ্যে বাস্তবতারও অভাব বোধ হয়েছে। দক্ষিণী সিনেমায় যেরকম হাই-প্রেস অ্যাকশন বা কাহিনির টুইস্ট থাকে এই সিনেমায় সেসব নেই বললেই চলে। গানগুলোর মধ্যেও আবেগ স্পষ্ট অনুপস্থিত।
‘সীতা পায়ানাম’-এর গল্প আবেগপূর্ণ ও অনুমানযোগ্য হলেও এতে প্রেমের এক নতুন ধারা দর্শকের মাঝে তুলে ধরার অর্জুনের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। সামগ্রিকভাবে, ‘সীতা পায়নাম’ ঐশ্বরিয়া ও নিরঞ্জনের জন্য একটি হৃদয়গ্রাহী অভিষেক। তাদের শালীন অভিনয় এবং সিনেমাটোগ্রাফি কিছুটা মুগ্ধ করে। এখন দেখার বিষয়, দর্শক-সমালোচকরা সিনেমাটি কীভাবে গ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন








